ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ২১:২৬, ১০ নভেম্বর ২০২২

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার

Ekushey Television Ltd.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিল্পী আক্তার (২৯) নামে এক অসহায় নারী। বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

জানা যায়, শিল্পী আক্তার রাজধানী ঢাকার কলাবাগানের বাসিন্দা মো. মোস্তফা রহমানের মেয়ে। গত ২০২০ সালের ১ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভা এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে মো. আবদুল সাত্তারের সঙ্গে শিল্পীর বিয়ে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিল্পী আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতে থাকলেও আমাদের দু’জনের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিছুদিনের মধ্যেই আবদুল সাত্তার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত তাকে নিজ বাড়িতে তুলে নেয়নি। কিছুদিন ভরণপোষণ দিলেও এক পর্যায়ে স্বামী আবদুল সাত্তার তা বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় স্বামী সাত্তার। পরে টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হতো। তার নির্যাতনের কারণে কয়েকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয় তাকে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের দারস্থ হয়েও কোনও প্রতিকার পাননি। স্বামীর ছোট ভাই জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত সদস্য নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হয়েও কোনো বিচার পায়নি। নাসির উদ্দিন উল্টো ধমক নিয়ে তার ফোনের সংযোগ কেটে দেন। স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কেউ তাকে স্ত্রীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারছে না।

শিল্পী আক্তার বলেন, ভরণপোষণ ও স্ত্রীর অধিকার চাইলে উল্টো স্বামী তাকে খুন-জখমসহ যে কোনো সময় তালাক দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী আক্তার

এ ঘটনায় গত ৪ নভেম্বর তিনি নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে একটি মামলাও করেছেন শিল্পী আক্তার, যা বর্তমানে চলমান।

সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী আক্তার বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে, তার স্বামী আগে আরো তিনটি বিয়ে করেছেন।

নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের আসমা বেগম নামের একজনকে প্রথম বিয়ে করেন। বিয়ের আড়াইদিনের মধ্যেই স্বর্ণের বালা চুরির অভিযোগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর পারভীন নামে একজনকে বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীর ঘরে তার ৩ সন্তান রয়েছে। কিন্তু তাকে (শিল্পী) স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছেন। স্বামী ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি এখন অনেক কষ্টে  দিনাতিপাত করছেন। তিনি স্ত্রীর অধিকার ফিরে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শিল্পী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় তিনি ঢাকায় মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু স্বামী আবদুল সাত্তার চাপ দিয়ে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেন।

ঢাকায় কাজী অফিসে বিয়ের অনুষ্ঠানে আব্দুল সাত্তার ও শিল্পী আক্তার

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল সাত্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি শিল্পী আক্তারকে তার স্ত্রী স্বীকার করে বলেন, আগামী রোববার নবীনগরের কৃষ্ণনগরে বিষয়টি নিয়ে সালিশ হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তার সঙ্গে থাকব, নাকি তাকে তালাক দিব। সে যদি সাংবাদিক সম্মেলন করে কিছু করতে পারে করুক। আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি তাকে কোনো নির্যাতন করিনি। গত বুধবারও তার সাথে আমার কথা হয়েছে।

এনএস//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি