আফগানিস্তানে হাইস্কুল খুলছে, পড়বে মেয়েরাও
প্রকাশিত : ১২:২৭, ১৮ মার্চ ২০২২
আফগানিস্তানে মেয়েদের হাইস্কুলে পড়ার অনুমতি দিচ্ছে তালেবান। আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির সব হাইস্কুল খুলবে। সেখানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও যেতে পারবে। তবে তাদের কিছু শর্ত মানতে হবে।
তালেবানের অধীনে থাকা আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। এই ঘোষণার পর সেই অনিশ্চয়তা কাটলো।
আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজিজ আহমেদ রায়ান বলেছেন, ''সব হাইস্কুল আগামী সপ্তাহে ছেলে ও মেয়েদের জন্য খুলছে। মেয়েদের পড়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকছে। তারা ছেলেদের সঙ্গে পড়তে পারবে না। তাদের আলাদাভাবে পড়ানো হবে। নারী শিক্ষিকারা তাদের পড়াবেন।''
গ্রামের দিকে শিক্ষিকার অভাব রয়েছে। সেখানে বয়স্ক পুরুষ শিক্ষকরা পড়াবেন বলে রায়ান জানিয়েছেন।
রায়ান বলেছেন, ''এই বছর কোনো স্কুল আর বন্ধ থাকবে না। যদি কোনো স্কুল বন্ধ থাকে, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নিয়ে সেটা খুলবে।''
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে আফগানিস্তানের বড় তিন শহর কাবুল, কান্দাহার আর হেরাতের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, কয়েক দিনের বিরতির পর ধীরে ধীরে আবার ক্লাস শুরু হচ্ছে৷
তবে এখন ছাত্র-ছাত্রীরা পাশাপাশি বসে ক্লাস করতে পারছে না৷ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে আর মেয়েদের মাঝে ঝুলিয়ে দেয়া হচ্ছে পর্দা, কোথাও আবার মাঝে গড়ে দেয়া হয়েছে কার্ড বোর্ডের দেয়াল৷
অধিকাংশ দেশ তালেবান শাসনাধীন আফগানিস্তানকে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা বারবার করে মানবধিকার ও নারী অধিকারের বিষয়টি তুলেছে। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আফগানিস্তানকে ত্রাণসাহায্য দেয়ার ক্ষেত্রেও নারী অধিকার ও শিক্ষার বিষয়টি তারা সামনে এনেছে।
এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। তখন তারা মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। অধিকাংশ চাকরি মেয়েরা করতে পারত না। এবার তালেবান আবার আফগানিস্তান শাসন করার পর মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অনেক বেশি সংখ্যায় স্কুল ও কলেজে ফিরেছে। তালেবান এখন বলছে, তারা নারীদের অধিকারকে সম্মান করে।
তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার সংক্রান্ত শাখার ডিরেক্টর হিথার বার বলেছেন, ''স্কুল খুলছে মানে যে সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, এমন মনে করা ঠিক হবে না।''
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
এসবি/
আরও পড়ুন