ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫২:১৬, বুধবার

ফরাসি ওপেনে তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত সিমোনার

ফরাসি ওপেনে তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত সিমোনার

ফ্রেঞ্চ ওপেন টেনিসের তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিমোনা হ্যালেপ। দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে পোল্যান্ডের মাগডা লিনেটকে হারিয়েছেন রোমানিয়ান সিমোনা। প্রথম সেটে ৬-৪ গেমে জয় নিয়ে এগিয়ে যান সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান হ্যালেপ। তবে দ্বিতীয় সেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় সেটে ৭-৫ গেমের জয়ে সমতায় ফিরেন মাগডা লিনেট। খেলা গড়ায় তৃতীয় সেটে। আর শেষ রাউন্ডে ৬-৩ গেমে এগিয়ে থেকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেন বর্তমান র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩ নম্বরে থাকা সিমোনা হ্যালেপ। একে//
দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ওসাকা-হ্যালেপ

  ফ্রেঞ্চ ওপেন টেনিসের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান নাওমি ওসাকা ও সিমোনা হ্যালেপ। প্রথম রাউন্ডের লড়াইয়ে স্লোভাকিয়ার আনা শ্মিতলোভাকে হারিয়েছেন দুইবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নাওমি ওসাকা। প্রথম সেটে ৬-০ গেমে হেরে গিয়েও পরবর্তী রাউন্ডে ৭-৬ গেমে জয় নিয়ে সমতায় ফেরেন ওসাকা। আর তৃতীয় সেটে ৬-১ গেমে জয় নিয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেন জাপানের এই টেনিস আইকন। এদিকে, টমি আনাভিচকে হারিয়েছেন সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান সিমোনা হ্যালেপ। প্রথম সেটে ৬-২ গেমে লিড নিয়েও দ্বিতীয় সেটে হেরে যান ৬-৩ গেমে। আর শেষ রাউন্ডের লড়াইয়ে ৬-১ গেমে জয় তুলে নেন সিমোনা হ্যালেপ। একে//

০৭ মে : টিভিতে আজকের খেলা

ত্রিদেশীয় সিরিজে বিকেলে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ টেনিস প্রেমীদের জন্য রয়েছে মাদ্রিদ ওপেন। চলুন এক নজরে জেনে নিই টিভি পর্দায় রয়েছে আজ যে সব খেলা- ক্রিকেট ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সরাসরি, বিকেল ৩-৪৫ মিনিট, গাজী টিভি আইপিএল প্রথম কোয়ালিফায়ার মুম্বাই ইন্ডিয়ানস-চেন্নাই সুপার কিংস সরাসরি, রাত ৮টা, চ্যানেল নাইন, স্টার স্পোর্টস ওয়ান ও টু ফুটবল চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল, দ্বিতীয় লেগ লিভারপুল-বার্সেলোনা সরাসরি, রাত ১টা, সনি টেন টু সিরি ‘এ’ এসি মিলান-বোলোনিয়া হাইলাইটস, সন্ধ্যা ৬টা, সনি টেন টু টেনিস মাদ্রিদ ওপেন সরাসরি, বিকেল ৪টা, সনি ইএসপিএন একে//

বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পের হ্যান্ডবলে স্বর্ণপদক পেলো যারা

দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পসের হ্যান্ডবল ইভেন্টে নারী বিভাগে গণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরুষ বিভাগে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) হ্যান্ডবল ইভেন্টে নারী বিভাগের ফাইনাল খেলা ও পুরুষ বিভাগের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলা হ্যান্ডবল ফেডারেশনের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নারী বিভাগের ফাইনালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখোমুখি হয় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দলের চমৎকার নৈপূণ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ২৫-১৪ সেটের ব্যবধানে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জিতে নেয় স্বর্ণপদক। অপর ফাইনালিস্ট হিসেবে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় রানার আপ হয়ে রৌপ্যপদক জেতার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে পুরুষ বিভাগের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৩১-১২ সেটের ব্যবধানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। ইতোপূর্বে হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বর্ণপদক জিতে নেয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক পোলার আইসক্রিমের হেড অফ এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মেহরাজ হামিদ ও হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর উপস্থিত ছিলেন। গত ২৯ মার্চ, ২০১৯ হাতির ঝিলে সাইক্লিং ও ম্যারাথন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পসের উদ্বোধন হয়। তারপর থেকে প্রতিদিনই প্রতিযোগিতার ভেন্যুগুলো জমে উঠেছে এক একটা প্রতিযোগিতা। আরকে//

০১ এপ্রিল: টিভিতে আজকের খেলা

আইপিএলে রাতে মুখোমুখি হবে পাঞ্জাব-দিল্লি। আজ রয়েছে ফুটবলের মজাদার কয়েকটি ম্যাচ। এছাড়া টেনিস প্রেমিদের জন্য রয়েছে ইন্ডিয়ান ওপেন। চলুন এক নজরে জেনে নিই টিভি পর্দায় রয়েছে আজ যে সব খেলা- ক্রিকেট আইপিএল পাঞ্জাব-দিল্লি সরাসরি, রাত ৮-৩০ মিনিট, চ্যানেল নাইন স্টার স্পোর্টস ওয়ান ও টু পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম ওয়ানডে, হাইলাইটস, সকাল ৯টা টেন ক্রিকেট ফুটবল প্রিমিয়ার লিগ আর্সেনাল-নিউক্যাসল সরাসরি, রাত ১টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ওয়ান বুন্দেসলিগা বেস্ট অব দ্য মান্থ সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিট স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ওয়ান ব্যাডমিন্টন ইন্ডিয়ান ওপেন সরাসরি, বেলা ১-৩০ মিনিট স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট টু একে//

একই দিনে হার জোকোভিচ-ওসাকার

ইন্ডিয়ান ওয়েলস টেনিস প্রতিযোগিতা থেকে একই দিনে ছিটকে গেলেন এই মুহূর্তে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই সেরা খেলোয়াড় নোভাক জোকোভিচ এবং নাওমি ওসাকা। অথচ সচরাচর এমন দেখা যায় না।   জোকোভিচ এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তৃতীয় রাউন্ডে হারলেন, যাকে এর আগে আটবার হারিয়েছিলেন। ফিলিপ কোলস্রাইবার। জার্মান তারকার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৩৯। এই প্রথম তিনি জোকোভিচকে হারালেন। কোলস্রাইবার জিতলেন ৬-৪, ৬-৪। হারের পর জোকোভিচ বলেন, হার কেউই পছন্দ করে না। আমিও করি না। এমন দিন কখনও কখনও চলে আসে। খুব দ্রুত ভুলে যেতে চাই এই ম্যাচটা। আমার ফোকাস এখন মায়ামি মাস্টার্স। আর মেয়েদের সিঙ্গলসে ওসাকাকে ছিটকে দেন ৬-৩, ৬-১। ফলে সুইজারল্যান্ডের তারকা বেলিন্দা বেনচিচ। তবে হারলেও নিজের প্রচেষ্টায় খুশি ওসাকা। যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার পরে সদ্য যিনি বিশ্বের একনম্বরে আসনে বসেছেন। কয়েক দিন আগে তার কোচকেও ছেঁটে ফেলেছিলেন ওসাকা। তার নতুন কোচ এ দিন উপস্থিত ছিলেন। ওসাকা বলেন, সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তন করলে তার একটা প্রভাব তো পড়বেই। তবে নতুন দলের জন্য প্রথম প্রতিযোগিতা হিসেবে আমরা খারাপ করে দেখাইনি। সেটাই সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

যে কারণে ফেডেরারের সঙ্গে দেখা করলেন না জোকোভিচ

এটিপি এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ক্রিস কারমোডের অপসারণ নিয়ে দু’ভাগ টেনিস দুনিয়া। আরও ভাল করে বললে, পুরুষদের টেনিস। যার একদিকে আছেন রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদালের মতো মহাতারকা। অন্যদিকে, প্লেয়ার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্বের এক নম্বর নোভাক জোকোভিচ। অবস্থা এতটাই অগ্নিগর্ভ যে, এ ব্যাপারে কথা বলতে রজার ফেডেরার দেখা করতে চেয়েছিলেন নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে। কিন্তু জোকোভিচ তার সঙ্গে দেখা করেননি। যা ফেডেরার নিজেই স্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে এটিপি প্রেসিডেন্টকে ভোটাভুটিতে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। ২০১৪ থেকে তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কারমোডের আমলেই পুরুষদের টেনিসে আরও রমরমা দেখেছে বিশ্ব। ব্যবসায়িক উন্নতির সঙ্গে রেকর্ড পুরস্কার মূল্যও দেখা গেছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামে। তাই ফেডেরার, নাদালরা তার অপসারণের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু জোকোভিচের নেতৃত্বেই সরানো হয় কারমোডেকে। ভোটাভুটির আগেই ফেডেরার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন নোভাকের সঙ্গে। কিন্তু ‘সময় নেই’ বলে এড়িয়ে গেছেন সার্বিয়ান তারকা। ‘ভোটাভুটির আগে চেষ্টা করেছিলাম নোভাকের সঙ্গে দেখা করার। দুর্ভাগ্যবশত ওর সময় নেই। ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হয়নি। তবে ঠিক আছে। নিশ্চয়ই ওর এ ব্যাপারে অনেক কিছু করার রয়েছে, ’বলেছেন সুইস মহাতারকা। যিনি নিজেও প্লেয়ার্স কাউন্সিলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এখানেই থামেননি, ফে়ডেরার আরও বলেছেন, ‘আমি নোভাককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার সঙ্গে দেখা করার সময় হবে কি না। ও তখন বলল, পরের দিন দেখা করবে। কিন্তু ততক্ষণে তো সব সিদ্ধান্ত নেওয়াই হয়ে যাবে। আমি এখনও ওর সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।’ ফেডেরার এর পরে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, কেন তিনি কারমোডের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার পক্ষে। ২০ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক বলেছেন, ‘আমি জানতে চাই কেন কারমোডেকে সরানো হল। এর পরে কী করতে চাইছে ওরা। কারমোডে এমন কী করতে পারেনি, যার জন্য ওকে সরে যেতে হল।’ টেনিসের স্বার্থে এ ব্যাপারে আরও গভীরে যেতে চাওয়ার ইচ্ছা জানান ফেডেরার। তবে তার জন্য তিনি কোনও রাজনীতিতে থাকতে চান না। এ ব্যাপারে রাফায়েল নাদালও যে তার সঙ্গে এক মত তাও জানিয়ে দিয়েছেন সুইস কিংবদন্তী। ‘সব সময় এ সব নিয়ে চিন্তা করলেও হবে না, দূরে সরে গেলেও হবে না। আমি রাফার সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের দু’জনেরই মত এক। তা ছাড়া ব্যাপারটা আমার আর ওর দু’জনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমি কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর চাই। যা হয়েছে তার সব উত্তর আমার কাছে পরিষ্কার নয়। প্লেয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে আমায় কথা বলতে হবে,’ বলেন রজার। এটিপি টুরের ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তার কথা বলতে ভোলেননি ফেড এক্সপ্রেস। ‘এটা জানা তো খুব জরুরি যে টুর কোন দিকে যাচ্ছে। কীভাবে এর পরে টুর এগোবে। কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অনেক প্রশ্নেরই উত্তর নেই। যদি উত্তরগুলো পেয়ে যাই, তাহলে আমার মন শান্ত হবে। শুধু আমার জন্যই নয়, অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও তাই। অনেক খেলোয়াড়ই কারমোডেকে সমর্থন করছে।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

চলতি বছরেই বিয়ের কোর্টে নামছেন নাদাল

‘বিয়ের জন্য অনেক সময় রয়েছে হাতে, কোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার পরই বিয়ের কথা চিন্তা করব।’ জীবণের দ্বিতীয় ইনিংস সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হলে এমনটাই জানিয়েছিলেন নাদাল। সম্প্রতি জকোভিচের কাছে হেরে দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া ওপেন জয়ের অদূরেই থমকে যেতে হয়েছে তাকে। তবে এবার সময় হয়েছে ব্যক্তিগত জীবন কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই সাতপাঁকে বাধা পড়তে চলেছেন ক্লে কোর্টের রাজা রাফায়েল নাদাল। পাত্রী দীর্ঘদিনের বান্ধবী মারিয়া ফ্রান্সিসকা পেরেলো। ২০১৮ মে মাসে বান্ধবীর সঙ্গে নাদাল বাগদান পর্ব সেরে ফেলেছেন বলেই সূত্রের খবর। তবে রাফার বিয়ের প্রস্তাবে পেরেলোর সম্মতি জানানোর বিষয়টি এতদিন পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন অপেক্ষা জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার। বৃহস্পতিবার টুইটারে এই খবর নিশ্চিত করেছে এটিপি। উল্লেখ্য, চোটের কারণে দীর্ঘদিন কোর্টের বাইরে থাকার পর চলতি বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে রাফাকে পাওয়া গিয়েছিল পুরনো মেজাজেই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কোনও সেট না খুঁইয়ে ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে বিশ্বের পয়লা নম্বরের কাছে নাস্তানাবুদ হতে হয় প্রাক্তন বিশ্বের পয়লা নম্বরকে। ম্যাচ হারের পর জোকারের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক জানান, ‘নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিলেও জকোভিচকে আটকানো মুশকিল ছিল।’ রড লেভার এরিনায় দ্বিতীয়বার মুকুট জয়ের অদূরে থামতে হলেও সামনে ফরাসি ওপেন। এখন তাকেই পাখির চোখ করছেন ফরাসি ওপেনের অবিসংবাদী নায়ক। আর টেনিসের অফ সিজনে অর্থাৎ অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের শুরুর দিকে পেরেলোর সঙ্গে চার হাত এক করবেন রেকর্ড ১১টি ফরাসি ওপেনের মালিক। দীর্ঘ ১৪ বছর সম্পর্কে থাকার পর অবশেষে চলতি বছরেই পরিণতি পেতে চলেছে রাফা-পেরেলোর এই সম্পর্ক। ম্যানাকোরে রাফায়েল নাদাল অ্যাকাডেমির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন রাফার বান্ধবী মেরি পেরেলো। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭ একে//

ফাইনালে নাদাল-জোকোভিচ, এগিয়ে কে?

শুক্রবার নোভাক জোকোভিচ যে দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন, ভাবা যায় না। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন লুকাস পুইকে হারিয়ে ফাইনালে জোকোভিচই উঠছেন, কিন্তু সেটা এত অনায়াসে আসবে ভাবা যায়নি। দেড় ঘণ্টাও লাগল না জোকোভিচের জিততে। স্কোর ৬-০, ৬-২, ৬-২। রড লেভার এরিনায় অনেকে দর্শকাসনে গুছিয়ে বসতে না বসতেই ৫-০ এগিয়ে গিয়েছিলেন জোকোভিচ। একেবারে ইঞ্চি মাপা শটে ২৮ নম্বর বাছাইকে বিশেষত কোণাকুনি আক্রমণ করে গেছেন তিনি। সাতবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙেছেন কিন্তু কখনও মনে হয়নি প্রতিপক্ষ ওর সার্ভিস ভেঙে দিতে পারেন। এবার বহু প্রতীক্ষিত ফাইনাল! জোকোভিচ বনাম নাদাল। সাতবছর আগে এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই দু’জনের মহাকাব্যিক পাঁচ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের ফাইনালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এ বারও ঠিক সে রকমই দ্বৈরথের অপেক্ষায় টেনিস বিশ্ব। মঞ্চটাও তৈরি। দু’জনেই সেরা ছন্দে রয়েছেন। অনেকে অবশ্য জোকোভিচকেই এগিয়ে রাখছেন এই লড়াইয়ে। যে রকম ২০১২-র দ্বৈরথে জোকোভিচ জিতেছিলেন। আসলে এই ফাইনালে মুখোমুখি এক এবং দুই নম্বর। একজনের দখলে ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম, অন্য জনের ১৪। রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকোভিচের মধ্যে ৫৩তম সাক্ষাৎ হতে চলেছে। এই দ্বৈরথ কিন্তু টেনিস ক্লাসিকের অংশ। দু’জনেই তাদের সেমিফাইনালে দেখিয়ে দিয়েছে, কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। এখনও যে ওদের সঙ্গে টেনিস দুনিয়ার বাকি প্রতিপক্ষদের কত ব্যবধান, দু’টি সেমিফাইনালই তার প্রমাণ। একটা ব্লকবাস্টারই আশা করা যাচ্ছে আগামীকাল রোববার। টেনিস ভালবাসে এমন কেউ এই ম্যাচ থেকে দূরে থাকতে পারবে না। বিশেষ করে নাদাল যেভাবে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরেও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে, তা দেখে যে কেউ অবাক হবেন। এ ছাড়া জোকোভিচ কিন্তু নাদালের চেয়ে একদিন কম বিশ্রাম পাচ্ছেন। যার জন্য কিছুটা হলেও সুবিধা পাবেন নাদাল। দু’জনেই দুরন্ত অ্যাথলিট। চার ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা একইভাবে খেলতে পারেন। অবশ্য এবার ফাইনালটা পাঁচ-ছ’ঘণ্টা চলার সম্ভাবনা কম। কারণ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ‘সুপার টাইব্রেক’ নামে নতুন নিয়ম চালু হয়ে গেছে। যে নিয়মে পঞ্চম সেটে ৬-৬ গেমে চলে এলে ১০ পয়েন্টের টাইব্রেক হবে। টাইব্রেক জিততে হলে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দু’পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে হবে। তবে যদি ১০-১০ পয়েন্ট হয়ে যায়, তাহলে সেট জিততে ১২-১০ করতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এই নতুন নিয়মে কে বেশি সুবিধা পাবেন? নোভাক না নাদাল? কে কোন স্ট্র্যাটেজিতে খেলতে পারেন? দু’জনেই যেহেতু পরস্পরকে কোর্টে খুব ভাল করে জানেন, তাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইবেন রোববারের ফাইনালেও। নোভাককে বলা হয় ‘কাউন্টার পাঞ্চার।’ ওর রক্ষণ দুরন্ত। তার সঙ্গে বড় গুণ হল, রক্ষণাত্মক শটকেও আক্রমণে বদলে দিতে পারেন। তবে নাদালের ফোরহ্যান্ডও অনেক উন্নত হয়েছে। তাই ফাইনালে ফোরহ্যান্ড যদি ঠিকঠাক জায়গায় রাখতে পারেন তাহলে নাদালই এগিয়ে থাকবেন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

জিতেও অস্বস্তিতে পড়লেন নাদাল

ফ্রান্সেস টিয়াফোর বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ৩৯। জীবনে একবার মাত্র এটিপি খেতাব জিতেছেন। গত বছর ‘ডেল রে বিচ ওপেন’। যে প্রতিযোগিতার কথা খুব বেশি কেউ শোনেননি। অবশ্য গত মৌসুমে উইম্বলডনে তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছান। টিয়াফোর মতো প্রতিপক্ষ রাফায়েল নাদালের সামনে পড়লে যা প্রত্যাশিত সেটাই হল মঙ্গলবার রড লেভার এরিনায়। হাসতে হাসতে স্প্যানিশ মহাতারকা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেন ৬-৩, ৬-৪, ৬-২ সেটে জিতে। টিয়াফোর বয়স একুশ। নাদাল কিন্তু উনিশ বছরে জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন। তাও সেমিফাইনালে রজার ফেডেরারকে হারিয়ে। তবু যে মঙ্গলবার গোটা ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ মোট ন’টি গেম জিতলেন সেটাই আশ্চর্যের। যেখানে রাফা শুধু হার্ড কোর্টেই ম্যাচ জিতেছেন ৪২৫টি। সাধে কি এখানে এবার ফেডেরারকে হারিয়ে ওঠা স্তেফানোস চিচিপাস বলে দিয়েছেন, ‘ক্লে-র মতোই হার্ড কোর্টেও নাদালকে হারানো কার্যত অসম্ভব। সার্কিটে ওর চেয়ে কঠিন কোনও প্রতিপক্ষ আছে কি না আমি জানি না।’ ঘটনাচক্রে গ্রিসের চিচিপাসকেই সেমিফাইনালে নাদালের সঙ্গে খেলতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গলবার তিনি হারিয়েছেন স্পেনের রবের্তো বাউতিস্তা আগুতকে। যে খেলার ফল ৭-৫, ৪-৬, ৬-৪, ৭-৬। মাত্র এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে জয়ের পরে কোর্টে নাদালের সাক্ষাৎকার নিলেন কিংবদন্তি জন ম্যাকেনরো। মজা করে ‘মায়োরকার নায়ককে’ মনে করালেন যে, এবার তো ম্যাচ জিতলেই টিয়াফো নিজের টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলছিলেন। ‘তুমিও এবার সেটা করে দেখাও।’ এমন রসিকতায় অস্বস্তিতে পড়ে যান নাদাল, ‘আরে কী যে বলেন। ওর মতো সুন্দর শরীর তো আমার নয়।’  ম্যাকেনরোর মতে, রাফা এই মুহূর্তে জীবনের সেরা ফোরহ্যান্ড শট খেলছেন। সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় বললেনও সে কথা। তাতে নাদালের প্রতিক্রিয়া, ‘অফ-সিজনে ফোরহ্যান্ডে প্রথম শট আর সার্ভিস নিয়ে প্রচুর খেটেছি। যে কারণে প্রচুর পয়েন্টও এবার পাচ্ছি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন উন্নতিতে আমি দারুণ খুশি।’ নাদাল কিন্তু উন্নতির জন্য অনেকটাই কৃতিত্ব দিয়েছেন তার বর্তমান কোচ কার্লোস ময়াকে। বলেছেন, ‘আমাদের টিম-ওয়ার্ক অসাধারণ। ও থাকায় চাপ অনেক কমে যায়।’ নাদাল গ্র্যান্ড স্ল্যামে এই নিয়ে ত্রিশবার সেমিফাইনালে উঠলেন। মেলবোর্নে দ্বিতীয় বাছাই। এখানে এসেছেন একাধিক চোটে ভুগে। অথচ এবার একটিও সেট হারেননি। সেমিফাইনালে তার সামনে ফেডেরারকে হারিয়ে চমকে দেওয়া চিচিপাস। তাকে নিয়ে কী ভাবছেন ১৭টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক? ‘গত বছর থেকেই দেখছি গ্রিসের ছেলেটা অসম্ভব উন্নতি করছে। তা ছাড়া এখানে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের (ফেডেরার) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জিতেছে। আজও বাউতিস্তার বিরুদ্ধে দারুণ খেলল। এই ধারাবাহিকতা রাখলে আগামী বহু দিন ও সেরাদের একজন হয়ে থাকতে পারে। তাই আমার কাজ বেশ কঠিন।’ সূত্র: আনন্দবাজার একে//

মেলবোর্নে এক নম্বরের পতন, চমকে দিচ্ছেন সেরিনা

শেষবার যখন মেলবোর্নে এসেছিলেন সেরিনা উইলিয়ামস, তখন তিনি পাঁচ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সেই অবস্থাতেই তিনি সপ্তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতেন। কার্যত সেরিনা যখন জিতছেন, কেউ জানতই না যে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। পরে নিজেই তা ফাঁস করেন। দু’বছর পরে সেই মেলবোর্ন পার্কেই মা হয়ে ফিরে এসে ফের টেনিস জগতকে চমকে দিচ্ছেন সেরিনা। যে রকম আক্রমণাত্মক টেনিস খেলে সোমবার তিনি বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড় সিমোনা হালেপকে হারিয়ে দিলেন, তা দেখে কে বলবে এখন তার বয়স ৩৮! ৬-১, ৪-৬, ৬-৪ জয়ের মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল যেন সেই পুরনো সেরিনার ঝলক। সেই অপ্রতিরোধ্য ভঙ্গি। সেই মরিয়া মনোভাব। যিনি স্টেফি গ্রাফের রেকর্ড ভেঙে ইতিমধ্যেই জিতে ফেলেছেন ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। আর একটি জিতলেই ধরে ফেলবেন মার্গারেট কোর্টের সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অনন্য রেকর্ডকে। তবে পুরনো সেই সেরিনার একাধিপত্য দেখা যায়নি। বরং হালেপ মাঝেমধ্যেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, কেন তিন এক নম্বর। তৃতীয় সেটে তিনবার ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান সেরিনা। শেষ পর্যন্ত তার অদম্য মনোভাবেরই জয় হয়। ‘দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হল,’ জেতার পরে বলেন সেরিনা, ‘সিমোনা বিশ্বের এক নম্বর। আমাকে অনেক উন্নত টেনিস খেলতে হত জিততে গেলে। আমি খুব খুশি প্রিয় এই কোর্টে ফিরে জিততে পেরে।’ কীভাবে সম্ভব হল এই প্রত্যাবর্তন? জিজ্ঞেস করায় বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরার জবাব, ‘আমি একজন ফাইটার। কখনও লড়াই ছাড়ি না। কখনও হাল ছাড়ি না। সব সময় পরিশ্রম করে যাই। অলৌকিক ব্যাপার যে, আমি আজ এখানে এই কোর্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমি প্রত্যেকটা পয়েন্টের জন্য নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করি।’ জীবনের যে কোনও খাতে সফল হতে চাওয়া অনেকের জন্য ‘মোটিভেশনাল স্পিচ’-এর মতো শোনাচ্ছিল তখন কোর্টে দাঁড়িয়ে সেরিনার সেই কথাগুলো। মেলবোর্ন পার্কে সোমবারের পরে বলাবলি শুরু হয়ে গেছে, টেনিসের সবার সেরা রেকর্ড মার্গারেট কোর্টের কীর্তি এ বারেই তিনি ধরে ফেলবেন কি না। হালেপকে হারানোর পরে তার সামনে কী রকম চ্যালেঞ্জ রয়েছে, দেখে নেওয়া যাক। বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হবেন ক্যারোলিনা প্লিসকোভার। তার পরে দেখা হতে পারে নেয়োমি ওসাকা অথবা এলিনা সোয়াইতোলিনার সঙ্গে। যেভাবে হালেপের সঙ্গে তিনি ঝোড়ো গতিতে শুরু করেন এবং পরে নাছোড় ভঙ্গিতে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যান, তা দেখে সেরিনা-ভক্তরা আশাবাদী হয়ে উঠতেই পারেন। হালেপের বিরুদ্ধে প্রথম সেট তিনি জেতেন ঝড়ের গতিতে মাত্র ২০ মিনিটে। যেন র‌্যাপিড ফায়ার রাউন্ড চলল। তার পরে হালেপ দুর্দান্ত ভাবে ম্যাচে ফেরেন। কিন্তু মেলবোর্নের গরমেও শেষ পর্যন্ত কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা দেখান সেরিনা। রড লেভার এরিনায় পনেরো হাজার দর্শকের সামনে অদ্ভুত এক ম্যাচ হয়ে গেল। যেখানে বিশ্বের এক নম্বর খেলছেন আন্ডারডগ হিসেবে। যেখানে বিশ্ব সেরার চেয়েও তার উল্টো দিকে থাকা প্রতিপক্ষের জয় দেখতে বসে আছেন বেশি সমর্থক। এমন এক প্রতিপক্ষ, যিনি ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই জিতেছেন সাতবার। দু’বছর আগে এখানেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জিতেছিলেন শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এবার হয়তো প্রিয় কোর্টই হয়ে থাকছে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ!   সূত্র: আনন্দবাজার একে//

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: দুই বছর পর কোয়ার্টারে জোকোভিচ

রজার ফেডেরারের বিদায়ের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই আরও এক ইন্দ্রপতন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল সোমবার মেলবোর্ন পার্কে। ফেডেরার যেমন রোববার প্রথম সেটে জেতার পরে দ্বিতীয় সেটে হেরে গিয়েছিলেন, ঠিক একই চিত্রনাট্য দেখে এবার প্রমাদ গুনেছিলেন নোভাক জোকোভিচের ভক্তরা। সুইস মহাতারকার ঘাতক ছিলেন গ্রিসের ২০ বছর বয়সি স্তেফানোস চিচিপাস। এবার সেই ভূমিকায় দেখা যেতে পারত রাশিয়ার ২২ বছর বয়সি দানিল মিদভিদিভকে। শেষ পর্যন্ত ভক্তদের স্বস্তি দিয়ে দু’বছর পরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেন সার্বিয়ান তারকা। তিন ঘণ্টা ১৫ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে রুশ প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৬-৪, ৬-৭ (৫), ৬-২, ৬-৩ হারিয়েছেন জাকোভিচ। গত মৌসুমে উইম্বলডন এবং যুক্তরাষ্ট্র ওপেন জেতার পরে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফির হ্যাটট্রিকের থেকে আর তিন ধাপ দূরে বিশ্বের এক নম্বর জোকোভিচ। গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ফেডেরারের বিদায়ের পরে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে রকম ছন্দে খেলছেন জোকোভিচ, ১৫ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবারই হাতে তুলবেন মেলবোর্ন পার্কে। কোর্টে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মজা করে বিশ্বের এক নম্বর বলেও দেন, ‘আমার পরবর্তী ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন নজর রাখছে ধরে নিয়ে বলছি, জিতে দারুণ লাগছে। এত তরতাজা জীবনে কখনও নিজেকে মনে হয়নি।’ খেলোয়াড় জীবনের মোট ১৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে মেলবোর্ন পার্ক থেকে ছ’টি খেতাব জিতেছেন জোকোভিচ। রেকর্ড সাত নম্বর ট্রফি জেতার দৌড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তার সামনে এবার অষ্টম বাছাই কেই নিশিকোরি। জাপানি তারকার চ্যালেঞ্জ সামলাতে পারলে তাকে সেমিফাইনালে ২০১৬-র উইম্বলডন রানার্স মিওস রাওনিচ বা ২৮ নম্বর বাছাই লুকাস পওলির সামনে পড়তে হতে পারে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ফাইনালে হতে পারে বিশ্বের এক বনাম দুই অর্থাৎ নোভাক-রাফা দ্বৈরথ। জোকোভিচকে অবশ্য শেষ তিনটি হার্ডলের আগে আরও একটা চ্যালেঞ্জ সামলাতে হচ্ছে। সেটা ক্লান্তি। ‘ম্যাচের শেষ ২০ মিনিট শারীরিক দিক থেকে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলাম না। দেখা যাক পরের দিন শরীর কী রকম থাকে। ক্লান্তিটা ঠিক কাটিয়ে উঠতে পারব এই আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’ সোমবার ম্যাচের পরে বলেছেন জোকোভিচ। ক্লান্তির কারণও রয়েছে। মেলবোর্নের গরমের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীর লম্বা র‌্যালির সঙ্গেও পাল্লা দিতে হয়েছে তাকে। জোকোভিচ বলেছেন, ‘বেশির ভাগ সময়েই একে অন্যকে তাড়া করে গিয়েছি আমরা। এক এক সময় তো ৪০-৪৫টা র‌্যালিও হয়েছে। সেই কারণেই হয়তো এই ক্লান্তি ভাবটা এসেছে।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘তবে ক্লান্তিটা সামান্যই। খুব একটা চিন্তার কিছু দেখছি না।’ ক্লান্তির সমস্যা ভোগাতে পারে জোকোভিচের শেষ আটের প্রতিদ্বন্দ্বী নিশিকোরিকেও। যাকে কোয়ার্টারে উঠতে লড়তে হল পাঁচ ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। তিনি হারান ২৩ নম্বর বাছাই পাওলো কারেনো বুস্তাকে ৬-৭ (৮), ৪-৬, ৭-৬ (৪), ৬-৪, ৭-৬ (৮)। এই নিয়ে তিনটি পাঁচ সেটের ম্যাচ খেললেন তিনি এবার। সোমবার দু’সেট হারার পরে তৃতীয় সেটে টাইব্রেকারে ৫-৮ পিছিয়ে ছিলেন নিশিকোরি। এই সময়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পাওলোর একটি শট নেটে লেগে কোর্টে পড়ার পরে লাইন জাজ আউট কল করেন। ফিরতি শটে নিশিকোরি ব্যাকহ্যান্ড উইনার মারেন। ক্ষুব্ধ পাওলো রিপ্লের দাবি করলে দেখা যায় তার শট আউট ছিল না। কিন্তু চেয়ার আম্পায়ার থমাস সুইনি পয়েন্ট দেন নিশিকোরিকে। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ হন স্প্যানিশ খেলোয়াড়। মেজাজের সঙ্গে ছন্দও হারান। ম্যাচ জয় থেকে মাত্র দু’পয়েন্ট দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার পরে ম্যাচটাই হেরে বসেন। নিশিকোরির সঙ্গে হাত মেলানোর পরে কোর্টে নিজের কিট ব্যাগও ছুড়ে ফেলেন রাগে। শুধু তিনিই মেজাজ হারাননি সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। কানাডার রাওনিচের বিরুদ্ধে স্ট্রেট সেটে হারার পরে চতুর্থ বাছাই আলেকজান্ডার জেরেভ কোর্টে র‌্যাকেট আছড়ে ভাঙেন। উত্তাপ কিন্তু ক্রমশ বাড়ছে মেলবোর্নে! সূত্র: আনন্দবাজার একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি