ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

পরীমণির মা হওয়ার খবরে ক্ষেপলেন তসলিমা নাসরিন!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৩:১১, ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | আপডেট: ১৩:১৪, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

Ekushey Television Ltd.

পরীমণি গর্ভধারণ করেছেন, তারও আগে চুপিসারে নায়ক শরীফুল রাজকে বিয়ে করেছেন এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর কলম ধরেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে তার লেখায় স্পষ্ট তিনি জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকার মা হওয়ার সংবাদটি ভালোভাবে নিতে পারেননি। বরং এই খবরে পরীর জন্য ক্ষোভ ঝরেছে তসলিমার লেখায়। যদিও লেখার কোথাও তিনি পরীমণির নাম নেননি।

তসলিমা লেখেন, ‘‘সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন? মেয়েরা, এমনকী প্রতিষ্ঠিত, সমাজের নানা নিয়ম ভেঙে ফেলা সাহসী মেয়েরাও, ৩০ পার হলেই সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা কতটা নিজের জন্য, কতটা পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতি মানার জন্য? আমি কিন্তু মনে করি নিজের জন্য নয়, মেয়েরা সন্তান জন্ম দিতে চায় সমাজের ১০টা লোকের জন্য। বাল্যকাল থেকে শুনে আসা, শিখে আসা 'মাতৃত্বেই নারীজন্মের সার্থকতা' জাতীয় বাকোয়াজ  মস্তিস্কে কিলবিল করে বলেই মনে করে ইচ্ছেটা বুঝি নিজের।’’

তসলিমার ভাষ্যে, ‘‘সন্তান জন্ম দেওয়ার ইচ্ছে মানুষের ভেতর আপনাতেই জন্ম নেয় না, জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় না। মানুষ ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, লাগাম টেনে ধরতে পারে গর্ভধারণের যাবতীয় বিষয়াদির। এখানেই  পশুর সঙ্গে মানুষের পার্থক্য।  মানুষ ভাবতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সন্তান জন্ম দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।’’

তিনি আরো লেখেন, ‘‘যারা মূল্যবান কাজ করছে জীবনে, আমার মনে হয় না তাদের উচিত  অহেতুক শিশু জন্ম দিয়ে কাজের সময় নষ্ট করা। লালন-পালনেই তো ব্যয় হয়ে যায় জীবনের অনেকটা সময়। নিজেকে যারা ভালোবাসে না, তারাই হয়তো জীবনকে মূল্যহীন করতে দ্বিধা করে না। আর যারা মনে করে বৃদ্ধ বয়সে তাদের দেখভাল করবে সন্তানেরা, তাই সন্তান জন্ম দেওয়া জরুরি, তারা নিতান্তই দুষ্টবুদ্ধির লোক, সন্তানের ঘাড়ে চড়ার বদ উদ্দেশ্য নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করে।’’

তসলিমার মতে, ‘‘আর এমন তো নয় যে এই গ্রহে মানুষ নামক প্রাণীর এত অভাব যে অচিরে  বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই প্রজাতি; বিলুপ্ত হওয়া থেকে প্রজাতিটিকে যে করেই হোক বাঁচাতে হবে! বাঁচানোর দায়ই বা কেন আমাদের নিতে হবে!’’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার পত্রিকা
এমএম/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি