ক্রেতার বাড়ি থেকে হতদরিদ্রের ১২ বস্তা চাল জব্দ, মামলা নিয়ে রহস্য
প্রকাশিত : ১৭:১৭, ১ মে ২০২২ | আপডেট: ১৭:১৮, ১ মে ২০২২

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সরকারের দেয়া ভিএফএর এক টন (২০ বস্তা) চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় ভৈরবপাশা ইউনিয়নজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে অসহায় দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই চাল ইউনিয়নের সচেতন যুবক ও গ্রামবাসীর সহায়তায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চাল ক্রেতা ইউপি চৌকিদার আয়নাল হক ও ধান-চালের ব্যবসায়ী ইউসুফ হাওলাদার ইউপি মেম্বার জামাল ও মনিরের কাছ থেকে এ চাল কিনেছেন বলে স্বীকার করেন।
এদিকে ভৈরবপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ঘটনার কিছুই জানেন না দাবি করে, চালের গোডাউনের চাবি সচিবের কাছে বলে জানিয়েছেন। তবে সচিব চেয়ারম্যানের দাবি অস্বীকার করে গোডাউনের চাবি তার কাছে ছিল না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে চাল বিতরণস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, শনিবার চাল বিতরণের বিষয় তাকে না জানানোর কারণে তিনি আসেননি।
স্থানীয় সচেতন যুবক ও গ্রামবাসী জানায়, শনিবার সকাল থেকে ভৈরবপাশা ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের মাঝে ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দুপুরের পর ইউনিয়ন পরিষদের সেই চাল থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্থানীয় চৌকিদার আয়নাল হক ও ধান-চাল ব্যবসায়ী ইউসুফ হাওলাদারের কাছে এক টন চাল গোপনে বিক্রি করে দেয়া হয়।
বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী উক্ত চালের দুই ক্রেতার বাড়ি ঘেরাও করে ঝালকাঠি এনডিসি ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালে পুলিশ এসে রাতে ১২ বস্তা চাল জব্দ করে। এ সময় তারা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষাভে ফেটে পড়েন ও তারা এ ঘটনার তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এ বিষয় ধান-চাল ব্যবসায়ী ইউসুফ হাওলাদার জানায়, শনিবার দুপুরে ইউপি মেম্বার জামাল ও মনির তাকে পরিষদে ডেকে নেয়। তাদের সাথে দরদাম ভেঙ্গে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ও ইউপি চৌকিদার আয়নাল হক এক টন চাউল ক্রয় করেন।
চৌকিদার আয়নাল হক বলেন, আমি ইউসুফের কাছ থেকে ১০ বস্তা চাউল ১৫ হাজর টাকায় কিনেছি।
এ বিষয়ে ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক জানান, তার ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে মোট ২,৩৬৬ জন দরিদ্র মানুষকে বিতরণের জন্য ২৩ টন ৬’শ ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়। পরিষদের বড় গোডাউনের চাবি তার কাছে থাকায় শনিবার তা থেকে ১,৯৫০ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ছোট গোডাউনের চাবি সচিবের কাছে থাকায় পরে সচিবকে চাউল বিতরণ করতে বলে আমি পাশের রুমে দলীয় লোকদের সঙ্গে আলাপ করছিলাম। কিন্তু দরিদ্রদের এতোগুলো চাউল কিভাবে চুরি হল আমি বলতে পারছিনা।
এ বিষয়ে সচিব জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বক্তব্য মিথ্যা, আমি এর প্রতিবাদ জানাই। কারণ, ইউনিয়নের বরাদ্দ আসে চেয়ারম্যানের নামে। গোডাউনের জিম্মায় থাকে চেয়ারম্যান, সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার। মামলা দায়েরের বিষয় বলেন? মামলা দায়েরের জন্য একটি অভিযোগ নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসেছি। তাকে দেখানোর পর থানায় এজাহার নিয়ে যাবেন।
মামলায় কোনো আসামি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমাদের পরিষদে বিতরণকৃত চালের ষ্টক, মাষ্টার রোল ও উদ্বৃত্ত চালের পরিমাণ মোট বরাদ্ধ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ঠিক আছে। তাই সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। উদ্ধারকৃত চাল কোথা থেকে এসেছে বা কার কাছ থেকে কিভাবে কেনা হয়েছে, সেটা তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার।
এ ব্যাপারে শনিবার রাতে নলছিটি ইউএনও রুম্পা সিকদার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে নলছিটি থানা পুলিশ পাঠিয়ে আমি নিজে রাত ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেছি। ঘটনার বিষয়ে সচিবকে বাদী হয়ে মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে রোববার তার সর্বশেষ বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ে থাকায় তা জানা যায়নি।
এনএস//