ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

বিজিবি-বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতে গেলেন জমিলা বেওয়া

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৬:১০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩

Ekushey Television Ltd.

জমিলা বেওয়া, বয়স ৭৮ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন। ভারতীয় এই নাগরিকের জীবনের শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর আগে তিনি বাংলাদেশে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু অর্থের অভাবে পাসপোর্ট-ভিসা করতে পারছিলেন না। তাই ইচ্ছাটি অপূর্ণই থেকে যাচ্ছিল। অবশেষে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে জমিলা তিন মাস আগে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

সীমান্ত পেরিয়ে জমিলা মেহেরপুর শহরের কাসারিপাড়ায় ভাই রহিম বকসের বাড়িতে ওঠেন। তবে রহিম বকস মারা গেছেন অনেক আগেই। ভাইয়ের সন্তান আর নাতিদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছিল জমিলার। মাস তিনেক যাওয়ার পর ভারতে বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে এই নারীর।  

২২ জানুয়ারি বিকেলে সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে ফিরে যাওয়ার সময় দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্ত বিওপি বিজিবি সদস্যদের কাছে আটক হন জমিলা। আটক করলেও পরে মানবিক কারণে বিজিবির পক্ষ থেকে ওই নারীকে ভারতে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে বিজিবি-বিএসএফ আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমঝোতা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় স্বজনদের কাছে ফিরে যান জমিলা। 

বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবি থেকে এব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি জানায়, গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্তের ৯৩ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে জমিলাকে দেখে বিজিবির টহল দলের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই বৃদ্ধা জানান, তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার পাথরাদহ গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। তার স্বামীর নাম মৃত ফজলু। জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবি জানতে পারে, তিন মাস আগে জমিলা ভারত থেকে বাংলাদেশে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে জমিলাকে ভারতে যেতে কোনো বাধা দেয়নি বিজিবি। তবে সীমান্তের ভারতীয় অংশে কর্তব্যরত ৮২ বিএসএফের মহাখোলা ক্যাম্পের সদস্যরা জমিলাকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেন। পরে বিজিবির টহল দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলে বিএসএফের কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, ওই নারীকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। 

এ অবস্থায় বিজিবি মুন্সিপুর কোম্পানি কমান্ডারের পক্ষ থেকে বিএসএফের মহাখোলা কোম্পানি কমান্ডারকে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দেন।

এদিকে বৃদ্ধা জমিলাকে ফেরত নেওয়ার জন্যে বিজিবির যশোর রিজিয়নের নোডাল অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাযহার ২৪ জানুয়ারি বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার নোডাল অফিসার ডিআইজি অমিরেশ কুমার আরিয়াকে অনুরোধ করেন। এরপর বুধবার বিএসএফের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। 

একই দিন সন্ধ্যার দিকে মুন্সিপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে জমিলাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ওই নারী কোন দেশের নাগরিক সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। বরং মানবিক কারণে তাকে গত চার দিন নিরাপদ পরিবেশে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি