ঢাকা, বুধবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪,   আশ্বিন ১০ ১৪৩১

১৮ চিকিৎসক-নার্সসহ কোয়ারেইন্টানে ২১

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:৩৭ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৪০ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

জেলা সদর হাসপাতাল

জেলা সদর হাসপাতাল

কক্সবাজারে মুসলিমা খাতুন (৬০) নামে এক বৃদ্ধা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে কক্সবাজার পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকাকে লকডাউন করা হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতালের ১২ জন চিকিৎসক, ৬ জন নার্স ও ৩ জন ক্লিনারকে হোম কোয়ারেইন্টানে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫০১ নং কেবিনে ৬০ বছরের ওই বৃদ্ধার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু সনাক্তের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

এদিন বিকাল ৫ টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমদুল্লাহ মারুফ এ লকডাউন ঘোষণা করে লাল পতাকা ও ব্যানার টাঙিয়ে দেন। 

ঘোষণায় বলা হয়, কক্সবাজার শহরের পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী কচ্ছপিয়া পুকুর মোড় থেকে পশ্চিমে খোরশেদ ভবনের সামনে হয়ে পল্লবী লেইন লকডাউন হিসাবে চিহ্নিত করা হলো। এছাড়াও মহিলাটি চট্টগ্রামে যে বাসায় অবস্থান করছিলো সে বাসাটি এবং চকরিয়ার উপজেলার খুটাখালীর নিজ বাড়িটি লকডাউন করা হলো।

জানা গেছে, ওই মহিলার সন্তান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ১২ জন চিকিৎসক, ৬ জন নার্স এবং ৩ জন ক্লিনারকে হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহমদুল্লাহ মারুফ জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত ওই নারীকে যেসব লোক সংস্পর্শে গেছে এবং সংস্পর্শে যাওয়া মানুষের যারা সংস্পর্শে গেছেন তাদের এবং আশপাশের এলাকা ও মানুষকে নিরাপদ রাখতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে ওই মহিলার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু শনাক্তের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ১২ চিকিৎসকসহ মোট ২১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডা: মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

২৪ মার্চ দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মুসলিমা খাতুন (৭০) নামের ওই নারীর করোনা ধরা পড়ে। তিনি চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মরহুম রশিদ আহমদের স্ত্রী। ১৩ মার্চ তিনি পবিত্র ওমরাহ সমাপ্ত করে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। ১৮ মার্চ জ্বর, কাঁশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করার জন্য ২২ মার্চ ঢাকাস্থ আইইডিসিআরে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। আজ পাঠানো রিপোর্টে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে। পরে তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। বর্তমানে সে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫০১ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এনএস/