ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

করোনার তথ্য নিয়ে চীনের মিথ্যাচার!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:০২, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ | আপডেট: ১৫:১২, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

Ekushey Television Ltd.

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত গোটা বিশ্ব। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম আবির্ভাব ঘটা মরণঘাতী ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত ৮ কোটি ২৩ লাখ ৫৪ হাজারের অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৮৩ হাজার রোগী সুস্থ হলেও প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। এমন দুর্যোগ মুহূর্তেই হানা দিল নতুন প্রজাতির করোনা।

এদিকে, করোনায় উৎপত্তিস্থল উহানের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ সংক্রামিত হতে পারে বলে জানিয়েছে চীনা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক কেন্দ্রের (সিডিসি) গবেষকদের এক গবেষণা। জানা গেছে- উহানের জনসংখ্যা প্রায় ১১ মিলিয়ন। অর্থাৎ ওই গবেষণা মতে- প্রদেশটির প্রায় ৫ লাখ লোক নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত থাকতে পারে।

আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়- যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে উহানের সরকারিভাবে রেকর্ডকৃত মাত্র ৫০ হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্তের যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তার তুলনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেশি হবে! অর্থাৎ করোনার সঠিক তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছে চীন সরকার!

উল্লেখ্য- শুধুমাত্র পরীক্ষালব্ধ কেসগুলোই চীনের অফিসিয়াল কেস ট্যালিতে গণনা করা হয়, লক্ষণজনিত কেসগুলো গণনায় আসে না।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে পরিচালিত এই সমীক্ষায় উহানের মাত্র ৩৪ হাজার লোকের নমুনা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিস্তৃত হুবাই প্রদেশ, বেইজিং, সাংহাই এবং আরও চারটি প্রদেশের কিছু সংখ্যক লোকেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলে উইচ্যাটের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে চীনের সিডিসি।

এদিকে, গবেষকরা উহানে যে অ্যান্টিবডি প্রবণতা খুঁজে পেয়েছেন তার হার ৪.৪ শতাংশ এবং বিস্তৃত হুবাই প্রদেশে তা মাত্র ০.৪৪ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল ভাইরাসটির উদ্ভব সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য উহান সফরকালেই এই গবেষণাটি আলোর মুখ দেখেছে। মূলত এটা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে দিতে চীন সরকার রাজি না থাকায় বেইজিংয়ের সঙ্গে কয়েক মাসের আলোচনা-দর কষাকষির পর তারা এই সফর করে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে চীন তার দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। সমালোচকরা তাদের দেয়া পরিসংখ্যানের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি, সন্দিহান ছিল। 

কারণ, সিডিসির বিবৃতিতে তখন আরও বলা হয়েছিল- হুবেই-এর বাইরে পরীক্ষা করা ১২ হাজার জনের মধ্যে অ্যান্টিবডিটির জন্য মাত্র দু'জনকেই পাওয়া গিয়েছিল। 

মূলত- এই বছরের শুরুর দিকে ভাইরাসটি উহানের একটি তথাকথিত "ভেজা বাজার"-এ ধরা পড়েছিল এবং তখন এই বলে বিশ্বাস করানো হয়েছিলযে- এখানেই ভাইরাসটি একটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা এখন বিশ্বাস করেন যে, মরণঘাতী এই ভাইরাসটি সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবেই ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি