ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:৪১:২১, শুক্রবার

জব্বারের বলি খেলায় চ্যাম্পিয়ন শাহজালাল

ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার ১১০তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার শাহজালাল বলি।  বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বন্দর নগরীর চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে অনুষ্ঠিত এই বলিখেলা শেষে দুই পয়েন্ট জিতে শিরোপা জিতেছে শাহজালাল বলী। অপরদিকে রানার্সআপ হয়েছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন চকরিয়ার জীবন বলি। সিরাজগঞ্জের মো. শফিকুল ইসলাম ও মহেশখালীর সিরাজুল মোস্তফার মধ্যে লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার এবারের আসর। জব্বারের বলী খেলায় প্রথম রাউন্ডে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চ্যালেঞ্জিং রাউন্ডে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিলেন জীবন, কাঞ্চন, বজল, মো. হোসেন, কালাম, সাহাবউদ্দিন, কালু এবং শাহজালাল। এর আগে বিকেল সোয়া চারটায় বেলুন উড়িয়ে বলীখেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে এ প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর এ প্রতিযোগিতা জব্বারের বলীখেলা নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। প্রতিবছর ১২ বৈশাখ নগরের লালদীঘি মাঠে এ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ খেলায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় ‘বলী’।  এবার বলীখেলায় চ্যাম্পিয়নকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানারআপকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হবে। অন্য বলীদের নগদ ১ হাজার টাকা ও একটি করে ট্রফি দেওয়া হয়। কেআই/

একশো বছর আগে যেভাবে শুরু হয়েছিলো জব্বারের বলীখেলা

এবার একশ’ দশ বছর হচ্ছে ‘জব্বারের বলীখেলা’ নামের চট্টগ্রামের বিখ্যাত কুস্তি প্রতিযোগিতাটির। প্রতি বছর মূলত এই সময়েই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে এর আয়োজন হয়। বলী খেলাকে ঘিরে থাকে বৈশাখী মেলার আয়োজন। গতকাল বুধবার বিকেল চারটার দিকে এই আয়োজনের উদ্বোধন হয়। তিনদিন ধরে চলবে মেলা। তবে মূল কুস্তি প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। যেভাবে শুরু হয়েছিলো এই কুস্তি প্রতিযোগিতা বলী খেলা মানে কুস্তি প্রতিযোগিতা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কুস্তিকে বলী খেলা নামে ডাকা হয়। ১৯০৯ সালে প্রথম এই প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করেন চট্টগ্রামের জমিদার আব্দুল জব্বার সওদাগর। নামই বলে দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী এবং একজন ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এই বলীখেলার উপর গবেষণা করেছেন চিটাগাং সেন্টার ফর অ্যাডভ্যান্স স্টাডিজের সদস্য সচিব ড. শামসুল হোসাইন। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘সে সময় যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চলছিলো- রাজনৈতিক একটা আইডিয়া এটার পেছনে এসে তখন দাঁড়িয়ে যায়। তখন তরুণ প্রজন্মকে শারীরিকভাবে সমর্থ করার ধারণা থেকে এই প্রতিযোগিতা প্রথম চালু করেন জব্বার সওদাগর। ‘উদ্দেশ্য ছিল, তারা যেন আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন তার জন্য শারীরিকভাবে তাদের প্রস্তুত করা।’ ড. শামসুল হোসাইন বলছিলেন, ‘এর মধ্যে আরেকটি বিষয় ছিল মুসলিম তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সেই সময় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের হিন্দুদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল।‘ তিনি আরও বলেন, ‘কুস্তি এই অঞ্চলের অত্যন্ত প্রাচীন সাংস্কৃতিক উপকরণ। মধ্যযুগে সেনাবাহিনীতে যারা চাকরি নিতো তাদের শারীরিক সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য তারা কুস্তি করতেন। সেখান থেকেই এর শুরু।’ আব্দুল জব্বার সওদাগর নিজের নামেই এই বলীখেলার নামকরণ করেছেন। সেখান থেকেই এর নাম জব্বারের বলীখেলা। স্মৃতিচারণ জব্বার সওদাগরের নাতির আব্দুল জব্বার সওদাগরের ছেলের ঘরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদলের জন্ম ১৯৫৫ সালে। এই প্রতিযোগিতার শুরুটা না দেখলেও তার বাবার মুখে শুরুর দিককার অনেক গল্প তিনি শুনেছেন। বিবিসি তিনি বলেন, ‘আমার দাদার মৃত্যুর পর আমার বাবা এর দায়িত্ব নেন। তিনিই এটার আয়োজন করতেন। আমরা যখন দেখেছি, তখন এই প্রতিযোগিতা এতটা প্রসারিত ছিল না। এটি শুধু লালদিঘী এলাকার বলীদের জন্যই আয়োজন করা হতো।’ তিনি সেই সময়কার পরিবেশ বর্ণনা করে বলছিলেন, ‘সে সময় এলাকায় ঢোল বাজত, সঙ্গে থাকতো কুস্তিগীরেরা। আমরা ঢোলের পিছে পিছে ঘুরতাম। এভাবে তারা এসে মাঠে ঢুকত। আমি তখন স্কুলে পড়ি।’ তিনি জানান, তিনি তার বাবার মুখে শুনেছেন খেলাটা কিছুটা প্রচলন হওয়ার পর বলীরা সেই সময় মাস দু’য়েক আগে এসে জড়ো হতেন। তাদের বাড়িতেই বড় একটা বৈঠকখানা ছিল। সেই ঘরেই থাকতেন। সেখানেই তারা খাওয়াদাওয়া করতেন এবং দিনভর নানা শারীরিক কসরত ও অনুশীলন করতেন, প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতেন। আনোয়ার ঠিক সময়টা সেভাবে মনে করতে পারেন না ঠিক কবে তার বাবার হাতে এই আয়োজনের দায়িত্ব বর্তায়। তবে তিনি বাবার মৃত্যুর পর ১৯৮৬ সাল থেকে এই আয়োজনের নানা খুঁটিনাটি বিষয়ের সঙ্গে আরও সরাসরি জড়িয়ে গেছেন। সারা দেশের বলীরা যেভাবে যোগ দিলেন শওকত আনোয়ার জানান, ধীরে ধীরে চট্টগ্রামের নানা এলাকার বলী বা কুস্তিগীরেরা এই প্রতিযোগিতায় আসতে শুরু করেন। আনোয়ার বলেন, ‘আমি যখন লেখাপড়া করি তখন দেখতাম চট্টগ্রামের আশপাশের জেলা - নোয়াখালী, কুমিল্লা এ সব জায়গা থেকেও বলীরা আসতে শুরু করলো। এরপর সারা দেশ থেকে আসতে শুরু করে। এমনকি একবার আমার মনে আছে, ফ্রান্স থেকে দুজন কুস্তিগীর এখানে অংশগ্রহণ করেছিলো।’ সত্তরের দশক থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশের বলীরা আসছেন বলে জানান আনোয়ার। তিনি বলছেন, এটার যখন প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু হয় তখনই এর সম্পর্কে সবাই আরও ভালোভাবে জানতে পারেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই প্রথম এর সম্প্রচার করেছিলো। এরপর এখন সব টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করছে আর গণমাধ্যমের আগ্রহের কারণে জব্বারের বলীখেলা সম্পর্কে আরও প্রচার হয়েছে, জানান আনোয়ার। এখন যেভাবে হয় এই প্রতিযোগিতা জব্বারের বলীখেলার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চকোরিয়ার জীবন বলী। তবে এই প্রতিযোগিতার সবচাইতে বেশি পরিচিত নাম কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দিদারুল আলম বা দিদার বলী, যিনি সব মিলিয়ে সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি অবশ্য বছর দু’য়েক আগে অবসরে গেছেন। জব্বারের বলীখেলা আয়োজন কমিটির সভাপতি জওহরলাল হাজারী। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত এবারের বলী খেলায় ৬০ জন কুস্তিগীর অংশগ্রহণের জন্য নাম লিখিয়েছেন। তবে সংখ্যাটা আরও বড় হবে। সাধারণত দেড়শ’ জনের মতো কুস্তিগীর এখানে আসেন। তিনি আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে যত কুস্তিগীর আছেন, যাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার কোন পন্থা নেই, তাদের এখানে আসতে সহযোগিতা করা হয়। তাদের এই প্রতিযোগিতায় কসরত প্রদর্শন করার সুযোগ দেয়া হয়।’ এখানে পাঁচটি ধাপে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। প্রথম বাছাইয়ের পরের রাউন্ড পর্বে ৫০ জনকে নিয়ে খেলা হয়। সেখান থেকে ২৫ জন যায় মূল চ্যাম্পিয়ন পর্বে। এখানে কোন পয়েন্ট ব্যবস্থা নেই। কুস্তি করতে করতে মাটিতে যার পিঠ যে ঠেসে ধরতে পারবে সে-ই বিজয়ী হবে। এছাড়া বলী খেলাকে কেন্দ্র করে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলে। দুর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা গ্রামীণ নানা সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেন। সেটিও মেলার অন্যতম আকর্ষণ। জওহরলাল হাজারী আরও বলেন, চট্টগ্রামের বলী খেলাকে আরও প্রসারের চিন্তা করা হচ্ছে। সে রকম সরকারি আশ্বাস রয়েছে। শহরের স্টেডিয়ামের পাশে প্রশিক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি একে//

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৮৮৭ সালের এ দিনেই যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দরের। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘১৩২ বছর ধরে দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে প্রধান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় সফল ছিল বলেই আজ দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। প্রতি বছর যে বাজেট হচ্ছে তার সিংহভাগ অর্থের জোগান দিচ্ছে এ বন্দর। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারলেও সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি আমরা।’ ১৯৭৭ সালে ‘এসএস টেনাসিটি’ নামক জাহাজে ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং শুরু হয়। ১৯৮৮ সালেই স্পর্শ করে এটি এক লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাইলফলক। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার ওঠানামা হয় ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৯টি। আর ২০১৮ সালে এসে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ২৯ লাখের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের মাত্রাও। ২০১০ সালে চার কোটি ৫৩ লাখ টন কার্গো পণ্য ওঠানামা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৮ সালে এসে খোলা পণ্য ওঠানামার হার বেড়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ টনেরও বেশি। ২০১০ সালে দুই হাজার ২০৩টি জাহাজ এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৮ সালে একই বন্দর হ্যান্ডেল করেছে তিন হাজার ৭৪৭টি জাহাজ। পোর্ট ইউজার্স ফোরাম ও চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সীমিত সম্পদ দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমরা সর্বোচ্চ সেবা পাচ্ছি। আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় সেবার পরিমাণ কম হলেও আমরা এ বন্দরকে নিয়ে আশাবাদী। নতুন টার্মিনাল চালু এবং নতুন যন্ত্রপাতি বহরে যুক্ত হলে বন্দরের সক্ষমতা যেমন বাড়বে তেমনি কমবে আমাদের খরচও।’ বিজিএমইএর বন্দর ও কাস্টমবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও দেশের ভরসা হয়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দর। পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জেটি থাকলে এ বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ত। তখন পণ্য নিয়ে আর কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হবে না। চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর হবে বিশ্বমানের বন্দর।’ এসএ/

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দিল মোহাম্মদ দিলু (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার মৃত মকবুল আহমদ প্রকাশ পুতুর ছেলে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মহেশখালিয়াপাড়ায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।  পুলিশের দাবি, নিহত দিল মোহাম্মদ ইয়াবাকারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৬টি এলজি, ১৩ রাউন্ড কার্তুজ ও ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, মঙ্গলবার বিকালে ৯ মামলার পলাতক আসামি এবং তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী দিল মোহাম্মদ দিলুকে আটক করেন পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পার্শ্ববর্তী মহেশখালিয়াপাড়ায় ইয়াবা এবং অস্ত্র উদ্ধারে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সহযোগীরা দিলুকে ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে মাদককারবারিরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে দিলুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত হন এসআই বাবুল ও কনস্টেবল ইব্রাহীম। দিলুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। বুধবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিলুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওসি। এসএ/  

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় দুই গ্রুপের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. শাহাব উদ্দিন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া পাহাড়ি এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৯টি খালি খোসা ও ২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মো. শাহাব উদ্দিন উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজর পাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল ইসলাম খান জানান, ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া পাহাড়ি এলাকায় ইয়াবা কারবারী ও সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পাওয়া যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টেকনাফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একে//

নুসরাত হত্যা: ‍রুহুল আমিন আটক

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আটক করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ‍রুহুল আমিনকে। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে সোনাগাজীর তাকিয়া বাজার থেকে আটক করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনেভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই’র এএসপি মনিরুজ্জামান। রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এই কমিটি অবশ্য শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে। গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে তারা চাপ দেয়। ২৭ মার্চ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছিল। দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান নুসরাত। এই ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রথম থেকেই আলোচনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনের নাম। হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নুসরাতকে পোড়ানোর বিষয়টি জানতেন। এমনকি নুসরাতকে আগুনে ঝলসে দেওয়ার পর মুখোশধারীরা ফোনে বিষয়টি তাকে জানালে রুহুল আমিন উত্তর দেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও’। নুসরাত হত্যার পর সোনাগাজী পরিদর্শনে আসা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ সদরদফতরের প্রতিনিধি দলের তরফ থেকেও বলা হয়েছে, ২৭ তারিখ মাদ্রাসার কমিটি ব্যবস্থা নিলে ৬ মার্চ নুসরাতকে আগুনে পোড়ানোর ঘটনাটি হয়তো এড়ানো যেতো। শ্লীলতাহানির মামলায় আগে থেকেই কারাবন্দি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। হত্যা মামলা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। সিরাজ উদদৌলার ‘ঘনিষ্ঠ’ নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চারজনের স্বীকারোক্তিতেই নুসরাত হত্যার ঘটনায় রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। শামীম তার জবানবন্দিতে জানান, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর তিনি দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যান। বাইরে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি রুহুল আমিনকে জানান। প্রত্যুত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও। বাকি আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজ উদদৌলাকে ৭ দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে ৫ দিন, জাবেদ হোসেন ৭ দিন, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, আবছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, শামীম ও যোবায়ের হোসেনকে ৫ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হয়েছে নুসরাতের সহপাঠী মো. শামীম ও জান্নাতুল আফরোজ মনি। এরই মধ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ায় ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার ওই সময়ের (নুসরাত হত্যার পর প্রত্যাহার) ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলাও তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। আরকে//

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হলেন অধ্যাপক তফজল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম তফজল হককে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ৩৩ (১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ অনুমোদন করেন। নিয়োগ আদেশে বলা হয়, এ কে এম তফজল হক আগামী চার বছর এই পদে দায়িত্বরত থাকবেন। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, অধ্যাপক এ কে এম তফজল হকের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১৫ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। কেআই/

কে এই সিরাজ?

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা। পরে সেই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদে রিমান্ডেও নেয়া হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় এই অধ্যক্ষ ও তার সহযোগিদের নির্মম হত্যাকান্ডের স্বীকার হন নুসরাত। চরম পাশবিকতার বলি হয়ে নুসরাত দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেও কারাগারে বেচে আছেন সেই সিরাজ। যাকে নিয়ে আজ জনমনে হাজারো প্রশ্ন। একজন শিক্ষক হয়ে এমন ঝঘন্য কাজে লিপ্ত এই সিরাজ আসলে কে? কি ছিল তার পূর্ব পরিচয়। আরও কত মেয়ে শিক্ষকতার মুখোশধারী এই পাষন্ডের নির্মমতায় স্বীকার হয়েছেন? জানা গেছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলা একজন জামায়াত নেতা (রুকন)। তবে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিতে ২০০১ সাল থেকেই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি গড়ে তুলেছিলেন সুসম্পর্ক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি ম্যানেজিং কমিটিতে সোনাগাজী পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন এবং তার সহযোগী জামায়াত নেতা ও পৌর জামায়াতের সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নানকে সদস্য করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সে বিপাকে পড়ে যায়। পরে ২০১২ সালে আলাউদ্দিন ও আবদুল মান্নানকে বাদ দিয়ে ম্যানেজিং কমিটিতে সদস্য করেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুনকে। জামায়াত নেতা আবদুল মান্নানকে ম্যানেজিং কমিটি থেকে সরিয়ে দেয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা। তখন শেখ মামুনকে হাতে রেখে অন্যদের ঘায়েল করতে ব্যাপক তৎপর হয়ে ওঠেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। ২০১৫ সালে মাদ্রাসার অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় মামুনের। পরে অধ্যক্ষ তার দলে টেনে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে। ২০১৮ সালে রুহুল আমিনকে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও তার সহযোগী পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দিয়ে রুহুল আমিনকে সদস্য করেন। আর এভাবেই কৌশলে প্রভাবশালীদের কব্জা করে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর যৌন হয়রানিসহ নানা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেছেন। এই অধ্যক্ষ নিজে টিকে থাকতে এবং লুটপাট করতে সব সময় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে অপকর্ম চালিয়ে যেতেন। ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মো. সামছুদ্দিন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলাকে বিভিন্ন অপকর্মের জন্য ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে আমাদের কোনো সদস্য নন। প্রসঙ্গত, গত (৬ এপ্রিল ২০১৯) ৯টার দিকে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে মাদরাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। পরীক্ষার হলে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর তার চার জন সহপাঠী তাকে ডেকে তিনতলা মাদরাসার ছাদে নিয়ে যায়। ওই চার জন সহপাঠী বোরকা ছাড়াও হাত মোজা পরিহিত ছিল। এছাড়া তাদের মুখমন্ডল ঢাকা ছিল। শুধু দুই চোখ অনাবৃত ছিল। তারা দাহ্য পদার্থ ছুড়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। নুসরাত বাঁচার জন্য চিত্কার করলে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী এবং স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে শরীরের আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ নুসরাতকে ভর্তি করার পর ওই ছাত্রীর একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। রেকর্ডে ওই ছাত্রী বলেন, সকালে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান তিনি। মাদরাসায় পৌঁছলে এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারছে বলে ডেকে নেয়। সেখানে আরও চার-পাঁচজন মুখোশধারী ছাত্রী ছিলেন। তারা বলেন, প্রিন্সিপালের উপর যে অভিযোগ করেছিস তা মিথ্যা, বল। আমি বলি না, আমি যা বলেছি সব সত্যি। তারা বলে, তোকে এখনই মেরে ফেলবো। আমরা তোর সব খবর নিছি। তোর প্রেম সম্পর্কিত সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমি বলি, আমি সব সত্য বলেছি। আমি শিক্ষকদের সম্মান করি, কিন্তু যে শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিছে আমি তার প্রতিবাদ করেছি। সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার হাত-পা চেপে ধরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এই মামলায় পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে। অধ্যক্ষ এখন কারাগারে আছেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। আরেকটি অংশ অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। এঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা (নম্বর ১০) দায়ের করেন। আরকে//

অনিশ্চয়তায় চট্টগ্রামের ৬২৬ মাস্টার্স পরীক্ষার্থী

ফরম পূরণ করতে না পারায় চট্টগ্রামের ৬২৬ মাস্টার্স (প্রাইভেট) পরীক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এ শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নগরীর সরকারি তিন কলেজ থেকে প্রথম পর্বের (প্রিলি) ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন কার্ড না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারেননি তারা। এরই মধ্যে ফরম পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া সময় সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার সমস্যায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় ত্রুটির কারণে তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ভর্তি হওয়ার ১০ মাস পর কর্তৃপক্ষের এমন জবাবে চরম হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগীরা। কিছু শিক্ষার্থী আছেন, যাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বেশি দিন নেই। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের পরিচালক প্রফেসর আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। আঞ্চলিক কেন্দ্র শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা গ্রহণে খাতা ও ওএমআর শিট সংগ্রহ এবং সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সূত্র জানায়, প্রায় ১০ মাস আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে ভর্তি নিশ্চিতকরণ ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বলা হয়, ওই সময় (ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন) শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্ধারণ ভুল হয়। তবে সার্ভার সমস্যায় গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে এসব শিক্ষার্থীর ভর্তিতে জটিলতা দেখা দেয়। এমন ৬২৬ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের ৩৫০ জন, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ১৫০ জন ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের ১২৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দফতরে যোগাযোগ করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত ছাত্র পরিষদ নামক একটি ব্যানারে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারসহ চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এরপরও কোনো সুরাহা হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমনটা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এসএ/    

অধ্যক্ষের নির্দেশেই নুসরাতকে হত্যা

ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৩ জনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২ জন নারী জড়িত রয়েছে। জড়িত এসব ব্যক্তির মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এসব তথ্য জানিয়ে  বলেছে, দুটি কারণে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমত, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করা দ্বিতীয়ত, শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। রাফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তারের পর এই হত্যার কারণ এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে  এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দুপুরে রাজধানীর পিবিআই সদর দপ্তরে সংস্থার প্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার প্রেস ব্রিফিংয়ে রাফি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। পিবিআই সদর দপ্তরে সংস্থার প্রধান পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার জানান, গত (৪ এপ্রিল) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে ফেনী কারাগারে দেখা করে কয়েকজন। তাদের মধ্যে ছিল মাদরাসার ছাত্রলীগের কথিত সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, হেফজখানার ইনচার্জ হাফেজ আবদুল কাদের। সেখানে সিরাজ তাদের ‘একটা কিছু করে’ রাফিকে ‘শায়েস্তা করার’ এবং ‘থামিয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরই শামীম ও নূর উদ্দিন রাফির ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। ছাত্রাবাসে আগের রাতে পরিকল্পনা : বনজ কুমার বলেন, সিরাজের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ এপ্রিল রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার হোস্টেলে একটি বৈঠক করে পাঁচজন। বৈঠকে নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন ও হাফেজ আব্দুল কাদের ছিল। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ায় পুরো ‘আলেম সমাজ হেয়’ হচ্ছে বলে তারা রাফির ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। শামীমের প্রেমের প্রস্তাব রাফি একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করার কারণে সে ক্ষিপ্ত ছিল। ওই বৈঠকেই রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। শামীমই রাফিকে পুড়িয়ে দেওয়ার ধারণা দেয়। কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, সেই বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তারা আরও পাঁচজনকে তাদের পরিকল্পনার কথা জানায়। যাদের মধ্যে দু’জন মেয়ে ছিল। তাদের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনটি বোরকা ও কেরোসিন সংগ্রহের জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেন শামীমের কাছে তিনটি বোরকা ও কেরোসিন সরবরাহ করে মেয়েটি। পরিকল্পনার পরদিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার আগেই বোরকা পরে শামীমসহ তিন পুরুষ শিক্ষার্থী সাইক্লোন শেল্টার কাম মাদরাসা ভবনের ছাদে টয়লেটে লুকিয়ে থাকে। এরপর পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে আরেকটি মেয়ে রাফিকে বলে, ছাদে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। এই খবর শুনেই রাফি ছাদে যায়। যেভাবে হত্যাকাণ্ড : আটক আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ঘটনার বিবরণ জানান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই ওই মাদরাসায় ঢুকে পড়ে হত্যাকারীরা। সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে দুটি টয়লেটে লুকিয়ে ছিল তারা। চার হত্যাকারীর মধ্যে যে মেয়েটি ছিল সেই মেয়েই বাকি তিনজনকে বোরকা ও কেরোসিন এনে দেয়। দুই মেয়েই মাদরাসার ছাত্রী। ক্লাসের আগে (সকাল ৭টা) পলিথিনে কেরোসিন ও বোরকা নিয়ে মাদরাসায় ঢোকে। আর চম্পা বা শম্পা নামের একটি মেয়ে (পঞ্চম জন) পরীক্ষার হলে গিয়ে রাফিকে বলে তার বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে। এই কথা শুনে রাফি ছাদে যায়। রাফি ছাদে যাওয়ার পরই তারা টয়লেট থেকে বের হয়ে তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। কথা না শোনায় রাফির হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া চারজন এবং নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে আসা চম্পা অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সবার সামনে দিয়েই মাদরাসার মূল ফটক হয়ে পালিয়ে যায়। নূর উদ্দিন ও হাফেজ আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজন আগে থেকেই ফটকে পাহারা দিচ্ছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর সবাই গাঢাকা দেয়। ‘এই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষার্থী। ছাদে একজন মেয়ে ছিল বলে জানা গেছে। হল থেকে রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় আরেকটি মেয়ে। এই দুই মেয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিরা ছেলে। ছাদে শামীম ছিল। বাকিদের ব্যাপারে তথ্য যাচাই এবং গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। কোনো সম্পৃক্ততা যার আছে তাকেই আসামি করা হবে। রাফি মুমূর্ষ অবস্থায় ওস্তাদ শব্দটি উচ্চারণ করে। মাদরাসা বা হেফজখানার শিক্ষকদের ওস্তাদও বলা হয়।’ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুটি মেয়েকে শনাক্ত করা যায়নি বলে পিবিআই জানিয়েছে। তবে উম্মে সুলতানা পপি নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে অধ্যক্ষ সিরাজের ভায়রার মেয়ে। তবে পপি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না সেটা নিশ্চিত করেনি পিবিআই।   তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পলাতক আসামি হাফেজ আব্দুল কাদের ও নির্দেশদাতা অধ্যক্ষ সিরাজের কারণেই সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় রাফির ওপর নিপীড়ন এবং হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাদের অনুসারী ছাত্ররা তাদের ওস্তাদ বলে জানে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরো জানায়, হত্যার সময় যে নারী তাদের বোরকা ও কেরোসিন দিয়েছিল সে শামীমের ঘনিষ্ঠ। সে পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত হয়। এখন তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পিবিআই জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শামীমকে নিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর আগে রাফি যেভাবে তাঁর ওপর হামলার বর্ণনা দিয়েছিল, পিবিআইয়ের তদন্তে তেমন তথ্যই উঠে আসছে। গ্রেপ্তার যারা : পিবিআই জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জড়িত যে ১৩ জনের তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো এস এম সিরাজ উদদৌলা, তার সহযোগী নূর উদ্দিন ও শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, জোবায়ের আহমেদ, জাবেদ হোসেন ও  প্রভাষক আফছার উদ্দিন। কেআই/

জট খুলছে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের

ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু ঘটনায় জট খুলতে শুরু করেছে। শুক্রবার মামলার এজহার ভুক্ত আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের আটকের পর তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। গতকাল রাজধানীতে প্রেসব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এদিকে ফেনীসহ দেশ জুড়ে নুসরাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নারীবাদি সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। গতকাল ফেনীতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী নুসরাতের মামলার সব খরচ চালানোর ঘোষণা দেন। এসময় তিনি নুসরাতের নামে একটি সড়ক ও একটি ভবন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে মামলার এজহারভূক্ত আসামি জাবেদ হোসেনকে গ্রেফতারে পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইন ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।পুলিশ, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামীয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ তার অফিসে ঢেকে নিয়ে নুসরাতকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২৮ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত । দগ্ধ হওয়ার খবর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে নুসরাতের চিকিৎসার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের মান উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। মামলায় ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরকৃষ্ণ গ্রামের মৃত কলিম উল্লার ছেলে এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৫), সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম (৪৫), পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের আহসান উল্লার ছেলে নুর উদ্দিন (২০), ছাত্রলীগের মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও একই গ্রামের ভূঞাবাজার এলাকার শাহাদাত হোসেন শামিম (২০), রহমত উল্লার ছেলে জাবেদ হোসেন (১৯), ছফরপুর গ্রামের হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), তুলাতলি এলাকার আবুল বশরের ছেলে যোবায়ের আহম্মেদ (২০), মাদরাসার ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিনের (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও হাতমোজা, চশমা ও বোরকাপরা ৪জনসহ অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ ও পিবিআই এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃদের মধ্যে ওই মাদরাসা অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকছুদ আলম, মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, নুর উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামিম, সহপাঠি আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি, যোবায়ের হোসেন ও জাবেদ হোসেন। ১২ এপ্রিল এ ঘটনায় এজহারভূক্ত আসামি হওয়ায় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুল ইসলামকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ফেনীসহ পুরো দেশে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দােবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার ওই ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। ৪ এপ্রিল সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন আসামি নুর উদ্দীনসহ কয়েকজন। পরে তাঁরা সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেন।নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁর মুক্তির দাবিতে ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে কমিটি গঠন করা হয়। ২০ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হন শাহাদাত হোসেন শামীম। তাঁদের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে গত ২৮ ও ৩০ মার্চ উপজেলা সদরে দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। তাঁরাই নুসরাতের সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এসএইচ/

ফেনীতে গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ৩ ডাকাত নিহত

ফেনীর দাগনভূঞায় গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ৩ ডাকাত নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আরও ২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শনিবার ভোরে উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের বাগের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক (ওসি) ছালেহ আহাম্মদ পাঠান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জসিম উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়া (৩০), একই এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (২৭) ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া গ্রামের সিরাজ উল্যার ছেলে সোহাগ (২২)। এছাড়া আহতরা হলেন- উপজেলার মনোয়ার হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (২৮) ও সোনাগাজীর চর লক্ষীগঞ্জ এলাকার নুর আলমকে (৪২)। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকায় ডাকাতি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ৫ ডাকাতকে ঘিরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন ও চিকিৎসাধিন অবস্থায় একজন নিহত হয়। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আবু তাহের জানান, অভিযুক্ত ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে রাতে ৩ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ২ জন হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা যায়। একজন সকালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছে। পরে আহত অবস্থায় আরও ২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একে//

সোনাগাজীতে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলেন যারা

ফেনিতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ওপর যৌন নিপীড়নের এবং তাকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পরও কেন স্থানীয়ভাবে এর কোনও প্রতিবাদ হয়নি, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ঘটনার পর থেকেই। সোনাগাজীর স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষিকা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর কয়েকশো ছাত্রীকে নিয়ে প্রথম প্রতিবাদ মিছিলটি তারাই বের করেছিলেন। সোনাগাজী গার্লস পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষিকা বীথি রাণী গুহ বলছেন, এই ঘটনায় সারাদেশের মতো সোনাগাজীর মানুষও ছিলেন বিক্ষুব্ধ, কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ভয়-ভীতি-হুমকির মুখে হয়তো অনেকে সেভাবে সোচ্চার হতে পারেননি। তবে শিক্ষিকা বীথি রাণী গুহ বলছেন, ‘মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের পরে ২৮ তারিখ সকাল ১১টা আমরা মেয়েদের নিয়ে রাস্তায় প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সমাবেশ করেছি। সব শিক্ষক এবং প্রায় সাতশোর বেশি ছাত্রী সেখানে ছিল।’ ‘একটা নিরপরাধ মেয়েকে কেন একজন শিক্ষক নির্যাতন করলেন, কেন একটি মেয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হলো, ওই অধ্যক্ষের শাস্তির জন্য আমরা মানববন্ধন করেছি।’ কিন্তু এই প্রতিবাদ সমাবেশ করার সময় স্থানীয়ভাবে কোনও সমর্থন তারা পাননি। বীথি রাণী গুহ বলছেন, ‘সরাসরি কেউ কিছু বলেনি, তবে পরে ফেসবুকে অনেকে লিখেছে যে, মাদ্রাসায় হলেও সেখানের কেউ প্রতিবাদ করছে না, আশেপাশের স্কুল থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে না, অথচ অন্য স্কুলের ছাত্রীরা প্রতিবাদে নেমেছে, এটা তাদের পছন্দ হয়নি।’ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেছিলেন তার মা। গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে কয়েকজন বোরকা পড়া ব্যক্তি নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর ১০ এপ্রিল বুধবার নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান। নুসরাত জাহানের মৃত্যুর পরে সোনাগাজীতে কয়েকটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বিবিসির সংবাদদাতা স্কুল শিক্ষিকা বীথি রাণী গুহের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, যখন নুসরাত জাহানের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন ফেনীতে স্থানীয়ভাবে কতটা কী প্রতিবাদ হয়েছে? বীথি রাণী বলছেন, ‘তেমন কোনও প্রতিবাদ হয়নি। কারণ প্রশাসন সক্রিয় থাকায় পক্ষে-বিপক্ষে তেমন কোনও কথা হয়নি। ভেতরে ভেতরে সবাই ক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল। বৃহস্পতিবার থেকে (মারা যাওয়ার পর) কিছুটা প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে তেমন সোচ্চার প্রতিবাদ হয়নি।’ স্থানীয় কিছু ক্ষমতাশালী লোকজনের কারণে এই প্রতিবাদ হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলছেন, ‘এই এলাকাটি একটু গ্রামীণ এলাকা, বিশেষ করে ধর্মবিশ্বাস বেশি। এখানকার নারীরা বাইরে চলাফেরা করে কম, তাদের ভেতর ভয়ভীতিও বেশি থাকে।’ তাহলে তারা কিভাবে ২৮ তারিখে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন? এই শিক্ষিকা বলছেন, ‘আমরা স্কুলের শিক্ষকরা মনে করলাম যে, একটা মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আমরা একটি নারী প্রতিষ্ঠান, মেয়েদের স্কুল, আমাদের তো মাঠে নামতেই হয়। আমরা নারী শিক্ষক আছি ১২ জন, শিক্ষার্থী আছে এগারোশোর ওপরে।’ ‘আমরা মনে করলাম, আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত, সে কারণেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’ তিনি বলছেন। যখন তারা জানতে পারলেন যে, মেয়েটির শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তারা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলেন। ‘শরীর একটু পুড়ে গেলে যা কষ্ট হয়, আর এই মেয়েটি তো শরীরের আশি শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পরেও পাঁচ সাতদিন কীভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছে, সেটা অনুভব করলে আর বলার ভাষা থাকে না।’ তিনি জানান, এ ধরণের ঘটনার শিকার হলে মেয়েরা যেন অবশ্যই প্রতিবাদ করে, শিক্ষার্থীদের তিনি সব সময় সেই পরামর্শই দেবেন। সূত্র: বিবিসি একে//

চবি ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, বাস চালক গ্রেফতার

চলন্ত বাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ঘটনায় জড়িত বাস চালক বিপ্লব দেবনাথকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। একইসঙ্গে ওই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান। ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির ঘটনায় বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় ব্যবহার করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি চালককে শনাক্ত করেছে বলেও তিনি জানান। ঘটনায় জড়িত হেলপারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের স্টেশন রোড এলাকায় বাসের হেলপার ও চালকের ‘যৌন হয়রানি’ থেকে বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন বলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নগরের কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওসি মহসীন ভুক্তভোগী ছাত্রীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আশ্বাস দিলে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি তার বাবা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কোতোয়ালী থানায় হাজির হন এবং পুলিশের সহযোগিতায় অজ্ঞাত বাসটির হেলপার ও চালককে আসামি করে মামলা করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, চবির অর্থনীতি প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্লাস শেষ করে আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ১ নং গেইট হতে ৩ নং বাসে ওঠেন। বাসটি নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী ছাড়া সব যাত্রী একে একে নেমে গেলে তিনি একা হয়ে যান। এ সময় হঠাৎই বাসটি তার রুট পাল্টে স্টেশন রোডের দিকে চলতে শুরু করে। তখন ভুক্তভোগী মেয়েটি নিরাপত্তার স্বার্থে বাস ড্রাইভারকে বাস থামাতে বললে হঠাৎই বাসের হেলপার তার দিকে ধেয়ে যায় এবং তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। সে সময় দম বন্ধ হয়ে আসলে মেয়েটি আত্মরক্ষার্থে তার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে হেলপারটিকে আঘাত করে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দেয়। পরে এক রিক্সাওয়ালার সহযোগিতায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বাসায় ফিরেন। ঘটনার সময় বাসের ড্রাইভারটিও ‘মেয়েটাকে ধর ধর’ বলে হেলপারকে উৎসাহ জোগায়।

আজ রাউজান গণহত্যা দিবস 

আজ ১৩ এপ্রিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে রাউজানের শোকাবহ একটি দিন। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানি দোসরদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে উপজেলার তেরটি স্থানে সকাল সাতটা থেকে শুরু করে নির্মম ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। রাউজানের ইতিহাসের সেই নারকীয় গণহত্যায় ১৫৬ জন হিন্দু ও ১০ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী জানান, রাউজানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৩ এপ্রিল দিনটি ছিল এক ভয়ঙ্কর দিন। এ দিন হত্যার এমন নির্মমতা ছিল যে, অনেক পরিবারের মধ্যে কেউই বেঁচে নেই। এবার এসব শহীদদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে আলোচনা সভার অয়োজন করব। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান জনান, ১৩ এপ্রিল গণহত্যা দিবস পালনে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যৌথভাবে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে ঊনসত্তরপাড়া শহীদ বেদীতে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন, পুষ্পঞ্জালি অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করব। তবে দিবসটি পালনে বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন এবং উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, উপজেলা প্রশাসন হতে এই দিবস নিয়ে কোনো কর্মসূচি নেই। কোনো সরকারি নির্দেশনাও পাইনি। পাহাড়তলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঊনসত্তরপাড়া বধ্যভূমি স্থলে এবং শহীদ অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কুণ্ডেশ্বরীতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসএ/

কুবির ১৩ বছরে নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষক ১৬

প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ১৬ জন শিক্ষার্থী। ইতিমধ্যে ছয় থেকে সাতটি ব্যাচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলেও খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থীই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছে ৬টি ব্যাচ অর্থ্যাৎ স্নাতক প্রায় তিন হাজার  এবং স্নাতকোত্তর দুই হাজার শিক্ষার্থী। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৯টি বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ২২৪ জন। এদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র ১৬ জন। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চারজন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ ও অর্থনীতি বিভাগে রয়েছেন দুইজন করে এবং বাংলা, লোকপ্রশাসন, ইংরেজি, ম্যানেজমেন্ট, নৃবিজ্ঞান, গণিত, আইসিটি, মার্কেটিং বিভাগে রয়েছে একজন করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগে অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ও সর্বোচ্চ রেজাল্টধারী শিক্ষার্থীরাও নিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন না। অপরদিকে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, স্বজনপ্রীতির কারণে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীরা।     রেজিস্ট্রার সূত্র জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৯ জন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পেয়েছে। তারমধ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে চারজন , ২০১৫ ও ২০১৬ সনে ১০ জন এবং ২০১৭ সালে পাঁচ জন স্বর্ণপদক পায়। ১৯ জন শিক্ষার্থী ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেলেও ছয় জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আহ্বায়ক আল আমীন অর্নব বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ রেজাল্টধারী তথা মেধাবী শিক্ষার্থী বের হচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সুযোগ না দিলে অন্যারা কেন দেবে? কুবিতে যেন কুবির মেধাবীদের সুযোগ হয়। বিজ্ঞান অনুষধের ডিন ডা এ কে এম রায়হান উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেধাবীদের মুল্যায়ণ করে। এক্ষেত্রেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা মেধাবীরাও বঞ্চিত হবে না। বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চেীধুরী বলেন, আমরা এখানকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছি। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। এখন ধীরে ধীরে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মান বাড়ছে। ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে। তখন বেশি করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। কেআই/  

কুবিতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা শীর্ষক কর্মশালা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা: প্রেক্ষিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন কর্মশালার প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এমরান কবির চৌধুরী। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোহাম্মদ এমদাদুল হকের উপস্থাপনায় এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব ড. মো. খালেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড.এ কে এম শামসুল আরেফিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ ও শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ। উল্লেখ্য, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং সুশাসন সংহত করা, সরকারি কর্মকান্ডের সকলস্তরে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বর্তমান সরকার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) চালু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কেআই/

পাহাড়ীদের বর্ষবরণ উৎসবের প্রথম দিন আজ (ভিডিও)

পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে পাহাড়ীদের বর্ষবরণের উৎসব বৈসাবি। উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বর্ষবরণের উৎসবের প্রথম দিন আজ। চৈত্রের শেষ বেলায় রঙিন ফুল নদীতে ভসিয়ে পুরোনোকে বিদায় দেয় পাহাড়ি তরুনীরা। সূচনা হয় বৈসাবি উৎসবের। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বৈসুু-সাংগ্রাই-বিজুর উৎসব এখন পাহাড়ে পাহাড়ে। নতুন পোশাক পরে, ঘরে ঘরে পাঁচন রান্না আর ঘরবাড়ি সাজ-সজ্জার আয়োজন চলছে। উৎসবের প্রথম দিনে নদীতে ফুল ভাসানো ছাড়াও বয়স্ক পূজা, বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা আর ঐতিহ্যবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম। ৪দিনের এই উৎসবে আরো থাকছে সমবেত প্রার্থনা, জলকেলি, পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান আর হাজারো প্রদীপ প্রজ্জলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃগোষ্ঠীগুলো এই বছরান্তের উৎসবকে নানা নামে ডাকলেও, সবার নিবেদন একই! এটাই নৃগোষ্ঠীগুলোর মৈত্রী বন্ধনের এক অনন্য প্রতীক। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে : এসএ/    

নুসরাতের খাতার পাতায় যৌন নিপীড়নের বর্ণনা

ফেনীর সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নুসরাত জাহানের লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। শিক্ষক সিরাজ উদ-দৌলার কাছে কীভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হতেন, তা নিজের খাতার পাতায় লিখে গেছেন ওই মাদ্রাসাছাত্রী। মঙ্গলবার তার বাড়ি থেকে চিঠিটি উদ্ধার করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির পর সহপাঠী বান্ধবীদের উদ্দেশে লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারি সূত্র। সূত্র জানায়, তার পড়ার টেবিলে খাতায় দুই পাতার ওই চিঠিতে তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে নুসরাত। ওই চিঠিতে নুসরাত আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করেন। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে নুসরাত। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটূক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। চিঠিটিতে নুসরাত লেখে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ওই দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।’ ‘তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিস না। তুই প্রেম করিস না। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে...। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিঠিটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে যাদের নাম আছে, প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে দুর্বৃত্তরা ওই ছাত্রীকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার দেওয়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে বলে। সে রাজি না হলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সৃজনশীলতা ধারণ করেই আলোকিত মানুষ হওয়ার আহবান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতা, নান্দনিকতা আর সৃজনশীলতাকে বুকে ধারণ করেই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে।  তিনি বলেন, জ্ঞান-গবেষণার তীর্থ স্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবিরাম জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে যে যত বেশি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবে সে ততো বেশি আলোকিত মানুষ হিসেবে নক্ষত্রের মতো বিশ্বে আলো ছড়াবে।বিশ্বকে আলোকিত করার প্রস্তুতি গ্রহণের শ্রেষ্ঠ সময় হলো ছাত্রজীবন।  বুধবার সকাল ১০টায় চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান করেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী। উপাচার্য তাঁর ভাষণে নবীন শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ অত্যন্ত গৌরবোজ্জল ও সমৃদ্ধ একটি বিভাগ। এই বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ পবিত্র ইসলাম ও আলকোরআনের মর্মবাণী নিয়ে অবিরাম গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃজন এবং জ্ঞান উৎপাদন করে চলেছেন। উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ভান্ডার থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান আহরণে ব্রতী হয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও আলোকিত মানব সম্পদে পরিণত হওয়ার মানসে বিভাগের গুণি শিক্ষকদের সান্নিধ্যে থেকে নবীন শিক্ষার্থীরা পঠন-পাঠনে অধিকতর মনোযোগী হবে এটাই প্রত্যাশিত। উপাচার্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ভান্ডার থেকে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে নিজেদের অধিকতর সমৃদ্ধ করে নতুন জীবনে অবগাহন করতে চলেছে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অর্জিত এ জ্ঞান বাস্তব জীবনে সততা ও দক্ষতার সাথে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আলোকিত করার পাশাপাশি দেশ তথা বিশ্বকে আলোয় উদ্ভাসিত করবে এবং স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সম্পৃক্ত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাঙ্খিত ভূমিকা রাখবে মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরে উপাচার্যকে বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রমিজ উদ্দিনের লেখা ‘জীবনের জলছাপ’ বইটি উপহার হিসেবে প্রদান করেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এনামুল হক-এর সভাপতিত্বে এবং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ আরিফের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও উক্ত বিভাগের প্রফেসর ড. এ এফ এম আমীনুল হক। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উক্ত বিভাগের প্রফেসর ড. হাফেজ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা এবং প্রফেসর ড. আহমদ আলী। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. শরিফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। কেআই/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি