ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

নাপা সিরাপ নয়, মায়ের পরকীয়ায় প্রাণ যায় দুই শিশুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:০২, ১৭ মার্চ ২০২২ | আপডেট: ১৬:১৭, ১৭ মার্চ ২০২২

দু্ই শিশুর মা লিমা বেগম

দু্ই শিশুর মা লিমা বেগম

Ekushey Television Ltd.

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরকীয়ায় আসক্ত মা লিমা বেগম মিষ্টির সাথে বিষ মিশিয়ে দুই শিশুকে খাইয়ে নিজেই হত্যা করে। পরে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাজার থেকে নাপা সিরাপ এনে খাওয়ানোর নাটক সাজানো হয়।
 
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) তাদের মা লিমা বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ উল্লেখ করে দুই শিশুর বাবা ইটভাটা শ্রমিক সুজন খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বেগম আরেফিন আহম্মেদ হ্যাপির আদালতে আনা হয়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় লিমার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, শিশু দুটির মা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আশুগঞ্জ উপজেলার একটি অটো রাইস মিলের সর্দার সফিউল্লা ওরফে সফাই মিয়ার সঙ্গে লিমার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। দুই শিশুর মৃত্যুর পর থেকে সফাই মিয়া পলাতক রয়েছেন।
 
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিহত দুই শিশুর মা লিমা বেগম কথিত প্রেমিককে বিয়ে করার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে রেখেছিলেন। এজন্য পথের বাধা সরাতে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। এসব ঘটনা পুলিশের কাছে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন লিমা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুরে নাপা সিরাপ খেয়ে একই পরিবারের দুই সহোদর শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। অভিযোগ ওঠার পর সারা দেশে ওই নির্দিষ্ট ওষুধটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। 

পাশাপশি দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর জেলার সকল ওষুধের দোকানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নাপা সিরাপ ও নাপা ড্রপ বিক্রি বন্ধ রাখার জন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে নির্দিষ্ট ব্যাচের নাপা সিরাপ পরীক্ষা করে তার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পায়নি বলে প্রতিবেদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

পরে নিহত শিশুর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সন্দেহের দৃষ্টি যায় মিশু দুটির মায়ের দিকে এবং পিতার মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। 

লিমার পরকীয়া প্রেমিককেও গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি