ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

পূজার স্মৃতি নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে `নীল দত্ত`

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:৫০, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | আপডেট: ১১:৫২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

Ekushey Television Ltd.

মাত্র ষোলো-সতেরো বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করেই কেটে যায় দুর্গাপূজা। তবে ছেলেবেলায় দাদু-দিদা-ঠাকুর্দা-ঠাকুমা চারজনকেই পাওয়ায় তাঁদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার স্মৃতিও রয়েছে সঙ্গীতশিল্পী নীল দত্তের। একান্ত এক সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন ছেলেবেলার পুজা-শো-গানের স্মৃতি।

কখনও কোনও পূজার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না নীল দত্ত। তবে একদম ছোটবেলায় ঠাকুর্দা ওই পাঁচদিনের যে কোনও একদিন রিক্সা করে ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যেতেন তাকে, দাদুও নিয়ে বেরোতেন। এছাড়া ছেলেবেলায় নতুন জামার সঙ্গে আসত পূজাবার্ষিকী। নীলের কথায়, 'বাড়ির সকলে নিয়ম করে পূজাবার্ষিকী পড়তেন, সেই থেকে আমারও ইচ্ছেটা তৈরি হয়। এছাড়া একদম ছোটবেলায় ভাই-বোনেরাও আসতেন পুজার সময়ে।'

তবে খানিক বড় হওয়ার পরের পূজা? নীলের কথায়, 'আমার টিন-এজে পুজা মূলত দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালুরু সব জায়গায় গিয়ে শো করেই কেটে গেছে। আমাদের একটা বন্ধুদের গ্রুপ আছে। একটা সময় পর্যন্ত আমরা নিয়ম করে ষষ্ঠীতে দেখা করতাম এবং লাঞ্চে যেতাম। কিন্তু বেশিরভাগেরই বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর এখন সেটাও প্রায় হয় না বললেই চলে'।

এখন পূজায় অনুষ্ঠান না থাকলে ভিড় এড়িয়ে বাড়িতে রান্নাবান্না করা,বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, এমনটাই বেশি পছন্দ করেন নীল। আর ছোটবেলায় ব্যাপারটা কেমন ছিল? 'ছোটবেলায় প্রতিদিন একটা করে নতুন জামা পরে বেরোনো, কোথাও না কোথাও একটা খাওয়া, একটা ছোট্ট পকেটমানি নেওয়া, এগুলো করেছি। ছোটবেলায় এমনকী কলেজেও পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার মতো সামর্থ্য থাকত না, তাই আমাদের খাওয়া মানে ওই এগরোল বা ফুচকা। অবশ্য কখনও দামী রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়ার কথা তখন মনেও হত না। উদ্দেশ্য থাকত, কয়েকটা ইন্টারেস্টিং ঠাকুর দেখা, খানিক আড্ডা দেওয়া-গল্প করা। বিশেষত স্কুল বা কলেজের বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য থাকত,' বলছেন তিনি।

যারা নীল দত্তকে মোটামুটি চেনেন, তারা এটাও জানেন যে তিনি বেশ খাদ্যরসিক মানুষ। কিন্তু সারা বছর যাই খাওয়া হোক না কেন, দুর্গাপূজা মানেই তার কাছে বাড়ির বাঙালি খাবারই শ্রেষ্ঠ। যেমন দশমীর দিন এখনও ঐতিহ্য বজায় রেখে তাদের বাড়িতে ঘুগনি, কুচো নিমকি, মালপোয়া তৈরি হয়। 

কিন্তু এত ছোট বয়স থেকে পূজার সময়ে বাইরে অনুষ্ঠান করতে খারাপ লাগত না? 'খুব বিরক্ত লাগত,' অকপট স্বীকারোক্তি নীল দত্তের। 'সবকিছু ছেড়ে ঠিক পঞ্চমীর দিন ফ্লাইট ধরে বাইরে চলে যাওয়া...', তবে তার আরও বক্তব্য, 'আমি কখনও টাকার জন্য তো শো করিনি, গানবাজনা আমার প্যাশন।' তাই হয়তো সেই বিরক্তিটা বেশিদিন বা বেশিক্ষণ স্থায়ীও হয়নি। এমনকী বিদেশে অনুষ্ঠান করেও তিনি বেশ ভালই সাড়া পেয়েছেন। 

বাবা অঞ্জন দত্তের প্রথম অ্যালবাম,'শুনতে কি চাও' মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৪ সালে পূজার ঠিক আগে, অগাস্ট মাসে। অঞ্জন দত্তের সুর, কণ্ঠ। গিটার সঙ্গিতে নীল দত্ত। 'আমার পরিষ্কার মনে আছে, পূজায় আমার পাড়ার মাইকে "রঞ্জনা আমি আর আসব না" গানটা বাজত। সেটার একটা অন্যরকম অনুভূতি ছিল।' আর তখন নীল দত্তের বয়স মাত্র ষোলো, তার কথায় 'স্যুইট সিক্সটিন'। 

যদিও নীল বলেন, ওই বয়সে যত না তার থেকে বেশি কলেজে পড়াকালীন বা কলেজ পাস করার পর পূজায় অনুষ্ঠান থাকলে একটু খারাপই লাগত। 'তখনই তো পুজার আকর্ষণ বেশি। পুজায় সব বান্ধবীরা সেজেগুজে বেরোবে, বা কোনও বান্ধবীর সঙ্গে ডেটে যাওয়া হবে। কিন্তু সেই সময়গুলোও আমি শো-ই করেছি।' হাসতে হাসতে নীল বলেন, 'আমার যখন গার্লফ্রেন্ড ছিল, তখনও একটা পূজাতে একের পর এক নানা রাজ্যে শো করেছি। টানা তিন দিন প্রায় না ঘুমিয়ে কলকাতা পৌঁছে বান্ধবীর সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছি।'

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও প্রচুর গান-সুর শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন নীল দত্ত। কিন্তু এখনও প্রথম অ্যালবাম 'শুনতে কি চাও'-এর গান শুনলে তাঁর পূজার কথা মনে পড়ে। 'কারণ যেখানেই যাচ্ছিলাম, সেটা লেক গার্ডেন্স হোক বা যোধপুর পার্ক বা গড়িয়াহাট, হয় সেখানে 'হরিপদ' বাজছে বা কোথাও 'দার্জিলিং' বাজছে। সেটা একটা অন্যরকম ব্যাপার।' তবে একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার মতে এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা, পছন্দ সবই বদলেছে। এখন ক্যাসেট বা অ্যালবাম কেনার প্রথাটাই নেই। সবই অনলাইনে এক ক্লিকেই মুঠোবন্দি। ফলে একটা সময়ের পর নীল দত্তও 'পুজার গান' তৈরির ভাবনা থেকে নিজেকে সরিয়ে এনেছেন। 
সূত্র : এবিপি আনন্দ
এমএম//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি