ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫০:৩৭, বুধবার

টেকনাফে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ যুবক আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আফসার কামাল (২৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৫ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউপির রঙ্গিখালীস্থ হেলাল উদ্দিনের মালিকাধীন ভাই ভাই অটো রাইস মিলে থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ধানের বস্তার ভেতরে লুকানো বিশেষ কায়দায় রাখা ৪টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ১০ রাউন্ডগুলি উদ্ধার করা হয়। আটক যুবক রঙ্গিখালী গ্রামের ফরিদ আহমদের পুত্র বলে জানিয়েছেন বিজিবি। টেকনাফ ২নং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন,‘রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউপির রঙ্গিখালী হেলাল উদ্দিনের মালিকাধীন ভাই ভাই অটো রাইস মিলে অভিযান চালান। এসময় মিলে থাকা ধানের বস্তার ভিতর বিশেষভাবে লুকানো ৪টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ রঙ্গিখালী এলাকার ফরিদ আহমদের পুত্র আফসার কামালকে (২৭) আটক করা হয়। আটকের পর তাকে অস্ত্রসহ টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কেআই/  

ফেনীতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের যাবজ্জীবন

ফেনীর সোনাগাজীতে এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার অপরাধে আবু বকর সাগরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৪ সহ‌যোগীকে ১৪ বছ‌রের কারাদন্ড এবং প্রত্যেকের ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় দেন। আদালত সূত্র জানায়, গত ২০১৩ সালের ১৫ মে সোনাগাজী সাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চরগনেশ এলাকার তার বাড়ী থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বেলায়েত হোসেন ৬ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। পরে একই বছরের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন কুমার ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এছাড়া বাকী ৫ আসামীকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এ মামলার প্রধান আসামী পলাতক রয়েছে। কেআই/

সুবর্ণচরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নূর ইসলাম ফকির (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, নিহত ব্যক্তি জলদস্যু। সোমবার ভোরে উপজেলার পশ্চিম চরজব্বারের ৪নং ওয়ার্ডে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। নিহত নূর ইসলাম ফকির সূবর্ণচর থানার পশ্চিম চরজব্বার ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব ১১ এর সিপিসি-৩ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের উপপরিদর্শক সাগর ভদ্র জানান, র‌্যাবের একটি দল রাতে নূর ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে তার দলের লোকজন র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে নূর ইসলামের শরীরে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় র‌্যাবের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন। তবে রোববার রাতে বাড়ি থেকে র‌্যাবের একটি দল ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় উল্লেখ করে নিহতের মা বলেন, ‘আমার ছেলে কোনও ডাকাত দলের সদস্য ছিল না। সে এলাকায় বিভিন্ন কাজকর্ম করে রোজগার করত।’ এদিকে নিহতের নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হলে সম্প্রতি সে সূবর্ণচরে থাকতে শুরু করেছিলেন বলে জানা যায়। এমএস/

অলিম্পিক ডে উপলক্ষে ফেনীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

অলিম্পিক ডে উপলক্ষে ফেনীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাআন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রতি বছরের ন্যায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে ফেনীতে পালিত হয়েছে অলিম্পিক ডে। রোববার দিবসটি উপলক্ষ্যে ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি রেব করা হয়। সকালে ফেনীর ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সালাম কমিউনিটি সেন্টারে এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উক্য সিং মারমা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার, পৌর কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ মজুমদার, সাইফুর রহমান সাইফু, বাহার উদ্দিন বাহার, জেলা ক্রিকেট কোচ রিয়াজ উদ্দিন রবিন, ক্রীড়া সংগঠক গোলাম রাব্বানি, জহির উদ্দিন মুকুট, তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, ডালিম প্রমুখ। এমএস/

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাসেল মাহমুদ (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের দৈংগাকাটা পাহাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ ও পাঁচ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাসেল নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার উত্তর লক্ষণ ঘোনা এলাকার ফয়েজ আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, শনিবার ভোরে হোয়াইক্যংয়ের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আমির হামজার বাড়িতে কিছু ব্যবসায়ী ইয়াবা কিনতে এসেছেন- এমন খবরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে রাসেলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনীতে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত

ফেনীতে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালিত হয়েছে। জেলার ২৫ টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে আন্তর্জাতিক এ দিবসটি পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার র‌্যালি, জন সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের ব্যানারে ফেনী পৌরসভার সামনে থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাধারণ মানুষের মাঝে রক্তদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পরে কমিশনার জয়নাল আবেদীন ব্লাড ব্যাংকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। ফেনী প্রেসক্লাব একাংশের সভাপতি আসাদুজ্জামান দারার সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার, পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. কৃষ্ণপদ শাহা, ডিবিসি নিউজ’র ফেনী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, দৈনিক ফেনীর সময়ের সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ফেনী রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি আরিফুল আমীন রিজভী, গ্রান্ড হক টাওয়ারের পরিচালক ইমন উল হক, দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নুরউল্লাহ কায়সার প্রমুখ। এমএস/এসি  

দুই জাহাজের সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল বন্ধ

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে একটি ফিডার জাহাজের সঙ্গে একটি তেলের ট্যাংকারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বন্দরের জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলী চ্যানেলের চট্টগ্রাম ড্রাই ডক ও বোট ক্লাব সংলগ্ন অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ফিডার জাহাজ এক্সপ্রেস মহানন্দা এবং অয়েল ট্যাংকার এমটি বুর্গান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান বন্দর সচিব ওমর ফারুক। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে সাড়ে সাতশ’ কনটেইনার নিয়ে আসা এক্সপ্রেস মহানন্দা বন্দরে ঢুকছিল। আর এমটি বুর্গান ওই সময় চ্যানেল দিয়ে সাগরের দিকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু চ্যানেলের ভেতরে দুই নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো জাহাজ ডোবেনি। দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজ দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি। আই//    

কুমিল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) উপজেলায় এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম বাপ্পি ওরফে রাজিব (২৬)। তিনি উপজেলার উত্তর রামপুর এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেন দেলুর ছেলে।কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার উত্তর বিজয়পুর এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায় সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এরপর, ঘটনাস্থল থেকে মাদক ব্যবসায়ী বাপ্পিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বাপ্পি মাদক মামলার তালিকাভুক্ত আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মাদক আইনে ১১টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র এবং ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসএ/    

ঈদে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত

ফেনীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও দু’জন। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া ভাঙার তাকিয়া নামক স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-জেলার ছাগলনাইয়ার পশ্চিম ঘোপাল গ্রামের আমির উদ্দিন মাষ্টার বাড়ির ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেনের স্ত্রী বিবি জোহরা মুন্নি (৩৫) এবং তার একমাত্র মেয়ে ফারিয়া আক্তার (১৫)। আহত লিয়াকত হোসেন ও তার দু ছেলেকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। ঘোপাল ইউপি চেয়ারম্যান এফ এম আজিজুল হক মানিক জানান, লিয়াকত হোসেন তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বিকালে সিএনজি অটোরিকশা করে ফেনী সদরের লেমুয়া তেরবাড়িয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঈদে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ভাঙারতাকিয়ায় অটোরিকশা মোড় ঘোরার সময় চট্টগ্রামগামী ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বাস দ্রুতবেগে অটোরিকশাকে ধাক্কায় দেয়। এতে অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মা-মেয়ে নিহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠান। মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের এসআই শাহজাহান জানান, ঘাতক বাস জব্দ ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের আগে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সেই সাইফুল

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক চোরাকারবারী  ইয়াবা ডন সাইফুল করিম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন।  পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ জন ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর তথ্য ফাঁস করেছেন সাইফুল। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানও। গত ৩০ মে রাতে নাফ নদীর পাড়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাইফুল নিহত হয়। সে টেকনাফের শীলবুনিয়াপাড়ার ডা. মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে ৯টি এলজি, ৪২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা ও এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাইফুল নিহতের পরদিন ৩১ মে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রাসেল আহমদ বাদী হয়ে ৩৩ জন ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ১৮ আসামির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে বাকিদের নাম উল্লেখ করা হয় নিহত সাইফুলের বরাত দিয়ে। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে সাইফুল পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা ও হুন্ডি চক্রের ৩৩ জনের তথ্য ফাঁস করে গেছেন। এজাহারে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার বিষয়ে সাইফুলের স্বীকারোক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, সাইফুল করিম পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, মিয়ানমার থেকে আমদানি পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসে সে। তখন থেকে সে টেকনাফসহ সারাদেশে ইয়াবার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো। তার অন্যতম সহযোগী ছিল টেকনাফের হুন্ডির ডন টিটি জাফর। টিটি জাফরের মাধ্যমে হুন্ডির টাকায় বাংলাদেশে ইয়াবার চালান আনা হতো। সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে সেই ইয়াবা সারাদেশে পাচার করা হতো। এজাহারে যে ১৮ জনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা রয়েছে, তারা হলো— টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার মৃত মো. হোসেনের ছেলে জাফর আহমদ ওরফে টিটি জাফর (৩৮), অলিয়াবাদ গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে ছৈয়দ আলম প্রকাশ সোনা মিয়া (৩৫), পুরান পল্লনপাড়ার হাফেজ আবু বক্করের ছেলে (বদির বোনের জামাই) মোহাম্মদ ফারুক (৩০), ডেইলপাড়ার কালা মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আমিন (৩৭), শীলবুনিয়াপাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে নুর হাছন (২৮), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মৃত খুইল্যা মিয়ার ছেলে আমির আলী প্রকাশ বর্মাইয়া আলী (৪৮), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড় হাবিরপাড়ার মৃত আমির হামজার ছেলে মো. আলী আহম্মদ (৪৫), শীলবুনিয়াপাড়ার মো. রশিদের ছেলে মো. আয়াছ ওরফে বর্মাইয়া আয়াছ (৩৮), তার ছোট ভাই মো. ইয়াছের প্রকাশ বার্মাইয়া ইয়াছের (২৮), শীলবুনিয়াপাড়ার জুবায়েরের ছেলে মো. দেলোয়ার (৩০), কেরুণতলী এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে মো. মিজান (২৮), লেঙ্গুবিলের জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে মো. হোসেনের ছেলে মো. কাদের (২৮), অলিয়াবাদ গ্রামের সিদ্দিক আহমদের ছেলে রবিউল আলম (২৫), শীলবুনিয়াপাড়ার সোলাইমানের ছেলে মো. শফিক (৪৮), শীলবুনিয়াপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে মো. শামসু (২৮), উত্তর লম্বরীর মাহবুব শর্দারের ছেলে মো. শামসু (৩৫), মধ্য জালিয়াপাড়ার মো. হোসেনের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান ওরফে আমির সাব ( ৪৮) ও নিহত সাইফুল করিমের ভাগ্নে মো. মিজান (২৭)। এজাহারে আরও বলা হয়, সাইফুল উল্লিখিত আসামিদের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো। আসামিরা যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ যে ৭৩ জন ইয়াবাকারবারীর তালিকা তৈরি করেছে, সাইফুল করিম সে তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন, আর সবার শীর্ষে সাবেক এমপি বদির নাম। এছাড়া, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাদকসংক্রান্ত একাধিক তালিকায় নামও ছিল সাইফুলের। এছাড়া নিহতের আগে সাইফুল করিম জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে দেশে ইয়াবা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সহযোগী হিসেবে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বেশ কয়েকজন সদস্য, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছেন বলেও জানা যায়। গত মাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাইফুলের দুই ভাইকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেন। এ ছাড়া তার পাঁচ ভাইয়ের নাম মাদকের তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, সাইফুল করিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। বদির ভাই মৌলভি মুজিব এতদিন টেকনাফে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের মংডুতে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে শাহজাহান চেয়ারম্যান ঢাকায় আছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে তারা দুবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নুরুল হক ভুট্টু কক্সবাজারের একটি আস্তানায় অবস্থান করছে। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানা পুলিশ নুরুল হক ভুট্টু, তার এক ভাই ও বাবার ৩১ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘মৃত্যুর আগে সাইফুল পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকটি সিন্ডিকেটের ৩৩ জন ইয়াবা ও হুন্ডি ডনের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক এমপির দুই ভাইও রয়েছেন। সাইফুল  হত্যা মামলার এজাহারে ৩৩ জনের নাম রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা। আই//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি