ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ১৯:৩৫:৩১, বৃহস্পতিবার

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সংঘর্ষে চাইনিজ শ্রমিক নিহত

পটুয়াখালির পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি-চায়নিজ শ্রমিক সংঘর্ষে এক চায়নিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ খেকে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি তাদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জানা যায়, নিহত চায়নিজ নাগরিকের নাম জাং ইয়াং ফাং। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ বাঙ্গালি শ্রমিকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে শেরে ই বাংলা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্যনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতের দিকে হাসপাতালে ৬ জন চায়না নাগরিককে ভর্তি করা হয়। আহতরা সকলেই কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত। বাঙ্গালি ১ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ওপর (প্রায় সাততলার সমান উঁচু) থেকে পড়ে এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনাদের দাবি, ওই শ্রমিক অসাবধানতার কারণে নিচে পড়ে গিয়ে মারা যান। তবে বাঙালি শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, বয়লারের ওপর থেকে ওই শ্রমিককে এক চীনা নাগরিক লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়। এ ঘটনার পর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে নিহত শ্রমিকের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাঙালি শ্রমিকরা। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পরে মঙ্গলবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঙালি ও চীনা শ্রমিক এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য, ছয় চীনা নাগরিক এবং বাঙালি শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে গুরুতর আহত চীনা শ্রমিকসহ মোট আট জনকে রাতেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে এক চীনা শ্রমিক আজ শেবাচিমে মারা যান। এমএস/কেআই

১৪ বছর ক্লাস কামাই না করে রামিমের রেকর্ড

কে এম রাইদ ইসলাম রামিম। ক্লাস প্রেমিক এক শিক্ষার্থীর নাম। শিক্ষা জীবনে প্লে থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত টানা ১৪ বছরে কোন ক্লাস কামাই করেনি সে। একদিনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি নেই তাঁর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পারিবারিক সমস্যা, এমনকি রোগব্যাধি তাঁর ইচ্ছা শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি নিয়মিত ক্লাসে হাজির হতেন। পড়ালেখার প্রতি ভালোবাসা, প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের উৎসাহে একদিনও ক্লাস কামাই না করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রামিম। বুধবার (১২ জুন) ক্লাস প্রেমিক এই শিক্ষার্থীকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম সংবর্ধনা দেন। সে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। রামিম ঝালকাঠির নলছিটি শহরের ব্যবসায়ী কে এম মোস্তাক খানের ছেলে। তাঁর মা গৃহিণী নাজমা আক্তার। ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয় থেকে সে একাধিক পুরস্কার ও সনদপত্র পেয়েছে। তাকে শিক্ষার্থীদের ‘অনুকরণীয় আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁর শিক্ষকরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে রামিমকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা মা ছাড়াও নলছিটি পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রামিম জানায়, সে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের একজন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার প্রবল আগ্রহ তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পেতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছে রামিম। জানা গেছে, রামিমের জন্ম ২০০১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে নলছিটি পৌর কিন্ডার গার্টেনে প্লে ক্লাসে ভর্তি করা হয় তাকে। প্লে ক্লাসে এক বছরে টানা উপস্থিতি ছিল তাঁর। পরে নার্সারি ক্লাসেও শতভাগ উপস্থিতি ছিল। দুই বছরের টানা উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দুটি পুরস্কার দেয়। এতে শ্রেণিকক্ষের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ২০১১ সালে ওই কিন্ডার গার্টেন থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একমাত্র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। সেই কিন্ডার গার্টেনে শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতির জন্য সাত বছরে সাতটি পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে। এক নাগারে সাত বছর টানা শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতি ও ২০১১ সালে ওই কিন্ডার গার্টেন থেকে একাই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করায় তত্কালীন অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল তাকে বিশেষ পুরস্কার (ক্রেস্ট) ও সনদপত্র প্রদান করেন।  ২০১২ সালে রামিম নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শেণিতে ভর্তি হয়। সেখানেও নিয়মিত ক্লাস শুরু করে। এরই মধ্যে তাঁর বাবা ও মা ভারত যেতে তাঁর জন্য পাসপোর্ট ও ভিসা সংগ্রহ করেন। কিন্তু বেঁকে বসে সে। ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকার কারণে তার ভারত ভ্রমণে যাওয়া হয়নি। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতির পাশাপাশি ২০১৪ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায়। গত ১২ বছরের মধ্যে তাঁর নানা, মামা ও চাচার মৃত্যু হয়েছে, তবু তাঁর ক্লাস কামাই করেননি। ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার আগে জীবনের শেষ ক্লাসে অংশ নিয়ে সে টানা ১৪ বছর শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতির রেকর্ড গড়ে। প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১ থেকে ৩ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে তাঁর রোল নম্বর। রামিম বলে, ‘আমি যখন বুঝতে পারলাম শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতিই ভালো ফলাফলের একমাত্র মাধ্যম, তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছি, যতদিন পড়ালেখা করব একদিনের জন্য ক্লাস মিস করব না। ক্লাসে ঠিকমতো পড়ালেখা করলে প্রাইভেট পড়তেও হয় না। প্রতিদিন ক্লাসে আসার কারণে শিক্ষকরাও আমাকে ভালোবাসেন। আমাকে দৃষ্টান্ত দেখিয়ে অনেক সহপাঠীকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য বলেন। আমি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বুয়েটে লেখাপড়া করতে চাই। আমি যতদিন শিক্ষার্থী থকবো, ততদিনই সব ক্লাসে উপস্থিত থাকবো।’ এখন আমার একটাই ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার। রামিমের বাবা কে এম মোস্তাক খান বলেন, ‘রোগব্যাধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সিডর, আয়লা, মহাসেন, ফণিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও রামিম নিয়মিত নিজ উদ্যোগে আমাদের অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতো। এ জন্য দীর্ঘ এক যুগ শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতির রেকর্ড গড়তে পেরেছে। তাঁর এ বিরল কৃতিত্বের বিষয়টি দেশের সব শিক্ষার্থীকে জানিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।’ রামিমের মা নাজমা আক্তার বলেন, ‘সারাক্ষণ পড়ালেখার মাঝেই ডুবে থাকতে পছন্দ করে রামিম। স্কুল ছুটি হলে বিদ্যালয়ে পাঠদান, শিক্ষক ও সহপাঠীদের নিয়ে আমার কাছে গল্প করতো। একদিন ক্লাস বন্ধ দেওয়া মানে তাঁর কাছে সব কিছু হারানোর মতো একটি বিষয় ছিল। তাই আমরাও তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনও জোর খাটাইনি।’ নলছিটি পৌর কিন্ডার গার্টেনের সাবেক অধ্যক্ষ আনিচুর রহসান খান হেলাল বলেন, ‘রামিম একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। টানা ১৪ বছর সে কখনো ক্লাসে অনুপস্থিত হয়নি। একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই ছেলে যেকোনো কর্মস্থলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সফলতা আনতে পারবে। তাঁর এ কৃতিত্বের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে সম্মাননা এবং পুরস্কৃত করা উচিত। তাহলে অন্য শিক্ষার্থীদেরও ক্লাসে উপস্থিতির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।’ নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, রামিমের কৃতিত্ব ও বিরল ক্লাস প্রেমের কথা শুনে আমি হতবাক হয়েছি। একটি ছেলের কতটা ধৈর্য্য থাকলে সে টানা ১৪ বছর ক্লাসে একটিও কামাই দেয়নি। আমি তাঁর গল্প শুনে একটি সংবর্ধনা দিয়েছি। আশাকরি তাঁর সকল ইচ্ছা পূরণ হবে। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে, এই আশাটাও তাঁর পূরণ হবে। কেআই/

উজিরপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের বান্না গ্রামে এক শিশুকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাকিবের মা শিশুটির মা কিস্তির টাকা জমা দিতে বাড়ি থেকে দূরে একটি এনজিওর কার্যালয়ে যান। এই সুযোগে শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে রাকিব। এক পর্যায়ে শিশুর রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাকিব সটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর রাকিবের মা ঘরে ফিরে শিশুটিকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। অপরদিকে শিশুটিকে বাড়ি ও আশপাশে খুঁজে না পেয়ে তার মা রাকিবের ঘরে গিয়ে মেয়ের এ অবস্থায় দেখে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। উজিরপুর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানান, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিশুটির স্বজনদের খোজা-খুজি করা হচ্ছে, এছাড়াও তাদের যে মোবাইল নাম্বারটি ছিল তা এখন পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরের এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাকিব গাজী (১৮) পলাতক রয়েছে। শিশুটি ও অভিযুক্ত রাকিব গাজী আপন চাচাতো ভাই বোন। রাকিব বান্না গ্রামে জাফর গাজীর ছেলে। কেআই/

ভোলায় ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ভোলা সদর উপজেলায় এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত হাকিম মিজি ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। বুধবার সকালে ওই ইউনিয়নের হেতনার হাট এলাকার একটি খালে হাকিমের লাশ পাওয়া যায়। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি ছগির মিঞা জানান, লাশ দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন, হাকিমের গায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ হেতনার হাট এলাকার পাশের একটি খালে ফেলে রাখে। ওসি ছগির মিঞা আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

বরগুনার তালতলীর লোকালয়ে বাঘ আতঙ্ক (ভিডিও)

বরগুনার তালতলীর লোকালয়ে বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। এদিকে, স্থানীয়দের দলবদ্ধ হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। বরগুনার তালতলীর মরানিদ্রা গ্রামের লালমিয়া ফরাজী রাতে গরুর খোয়াড়ে ছুটোছুটির শব্দ পেয়ে বাইরে গেলে একটি বাঘ দেখতে পান। সেসময় বাঘটি খোয়াড় থেকে একটি বাছুর নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালে পাশের একটি স্কুলের সামনে ওই বাছুরের পা ও মাথার কিছু অংশ ও বাঘের পায়ের চিহ্ন দেখতে পান এলাকাবাসী। বাঘের আতংকে সমন্বয় কমিটি গঠন করে টর্চ লাইট ও লাঠিসোটা নিয়ে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন তারা। এদিকে, ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে, এলাকাবাসীকে দলবদ্ধ হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/  

পটুয়াখালীতে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার উপজেলার গোলখালী ও পানপট্টি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হলো- সিফাত (৬), শাহরিয়ার (৭) ও মৌসুমী (৬)। এর মধ্যে সিফাত গোলখালী ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের শাহীন মেলকারের ছেলে এবং শাহরিয়ার একই গ্রামের আবুল প্যাদার ছেলে। মৌসুমী পানপট্টি ইউনিয়নের পানপট্টি গ্রামের মো. শাহ জামালের মেয়ে। পারিবারিক সূত্র জানায়, পুকুরপাড়ে খেলা করছিল শাহরিয়া ও সিফাত। এ সময় পা ফসকে প্রথমে সিফাত পুকুরে পড়ে যায়। পরে সিফাতকে বাঁচাতে শাহরিয়ার এগিয়ে গেলে সেও পানিতে ডুবে যায়। দুই বাড়ির লোকজন শিশুদের দেখতে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করে। পরে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে। শিশু দুটিকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পানপট্টি ইউনিয়নের শিশু মৌসুমী খেলতে গিয়ে বাড়ির পুকুরে ডুবে যায়। পরে মৌসুমীকে না দেখে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মৌসুমীর মরদেহ পুকুরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গলাচিপা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, নিহত শিশুদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

জামিন পেলেন ক‌বি হেনরী স্বপন

ডিজিটাল নিরপত্তা আইনে অভিযুক্ত ক‌বি হেনরী স্বপনের জা‌মিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্প‌তিবার সকালে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শামীম আহম্মেদ তার জা‌মিন মঞ্জুর করেন। ক্যাথলিক চার্চের ফাদারের দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। গত মঙ্গলবার (১৪ মে) ডি‌জিটাল নিরাপত্তা আইনের সে মামলায় তাকে  গ্রেপ্তার করা হলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। আদালতে ক‌বি হেনরী স্বপনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে জেলা বারের সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যালসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট সুভাশীষ ঘোষ বাপ্পি ও অ্যাডভোকেট সুভাস চন্দ্রদাস গণমাধ্যমকে তার জামিনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাদী বিবাদী পক্ষের উপ‌স্থিতিতে এ জা‌মিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আগামী ধার্য তা‌রিখ পর্যন্ত আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন বলে জানান তারা।  

বরিশালে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

বরিশালে কোচিং সেন্টারে এক স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক এনামুল হক নাসিমকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের শ্রেণি কক্ষে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান জানান, আটকের ঘটনার পর পরই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হক নাসিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক এনামুল হক নাসিম স্কুল সংলগ্ন গোরাচাঁদ দাস রোডের একটি বাসার নীচতলা ভাড়া নিয়ে সেখানে কোচিং বানিজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। গত কয়েকদিন পূর্বে কোচিং শেষ হলে সকল শিক্ষার্থী চলে গেলেও হালিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পড়ার অজুহাতে কোচিং সেন্টারে রেখে দেয়। কিছুক্ষণ পরে কথা বলার ছলে শিক্ষক এনামুল হক নাসিম শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। তখন ওই শিক্ষার্থী ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে শিক্ষক নাসিম তাকে ছেড়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষক নাসিম এর আগেও এধরণের একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। ছাত্রীদের প্রায়ই কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এজন্য বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেয়ালে প্রতিবাদ স্বরূপ ‘নাসিম স্যার থেকে সাবধান’ এমন শ্লোগান লিখে রাখে। কোতয়ালি মডেল থানার এস আই মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিক্ষক এনামুল হক নাসিমকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেআই/  

বরিশালে সড়কে প্রাণ গেল ব্যাংক কর্মকর্তার

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আকতার হামিদ (৫২) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আকতার হামিদ পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মৃত রুস্তম আলী খানের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ফরিদপুর শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে। আজ সকালে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ছয়মাইল নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তুহিন পরিবহনের একটি বাস বরিশালের দিকে যাচ্ছিলো। বাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আকতার হামিদকে বহনকারী মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। আই/  

ত্রিশ বছর বরগুনাকে ক্রীড়াচঞ্চল রেখেছেন মীর বজলুর রহমান (ভিডিও)

ত্রিশ বছর ধরে বরগুনাকে ক্রীড়াচঞ্চল রেখেছেন মীর বজলুর রহমান। জেলার একমাত্র ফুটবল কোচ তিনি, তার কোচিংয়ে খেলা শিখে আজ অনেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। এপর্যন্ত প্রায় বিশ হাজার শিশু-কিশোর বিনামূল্যে তার কাছে দীক্ষা নিয়েছে। নিজের চরম দারিদ্র্য আর একাকীত্বের মাঝে মীর বজলুর রহমান সন্তানের মতো স্নেহ-মমতা দিয়ে তাদের বিদ্যাদান করে যাচ্ছেন। মীর বজলুর রহমান, বরগুনা ক্রীড়াঙ্গনের অনন্য নাম। তিন দশক ধরে নীরবে নির্ভৃতে অবৈতনিক ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন দুঃস্থ ও বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্যে। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মীর বজলুর রহমান। ১৯৭২ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিকম পাশ করেন তিনি। এসময়ে নজরুল পাঠাগার এন্ড ক্লাব এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ বরিশাল জেলা দলের হয়ে টানা ২০ বছর ফুটবল ও ভলিবল খেলেন। পরবর্তীকালে ফায়ার সার্ভিস, সাধারণ বীমা, শান্তিনগর স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ারী ক্লাব এবং বিআরটিসিসহ অনেক ক্লাবের পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দাপিয়ে বেড়ান রাজধানীর মাঠ। বজলুর রহমানের পরিচালনায় বরগুনা ফুটবল একাডেমীতে এপর্যন্ত বিশ হাজার শিশু-কিশোর দীক্ষা নিয়েছে। যাদের অনেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ক্লাবে ফুটবল খেলেন এবং রেফারীর দায়িত্বও পালন করছেন। বজলুর রহমান দায়িত্বপালন করেন বরগুনা জেলা দলের অবৈতনিক ফুটবল কোচসহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কাউন্সিলর, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সম্পাদক এবং ডিএফএর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এছাড়া আঞ্চলিক ক্রীড়াঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য দেশের বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে প্রসংশিত হন মীর বজলুর রহমান। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে :    আরআইবি//

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি দখলের অপচেষ্টা (ভিডিও)

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বরিশালের বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর গ্রামের নাটুবাবুর জমিদার বাড়িসহ সম্পত্তি দখল করার অপচেষ্টা করছে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সহযোগীরা। এমন অভিযোগে সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন জমিদার কুমোদ বন্ধু রায় চৌধুরি নাটু বাবুর ছোট ছেলে, লন্ডন প্রবাসী বিপ্লব বহ্নি রায় চৌধুরী। একই সাথে তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আনুমানিক ১৬ শতকের দিকে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রসন্ন কুমার রায় চৌধুরী। ১৯ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত এই জমিদারীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তাদের পঞ্চম বংশধর কুমোদ বন্ধু রায় চৌধুরি নাটুবাবু। ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতা বিরোধীরা হত্যা করে নাটুবাবুকে। এরপর থেকে হারিয়ে যায় এই জমিদার বাড়িটির সোনালী অতীত। নাটুবাবু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। জমিদার পরিবার প্রতিষ্ঠিত শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নিজ বাড়িতে তিনি গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। পুরো মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় ছিলো এই জমিদার বাড়ি। এখানে বসেই মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের পরিকল্পনা করতেন। ১৯৩২ সালে তৎকালীন জমিদার প্রসন্ন কুমার রায় চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।  গ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে জমিদারের উত্তরসুরিরা স্কুলের পাশে মার্কেট করার সিদ্ধান্ত নিলে বাধার মুখে পড়েন বলে নঅভিযোগ উঠেছে।  এলাকার উন্নয়নে  লক্ষ্যে জমিদার বাড়িটি দান করতে চান বর্তমান মালিক। এদিকে, জমিদার বাড়ি দখল ও স্কুলের পাশে মার্কেট করতে বাধা দেয়ারর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্থানীয় প্রভাবশালী নিজামুল কাদির ও মো: রফিক হাওলাদার। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। মুুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই জমিদার বাড়িটি রক্ষায় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ দাবী করেছেন স্থানীয় লোকজন। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/এসইউএ  

ভোলায় জ্বীন তাড়াতে গৃহবধুর গায়ে আগুন

ভোলায় এক ওঝার অপচিকিৎসায় প্রাণ যেতে বসেছে জোসনা বেগম নামের ৪৫ বছর বয়সী এক গৃহবধুর। জ্বীন তাড়ানোর নামে গায়ে কেরসিন মেখে ঝাড়-ফুকের সময় আগুন লেগে শরীরের প্রায় ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। অগ্নিদগ্ধ ওই গৃহবধুকে ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাঘার হাওলা গ্রাম। এই গ্রামে প্রবাসী জসীম এর স্ত্রী জোসনা বেগমকে গত বৃগস্পতিবার রাতে জ্বীন তাড়ানোর নামে গায়ে কেরসিন মেখে ঝাড়-ফুকের সময় আগুন ধরিয়ে দেয় ওঝা রুনা। বর্তমানে গৃহবধূ মত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।  অগ্নিদগ্ধ জোসনার বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাঘার হাওলা গ্রামে। ৪ সন্তানের জননী জোসনার স্বামী মো. জসিম সৌদি প্রবাসী। আহতের মা মাহফুজা জানান, কিছুদিন ধরে তার মেয়ে জোসনা বেগম (৪০) অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এটাকে জ্বীনের আছর মনে করে তারা পাশ্ববর্তী গ্রামের ওঝা বেলায়েত হোসেন ও তার নাতনি শিশু ওঝা নামে খ্যাত রুনা বেগমকে দেখায়। বৃহস্পতিবার রাতে শিশু ওঝা রুনা বেগম জোসনা বেগমের গায়ে কেরসিন মেখে আগরবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে ঝাড় ফুকের এক পর্যায়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডাক চিৎকারে পাশ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে রাতেই জোসনা বেগমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার শরীরের প্রায় ৫০ ভাগ ঝলসে যায়। সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুনার দাদা দাদী ওঝা বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী অহিদা বেগমকে আটক করেছে। তবে এই ঘটনায় শিশু ওঝা রুনা জড়িত নয় বলে দাবি করছে তার নানা-নানী। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২ অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযানে চলছে। 

বাসচাপায় শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু, লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় সেবা পরিবহনের বাসের চাপায় লামিয়া আক্তার নামের দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বরিশাল-স্বরূপকাঠী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধরা নিহতের লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।   পরে উজিরপুর ও বানারীপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্দ জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। নিহত লামিয়া গুঠিয়া ইউনিয়নের খায়রুল সিকদারের মেয়ে ও পশ্চিম নারায়ণপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। বানারীপারা থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে স্কুলে যাচ্ছিল লামিয়া আক্তার। পথে নারায়নপুর এলাকার বরিশাল-স্বরূপকাঠী সড়ক পার হওয়ার সময় বানারীপাড়াগামী বেপরোয়া গতিতে থাকা সেবা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস লামিয়াকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লামিয়ার মৃত্যু হয়। একে//

নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী

পিরোজপুর সদর উপজেলায় এবার নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। সদরের কদমতলার দুই বখাটে আইভান ও মারুফ ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মূল আসামী আইভানের সহকারী মারুফকে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বখাটে আইভান মোল্লা ও মারুফ মোল্লা মেয়েটির মুখ ও হাত পা বেঁধে বাড়ির পেছনের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত আইভান আগেও আরও একজনকে এমন নির্যাতন করেছে জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন নির্যাতিতার স্বজনরা। এদিকে, হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে যান সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শেখ এ্যানি রহমান। সেসময় দ্রুত দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। একে//

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা (ভিডিও)

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিকেল ৫টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারের সই করা নোটিশে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। সকাল থেকেই চলছে ‘ভিসি বিরোধী’ ছাত্রবিক্ষোভ। একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণায়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিকেল ৫টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ থাকলেও, তা না মানার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্ররা। এসময় তারা ভিসির আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। টিএসসিতে পাঠদান না করানো, সেমিনার রুমের ভাড়া ৩ হাজার থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা এবং জাতীয় দিবসগুলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পালন করার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করলে, ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে অভিহিত করেন। ভিসির এই উক্তি প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বুধবার থেকে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

বরগুনার ৫ উপজেলায় ভোট ৩১ মার্চ (ভিডিও)

চতুর্থ দফায় উপজেলা নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে বরগুনায়। পাঁচ উপজেলায় প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন ৪৮ প্রার্থী। গণসংযোগে দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রচারে পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্ররা। দক্ষিণের জেলা বরগুনায় চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহন ৩১ মার্চ। শেষ সময়ে প্রার্থীদের অন্তহীন ব্যস্ততা। বরগুনার সদর, বামনা, বেতাগী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় নির্বাচন হবে। এইসব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১৩, ভাইস চেয়ারম্যান ২১ এবং  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ১৪ জন। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা চাইছেন নৌকায় ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ন আর নিরপেক্ষ ভোট। এদিকে সৎ যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন তাকেই চাইছেন ভোটাররা। অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচনের সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান, নির্বাচন কর্মকর্তা। বরগুনার এই পাঁচ উপজেলায় মোট ভোটার ৬ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮। বিস্তারিত ভিডিওতে দেখুন : এসএ/  

বরগুনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বরগুনায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেরির সামনে থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন অংশগ্রহণ করে। এরপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপর মারুফ হোসেন, সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহেরুন নাহার মুন্নি। আলোচনা শেষে স্থানীয় শিল্পীরা জেন্ডার সংশ্লিষ্ট সংঙ্গীত পরিবেশন করেন। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের সহযোগিতায় দিবসটি আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতর । একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি