‘তালিকাচ্যুতি নয় বরং কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করা’
Ekushey Television

‘তালিকাচ্যুতি নয় বরং কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করা’

ব্যারিস্টার এ.এম মাসুম

প্রকাশিত : ০৫:২২ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯ বুধবার | আপডেট: ০৫:২৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯ বুধবার

‘তালিকাচ্যুতি নয় বরং কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করা’

‘তালিকাচ্যুতি নয় বরং কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করা’

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দিলে বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে জেড (জাঙ্ক) ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে এজিএম না করলে বা নির্ধারিত সময়ে এজিএম করতে ব্যর্থ হলেও জেড ক্যাটাগরিতে নামানো হয়। বছরের পর বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর আইনেই আছে।

এতে তালিকাচ্যুত নয় বরং টানা দুই বছর লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিকে লাভজনক পর্যায়ে উন্নিত করতে নতুন ও পেশাদার নেতৃত্বের হাতে ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বও ব্যর্থ হলে অন্য কোন কোম্পানির সঙ্গে একীভূত করার বা কোম্পানি অবসায়ন করে (বিক্রি) শেয়ার হোল্ডারদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ওই আইনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর অধ্যাদেশ ১৯৬৯ সালের ধারা ২সিসি মতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। পরবর্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর ২০০২ সালের ১ আগস্ট জারীকৃত নোটিফিকেশনে (নং- এসইসি/ সিএমআরআরসিডি/ ২০০১-১৪/প্রশাসন/০৩/০৬) বলা হয়েছে যে, টানা দুই বছর লভ্যাংশে ব্যর্থ জেড ক্যাটাগরির কোম্পানিকে ছয় মাসের মধ্যে পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে।

নতুন পর্ষদে উদ্যোক্তা,প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুপাতে পরিচালক নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা বা সাবেক পরিচালক বা কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্নিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা তাদের আত্মীয়দের কেউ প্রাতিষ্ঠানিক বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পরিচালক হতে পারবেন না।

এ ছাড়া কোম্পানির মালিকানায় উদ্যোক্তাদের অংশ ৫০ শতাংশের কম হলে তাদের বাইরে অন্য কাউকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। জারীকৃত নোটিফিকেশনে আরও বলা হয়েছে যে, গঠনের পর পুনর্গঠিত পর্ষদ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানির লোকসানের কারণ বের করে এবং এ ক্ষেত্রে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে কোম্পানিকে লাভজনক করার জন্য পরিকল্পনা নেবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য পর্ষদ পুনর্গঠনের সাত মাসের মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভা ডেকে তার অনুমোদন নিতে হবে।

আইনের এ বিধানে আরও বলা হয়েছে যে, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ মাসের মধ্যে কোম্পানির ব্যবসা ও মুনাফা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে, পরের ছয় মাসের মধ্যে অন্য কোন লাভজনক কোম্পানির সঙ্গে একীভূত বা অবসায়ন করবে। ঊল্লেখিত কোম্পাণী যদি ব্যাংক হয় তাহলে ব্যাংক কোম্পাণী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৯ এর উপধারা (গ) এর বিধান মতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পাণী সমূহের একত্রীকরনের  আদেশ প্রদান করা হবে এবং কোম্পাণীর ক্ষেত্রে, কোম্পাণী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২২৮ ও ২২৯ মতে, কোন কোম্পানি ব্যবসা ও মুনাফা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পাণী অন্য কোন লাভজনক কোম্পাণীর সঙ্গে একীভূত হতে পারবে।

অপরদিকে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৭৫ মতে, স্বেচ্ছা-অবসায়নের ক্ষেত্রে যদি কোন ব্যাংক-কোম্পানি উহার কোন দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের মাধ্যমে উক্ত কোম্পানির অবসায়নের জন্য আদেশ দিতে পারে এবং কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২৪১, ২৪২ ও ২৪৫ মতে, যদি কোন কোম্পানি আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক প্রমানিত হয় যে উহার ঋণ পরিশোধে অসমর্থ, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানিকে আদালত কর্তৃক অবলুপ্তি ঘটানোর জন্য আবেদন করা যাইতে পারে ৷ উল্লেখিত নির্দেশনাটি জারির সময় এবং পরে কোন কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিভুক্ত হলে সেগুলোর ক্ষেত্রেও এই নির্দেশনা কার্যকর হবে ।

 ব্যারিস্টার এ.এম মাসুম
আইনজীবি, সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ

টিআর/