পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম জন্মদিন আজ
পবিপ্রবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত : ০৪:২১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বুধবার

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)। হাঁটি হাঁটি পা পা করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম জন্মদিন আজ।
আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দক্ষিণবঙ্গের গর্ব পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই এক সম্ভাবনাময় বিদ্যাপীঠ!
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা এ বিদ্যাপীঠ দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত করেছে এবং দেশের সার্বিক আইন ও ব্যবসা শিক্ষায়, কৃষি, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আইন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, ব্যবসায় শিক্ষা, কম্পিউটার বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ প্রদান করে পবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক গবেষণাগার, উচ্চ মানের পাঠদান ব্যবস্থা ও গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পবিপ্রবি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে। দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে এটি দেশের কৃষি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে।
এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হন। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রশাসনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।
এসময় উপাচার্যের সাথে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আবদুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ ইকতিয়ার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
পরে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে দিবসটি উপলক্ষে কেক কেটে সেখান থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রায় উপাচার্যের সাথে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টার ও টিএসসির সামনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও রক্তদান কর্মসূচী পালন করা হয়। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড মোঃ ইকতিয়ার উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পোস্ট গ্রাজুয়েট স্ট্যাডিজ এর ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আবদুল লতিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয় উদযাপন কমিটির কনভেনর অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুব রব্বানী।
বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল, হাঁড়ি ভাঙ্গা, হাঁস-মুরগী হুলস্থুল ও রশি টানাটানি খেলা। বিকাল ৩ টায় টিএসসির কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন শীর্ষক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসন ভবন, কেরামত আলী হল, বিজয় ২৪, বিজয় ৩৬, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল-১ ও ২, সকল অনুষদের একাডেমিক ভবন সমুহ, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ এবং রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহে সাজসজ্জা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৩তম জন্মদিন উপলক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান বলেন, গৌরব ও ঐতিহ্যের ২৩ বছরের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা আমাদের অতীতের অর্জনকে সম্মান জানাই এবং ভবিষ্যতের পথে নতুন সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প করি। আমাদের লক্ষ্য হবে প্রযুক্তি, গবেষণা এবং সৃজনশীলতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা, যাতে আমরা জাতির উন্নয়নে আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারি।
উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আজ আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী! এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এক গৌরবময় ইতিহাস, সাফল্য, ও উত্তরাধিকার। এ উপলক্ষে আমি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পিছনে যাদের অবদান তাদেরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সদস্য ও দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
উপাচার্য আরও বলেন, ২৩ বছর আগে যে বীজটি রোপণ করা হয়েছিল, তা আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশ ও বিশ্বসভায় আমাদের অবস্থান সুসংহত করেছি। আমাদের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকগণ তাঁদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান উপাচার্য।
এএইচ