ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রামের জয়রথ থামালো মুশফিক বাহিনী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৮:৪৮, ৬ ডিসেম্বর ২০২০

Ekushey Television Ltd.

টানা চার ম্যাচ জয়ের পর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে অবশেষে হারের স্বাদ পেল লিটন-সৌম্য-মিঠুন-মুস্তাফিজরা। আজ রোবাবার টুর্নামেন্টর ১৩তম দিনের প্রথম ম্যাচে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৭ রানে হারিয়েছে মুশফিকের ঢাকা। এই জয়ে ৬ ম্যাচে ৩টি করে জয় ও হারে ৬ পয়েন্ট ঢাকার। ৫ ম্যাচে ৪টি জয় ও ১টি হারে ৮ পয়েন্ট চট্টগ্রামের।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ঢাকা। দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ১৩ ও সাব্বির রহমান ৭ রান করে না ফিরতেই তিন নম্বরে নামা তানজিদ হাসান আউট হন রানের খাতা না খুলেই।

শুরুতেই চাপে পড়ে যাওয়া দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন দলপতি মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি। সফলও হন তারা। সর্তকতার সাথে খেলে দলের স্কোর শতরানের কোটা অতিক্রম করেন মুশফিক-ইয়াসির জুটি।

১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এই জুটি ভাঙ্গেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মুস্তাফিজুর রহমান। তার আগে অবশ্য ৭২ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিক ও ইয়াসির। ৩৮ বলে ৩৪ রানের অবদান রেখে ফেরেন ইয়াসির।

তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেন নিজের ৪২তম বলে টুর্নামেন্টের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া মুশফিক। ৫০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৭৩ রান করেন তিনি। ফলে ৪ উইকেটে ১৪৫ রানের সংগ্রহ পায় ঢাকা। চট্টগ্রামের নাহিদুল-শরিফুল-রাকিবুল-মুস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারায় চট্টগ্রাম। রানের খাতা খোলার আগেই পেসার রুবেল হোসেনের বলে আউট হন সৌম্য।

এরপর মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে ৪৭ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সাথে ৪৮ রান যোগ করে থামেন আরেক ওপেনার লিটন। দলীয় ৪৮ রানে জয়কে ও ৯৬ রানে লিটনকে বিদায় করেন ঢাকার পেসার রবিউল ইসলাম রবি। জয় ২৬ ও লিটন ৪৭ রান করেন। তার ৩৯ বলের ইনিংসে ছিলো ৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার।

লিটন যখন আউট হন তখন জিততে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিলো ৬ ওভারে ৫০ রান। হাতে উইকেট ছিলো ৭টি। কিন্তু ঢাকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭ ওভার শেষে আস্কিং রান রেট বেড়ে যায় চট্টগ্রামের। ২১ রান করা মিঠুনকে হারানোর পর ৩ ওভারে ৩৩ রানের দরকার পড়ে তাদের। 

মুক্তার আলির করা ১৮তম ওভারে শামসুর রহমান ও জিয়াউর রহমান আউট হন। শামসুর ১০ রান করে মুক্তারের শিকার হন। আর ১ রান করে রান আউট হন জিয়াউর। একই ওভারের শেষ দুই বলে দু’টি চার মারেন নাহিদুল ইসলাম। যাতে ২ ওভারে ২৩ রানের সমীকরণ পায় চট্টগ্রাম।

তবে ১৯তম ওভারে মোসাদ্দেককে তুলে নিয়ে ৭ রান দেন রুবেল। এমন অবস্থায় শেষ ৬ বলে জিততে ১৬ রান দরকার পড়ে চট্টগ্রামের। ঐ ওভারের প্রথম বলে নাহিদুলকে শিকার করেন মুক্তার। তবে পরের বলে ছক্কা আদায় করেন মুস্তাফিজ। পরের দু’বলে ২ রান পায় চট্টগ্রাম। পঞ্চম বলে ফিজকে থামান মুক্তার। 
আর শেষ বলে কোনও রান না দিয়ে চট্টগ্রামের প্রথম হার নিশ্চিত করেন মুক্তার আলী। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ রান করে ম্যাচ হারে চট্টগ্রাম। ঢাকার মুক্তার ৩টি, রুবেল-রবি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ঢাকার মুশফিক নিজেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বেক্সিমকো ঢাকা: ১৪৫/৪, ২০ ওভার (মুশফিক ৭৩*, ইয়াসির ৩৪, নাহিদুল ১/১৬)।
গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম: ১৩৮/৯, ২০ ওভার (লিটন ৪৭, জয় ২৬, মুক্তার ৩/৩৯)।
ফল: বেক্সিমকো ঢাকা ৭ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: মুশফিকুর রহিম (বেক্সিমকো ঢাকা)।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি