ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

করোনা ভাইরাস : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৬৬

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

Ekushey Television Ltd.

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি আকার ধারণ করা এ ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরও ১৪২ জন। এ নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছয় বিদেশিসহ ১৬৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে (যদিও সংখ্যা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক)। যাদের অধিকাংশই ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের।

আজ রোববার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

অপরদিকে, আক্রান্তের সংখ্যা নিহতের কয়েশগুণ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও আড়াই হাজারের বেশি মানুষের দেহে ভাইরাসটির সন্ধান মিলেছে। এ নিয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৯ হাজারে পৌঁছেছে।

চীনের বাহিরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জাপানে। সূর্য্যদয়ের দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩’শ জনের দেহে নতুন এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর আগে উৎপত্তিস্থল উহানে এক জাপানি নাগরিক মারা গেলেও গত শুক্রবার প্রথমবারের মত জাপানে এ ভাইরাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ নারীর মৃত্যু হয়।

এছাড়াও চলতি মাসের প্রথমদিকে হংকং ও ফিলিপাইনে একজন করে মারা যান। আর গতকাল শনিবার এশিয়ার বাইরের দেশ ফ্রান্সে এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ৮০ বছর বয়সী ওই চীনা পর্যটক সম্প্রতি হুবেই থেকে ফ্রান্সে বেড়াতে এসেছিলেন।

এদিকে, বর্ধিত ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার যারা দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে ফিরেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে তাদের ১৪ দিনের জন্য পৃথক কোয়ারেন্টাইনে (পরীক্ষা করার ব্যবস্থা) থাকার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং ভাইরাস প্রিভেনশন ওয়ার্কিং গ্রুপ।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এখন থেকে বেইজিংয়ে ফিরে আসা সবাইকে ঘরে বসে থাকা উচিত। অথবা ১৪ দিনের জন্য গ্রুপ পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। বেইজিংয়ের সরকারি সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, কেউ না মানলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

এদিকে করোনার প্রাণকেন্দ্র চীনের উহান শহরটি এখন কার্যত বন্ধ বা অচল হয় আছে। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বহু স্বেচ্ছাসেবী আক্রান্তদের হাসপাতালে আনা-নেয়া করছেন। আবার অনেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের যাদের পরিবহনের ব্যবস্থা নেই তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন। দেশটিতে সাধারণ রোগীর পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ৬ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রকৃত অবস্থা আরও ভয়াবহ বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, চীনের এ নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা গোপন করছে সরকার।

এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট উইন্ডি ডটকমের ছবির বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল ও দ্য এক্সপ্রেস ডট কমের খবরে বলা হয়েছে, ‘দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কয়েক হাজার ব্যক্তির মরদেহ চীন সরকার জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

স্যাটেলাইট ইমেজ দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ‘আক্রান্ত ১০ হাজার ব্যক্তির মৃতদেহ জ্বালিয়ে দিয়েছে চীন। বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের মধ্যে উহান শহরে উচ্চমাত্রার সালফার ডাই-অক্সাইযের (SO2) ব্যাপক উপস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর এতেই সেখানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার আভাস মিলেছে।’

অন্যদিকে চলমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে গত ১২ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের অন্তত ৪০০ বিজ্ঞানী নিয়ে সভা করেছে। সেখান থেকে কাঙ্খিত দিক নির্দেশনা আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে প্রতিষেধক তৈরি হতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশিদের কোয়ারেন্টাইন (পৃথক করে রাখা) মেয়াদ শেষ হয়েছে। শনিবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে তাদের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর রাতে প্রত্যেককে স্বাস্থ্য সনদ ও সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই প্রক্রিয়া শেষে অনেকে রাতেই বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেকে আজ বাড়ি যাবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন সময়কাল শনিবার শেষ হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাদের চীন থেকে ফিরিয়ে এনে আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছিল।

এদিকে গত বুধবার চীন ফেরত আরও একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও চীন ফেরত দুইজনকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে কারো শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে সিঙ্গাপুরে গতকাল শনিবার আরও একজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগেও সিঙ্গাপুরে থাকা দুই বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। যার ফলে এখন দেশটিতে করোনাক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫ জনে।

এআই/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি