ঢাকা, সোমবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

অক্টোবর থেকে বিজ্ঞাপনমুক্ত বিদেশী চ্যানেল

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৫৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

Ekushey Television Ltd.

দেশে প্রচারিত বিদেশী চ্যানেলগুলোতে হর-হামেশাই দেখা যায় বিদেশী বিজ্ঞাপন। তবে সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিজ্ঞাপন সহ অনুষ্ঠান আর চালাতে পারবে না বিদেশী চ্যানেলগুলো। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

সচিবলায়ে এক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের পরে ‘ক্লিন ফিড’ ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করলে আইন প্রয়োগ করা হবে। সেদিন বৈঠকে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাটকো, বিদেশি চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘দেশে যেসব বিদেশি চ্যানেল আছে আইন অনুযায়ী তারা ‘ক্লিন ফিড’ চালাতে বাধ্য। তাগাদা দেয়ার পরও এসব চ্যানেল ক্লিন ফিড করে পাঠাচ্ছে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৩০ সেপ্টেম্বরের পর দেশে কোনও অবস্থায়ই ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল চালাতে দেয়া হবে না। এরপর আইন প্রয়োগ করা হবে। আইন অনুযায়ী ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশী চ্যানেল আমাদের এখানে সম্প্রচার করতে পারে না।’

উল্লেখ্য, ‘ক্লিন ফিড’ অর্থ হচ্ছে- বিদেশি চ্যানেলে কোনো বিজ্ঞাপন থাকতে পারবে না। বর্তমান আইনেও আছে বিদেশি চ্যানেলের অনুষ্ঠান বাংলাদেশে দেখাতে হলে ‘ক্লিন ফিড’ দেখাতে হবে। অর্থাৎ অনুষ্ঠানে থাকবে না কোনো বিজ্ঞাপন।

এদিকে, তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের কেবল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড করা হবে। এ নিয়ে ব্যবস্থাও নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। ৩০ নভেম্বরের পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে কাজ করবে না কোনো এনালগ সিস্টেম।

এসব কাজ কীভাবে হবে সেটি নিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিপত্র। সম্প্রচার হবে সেট আপ বক্সের মাধ্যমে।

এছাড়া, বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন শহর ছাড়াও কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজারে অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড করা হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। নভেম্বরেই এসব কীভাবে করা যায় তা ঠিক করা হবে।

তাছাড়া, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো টিভি চ্যানেল ভিডিও স্ট্রিমিং করে দেখানো যাবে না বলেও জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। এসব বন্ধে তথ্য মন্ত্রণালয়, টেলিকম বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে অংশীজনদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অন্যদিকে, দেশে ডিটিএইচ লাইসেন্স দেয়া আছে দুটি। একটি আকাশ, আরেকটি বিটিভিকে। সহসাই বিটিভি কার্যক্রমে যাবে।

বাংলাদেশে বিদেশী চ্যানেলের সঙ্গে কাজ করে মূলত চারটি ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিষ্ঠান। তাদের মাধ্যমেই ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক বা দুবাইভিত্তিক কিছু টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশে অনুষ্ঠান প্রচার করে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশীয় বেসরকারি টেলিভিশনগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলো। এই চাপ অনেকবছর যাবতই চলছে। তবে এবার এ বিষয়ে কঠোর হবার দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশনের মালিকরা। কারণ তারা মনে করেন বাংলাদেশে কোনো কর না দিয়েই বিজ্ঞাপন প্রচার করে বেশীরভাগ বিদেশী চ্যানেল।

এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে যে সুযোগ বিদেশি চ্যানেল পাচ্ছে সেটি বন্ধ হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে কর দিয়েও পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন পাচ্ছেনা, সুরাহা হবে সেটির।

এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড চালানো এবং মেট্রোপলিটন শহর সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল পদ্ধতি চালুকরণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।
এসএ/
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি