ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

মোবাইলে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে শিশু হত্যা

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৫:২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঘাতক মেহিদীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: একুশে টেলিভিশন

ঘাতক মেহিদীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: একুশে টেলিভিশন

Ekushey Television Ltd.

মাদারীপুরের শিবচরে মোবাইলে লুডু খেলতে গিয়ে গালি দেয়ায় রতন মোল্লা (৮) নামের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে ১৮ বছরের এক যুবক। এ ঘটনায় অপর এক শিশুকে হত্যার চেষ্টা চালায় মেহেদী নামের ওই যুবক। এ ঘটনায় ঘাতক মেহেদীকে আটক করেছে শিবচর থানা পুলিশ। 

মঙ্গলবার বিকেলে রতন ও সোহানকে বেড়ানোর কথা বলে এক্সপ্রেস হাইওয়েতে নিয়ে এই দুই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় মেহেদী। এতে রতন ঘটনাস্থলেই মারা যায় আর সোহান (৯)কে গুরুতর আহত অবস্থায় শিবচর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকার নানা আনসু বেপারির বাড়িতে কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসে নাতি মো. মেহেদী হাসান (১৮)। বাড়িতে আসার পর মেহেদী পাশ্ববর্তী কৃষক জসিম মোল্লার ছেলে ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রতন মোল্লা (৮) ও নাসির সিকদারের ছেলে সোহানের (৯) সাথে মোবাইলে গেম খেলতো। 

মঙ্গলবার সকালে সোহানের মায়ের মোবাইলে এই ৩ জন মিলে লুডু খেলতে থাকে। খেলার সময় ছোট্ট রতন ও সোহান বকা দেয় মেহেদীকে। এতে সে ক্ষুদ্ধ হয়। বিকেলে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর কথা বলে পদ্মা সেতুর এপ্রোচ সড়ক সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যায় তাদেরকে। সেখানে নিয়ে সোহানকে পানি ও চানাচুর আনার জন্য ১শ’ টাকা দিয়ে দোকানে যেতে বলে মেহেদী। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে আসে। 

সোহান যেতেই রতনকে ওই নির্জন স্থানে শ্বাসরোধে হত্যা করে মেহেদী। প্রায় ২০ মিনিট পর সোহান এসে রতন কোথায় জানতে চায়। তখন মেহেদী জানায় রতন বাড়ি চলে গেছে। একথা বলেই সোহানকে নিয়ে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যায় মেহেদী। সেখানে সোহানকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা চালায় সে। 

তবে সোহানের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে মেহেদী সেখান থেকে পালিয়ে নানা বাড়ি চলে যায়। পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

নানা বাড়িতে মেহেদীর সারা শরীরে কাদামাখা দেখে রতন ও সোহানের খোঁজ জানতে চায় পরিবারের লোকজন। কৌশলে মেহেদী বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে স্বজনরা শিবচর থানায় খবর দেয়। 

সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ওসি মিরাজ হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির সেরনিয়াবাতসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। পরে ওই রাতে মেহেদির দেখানো স্থান থেকে রতনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় মোবাইল ফোনটিও।

ঘাতক মেহেদী বলেন, ‘মোবাইলে লুডু খেলার সময় ওরা আমার বাবা-মাকে গালি দেয়। তাই ওদের আমি হত্যা করি।’

শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইলে লুডু খেলার সময় গালি দেয়া নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি