ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

নানা আয়োজনে ভোলা মুক্ত দিবস পালিত

ভোলা প্রতিনিধি 

প্রকাশিত : ১৮:৩৬, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

Ekushey Television Ltd.

নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ভোলায় পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর আয়োজনে জেলা প্রশাসন কার্যলয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে বীরমুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।

পরে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম ছিদ্দিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহামুদ, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. শফিকুল ইসলাম, ভোলা প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, ভোলা সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার অহিদুর রহমানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার মুক্ত হয় ভোলা। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সারাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের ৫ দিন আগে ভোলা মুক্ত করেন। এই দিন ভোরে পাকিস্তানি সেনারা একটি লঞ্চে করে গোপনে পালিয়ে যায়।

এপ্রিলের শুরুর দিকে ভোলা ওয়াপদা ভবনে ক্যাম্প করে অবস্থান নেয় পাকহানাদার বাহিনী। ওই ভবনের ২টি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে নিরীহ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হত। ওয়াপদা ভবনের পাশেই রয়েছে বধ্যভূমি যেখানে শতশত মুক্তিপাগল মানুষকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়ে ছিলো। ভোলার দেউলা, বাংলাবাজার  এবং দৌলতখানের গুপ্তেরগঞ্জ বাজারে সমুখ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর পাকসেনাদের মনোবল ভেঙ্গে পরে। ভোলার মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে ঘিরে শহর দখলের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এমন সময়ে ১০ ডিসেম্বর ভোররাতে ভোলা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চ যোগে পাকবাহিনী ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আটকানোর চেষ্টা করেও আধুনিক অস্ত্রের কাছে ব্যর্থ হয়। পরে মিত্র বাহিনী কে খবর দেয়া হলে চাঁদপুরের কাছে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় পাকসেনাদের বহনকারী লঞ্চটি ডুবে যায়। 

পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে কালেক্টরেট ভবনের সামনে পতাকা উড়িয়ে ভোলাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা। এভাবে ভোলা হানাদার মুক্ত হয়। ভোলা মুক্ত দিবস উপলেক্ষ্যে ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নানা আয়োজন করেন। দিনের শুরুতে ওয়াপদা কলোনি বধ্যভূমির শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পর্ঘ্য অর্পন করবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। পরে ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানসহ নানা শ্রেণি পেশার অংশগ্রহনে একটি বিজয় র‌্যালি বের করা হবে। পরে ভোলা জেলা প্রশাসক এর কার্যলয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুক্তিযোদ্ধারা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।
কেআই//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি