ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

রোহিঙ্গাদের নিয়ে শংকিত ভাসানচর রাখালরা (ভিডিও)

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:১৭, ৯ জানুয়ারি ২০২১

Ekushey Television Ltd.

ভাসানচরের গরু-মহিষের বাথান সারাদেশে দুধ ও মাংসের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে। বাথানে কাজ মিলেছে রাখালদের। আট-নয় বছর ধরে বাথানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে তারা। কিন্তু ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আনায় জীবিকা নিয়ে কিছুটা শংকিত তারা। বলছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে তাদের জীবিকার পথ যেনো বাধাগ্রস্ত না হয়। 

মা মহিষটির নাম গদিরাজ, ভাসানচরের বিস্তীর্ণ চারণভূমিতে এভাবেই মায়ের সাথে বাছুরগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেঘভাসান, অলংকার, চান্দি, সোহাগি, ফুলটুসি, শান্তা আর ভুট্টু ছাড়াও আছে করোনা। প্রতিটি মহিষেরই নাম আছে, রাখালদের মুখে নাম শুনলেই ছুটে আসে তারা।

ফকির আহম্মদ, এই বাথানে কাজ করছেন নয় বছর ধরে। ১১০টি মহিষ ও ৫০টি গরুর দেখভাল করেন তিনজন মিলে। 

রাখাল ফকির আহম্মদ জানান, মহিষকে মায়া করতে করতে দিল বসে গেছে। বাড়িতে গেলে ৪-৫ দিন থাকি, তারপর আবার মহিষের কাছে চলে আসি।

পরিবার থেকে দূরে বিচ্ছিন্ন এই চরেই রাখালরা কাটিয়ে দিচ্ছেন বছরের পর বছর। মহিষের জন্য ভালোবাসার সীমা নেই। পরম যত্নে লালন-পালন করছেন গরু-মহিষগুলো।

রাখালরা জানান, প্রথম থেকেই এই মহিষই রাখি। এই কর্মটাকে একান্তভাবে সাধন করে নিয়েছি। ভাসানচরে যত খরচপাতি আছে তা আমাদের মালিকই বহন করেন। আমাদের বেতন প্রতিমাসেই আলাদা করে দিয়ে থাকেন।

ভাসানচরে দেড়শ’ মালিকের বাথানে আট হাজারের মত মহিষ, তিন হাজার গরু পালন করেন রাখালরা। বছরে বেতন ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। তাই দিয়ে চলে পরিবারের ভরণপোষণ। চরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় তাদের জীবিকা কি হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে? এ নিয়েই তাদের দুশ্চিন্তা।

ভাসানরের রাখালরা আরও জানান, এখানে বহু লাঞ্ছিত হয়েছি, আগে জলদস্যুরা ছিল তাদের হাতে মারধর খেয়েছি। এখন যদি রোহিঙ্গাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে এই জায়গাতে আমরা থাকতে পারবো না। এটি ছাড়া এখানে আর চর নাই। আছে শ্বাসমূল, সেখানে তো মহিষ পালা সম্ভব নয়। তাহলে আমরা যাব কোথায়, আমাদের পরিবার চলে এটার উপর নির্ভর করে।

দেশের মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে ভাসানচরের বাথান। ভাসানচরের ভেড়িবাঁধের এই পাশে মহিষের বাথান। যেখানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ হাজার মহিষের দেখভাল করেন রাখালরা।

রোহিঙ্গাদের এই ভাসানচরে স্থানান্তরের পর তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি সংশয়। কারণ তারা লোকমুখে শুনেছেন এই বাথানের জায়গাটিই চাষবাসের জন্য রোহিঙ্গাদের দেওয়া হতে পারে। তাতে করে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে। 

দীর্ঘ বছর ধরে যারা এই বাথানে কাজ করছেন তাদের একটাই দাবি, অন্তত জীবিকার পথ থেকে তাদেরকে যাতে সরে যেতে না হয়।
ভিডিও :


এএইচ/এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি