ঢাকা, ২০১৯-০৫-২১ ২২:৫৮:৫২, মঙ্গলবার

কুষ্টিয়ায় বাউল আশ্রম দখলের পাঁয়তারা (ভিডিও)

কুষ্টিয়ায় বাউল আশ্রম দখলের পাঁয়তারা কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি বাউল আশ্রম দখলের পাঁয়তারা করছে প্রভাবশালীরা। এরিমধ্যে ওই আশ্রমের দুটি সমাধি ভেঙে ফেলেছে তারা। এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আশ্রমের বাউলদের। খোকসা উপজেলার জয়ন্তি হাজরা ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রূপ কুমার, স্থানীয়দের কাছে যিনি রূপ পাগল নামে পরিচিতি। যুবক বয়সে তিনি বাউল স¤্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের অনুসারী হিসেবে দীক্ষা নেন। পরে পৈত্রিক জমিতে নিজ নামে গড়ে তোলেন বাউল আশ্রম। রূপের বাবা-মা মারা গেলে ওই আশ্রমের আঙ্গিনায় তাদের সমাহিত করা হয়। রূপ কুমারের মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা এ আশ্রম পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র আশ্রমের জমি দখলে উঠে পড়ে লেগেছে। এরিমধ্যে আশ্রম আঙ্গিনায় থাকা রূপ কুমারের বাবা মার সমাধী ভেঙে ফেলেছে তারা। এ ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আশ্রমের ভক্তদের। আশ্রম কমিটির পক্ষ থেকে মামলা করার পর দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  

তরুণীদের মন কেড়েছে গারারা (ভিডিও)

তরুণীদের মন কেড়েছে গারারা এবার তরুণীদের মন কেড়েছে ভারতীয় পোশাক গারারা। মোঘল আভিজাত্যের থ্রি পিস প্যার্টানের গারারা বিপনী বিতানগুলোতে বিক্রির শীর্ষে। ভারত থেকে আসা সারারা, আলবেলি বুটিকস এবং পাকিস্তানি চিকেন কারি, সানাসাফিনাজ এবং গাউনের দিকেও ক্রেতার আগ্রহ বেশ। ভালোই বিক্রি হচ্ছে জানালেন বিক্রেতারা। রাজধানীর বিপনী বিতানগুলোতে ঈদ কেনাকাটার আমেজ। প্রতিবারের মত এবারও মেয়েদের পোশাকে ঈদ বাজারের বড় একটা অংশ ভারতীয় পোশাকের দখলে। এবারের ঈদ কেনাকাটায় মেয়েদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে মোগল আমলের পোশাক ‘গারারা’। কামিজের দৈর্ঘ্য হাঁটু অবধি, সালোয়ারে হাঁটুর কাছে বাড়তি ঘেরের কুচি। সিল্ক, টিস্যু, জর্জেট, কটন ও নেট কাপড়ে তৈরি গারার’য় রং ও ডিজাইনেও আছে বৈচিত্র্য। চার থেকে বিশ হাজার টাকায় মোঘল আভিজাত্যের পোশাকটি কিনতে পারছেন ক্রেতারা। ভারত থেকে আসা সারারা, আলবেলি বুটিকস, ফারা খানের বুটিকস এবং গাউনও রয়েছে ক্রেতার পছন্দের তালিকায়। কুন্দন, চুমকি, পাথর, জরি এমব্রয়ডারির ভারী কাজ করা বাহারী রঙের পোশাকগুলো সহজেই নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। পাকিস্তানি পোশাক চিকেন কারিও আছে তরুণীদের পছন্দের তালিকায়। এছাড়াও আলেয়া, কারিজমা, সানাসাফিনাজের চাহিদাও কম নয়। এসবের মাঝ থেকেই প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিক্রি আরো জমে উঠবে বলে জানালেন বিক্রেতারা।  

লক্ষীপুরে বেড়েই চলেছে শিশু শ্রম (ভিডিও)

সংসারে অভাব অনটনের কারণে বাধ্য হয়ে ইট ভাটা, ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ কিংবা বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে কাজ করছে লক্ষ্মীপুরের অনেক শিশু। আর কম মজুরীতে বেশি শ্রম পাওয়ায় মিল-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শিশু শ্রমকেই বেছে নিচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজের কারণে অকালে ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। যে বয়সে তাদের বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা কিংবা শ্রেনী কক্ষ মাতিয়ে রাখার থাকার কথা, সেখানে এখন তারা এমনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যস্ত। সংসারে অভাব-অনটনের কারণেই বইখাতা ছেড়ে, তাদেরকে বেছে নিতে হয়েছে অন্ন-সংস্থানের হাতিয়ার। লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগতি, রামগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এমন শিশু শ্রম চোখে পড়ে। এর বিনিময়ে ওদের পরিবার পায় প্রতি মাসে প্রায় হাজার টাকা। আর অভাবের সুযোগ নিয়ে কম মজুরীতে কাজ করাচ্ছে প্রতিষ্ঠান মালিকরা। ঝুকিপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলোতেও দিন দিন বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। শিশুদের দিয়ে কাজ করালেও তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন বলে জানান এই কারখানা মালিক। ঝুকিপুর্ণ এসব কাজ করার ফলে ফুসফুসের প্রদাহসহ নানা জটিল রোগে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশংকা জানান এই চিকিৎসক। সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করলে এই শ্রম অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

দারাজ-এর সঙ্গে আরএফএল প্লাস্টিকের চুক্তি সই

অনলাইন শপিং মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশের সঙ্গে আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেডের চুক্তি সই হয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর বনানীতে দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের সদর দফতরে এ চুক্তি সই হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিউরেবল প্লাস্টিক লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. তৌকিরুল ইসলাম, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (করপোরেট সেলস) মো. তাইজুল ইসলাম, সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার এসফাকুল হক, সহকারী পরিচালক (করপোরেট সেলস) সদন কুমার বিশ্বাস ও ক্যাটাগরি ইনচার্জ (অনলাইন সেলস) মো. মোর্শেদুল আমিন। দারাজ বাংলাদেশের পক্ষে এতে উপস্থিত ছিলেন হেড অফ অ্যাকুইজিশন সাইমুন সানজিদ চৌধুরী, কী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার আয়েশা আতিফ ও ভেন্ডর অ্যাকুইজিশন এক্সিকিউটিভ আশফাকুজ্জামান রাইভি প্রমুখ।

বিএনপির নারী এমপি কে এই রুমিন ফারহানা?

বিএনপির নারী এমপি কে হবেন তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে তার অবসান হয়েছে। বিএনপিতে নারী এমপি হওয়ার জন্য প্রায় এক ডজন প্রতিযোগী থাকলেও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও নিপুণ রায়। তবে শেষ পর্যন্ত রুমিন ফারহানাকেই বেছে নিল দলটি। রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। পেশায় একজন আইনজীবী। তার বাবা অলি আহাদ একজন ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। আইনজ্ঞ হিসেবে রুমিন ফারহানার রয়েছে বাকপটুতা ও ক্ষুরধার যুক্তি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক পরিবারে (অলি আহাদের মেয়ে) বেড়ে ওঠা রুমিন ফারহানা বিএনপির কূটনৈতিক উইং শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ হিসেবেই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদের আগে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি বেশ। কারণ বিভিন্ন সময় তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত পরিচিতি পান এই নেত্রী। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে সংসদে কার্যক্রর ভূমিকা রাখতে পারবেন রুমিন ফারহানাই। এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিএনপির একটি নারী আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২১ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৮ মে এবং ভোট ১৬ জুন। এরপর গতকাল সোমবার দল থেকে মনোনয়ন পান। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটা‌র্নিং অফিসার ইসির যুগ্ম স‌চিব আবুল কাসেমের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, দেশনেত্রী ও গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ভিত্তিহীন মামলায় আজ কারাগারে। দল আমার ওপর যে আস্থা রেখেছে বিশেষ করে ম্যাডামের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, জনগণ ও দলের পক্ষে কথা বলা- এটি যেন এমপি হয়ে করতে পারি সে জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। তিনি বলেন,‘আমি সংসদে গিয়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু মুক্তির জন্য কথা বলব। দেশ ও জনগণের জন্য কথা বলব।’ তিনি আরও বলেন,‘আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তা নিষ্ঠা, সততার সাথে পালন করতে আমি সচেষ্ট থাকব।’

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পেয়ে সংগঠনটির বিগত কমিটির সদস্য জারিন দিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (২০ মে) দিনগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা এ তথ্য জানান। তারা জনান, ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জারিন দিয়া। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে এখন তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পদবঞ্চিত হয়েও উল্টো বহিষ্কার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন দিয়া। এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে উদ্দেশ্য করেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। জারিন দিয়ার পুরো ফেসবুক স্ট্যাটাস: ‘গত ১৩ তারিখ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার পর যখন দেখলাম আমার নামটি নেই, তখন ভাবলাম- হয়তো যোগ্য না। তাই হয়তো আমার নামটি দেয়নি। এক পর্যায়ে শোভন ভাইকে ফোন দিলাম। ভাইকে বললাম, ভাই আমাকে কেনো কমিটিতে রাখা হলো না? আমি শুনতে চেয়েছিলাম তিনি হয়তো বলবেন, আমি যোগ্য না। রাজনীতি করতে থাকো, পাবে একসময়। কিন্তু না...... ভাই আমাকে বললেন; তোকে অনেক রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রাব্বানীর জন্যে তোকে রাখতে পারিনি। রাব্বানী তোর ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। আমাকে ভুল বুঝিস না। কথাটা শুনে কাঁদবো না হাসবো বুঝতে পারলাম না। তখন আমি শোভন ভাইকে বললাম ব্যক্তিগত ক্ষোভের সেই ঘটনাটা। আরও বললাম, কোনোদিন যদি আপার সামনে যেতে পারি ভাই, আমি আপাকে একটা বার বলতে চাই- আপা সম্মেলনের আগে রাব্বানী ভাই এর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথাকাটি হয়। তখন ভাই আপনি কী উত্তর দেবেন? কোনও উত্তর দিতে পারেননি শোভন ভাই। রাব্বানী ভাইকে অনেক বার ফোন দিয়েছি। উনি ফোন ধরেননি। তাই সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে আমার সঙ্গে রাব্বানী ভাইয়ের ক্ষোভের ঘটনাটি উল্লেখ করি। যেটা ভাইরাল হয়ে যায়। আজ সেই স্ট্যাটাসটার জন্যে আমাকে ছাত্রলীগ থেকে তারা বহিষ্কার করে দিলেন? আমার দেশরত্নের কাছে একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই; আমরা মেয়েরা আর কতটা অসম্মানিত হলে তাদের যোগ্য বলে মনে হবে? শোভন-রাব্বানী ভাই আপনাদের একটা কথা বলে যেতে চাই, ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে যারা সংগঠনের জন্যে কাজ করে তাদের মূল্যায়ন দিয়েন। আমি সেদিনের মারামারিতে যখন কোমড়ে আঘাত পেলাম, কই আপনারা তো আমার একটা খোঁজ নিলেন না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। জানি না কী করবো। আমি যদি মারা যাই শোভন-রাব্বানী ভাইদের কাছ থেকে উত্তরগুলি নিয়ে আমাকে কলঙ্কমুক্ত করবেন পারলে। রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক নেতাদেরই দ্বারা এতটা অসম্মানিত হবো কোনোদিন ভাবতেও পারি নি।’ এমএইচ/

ম্যানেজ করে চলার দিন শেষ: শিল্পমন্ত্রী

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকাণ্ডের ফলে মানুষের বিবেক নাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন,‘ম্যানেজ করে চলার দিন শেষ। সব ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে বিএসটিআইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ সোমবার (২০ মে) বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস-২০১৯ উপলক্ষে তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতির একক মৌলিকভাবে উত্তম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বিএসটিআইকে একটি শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিএসটিআই’র সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির টেস্টিং রিপোর্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য করতে ইতোমধ্যে বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পণ্যের মানের বিষয়ে বিএসটিআইকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্যের মান ও পরিমাপ সম্পর্কিত যেকোনও ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে বিএসটিআইকে আপোসহীন হতে হবে। জাতীয় মান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পণ্য ও সেবার গুণগত মান সুরক্ষা বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব।’ শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন, বিএসটিআই পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা।  শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, পণ্যের মান, ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হলে জেলা পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের অফিস সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। বিএসটিআইয়ের একার পক্ষে পণ্য ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্যের উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের সৎ থাকতে হবে। ওজন ও পরিমাপে কারচুপি এবং পণ্যে ভেজাল না দেওয়ার শপথ নিতে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন। সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএসটিআই’র পরিচালক (মেট্রোলজি) মো.আনোয়ার হোসেন মোল্লা।  উল্লেখ্য, বিগত ১০ বছরে বিএসটিআই’র বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অর্জনের বিষয় তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক বলেন, বিএসটিআই’র ল্যাবরেটরি, প্রোডাক্টস সার্টিফিকেশন সিস্টেম এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্টিফিকেশন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ফলে এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই’র মান সনদ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশের ২১টি পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআই প্রদত্ত মানসনদ গ্রহণ করেছে। আরও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিএসটিআই’র কেমিক্যাল ও ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির ৩৫ টি পণ্যের ৪১১টি প্যারামিটার ইতোমধ্যে এ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।    কেআই/

শেখ হাসিনা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে:এনামুল হক শামীম

শেখ হাসিনা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ সখিপুর পেশাজীবীদের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এ কথা বলেন।    উপ-মন্ত্রী এ সময় বলেন, বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে ৷ তাই তিনি আজ শুধু বাংলাদেশের নেতাই নন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃঢ নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাকে সারা বিশ্বের অন্যতম প্রধানমন্ত্রীর অভিধায় ভূষিত করেছেন। তাই, একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শেখ হাসিনার  নেতৃত্বের  বিকল্প নাই৷ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আরও বলেন, সখীপুর ও নড়িয়া নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা৷  আপনারা আমাকে আপনাদের মূল্যবান রায়ের মাধ্যমে এলাকার সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশের নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাসহ সারাদেশের নদ-নদী রক্ষা, হাওড় বাওড় এর সুরক্ষা এবং সর্বোপরি নদীমাতৃক দেশের নদ-নদীর  উপর নির্ভরশীল  প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর  আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের  পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছেন৷ তাই আমি  নদী ভাঙ্গন কবলিত সখিপুরের  উন্নয়নে  সম্ভাব্য যা যা করণীয় তার সবই করব। এলাকার উন্নয়নে অতীতের মতো আগামী দিনেও শুধু আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ চাই৷ আপনাদের সবার সহযোগিতায় সখিপুর উপজেলাকে আমি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নত ও সমৃদ্ধ  জনপদে পরিণত করব ইনশাল্লাহ। আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম এ সময়  প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, আজকের এই ইফতার পূর্ববর্তী সময়ে আমরা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে  ফরিয়াদ করি৷ কারণ, শেখ হাসিনা ভালো থাকলে  বাংলাদেশ ভালো থাকবে। শেখ হাসিনা সুস্থ থাকলে  বাংলাদেশ সঠিক গন্তব্যে  পৌঁছাতে পারবে৷ ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, সখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অন্যান্যদের মধ্যে এ সময় বক্তব্য রাখেন ৷ এসময় শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কামাল বেপারীসহ ঢাকাস্থ শরীয়তপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতার অংশগ্রহণ করেন৷ কেআই/

ওয়াজেদ মিয়ার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান স্পিকারের

বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে ড. ওয়াজেদ মিয়ার জীবন এবং কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি আজ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে সাধনা সংসদ আয়োজিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান। তিনি বলেন, যে জাতি গুণিজনদের সম্মান জানায়, সেই জাতি বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়ায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ড. ওয়াজেদ মিয়ার নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। বিজ্ঞান চর্চায় তাঁর অবদান ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, ড.এম এ ওয়াজেদ মিয়া তাঁর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশের মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সৎ কর্ম ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার মধ্যদিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তিনি বলেন, যুগে-যুগে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে, যাঁরা নিজেদের চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা অধিক গুরুত্বের সাথে চিন্তা করেন, মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হন। তেমনই একজন মহান ব্যক্তি বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। একজন মেধাবী মানুষকে স্মরণ করতে শুধু সভা সেমিনার নয়, বিজ্ঞান মেলা এবং গবেষণা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার চরিত্র মাধূর্য ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার চিরন্তন উৎস হিসেবে বেঁচে থাকবে। আগামী প্রজন্ম তাঁর আদর্শের পথরেখা অনুসরণ করে বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে অনুপ্রাণিত হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পির্কত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধনা সংসদের উপদেষ্টা আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন । এতে প্রধান আলোচক ছিলেন, সাধনা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অ্যাডভোকেট দেলওয়ার হোসেন ভূইয়া। এম এ ওয়াজেদ মিয়া সাধনা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ছিলেন। পরে স্পিকার ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। ইফতারে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। (সূত্রঃ বাসস) কেআই/    

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,সকল ধর্মের লোকজনকে ধর্ম-কর্ম পালনের সমান সুযোগ প্রদানে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। এর ফলে কেউ আর নিজেদের অবহেলার শিকার ভাবতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘যে কোন সম্প্রদায়ই নিজেকে কখনও অবহেলিত যেন মনে না করে, সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখি। আর সেদিক থেকে আমি বলবো, বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বেই একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে গণভবনে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষ্যে সারাদেশ থেকে আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ ভিক্ষু, সংঘ সদস্য, সংঘ প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের মাটিতে যারা যারা বসবাস করেন সবাই যার যার ধর্ম সম্মানের সাথে, নিষ্ঠার সাথে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবে, সেটাই আমরা চাই এবং এই সহনশীলতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সকলের মাঝে থাকবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার প্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব আমি মনে করি সকল ধর্ম সকলে যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্মানের সাথে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। সেটাই হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা বা অসাম্প্রদায়িক চেতনা।’ শেখ হাসিনা এসময় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে এথেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রেখে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এখন সমগ্র বিশ্বব্যাপীই একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আসলে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তারা জঙ্গি। তাদের কোন ধর্মও নাই, কোন দেশ নাই, তাদের কোন সীমানা নাই। এটা হলো বাস্তবতা।’ ‘কাজেই সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে এখন মুক্ত রেখে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নটা করতে চাই, ’যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি নিজে আমার নিজের ধর্ম পালন করি তাই অন্য ধর্মের প্রতি আামি সম্মান জানাই। আর কোন ঠিক কোনটা ভুল সেটার সিদ্ধান্ততো আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নেবেন। সে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব তিনি কিন্তু কোন মানুষকে দেন নাই। তিনি এ সম্পর্কে কোনরূপ মন্তব্য করার ক্ষমতা তিনি মানুষকে প্রদান করেন নাই।’ বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করায় তাঁর সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখনও ২১ ভাগ জনগণ দরিদ্রসীমায় এবং ১১ ভাগ হতদরিদ্র রয়ে গেছে। আমরা চাই, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ হতদরিদ্র মুক্ত হবে। আর বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। ধর্ম,বর্ণ,দল, মত নির্বিশেষে সকল মানুষের জীবন মান উন্নত হোক সেটাই আমরা চাই। সেলক্ষ্য নিয়েই আমাদের কাজ,আমাদের রাজনৈতিক আদর্শও সেটা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশ স্বাধীন করে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেখানেও এই কথাটাই বলে গেছেন। সকলের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা তিনিই নিশ্চিত করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই আমরা চলছি। যার ফলে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাবে।’ বৌদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষ্যে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধের যে বাণী সেটা মানুষের শান্তির জন্য। আর সকল ধর্মের মর্মবাণীই হচ্ছে শান্তি। আর আমরা সেটাই বিশ্বাস করি। আর বাংলাদেশে আমরা সাম্প্রদায়িত সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ তিনি বলেন, ‘এটা কিন্তু বাংলাদেশে খুব সুন্দরভাবেই পালন করা হয়। যে ধর্মেরই উৎসব হোক সকলে মিলেই সেটা উদযাপন করে।’ তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গণভবনে আগমন প্রসঙ্গে বলেন, আপনাদের আগমনে গণভবনের মাটি ধন্য হয়েছে। তিনি এ সময় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করেন। এ সময় ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়টিকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষনায় সরকারের কর্মসূচি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন,‘ ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। আর তখন দেশের কোন দরিদ্র থাকবে না।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশে সিং, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দীপংকর তালুকদার এমপি, বান্দরবন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৈশ হ্লা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ধুমকেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজুরী মারমা, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথের, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ধর্মমিত্র মহাথের, শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞানন্দ মহাথের, বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রীমৎ বুদ্ধিপ্রিয় মহাথের, ঢাকা বৌদ্ধ সমিতির সহ-সভাপতি কর্ণেল সুমন বড়–য়া, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ  বড়ুয়া,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা.কনক কান্তি বড়ুয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। (সূত্রঃ বাসস) কেআই/

আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করার নির্দেশ আল্লাহর

মাতা-পিতা, ভাই-বোন, সন্তানাদী, আত্মীয়স্বজন, জ্ঞাতিগোষ্ঠী আমাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী সব শ্রেণীর আত্মীয়ের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক রেখে সদ্ব্যবহার করার জোর তাগিদ দেয়। আমরা সবাই একে অন্যের সুখ-দুঃখের অংশীদার। আন্তরিকতা নিয়ে কুরআন অনুধাবন করতে চাইলে যে কোন সাধারণ মানুষের পক্ষেই তা সম্ভব। কারণ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের হেদায়েতের জন্যেই কুরআন নাজিল হয়েছে। আল্লাহর নির্দেশাবলী অনুযায়ী জীবন যাপনেই সফলতা। আত্মীয়-স্বজনের হক সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ : ‘তারা তোমাকে প্রশ্ন করবে, আমরা অন্যের জন্য কী প্রক্রিয়ায় ব্যয় করব? (হে নবী!) তুমি বলো, তোমাদের অর্থসম্পত্তি প্রথমত মা-বাবা, তারপর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবী ও মুসাফিরদের জন্যে ব্যয় করবে। তোমরা যে সৎকর্মই করো না কেন, আল্লাহ তা সবই জানেন।’ (সূরা বাকারা ২১৫) ‘হে মানুষ! সচেতন হও তোমার প্রতিপালকের মহিমা সম্পর্কে! যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি সেই ব্যক্তি থেকেই তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি তাদের দু’জন থেকে অসংখ্য নরনারী জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সচেতন হও সেই আল্লাহর, যাঁর নামে তোমরা পরস্পরের কাছে অধিকার দাবি করো। যত্নশীল হও জ্ঞাতিবন্ধন রক্ষায়। নিশ্চিত জেনো, তোমরা আল্লাহর তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যেই রয়েছে।’ (সূরা নিসা ১) ‘পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে। তা অল্প হোক বা বেশি, এ অংশ আল্লাহ নির্ধারিত। সম্পত্তি বণ্টনকালে আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও অভাবগ্রস্ত লোক উপস্থিত থাকলে সে সম্পত্তি থেকে তাদেরও কিছু দান করো এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা নিসা ৭-৮) ‘যারা পরবর্তী সময়ে বিশ্বাস করেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সঙ্গে একত্র হয়ে আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর বিধান অনুসারে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে আত্মীয়দের দাবি অগ্রগণ্য। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।’ (সূরা আনফাল ৭৫) ‘আল্লাহ অবশ্যই সুবিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনদের দানের নির্দেশ দেন। তিনি অশ্লীলতা, ঈর্ষা ও অন্যায়-জুলুম করতে নিষেধ করেন। তিনি বার বার উপদেশ দেন, যাতে তোমাদের মনে থাকে।’ (সূরা আন-নহল ৯০) ‘তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, তার যদি ধনসম্পত্তি থাকে, তবে মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়ের জন্যে ইনসাফ মোতাবেক অসিয়ত করাকে ফরজ করা হলো। আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য।’ (সূরা বাকারা ১৮০) এএইচ/

নর্দান ইউনিভার্সিটিতে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের কমিটি ঘোষণা

নর্দান ইউনিভার্সিটি শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি মাসফুরুল হক সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুল হক (ফাহিম) নির্বাচিত হয়েছেন। সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি: অ্যাডভোকেট মো. নাজিম এবং সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসাইন তালুকদার গত ১৫ মে বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ, নর্দান ইউনিভার্সিটি শাখার নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর এপিএস, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন উপ কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুয়েল আহমেদ, বাংলাদেশ ল’ ক্লাবের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ,বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা মফিজুর রহমান মিজু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট মনির হোসেন প্রমুখ। সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এতথ্য নিশ্চিত করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. জুলকার নাঈম আসিফ, মো. সৈকত হোসাইন, আফফান বিন সুলতান, মো.  অভি হাসান অলি, মো. সুমন গাজী, মো. তানভীর রহমান, রাকিব হাসান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ মাহমুদ, নাজমুল হোসাইন, আরিফ উদ্দিন, আসিফ ইকবাল, মো. হাবিজ আল-আসাদ, শেহতাব বিন নিলয়। সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ সাগর, বোরহান উদ্দিন, শেখ আব্দুল্লাহ বিন দলিল, দপ্তর সম্পাদক ইসতিয়াক শাহারিয়ার শাওন, প্রচার সম্পাদক সাবিনা আনোয়ার হোসেন ফারাবী, আইন বিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা আক্তার হিমি, অর্থ সম্পাদক তৌকির বিন নজরুল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান শুভ, ক্রীড়া  বিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ডেলতা চাকমা,  ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক জুলেখা আক্তার (জুলি), সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার সৌরভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক সাগর। কার্যকরী সদস্য রাশেদুল ইসলাম, সানাউল্লাহ আহম্মেদ, মো. আসিফ মিয়া, সাফি আল  মনোনীত হয়েছেন। কেআই/

তরমুজের গুনাগুন

কালের পরিক্রমার পথ ধরে মুসলিম উম্মাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অমিয় বার্তা নিয়ে আবার শুভাগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিল থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এই রমজান। ইতোমধ্যে ১৩টি রমজান অতিবাহিত হয়েছে। রমজান মাস হলো ইবাদাতের বসন্তকাল। আল্লাহপাক এ মাসে রহমতের বারিধারা বর্ষণ করেন। এবারের রজমান প্রায় সাড়ে ১৪ ঘন্টা। একইসঙ্গে প্রচন্ড তাপদাহ,যে কারণে ইফতারে পানি জাতীয় ফলের গুরুত্ব বাড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল তরমুজ। আসুন জেনে নিন তরমুজের গুনাগুন।  এই গরমে তরমুজ একটি জনপ্রিয় ফল। তুলনামূলক এই ফলটি সহজলভ্য ।তরমুজের নানাধরনের পুষ্টিগুন রয়েছে তরমুজে রয়েছে ৯২% পানি এবং ভিটামিন এ,সি, বি ১,বি৫,বি৬ ,পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম।▪️ তরমুজ শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে।▪️ তরমুজ হার্ট ভালো রাখতে এবং ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে।▪️ প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে তরমুজ।▪️ চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে থাকে।▪️ তরমুজের জুস হজমে সাহায্য করে।▪️ ব্যাথা উপশমেও সাহায্য করে তরমুজ।▪️ ভিটামিন এ এবং সি থাকায় ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।▪️ এতে প্রচুর ফাইবার ও পানি থাকায় ডায়াবেটিক রোগীর জন্য তরমুজ হতে পারে একটি আদর্শ ফল। লেখকঃ পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল

ট্রাফিক পুলিশের সম্মানে ইসলামী ব্যাংকের ইফতার বিতরণ কর্মসূচি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর উদ্যোগে পবিত্র রমজান মাসে রাজধানীর যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশের সম্মানে ইফতার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। গতকাল রোববার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এ সময় ট্রাফিক পূর্ব বিভাগ মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তারেক আহমেদ, ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ আলী, আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া ও হাসনে আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সালেহ ইকবালসহ প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি। একে//

কৃতজ্ঞতা বিপদে স্থিরতা ও প্রশান্তি আনে

মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন মুষড়ে যায় ও যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। অনেক সময় মুখে কষ্টের হাঁসি বজায় রেখে অন্তরে টেনশনের আগ্নেয়গিরি পুষে রাখে। এ আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এসব থেকে মুক্তির পথ হলো কৃতজ্ঞতা। যখন টেনশন চলতে থাকে তখন শরীর থেকে এড্রেনেলিন, নরএড্রেনেলিন, করটিসল হরমোন নিঃসৃত হয়ে মাংসপেশি উত্তেজিত হয়, রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা বেড়ে যায়, হৃৎপিণ্ডের করোনারী ধমনী সংকুচিত হয়, হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষয় হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মানসিক অস্থিরতা, ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায়। এমন কোন মানুষ পৃথিবীতে নেই যে বিপদ বা সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। বিপদ ও সমস্যা জীবনের অংশ। বিপদ থেকে পালানো যাবে না। তবে দুঃখ-বিপদ যাতে অন্তরকে স্পর্শ করে অশান্ত না করে তোলে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই অসুস্থতা থেকে বাঁচতে হলে টেনশনের ছোঁচল থেকে মনপ্রাণকে বাঁচাতে হবে। টেনশন বা বিপদ যাতে মনকে আক্রান্ত না করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। যখনই কোন বিপদ আসে মনকে স্থির করুন, স্রষ্টা কী কী নেয়ামত দিয়েছেন তা চিন্তা করুন। আপনার ভেতর সম্ভাবনার দিকগুলো অবলোকন করুন। আপনি যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন তার প্রতি দৃষ্টি দিন। সৃষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতায় চোখে অশ্রু এসে যাবে। টেনশনের আগুনও নিভে যাবে এবং মনে প্রশান্তির সুবাতাস বইতে থাকবে। বিপদে পড়ে কিভাবে কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে প্রশান্তচিত্ত থাকতে হয় তা আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূল (সা.)কে শিখিয়ে দিয়েছেন : ‘সুতরাং তারা যা বলে সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য্য ধারণ করো এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সকল প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, রাত্রিকালে ও দিবাভাগে যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।’ (সূরা ত্বাহা ২০/১৩০) যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন সমস্যা থাকবে, বিপদ থাকবে, টেনশন থাকবে। আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে কৃতজ্ঞতার ঢাল দিয়ে তা প্রতিহত করে বাঁচতে হবে। (শোকরিয়া, প্রশান্তি ও প্রাচুর্যের রাজপথ গ্রন্থ) এএইচ/

হজ্ব ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি শুরু

আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হবে হজ্ব ফ্লাইট। এ জন্য আজ সোমবার থেকে ফ্লাইটের টিকেট বিক্রি শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ বছর ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার। বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ জানান, এ বছর হজ্বে যাবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ১৫৭টি ডেডিকেটেড ও ৩২টি শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। শাকিল মেরাজ জানান, এ বছরই প্রথম ঢাকা থেকে মদিনায় ১১টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা ১০টি, সিলেট থেকে জেদ্দা তিনটি, চট্টগ্রাম থেকে মদিনা সাতটি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট চলবে। বাকি ১২৬টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় নিয়ে যাবে হজযাত্রীদের। এ বছর হজ ফ্লাইটে নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বিমান। বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট ১৭ অগাস্ট থেকে শুরু হয় শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। তিনি বলেন, “এ বছরই প্রথম ঢাকায় ইমিগ্রেশন করা হবে হজযাত্রীদের। ফলে সৌদি আরবে গিয়ে ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। তবে এজন্য ফ্লাইটের একদিন আগে হজযাত্রীদের তথ্য সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। ওই সময়ের পর ফ্লাইটে নতুন করে যাত্রী নেওয়া যাবে না। “এ কারণে হজ এজেন্ট ও যাত্রীদেরকে তাদের ফ্লাইট ডিপার্চারের ২৪ ঘণ্টা আগেই যাত্রার বিষয়টি আবশ্যিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত স্লট দেবে না সৌদি সরকার। জটিলতা এড়াতে এ বছর কোনো হজযাত্রী ফ্লাইট বাতিল করলে বা সময় পরিবর্তন করলে জরিমানা আদায় করবে বিমান। “যাত্রা বাতিলের ক্ষেত্রে ৩৫০ ডলার এবং যাত্রার তারিখ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সময় ভেদে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পরিশোধ করতে হবে।” গত বছর পর্যাপ্ত হজযাত্রী না পাওয়ায় বিমানের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। এজন্য কয়েক হাজার আসনের আয় হারাতে হয়েছে বিমানকে। এবারও সুষ্ঠুভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে বিমানের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হজ এজেন্সি ও হজযাত্রীরা সময় মতো টিকেট সংগ্রহ করলে কোনো ধরনের জটিলতা হবে না। আই//

ইতিকাফ কী ও কেন

কোন স্থানে আটকে পড়া অথবা কোন স্থানে থেমে যাওয়াকে ইতিকাফ বলে। ইসলামী শরীয়াতের ভাষায় ইতিকাফের অর্থ কোনো লোকের দুনিয়ার সংস্রব, সম্বন্ধ ও বিবি বাচ্চা থেকে আলাদা হয়ে মসজিদে অবস্থান করা। ইতিকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ দুনিয়াবী কারবার ও সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সাংসারিক কর্মব্যস্ততা ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চিন্তা ও কাজের শক্তি এবং যোগ্যতাকে আল্লাহর স্মরণ এবং ইবাদতে লাগিয়ে দেবে। তারপর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর প্রতিবেশি হয়ে পড়বে। এ কাজের দ্বারা একদিকে সে ব্যক্তি সব প্রকার বেহুদা কথাবার্তা ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং অন্যদিকে আল্লাহর সঙ্গে তার সম্পর্ক মজবুত হবে। তাঁর নৈকট্যলাভ করবে এবং তাঁর ইয়াদ ও ইবাদতের মনে শান্তি লাভ করবে। কয়েকদিনের এ আমল তাঁর মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে যে, চারদিকে দুনিয়ার রং তামাশা ও মন ভুলানো বস্তুসমূহ দেখার পরও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজুবত রাখতে পারবে। আল্লাহর নাফরমানি থেকে বাঁচতে পারবে এবং তার হুকুম পালন করে মনে আনন্দ অনুভব করবে। এমনিভাবে সমগ্র জীবন আল্লাহর বন্দেগীতে কাটিয়ে দেবে। ইতিকাফ তিন প্রকারের- ওয়াজিব, মুস্তাহাব, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ওয়াজিব ইতিকাফ মানতের ইতিকাফ ওয়াজিব। কেউ যদি ইতিকাফের মানত করলো অথবা কোন শর্তসহ মানত করলো- যেমন কেউ বললো, যদি আমি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করি অথবা যদি আমার অমুক কাজ হয়ে যায়, তাহলে ইতিকাফ করবো। তার এ ইতিকাফই ওয়াজিব এবং পূরণ করতে হবে। মুস্তাহাব ইতিকাফ রমজানের শেষ দশদিন ব্যতিরেকে যত ইতিকাফ করা হবে তা মুস্তাহাব হবে। তা রমজানের প্রথম অথবা দ্বিতীয় দশদিনে অথবা যে কোন মাসে করা হোক। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইতিকাফ রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। নবী করীম (সা.) নিয়মিতভাবে প্রতিবছর ইতিকাফ করতেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তা পালন করেন। একবার কোনো কারণে ইতিকাফ করতে পারেননি বলে পরের বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন। এ জন্য মুসলমানরা যদি সামষ্টিকভাবে এ সুন্নাত পরিত্যাগ করে তাহলে গোনাহগার হবে। যদি কিছু লোকও সুন্নাত পালনের ব্যবস্থা করে, তাহলে যেহেতু সুন্নাতে কিফায়া, এ অল্প লোকের ইতিকাফ সবার জন্যই যথেষ্ট হবে। তথ্যসূত্র : মাওলানা মোফাজ্জল হকের রোজা ইতিকাফ ফিদইয়া ফিতরা গ্রন্থ। এএইচ/

ক্যান্সার যোদ্ধা আহনাফের অন্যরকম পৃথিবী

একটি ছেলে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে সে বড় হয়ে রাষ্ট্রনায়ক হবে। দেশের প্রেসিডেন্ট হবে। মানুষের জন্য কাজ করবে। অন্য অনেকে যখন নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে ছেলেটি তখন আল্লাহকে বলে, আল্লাহ আমি এমন কিছু করতে চাই যাতে করে মানুষ যুগ যুগ ধরে তার সুফল ভোগ করে। সেই ছেলেটি যখন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র তখন তার ধরা পড়লো ব্লাড ক্যান্সার। পরিচিত মহলে সবাই জানে এ ব্যাধি মহাঘাতক ব্যাধি। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আটকে যায় ছেলেটির সময়- স্বপ্ন। তারপর ছেলেটি কী করে? যার কথা বলছি তিনি নূর এ সাফী আহনাফ। দেশে লিউকআেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটি অব বাংলাদেশ  ( LLSB) নামক একটি সংগঠন ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে কাজ করে। সারাদেশে যার সদস্য সংখ্যা প্রায় আঠারো হাজারেরও বেশি। এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নূর এ সাফী আহনাফ। আহনাফ একজন ক্যান্সার যোদ্ধা। রোগী না বলে যোদ্ধা বলছি এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন। নিজে যেমন হতাশাকে নিজের জীবনে ঠাঁই দেননি তেমনি তার মতো অনেক ক্যান্সার যোদ্ধার জীবনের অনুপ্রেরণা তিনি। আহনাফ যখন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র তখন তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেই আহনাফ এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে সম্মান শেষ বর্ষে পড়ছেন। জড়িত আছেন বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী কাজে। ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। ক্যান্সার ধরা পড়ার সময়ের স্মৃতিচারণ করে একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে আহনাফ বলেন, আমি যখন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ি, তখন হঠাৎ করে আমার শরীরটা খারাপ করে। খারাপ মানে, আমার প্রতিনিয়ত মনে হচ্ছিল `সামথিং ইজ রং`। মনে হচ্ছিল শরীরটা আগের মতো নাই। শরীরের কোথাও যেন কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে। আমার বাবা - মা দুজনেই সরকারী চাকুরীজীবী। আমি ঢাকায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে- এর হোস্টেলে থাকি। আর তারা থাকেন জামালপুর। আম্মু আমাকে বললেন ডাক্তার দেখাও। অতীতের সময়গুলোতে ফিরে গিয়ে আহনাফ বলেন, আমাদের কলেজে নিয়ম কানুন ছিল খুব কড়া। অনেকটা ক্যাডেট কলেজের মতো। সবসময় আমরা হোস্টেলেই থাকতাম। বাবা মায়ের সাথে কাটানোর জন্য বড় সুযোগ ছিল ছুটি। খুব বড় বড় ছুটি হতো। ৎ কয়েকদিন পরেই ছিল কুরবানী ঈদের ছুটি। ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছটফট করছিলাম। তার একদিন আগে রাতের বেলা সারা শরীরে বেশকিছু জায়গায় লাল লাল দাগ যায়। কিন্তু আমি সেটাকে তেমন পাত্তা দেইনি। যেহেতু দীর্ঘদিন আমার শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না, মনের ভেতরটাও কেমন কেমন করছিল তাই পরেরদিন ডাক্তারের কাছে যাই। সাথে আমার বাবা ছিলেন। ডাক্তার হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ। ওনাকে আমি প্রথমে গায়ের লাল দাগগুলো দেখাই। তিনি সবকিছু দেখে বললেন, তুমি যেহেতু ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছ চলে যাও। ছুটি শেষ হলে একবার আসিও। আমি ডাক্তারের এমন আশ্বাস শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আসছি এমন সময় ডাক্তার আবার বললেন, তুমি যেহেতু আসছ আমি আরেকবার একটু দেখি। আহনাফ অতীত হাতড়ে বলেন, যদিও আমার শরীর ভাল যাচ্ছিল না তবুও আমি নিজেকে সুস্থ মনে করতাম। আমি ভাবতাম, শরীর ভাল নেই এটা আমার অহেতুক মানসিক দুঃশ্চিন্তা। তাই আমি ডাক্তারের রিপোর্ট খুলেও দেখিনি। তবে আমার বাবা জানতেন। তিনি আমাকে বলেননি। নিজে নিজে কান্না করতেন। ওনার কান্না দেখে আমি আশ্চর্য্য হতাম ও ওনাকে সান্ত্বনা দিতাম। আমি ভাবতাম, আমার তো কিছু হয়নি। তাহলে বাবা কান্না করেন কেন? আহনাফ বলেন, আমি প্রথম আমার ক্যান্সার হওয়ার খবর জানতে পারি ফেসবুকে। আমি কলেজে বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুব সক্রিয় ছিলাম। নিয়মিত বিতর্ক করতাম। ডিবেট সোসাইটির প্রধান ছিলাম। ফলে বন্ধুরা আমাকে ভালবাসে। তারা আমার ক্যান্সার হওয়ার খবরটি জেনে গিয়েছিল। দোয়া চেয়ে তারাই প্রথম খবরটি ফেসবুকে দেয়। একদিন দুপুরে ফেসবুকের নিউজফিডে ঘুরতে ঘুরতে খরবটি আমার চোখে পড়ে। ব্লাড ক্যান্সারের অনেকগুলো ধরণ রয়েছে। আহনাফ যে ক্যান্সারে আক্রান্ত তার নাম ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া। সংক্ষেপে একে বলা হয় CML. প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে CML দিবস হিসেবে পালন করা হয়। একুশে টেলিভিশন অনলাইনের সাথে আলাপকালে আহনাফ বলেন, "আমার জীবনটা নাটকীয়তায় ভরা। এখানেও একটি নাটকীয়তা আছে। ২২ সেপ্টেম্বর CML ডে। আবার এই ২২ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন।" ব্যাপারটি হয়তো কাকতালীয়। কিন্তু এই কাকতালীয়তার মাঝেই যে এক গভীর বিষাদ লুকিয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম যখন আহনাফ জানলেন তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তখন তার অনুভূতিটা কেমন হয়েছিল? একুশে টেলিভিশন অনলাইনে আড্ডাচ্ছলে আহনাফ বলেন, সত্যি কথা হচ্ছে জানার সাথে সাথে আমার কিছু দুঃখ হয়েছিল। আবার কিছু আনন্দও হয়েছিল। দুঃখ হয়েছিল এই কারণে ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল আমি কোনো একদিন দেশের প্রেসিডেন্ট হব। রাষ্ট্রনায়ক হব। কিন্তু ক্যান্সার আমার সেই স্বপ্ন পূরণে কী বাধা হয়ে দাঁড়াল? এই প্রশ্নটা আমাকে পীড়া দিতে থাকে। আমার স্বপ্ন ছিল আমি পৃথিবী ঘুরে দেখব। আল্লাহর সৃষ্টি এত সুন্দর পৃথিবী। পৃথিবী ঘুরে দেখাটাও আমার কাছে ইবাদাত। আমার মনে একটা কষ্ট দানা বাঁধতে থাকে। হায়! আমার কী পৃথিবী ঘুরে দেখা হবে না? আহনাফ বলেন, কিন্তু কিছুক্ষন পরে আমার একধরনের সুখানুভূতি তৈরি হয়। সুখানুভূতি হচ্ছে এ জন্য, এমন একটা জিনিস আমি ধারন করে আছি যা পৃথিবীতে সবার নেই বা খুব কম লোকের আছে। আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম এটা আমার জন্য স্রষ্টার আশীর্বাদ। যে অভিজ্ঞতা আমার হবে বা হচ্ছে তা অন্য সবার হবে না। নিজেকে সাহস দেওয়ার জন্য এটা ছিল আমার সবচেয়ে বড় যুক্তি। তবে আমাকে তখন প্রায় স্টেরয়েড দিয়ে রাখা হত। ফলে অামাকে কোন মানসিক চাপ নিতে হতো না বা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। আহনাফ এর ভাষায়, সে এক কষ্টকর সময়। ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। শরীর দুর্বল লাগত। খেতে পারতেন না। বমি হতো। রাতে ঘুমাতে পারতেন না। হাত পা নাড়াতে কষ্ট হতো। শরীরে ছোপ ছোপ লাল লাল দাগ। ডাক্তাররা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আহনাফ- এর বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। কিন্তু তার সাথে ম্যাচিং করে এমন বোনমেরু পাওয়া যায়নি। ভাই বোন হলে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি আহনাফ- এর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। চিকিৎসার জন্য আহনাফ কে কলকাতা টাটা মেডিকেল  সেন্টারে ডা. মামেন চেন্ডির অধীনে ভর্তি করানো হয়। ক্যান্সার একটি ঘাতক ব্যাধি। ক্যান্সার হলে রক্ষা নাই। ক্যান্সারের চিকিৎসা খুব ব্যায়বহুল। সহজে কান্সারের চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এমন অনেক কথা ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত। আহনাফ - এর জীবনেও এর অনেকগুলো সত্য হয়েছে। তবে আসল বিষয় হলো আহনাফ হাসিমুখে সে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালে আহনাফ নিয়মিত ফিচার লেখেন। টেন মিনিট স্কুলে কন্টেন্ট কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেন। ইকোনোমিকস ক্যারিয়ার অ্যালাইন্স- এ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। অ্যাকসন এইড- এ তিনি একজন ইন্টারপ্রেটার অ্যান্ড ফ্যাসিলেটার। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করা আহনাফ- পড়াশুনায়ও ভাল ফলাফল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। আহনাফ এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়েছিলেন স্কলারশিপ সহ। পরবর্তীতে ক্যান্সার নিয়ে যুদ্ধ করতে করতেও তিনি একই ফলাফল অর্জন করেন। ঢাকা বোর্ডে তার অবস্থান ছিল ৭৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ২৩২। আহনাফ তাদের একজন যারা সবসময় হাসিখুশী থাকে। নিজেকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আহনাফ বলেন, আমি যখন টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হই, তখন অামি অবাক হয়ে গেলাম। আশেপাশে এত এত ক্যান্সার রোগী যেন এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। (আগামী পর্বেঃ ক্যান্সার রোগীদের মানসিক শক্তি)  আআ//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি