ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

আফগানিস্তানের আর্থিক সংকট কাটাতে বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৫০, ১৩ অক্টোবর ২০২১ | আপডেট: ১১:৫৮, ১৩ অক্টোবর ২০২১

Ekushey Television Ltd.

আফগানিস্তানকে চরম অর্থনৈতিক সংকট থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নত দেশগুলোর জোট জি-২০র নেতারা। আফগান অর্থনীতি রক্ষায় শত কোটি ডলার দিতে জাতিসংঘ আহ্বান জানানোর পর বিশ্বনেতারা  ভার্চুয়াল সামিটে অংশ নিয়ে এই অঙ্গীকার করেন। এ খবর বিবিসি’র।

নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে একশ’ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন, আফগানিস্তান এবং প্রতিবেশী যেসব দেশ শরণার্থীদের গ্রহণ করছে, তাদের জন্য এই অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

আফগানিস্তানের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তিনি বলেছেন, দেশটিকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে দেয়া ঠিক হবে না।

এই প্রতিশ্রুতি এমন পরিস্থিতি এলো যখন গৃহস্থালি জিনিসপত্র বিক্রি করে খাবার কেনার অর্থ জোগাড় করছে আফগানরা।

জাতিসংঘ প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, সেখানে যেসব সাহায্য দেয়া হবে, তা দিতে হবে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। সরাসরি তালেবানের হাতে নয়। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু অর্থ সহায়তা পাওয়া গেছে, তা কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা জরুরি খাদ্য ও ওষুধের জন্য দেয়া হচ্ছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, ‘পুরো আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা আর্থিক পদ্ধতি যদি ভেঙ্গে পড়ে, তাহলে আমাদের কারও কোন উপকারই হবে না। চার কোটি মানুষ যদি আর্থিক পদ্ধতি ভেঙ্গে পড়ার কারণে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে, সেটা তো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লক্ষ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেছেন, জাতিসংঘের সহায়তা দেয়া সব প্রতিষ্ঠানে তালেবানের অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এক্ষেত্রে মেয়ে ও নারীদের অধিকারের বিষয়েও সম্মান দিতে হবে।

মার্কেলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি, যিনি এই ভার্চুয়াল সামিটের আয়োজন করেছিলেন।

তিনি বলেছেন, ‘তালেবানের সঙ্গে জি-২০ দেশগুলোর যোগাযোগ করতে হবে। কিন্তু তার মানেই এটা ইসলামপন্থী তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়া নয়।’

তবে এই ভার্চুয়াল সামিটে জি-২০ দেশগুলোর সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে প্রতিনিধি ছিলেন। তবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বৈঠকে অংশ নেয়া সব সদস্যই আরও বেশি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন।

আফগানিস্তান যাতে আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেট গ্রুপের মতো জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেই সঙ্গে বিদেশি নাগরিক এবং দেশ ছাড়তে আগ্রহী আফগানদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠক এমন সময়ে হলো যখন দাতব্য সহায়তা, সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং বিদেশিদের সরিয়ে আনার কাতারে আলোচনায় বসেছেন পশ্চিমা এবং আফগান কর্মকর্তারা। তালেবানের ক্ষমতা নেয়ার পর এই প্রথম দুই পক্ষের সরাসরি আলোচনা হচ্ছে।

এএইচ/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি