ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

বর্তমানের করোনা দ্রুত ছড়ালেও বেশি অসুস্থ হচ্ছে না!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:১৯, ৪ জুলাই ২০২০

Ekushey Television Ltd.

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) নতুন একটি ‘ধরন’ ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রূপান্তরিত এই ভাইরাসটি বেশিসংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারলেও খুব বেশি অসুস্থ করে ফেলতে পারে না বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। এই বৈশ্বিক গবেষণার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা ইনস্টিটিউট ফর ইমিউনোলজি এবং করোনা ভাইরাস ইমিউনোথেরাপি কনসোর্টিয়ামের এক গবেষণায় করোনা ভাইরাসের রূপান্তর এবং সংক্রমণ নিয়ে নতুন এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লা জোলার অধ্যাপক ও করোনাভাইরাস ইমিউনোথেরাপি কনসোর্টিয়ামের গবেষক এরিকা ওলম্যান স্যাফায়ার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ভাইরাসটির প্রধান ধরনটি এখন মানুষকে দ্রুত সংক্রমিত করছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল সেলে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পূর্ববতী কিছু কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যা চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রি-প্রিন্ট সার্ভারে প্রকাশ হয়েছিলো। গবেষকদের জেনেটিক সিকোয়েন্স সম্পর্কিত তথ্যে ভাইরাসটির একটি নির্দিষ্ট সংস্করণে রূপান্তরের ইঙ্গিত মিলেছে।

গবেষক দলটি শুধু করোনার জেনেটিক সিকোয়েন্সই পরীক্ষা করেনি বরং তারা ল্যাবে মানুষ, প্রাণী এবং কোষে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। যাতে দেখা যায়, ভাইরাসটির নতুন ধরনটি আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত লা জোলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এরিকা ওলম্যান স্যাফায়ার বলেন, নতুন ভাইরাসটি নিজেকে অভিযোজিত করতে পারে। ভাইরাসটির রূপান্তর স্পাইকটি প্রোটিনকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ এটি যে কাঠামো ব্যবহার করে সংক্রমিত কোষে প্রবেশ করে সেটিতে প্রভাব ফেলে। বর্তমানে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখছেন যে, ভাইরাসটিকে ভ্যাকসিন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা।

জানা গেছে, বর্তমান যেসব ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এসব ভ্যাকসিন ভাইরাসটির পুরনো স্ট্রেইন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। করোনাভাইরাসের নতুন রূপান্তরকে জি৬১৪ বলে আখ্যায়িত করেছেন গবেষকরা। তারা দেখিয়েছেন যে, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির ডি৬১৪ নামের প্রথম সংস্করণকে প্রায় পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত করেছে।

গবেষণায় লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী বেত্তে করবের ও তার সহকর্মীরা প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, আমাদের বৈশ্বিক ট্র্যাকিং তথ্য-উপাত্ত দেখাচ্ছে যে স্পাইকে ডি৬১৪ ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় জি৬১৪ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরো জানান, ভাইরাসটি আরো বেশি সংক্রামক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, তারা রোগটির তীব্রতার ক্ষেত্রে জি৬১৪-এর প্রভাবের প্রমাণ পাননি বলে উল্লেখ করেন তারা।

এই গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের মেডিক্যাল অনকোলজির অধ্যাপক লরেন্স ইয়ং বলেন, এটি একটি সুসংবাদ হতে পারে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের জি৬১৪ ভ্যারিয়েন্টটি আরো বেশি সংক্রামক হতে পারে। তবে এটি ততবেশি প্যাথোজেনিক নয়। একটি আশা আছে যে, সার্স-কোভ-২ এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি কম প্যাথোজেনিক হতে পারে।

গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আক্রান্ত করোনা রোগীদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছেন। এর মাধ্যমে তারা করোনার ২টি ভ্যারিয়েন্টের তুলনা করে দেখেছেন। গবেষকরা বলেছেন, মার্চের শুরুর দিকে জি৬১৪ ভ্যারিয়েন্টটি ইউরোপের বাইরে বিরল ছিলো। তবে মার্চের শেষের দিকে বিশ্বজুড়েই এর ফ্রিকোয়েন্স বৃদ্ধি পায়।

এএইচ/এমবি


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি