ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ১৯:০৮:৫৭, বৃহস্পতিবার

যুক্তরাজ্যের টোরি পার্টির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হয় যে পদ্ধতিতে

যুক্তরাজ্যের টোরি পার্টির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হয় যে পদ্ধতিতে

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পদত্যাগের ঘোষণা পর দলের শীর্ষ নেতা বাছাইয়ে প্রথমবারের মত গত বৃহস্পতিবার ভোট হয়েছে। এতে সর্বাধিক ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। আসুন জেনে নেওয়া যাক তাদের নির্বাচন পদ্ধতি: নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ১৭ ভোট পেতে হবে। এর কম হলে তিনি প্রতিযোগীতা করতে পারবেন না। যারা এর কম পাবেন, তারা বাদ পড়বেন। প্রার্থীদের সবাই ন্যূনতম ভোটের বাঁধা টপকাতে পারলে তাদের মধ্য থেকে বাদ পড়বেন সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশিষ্ট প্রার্থীদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে ফের ভোট হবে; এভাবে কয়েক দিনের সিরিজ ভোটের মাধ্যমে টোরি এমপিরা চূড়ান্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচিত করবে। এই দুজন থেকেই শীর্ষ নেতা বেছে নিতে হবে পার্টির সদস্যদের। এক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সকল নিবন্ধিত সদস্যরা। ভোট শেষে আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে এর ফল ঘোষণা হবে। যিনি দলের নেতা নির্বাচিত হবেন হাউজ অব কমন্সের নিয়ম অনুযায়ী তিনি হবেন থেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত তথা ব্রিটেনের প্রধামন্ত্রী।  নির্বাচনী এগিয়ে থাকা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আগামী অক্টোবরে মধ্যে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে আনবো। তবে, কিভাবে তা করবেন তার ব্যাপারে স্পষ্টত কিছু বলেননি তিনি।  তবে বলেছেন চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট নয়। উল্লেখ্য, ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৭ জুন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সরে যান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে, নতুন নেতৃত্ব না আসা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন তিনি। এমএইচ/  
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হতে প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে বরিস জনসন

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পদত্যাগের ঘোষণার পর দলের শীর্ষ নেতা বাছাইয়ে প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সর্বাধিক ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। বৃহস্পতিবার হাউজ অব কমন্সে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১১৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। ৪৩ ভোট পেয়ে জেরেমি হান্ট দ্বিতীয় আর ৩৭ ভোট পেয়ে মাইকেল গোভ হয়েছেন তৃতীয়। পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে টিকতে প্রয়োজনীয় ন্যুনতম ১৭ আইন প্রণেতার ভোট না পাওয়ায় বাদ পড়েছেন তিন প্রার্থী মার্ক হারপার, আন্দ্রে লেদসাম এবং এস্তার ম্যাকভে।  আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নেবেন টিকে থাকা সাত প্রার্থী। ওই দফায় নির্বাচনে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে নেতা হিসেবে বেছে নেবেন রক্ষণশীল দলের সদস্যরা। আশা করা হচ্ছে আগামী ২২ জুলাই তাকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর উত্তরসূরি ঘোষণা করবে ক্ষমতাসীন দলটি। উল্লেখ্য, ব্রেক্সিট ইস্যুতে তিন দফায় হাউজ অব কমন্সের সদস্যদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৭ জুন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সরে যান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে, নতুন নেতৃত্ব না আসা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটে জয়ী বরিস জনসন বলেন, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টও বলেছেন, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পেরে আনন্দিত তিনি। হান্ট বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রয়োজন। প্রথম দফার ভোটে টিকে থাকা সাত প্রার্থীর মধ্য থেকে আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ জুন ক্রমানুক্রমিক ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবেন সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই প্রার্থী। চূড়ান্ত ওই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে নেতা হিসেবে বেছে নিতে ২২ জুন থেকে ভোট দেওয়া শুরু করবেন রক্ষণশীল দলের এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য। এর চার সপ্তাহ পর বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আই//  

ক্যামেরুনে বোকো হারামের হামলায় নিহত ২৪

ক্যামেরুনের উত্তরাঞ্চলের একটি দ্বীপে জঙ্গি জোষ্ঠী বোকো হারামের হামলায় ১৬ সৈন্যসহ ২৪ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার দ্বীপটির চর হ্রদ এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জঙ্গিরা রাজধানী ইয়াওনডে থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার উত্তরের ওই দ্বীপটির আটটি সেনা শিবিরে হামলা চালায়। গত কয়েক বছরের মধ্যে ক্যামেরুনে বোকো হারামের এটি সবচেয়ে বড় হামলা বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সামরিক সূত্রগুলো।   এ সময় কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এক বন্দুকযুদ্ধে বোকো হারামের ৬৪ জঙ্গিও নিহত হয়েছেন বলে ক্যামেরুনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে কট্টোর ইসলামি শরিয়া আইনভিত্তিক একটি খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি প্রায় সময় সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী ক্যামেরুন, নাইজার ও চাদে হামলা চালিয়ে থাকে। সূত্র: রয়টার্স আই//

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা উদ্ধিগ্ন,ক্ষুব্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গত বৃহস্পতিবার আশিকুল আলম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রেই এমন সন্ত্রাসী হামলা চেষ্টার অভিযোগে নাফিস ও আকায়েদ নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর একে নিয়ে উদ্ধিগ্ন ও ক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এসব ঘটণায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়ও। এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরী হয়েছে বিভিন্ন মহলে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সে দেশের বাংলাদেশী নাগরিকরা আরো সচেতনতা বাড়ালে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক, তারেক শামসুর রেহমান বলেন,‘এসব ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বে একটি খারাপ ধারণা তৈরী হচ্ছে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী গোষ্ঠী বাংলাদেশের উপর নজরদারী বাড়িয়েছে। এসব ঘটনার কারণে তাদের আরো এসব বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ’ কেন এমন ঘটনা বাড়ছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ যারা এসবের সঙ্গে জড়াচ্ছে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে এসব করছে। এর জন্য আরো সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে যারা সিনিয়র সিটিজেন আছে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানেরা কোথায় যায়,কার সঙ্গে মিশে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’  অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিশিষ্ট কূটনৈতিক ব্যাক্তিত্ব হুমায়ূন কবির বলেন, ‘এসব ঘটনা কোন ভাবেই ইতিবাচক নয়। এর মাধ্যমে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে  এর জন্য যেটা বেশি দরকার সেটা হলো সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের ফাঁদে যেন কেউ  পা না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখাটা বেশি জরুরী। এর কারণে কেমন প্রভাব পড়বে বাংলাদেশি কমিনিউটির উপর-এ বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমি মনে করছি,এটা ব্যাক্তিগত একটা বিষয়,এজন্য এ ঘটনার জন্যই ওই যুবকই দায়ী। আমাদের বাংলাদেশী বংশোদ্রুত অনেকে ভালো অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। পুলিশ বিভাগেও রয়েছে অনেকে। তাই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়তো কিছুটা হবে। কিন্তু  বেশি যে বিষয়টি দরকার সেটি হলো সচেতনতা বাড়ানো।    বিভিন্ন তথ্য থেকে দেখা যায়, কিছু পশ্চিমা দেশে অবস্থানকালেই বাংলাদেশি অধিকাংশ যুবক জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে । বাংলাদেশে থাকাকালে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। অর্থাৎ জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং উগ্রতার বিস্তার রোধে উন্নত রাষ্ট্রগুলোরও ব্যর্থতা রয়েছে। জানা যায়,বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া  আশিকুলক আলমকে পরদিন শুক্রবার  যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে তাকে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে হামলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনার পাশাপাশি জামিন আবেদনও নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন দেশটির আদালত। আগামি ২১ জুন নতুন শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুবক নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে থাকেন। বেশ কিছুদিন নজদারিতে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আশিকুলের যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড রয়েছে। আটক আশিকুল তার বাবা-মা’র একমাত্র সন্তান। তার আটকের পর প্রশাসন তাদের বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে। আশিকুলকে আদালতে হাজিরের সময় তার বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন। তবে, অনেক চেষ্টার পরও গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেননি তারা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আশিকুল আলাপচারিতায় টাইমস স্কয়ারে গ্রেনেড নিক্ষেপের ইচ্ছা প্রকাশের পর বেশ কিছু দিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন। ছদ্মবেশে একজন গোয়েন্দা তার পিছু নিয়েছিল। ওই গোয়েন্দার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন আশিকুল। সিরিয়াল নম্বর নষ্ট করা আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে চান তিনি। সেই মোতাবেক আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল তাকে। এরপর এফবিআই এজেন্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় বাংলাদেশি সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকি বলেন, গ্রেফতার আশিকুল বেশ কয়েক মাস ধরেই হামলার পরিকল্পনা করে আসছিল। এ লক্ষ্যে সে বছরের শুরুতে দুটি অস্ত্র কিনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে আশিকুল থাকতেন। কিন্তু লিফ্ট কিংবা করিডোরে কারো সঙ্গে দেখা কথা বলতেন না তিনি। আশিকুল পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরিও করতেন। তার বাবা ভ্যান্ডল ম্যানেজমন্টের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশিদের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার পাশাপাশি ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।  আশিকুলকে গ্রেফতার করতে এফবিআই বাড়িটি ঘিরে ফেললে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।  এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে নিজের গায়ে থাকা বোমা ফাটাতে গিয়ে নিজের হাত ও তলপেট পুড়ে ফেলে বাংলাদেশি বংশদ্ভুত আকায়েদ (২৭)।  আকায়েদের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ আনে সেদেশের প্রশাসন। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত তাকে দোষি সাব্যস্ত করেন। এ ছাড়া সাত বছর আগে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করে এফবিআই। কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস (২১) নামের ওই বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালে সে মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত নাফিসকে  ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে সে দোষ স্বীকার করে দেশটির বিচার বিভাগের কাছে এক চিঠি দিয়েছিল। তদন্তকারীরা বলেন, নাফিস বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে। এরপর একটি গাড়িতে প্রায় এক হাজার পাউন্ড নকল বিস্ফোরক ভরে ব্যাংকের সদর দরজার সামনে গিয়ে বোমাটি ফাটানোর চেষ্টা করে। নাফিস ভেবেছিল, সত্যিকারের বোমা ফাটাচ্ছে সে। একটি মোবাইলের মাধ্যমে বোমাটি বিস্ফোরণের চেষ্টা করে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল হক সুজন, আতাউল হক সবুজ, সাইফুল্লাহ ওজাকিসহ আরও কিছুসংখ্যক বাংলাদেশির নাম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি তৎপরতার ব্যাপারে তথ্য রাখেন দেশের এমন একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত অর্ধযুগে বিদেশে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের উগ্রপন্থায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে দেশে থাকাকালীন জঙ্গি তৎপরতার কোনো রেকর্ড ছিল না। তারা বিদেশে গিয়েই `সেলফ মোটিভেটেড` বা কারও মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গি সংগঠনে জড়িয়েছে।  আই/এনএম/    

যে দেশের এমপিদের বাড়তি কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না

অনেকে দেশেই অর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য রাজনীতি করে এমপি হন। সবার ধারণা এমপি হলে পাওয়া যায় গাড়ি-বাড়ি এবং বাড়তি নিরাপত্তা। কিন্তু এমন একটি দেশ রয়েছে যেখানে এমপিদের বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় না। দেশটির নাম সুইডেন।     সুইডেনে রাজনীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তারা এ কাজটিকে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে একটি চাকরির মতো দেখে। এই দেশে নানারকম বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাওয়া তো দূরের কথা, বরং জনগণের করের টাকা খরচের ব্যাপারে সুইডেনে অত্যন্ত কড়াকড়ি রয়েছে। দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সংসদ সদস্য প্রি-অর্নে হাকানসন বলেন, ‘আমরা হচ্ছি দেশের সাধারণ নাগরিক। তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা পাবার বিষয়টি কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ আমাদের কাজ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, তারা যে অবস্থায় বা যেভাবে বসবাস করছেন, সেটাকেই তুলে ধরা।’  হাকানসন বলেন, ‘আমরা শুধু এটা বলতে পারি, আমাদের সুবিধা এটাই যে, আমরা এই কাজটি করতে পারছি আর দেশ পরিচালনায় প্রভাব রাখতে পারছি।’ সুইডেনের সংসদ সদস্যরা পাবলিক পরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু অনেক দেশের মতো তারা নিজের জন্য কোন গাড়ি বা চালক পান না। এমনকি সুইডেনের পার্লামেন্টের মাত্র তিনটি ভলভো এস-এইটটি আছে, যা শুধুমাত্র সরকারি অনুষ্ঠানের কাজে পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট এবং তিনজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। দেশটির পার্লামেন্টের একজন কর্মকর্তা রেনে পোডকে বলেন, ‘আমাদের কোন ট্যাক্সি সার্ভিস নেই। সংসদ সদস্যদের বাড়িতে বা কাজের স্থানে আনা নেওয়া করার জন্য এসব গাড়ি নয়।’ আসলে দেশটিতে শুধুমাত্র যে একজন রাজনীতিবিদকে সরকারিভাবে গাড়ি দেওয়া হয়েছে, তিনি হচ্ছেন সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী। সুইডেনের সংসদ সদস্যরা মাসে আয় করেন গড়ে ৬৯০০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের একজন কংগ্রেসম্যানের মাসিক বেতনের অর্ধেক। সুইডেনের কর্মীদের গড় মাসিক আয় প্রায় ২৮০০ ডলারের মতো। যেসব সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকা স্টকহোমের বাইরে, তারা ‘ট্রাটামেন্ট’ নামের একটি বিশেষ ভাতা দাবি করতে পারেন। সেটি হচ্ছে যে কদিন তারা রাজধানীতে থাকবেন, ততদিনের জন্য একটি দৈনিক ভাতা। কিন্তু সেটা কতো? প্রতিদিনকার জন্য প্রায় ১২ ডলার, যা দিয়ে স্টকহোমে একবেলার জন্যও খুব বিলাসী কোন খাবার কেনা যাবে না। কফি কেনার জন্যও তাদের নিজেদের খরচ দিতে হয়। তবে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সুইডেনের সংসদ সদস্যরা কোন মজুরিও পেতেন না। তার বদলে দলের কর্মীরা এই সংসদ সদস্যদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন। পার্লামেন্টের নথিপত্রে দেখা যায়, বেতন দেওয়ার বিষয়টি এজন্য চালু করা হয়েছে যাতে কোন নাগরিকের জন্য রাজনীতি করা কঠিন হয়ে না পড়ে। কিন্তু সুইডিশরা এটাও চান না যেন এই বেতন আবার তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো সুইডেনের সংসদ সদস্যরা ভর্তুকি মূল্যের আবাসন পেতে পারেন। তবে শুধুমাত্র তারাই পাবেন, যারা স্টকহোমে থাকেন না। আর তাদের সেই থাকার জায়গাটি আহামরি কোন বিলাসবহুল স্থান নয়। প্রি-অর্নে হাকানসন বলছেন, তিনি থাকেন মাত্র ৪৬ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্টে। সরকারি পরিচালনার অনেক স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের আকার মাত্র ১৬ বর্গমিটার। আর এসব ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন বা ডিসওয়াশারের মতো আসবাবপত্রও থাকে না। আসবাব বলতে সেখানে শুধুমাত্র একজনের থাকার মতো একটি সিঙ্গেল বেড রয়েছে। কারণ জনগণের অর্থ শুধুমাত্র একজন সংসদ সদস্যের খরচের জন্য, এসব অ্যাপার্টমেন্ট একরাত থাকতে হলে তার সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের অর্থ দিতে হবে। যদি কোন সংসদ সদস্য যদি তার সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চান, তাহলে ভাড়ার অর্ধেক তাকে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। পার্লামেন্টের কর্মকর্তা আনা অ্যাস্পেগ্রেন, ‘শুধুমাত্র সংসদ সদস্য ছাড়া আর কাউকে এসব অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ আমরা দেবো না।’ সংসদ সদস্যরা চাইলে অন্য কোথাও থাকতে পারেন এবং সেটি ভাড়া নেওয়ার জন্য পার্লামেন্টের একটি আবাসন তহবিল থেকে কিছুটা অনুদান নিতে পারেন। কিন্তু তার সীমা রয়েছে, প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৮২০ ডলার, যা স্টকহোমের কেন্দ্রস্থলের ভাড়ার হারের তুলনায় অত্যন্ত কম। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আবাসনের চিত্রটি ছিল আরো করুণ। তখন সংসদ সদস্যদের জন্য ভর্তুকি মূল্যের কোন আবাসন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের তখন নিজেদের অফিসে ঘুমাতে হতো, যা ছিল মাত্র ১৫ বর্গমিটারের। ব্যক্তিগত সহকারী বা উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে সুইডিশ সংসদ সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। বরং যে রাজনৈতিক দল থেকে এমপিরা আসেন, সেই দল একটি বিশেষ ভাতা পায়, যা দিয়ে তারা একটি কর্মী বাহিনী নিয়োগ করতে পারে, যারা সব দলের এমপিদের জন্যই কাজ করবে। সুইডেনের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এই খরচের কড়াকড়ির ব্যাপারটি আরো কঠিন। অনেক দলের কাছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল পেশার পাশাপাশি বলে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কোন বেতন পান না শুধুমাত্র যারা নির্বাহী কমিটিতে কাজ করেন, তারা পার্টটাইম বা ফুল-টাইম হিসাবে ভাতা নিতে পারেন। ক্রিশ্চিয়ানা এলফোর্স-জোডিন এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, ‘এটা একটি স্বেচ্ছামূলক কাজ, যা আমরা আমাদের অতিরিক্ত সময়ে ভালো মতোই করতে পারি।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

৪২ বছর সাজাপ্রাপ্ত কে এই সোমা?

জঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এক ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ৪২ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বাংলাদেশি বংশদ্ভুত শিক্ষার্থী মোমেনা সোমার। বুধবার দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক লেসলি টেইলর এই আদেশ দেন। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের কারাবিধি অনুযায়ী, সোমাকে কমপক্ষে ৩১ বছর ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে। এরপরেই তিনি প্যারোলের আবেদন করতে পারবেন। গত বছর মেলবোর্নে যাওয়ার ৮ দিন পরই ৯ ফেব্রুয়ারি বাসা মালিক মালয়েশিয়ান ইমিগ্রান্ট রজার সিংগারাভ্যালুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করেন সোমা। যদিও রজার বর্তমানে সুস্থ আছেন। পরে তাকে গ্রেফতার করে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ। গ্রেফতারের পর অস্ট্রেলিয়ান প্রশাসন তার জঙ্গিবাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। পরে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি অবহিত করা হলে, তার জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার সত্যতা মেলে। শুধু সোমা নয়, তার পরামর্শে ছোটবোন আসমাউল সুমনাও তার সঙ্গে জঙ্গিবাদে জড়ান। গত বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি সোমা স্কলারশিপ নিয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যান। সেখানে অস্ট্রেলিয়ান এক পরিবারের নিকট আশ্রয় নেন সোমা। পরে ধীরে ধীরে হামলার পরিকল্পনার ছক আঁকতে থাকেন। দুএকদিন পরই পরিবারটির লোকজন তার  আচরণে পরিবর্তন দেখতে পেয়ে ‘ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগামের’ আয়োজকদের তার বাসা থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা জানান। পরে রজার সিংগারাভ্যালুর বাসায় ওঠেন সোমা। এবং ৯ দিনের মাথায় তার ওপর হামলা চালান। মোমেনার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। ২০০৯ সালে ঢাকার লরেটো স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল, ২০১১ সালে মাস্টারমাইন্ড স্কুল থেকে  ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করে। এরপর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে। তার বাবা জনতা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট। দুই বোনের মধ্যে মোমেনা বড়। মোমেনার চাচা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থক শিক্ষকদের নীল দলের আহ্বায়ক ছিলেন। তারা ঢাকার কাজীপাড়ায় থাকতেন। গ্রাজুয়েশন চলাকালে তার মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়। প্রথম দিকে হিজাব না পড়লেও ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে কট্টরভাবে ইসলামিক নিয়ম মেনে চলতে দেখা যায় তাকে। এমনকি বাসাতে টিভি চালানোও বন্ধ করে দেয় সে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা সে সময় জানান, ২০১৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরাক-সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেটের কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশি অনেক তরুণ জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়েছিল। সে সময় ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অনেক শিক্ষার্থীও জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। ২০১৬ সালে সম্মান শ্রেণি সম্পন্ন করার আগে মোমেনা সোমার সঙ্গে অনেকের যোগাযোগ ছিল। এদের মধ্যে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় অংশ নিয়ে নিহত নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ অন্যতম। তবে, তাদের সঙ্গে সরাসরি সোমার কখনো দেখা হয়নি বলে জানায় তোর বোন। ২০১৮ সালে মোমেনা যখন গ্রেফতার হন, সে সময় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাদের বাসায় হাজির হলে বোনের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী প্রশাসনের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় সুমনা। পরে তাকে রিমান্ডে নিলে জঙ্গিবাদের জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা দেন তিনি। বিচার চলাকালীন সোমা বাংলাদেশের হাইকমিশন কর্তৃক কোন ধরনের সহযোগিতা চান বলে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে জানানো হয়। আদালতের কাছে জঙ্গিবাদের সম্পকৃক্ততার বিষয়টি স্বীকারও করেন মোমেনা। ফলে, দীর্ঘ শুনানি শেষে ৪২ বছরের সাজা দেন আদালত।  এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরে কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. হায়দার আলী খান বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী সোমার সাজা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু নেই। মোমেনা সাজায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে কোন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে বেসরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, “হ্যাঁ এটা সত্য যে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোন নারী সন্ত্রাসের দায়ে ৪২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলো এবং তিনি একজন বাংলাদেশি ছাত্রী। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের এক ছাত্রীর সন্ত্রাসী আক্রমণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।” হুমায়ূন কবির আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারও সোমার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করে। কারণ সোমার আক্রমণের পর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেনি। সেখানে শত শত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে।” তিনি বলেন, দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চমৎকার। সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশর সহযোগিতা রয়েছে। সন্ত্রাস দমনের জন্য দুদেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে থাকে বলে জানান তিনি। আই//  

ট্রাম্পকে ১১ বছরের বালকের সঙ্গে তুলনা করলেন সাদিক খান

ট্রাম্পের বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্যের কথা সবারই জানা। কিন্তু এভাবে অতিথি হিসেবে এসে ট্রাম্প যে ভাঁড়ামি করবে সেটা চিন্তা করাই কঠিন। যা একমাত্র ট্রাম্পের দ্বারাই সম্ভব। একের পর এক বেফাঁস মন্তব্যে বিতর্কিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য সফরে আসতে না আসতেই সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফর করছেন ট্রাম্প। আসার পর থেকেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেফাঁস কথাবার্তা বলে  ইতিমধ্যে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। লন্ডনে পৌঁছানোর আগেই মেয়র সাদিক খানের সাথে নতুন করে শুরু হয়েছে তার বাকযুদ্ধ। অবশ্য এই বাকযুদ্ধ পুরোটা অনলাইনে, কারণ ট্রাম্পের এই সফরের সময় তার সাথে সাদিক খানের কোথাও সামনাসামনি দেখা হবে না। কয়েকদিন আগেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘নারী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল ধারণার’ তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্টদের’ সাথে তুলনা করেন। তাছাড়া ট্রাম্পের লন্ডনে অবতরণের দিনেই ব্রিটিশ পত্রিকায় সাদিক খানের একটি নিবন্ধ বের হয় সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন। এর জবাবে ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, সাদিক খান একজন ‘স্টোন-কোল্ড লুজার’ অর্থাৎ এমন একজন লোক যিনি সব সময়ই পরাজিত হন। তিনি বলেন, খানের উচিত লন্ডনে অপরাধ কমানোর দিকে নজর দেওয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে সাদিক খানের পদবী ‘খান’ শব্দটি লেখেন ভুল বানানে। তাতে তিনি বলেন, খান আমাকে আমাদের নিউইয়র্ক শহরের ‘নির্বোধ এবং অযোগ্য’ মেয়র দা ব্লাসিও-র কথা মনে করিয়ে দেয় - যে তার কাজে মোটেও ভালো করছে না এবং তার উচ্চতা ব্লাসিওর অর্ধেক। রাজপরিবারের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফরে এলেও সেই পরিবারের বধূকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি ট্রাম্প। সফরের আগে ব্রিটিশ রাজবধূ মেগান মার্কেলকে ‘নোংর’ বলে মন্তব্য করেন। গত রোববার সেই মন্তব্যের কথা অস্বীকার করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম তার ওই মন্তব্যের রেকর্ড ছেড়ে দেয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হওয়া উচিত, তা নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বরিস জনসনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ, লেবার নেতা জেরেমি করবিন এবং চীনের কোম্পানি হুয়াওয়েকে যুক্তরাজ্যে কাজ দেওয়া নিয়ে বেফাঁস কথাবার্তা বলেন ট্রাম্প। বিতর্কের ইতি সেখানেই নয়, এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১১ বছরের বালকের সঙ্গে তুলনা করলেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান৷ সাদিক খানের সংযোজন , ‘ব্যক্তির পরিচয় তাঁর আচরণে৷ তাঁর জবাব দেওয়ার কোনও শিষ্টাচারই নেই৷’ এই ধরনের টুইটের প্রত্যুত্তর দেওয়া তার রুচিতে বাঁধে৷ একজন ১১ বছরের ছেলে যে আচরণ করে প্রেসিডেন্টের আচরণ সে রকমই বলে মনে করেন লন্ডনের মেয়র৷ এরআগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিটিশ রানির আমন্ত্রণে বিদেশি সরকারপ্রধানের যুক্তরাজ্যে এমন সফর বিরল সম্মানের ব্যাপার। ১৯৫২ সালের পর যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বর্তমান রানীর মেয়াদে এটি ১১৩তম রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ।

যুক্তরাজ্য সফরে বেফাঁস মন্তব্যে বিতর্কিত ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার যুক্তরাজ্যে গেছেন। ট্রাম্পের বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্যের কথা সবারই জানা। কিন্তু এভাবে অতিথি হিসেবে এসে ট্রাম্প যে ভাঁড়ামি করবে সেটা চিন্তা করাই কঠিন। যা একমাত্র ট্রাম্পের দ্বারাই সম্ভব। সফরে আসতে না আসতেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেফাঁস কথাবার্তা বলে ইতিমধ্যে খবরের শিরোনাম হয়েছেন ট্রাম্প। লন্ডনে পৌঁছানোর আগেই মেয়র সাদিক খানের সাথে নতুন করে শুরু হয়েছে তার বাকযুদ্ধ। অবশ্য এই বাকযুদ্ধ পুরোটা অনলাইনে, কারণ ট্রাম্পের এই সফরের সময় তার সাথে সাদিক খানের কোথাও সামনাসামনি দেখা হবে না। কয়েকদিন আগেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘নারী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল ধারণার’ তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্টদের’ সাথে তুলনা করেন। তাছাড়া ট্রাম্পের লন্ডনে অবতরণের দিনেই ব্রিটিশ পত্রিকায় সাদিক খানের একটি নিবন্ধ বের হয় সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন। এর জবাবে ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, সাদিক খান একজন ‘স্টোন-কোল্ড লুজার’ অর্থাৎ এমন একজন লোক যিনি সব সময়ই পরাজিত হন। তিনি বলেন, খানের উচিত লন্ডনে অপরাধ কমানোর দিকে নজর দেওয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে সাদিক খানের পদবী ‘খান’ শব্দটি লেখেন ভুল বানানে। তাতে তিনি বলেন, খান আমাকে আমাদের নিউইয়র্ক শহরের ‘নির্বোধ এবং অযোগ্য’ মেয়র দা ব্লাসিও-র কথা মনে করিয়ে দেয় - যে তার কাজে মোটেও ভালো করছে না এবং তার উচ্চতা ব্লাসিওর অর্ধেক। রাজপরিবারের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফরে এলেও সেই পরিবারের বধূকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি ট্রাম্প। সফরের আগে ব্রিটিশ রাজবধূ মেগান মার্কেলকে ‘নোংর’ বলে মন্তব্য করেন। গত রোববার সেই মন্তব্যের কথা অস্বীকার করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম তার ওই মন্তব্যের রেকর্ড ছেড়ে দেয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হওয়া উচিত, তা নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বরিস জনসনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ, লেবার নেতা জেরেমি করবিন এবং চীনের কোম্পানি হুয়াওয়েকে যুক্তরাজ্যে কাজ দেওয়া নিয়ে বেফাঁস কথাবার্তা বলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তুমুল বিরোধ আছে। সাদিক খান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তাকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। লেবার নেতা জেরেমি করবিন এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ভিন্স ক্যাবল ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রানির ভোজ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা জন সোফেল বলেন, ট্রাম্প রাজনীতি কিংবা শিষ্টাচারের তোয়াক্কা করছেন না। রাজকীয় সম্মাননার দিকেই তার নজর, যা যুক্তরাষ্ট্রে তার অনুসারীদের উজ্জীবিত করবে। বিবিসির সহকারী রাজনীতি-বিষয়ক সম্পাদক নরমান স্মিথ বলেন, সরকার চাইছে যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণভাবে ট্রাম্পকে বিদায় করতে। ট্রাম্পের এই সফর ঘিরে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট এবং বার্মিংহামসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার লন্ডনে সবচেয়ে বড় জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। যে কারণে এই সফর ঘিরে কেবল নিরাপত্তার জন্যই ব্যয় হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড।  এরআগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিটিশ রানির আমন্ত্রণে বিদেশি সরকারপ্রধানের যুক্তরাজ্যে এমন সফর বিরল সম্মানের ব্যাপার। ১৯৫২ সালের পর যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বর্তমান রানীর মেয়াদে এটি ১১৩তম রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ। নিতান্ত সম্মান প্রদর্শনের এমন সফরে রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতাই মুখ্য। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঝালাই করে নিতে এমন সফরকে কাজে লাগানো হয়। বিরল সম্মানের এই সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পাঁচ সন্তান এবং তাদের পরিবারকেও সঙ্গী করেছেন। সোমবারই তাদের বাকিংহাম প্রাসাদে রাজকীয় সংবর্ধনা এবং ভোজসভায় যোগ দেওয়ার কথা। আজ মঙ্গলবার সেন্ট জেমস প্রাসাদে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক। এরপর সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গেও।

ট্রাম্প ও লন্ডন মেয়র সাদিক খানের মধ্যে কেন এই বাকযুদ্ধ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে আজ (সোমবার) যুক্তরাজ্যে আসবেন। তবে তার পৌঁছানোর আগে থেকেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের সাথে নতুন করে শুরু হয়েছে তার বাকযুদ্ধ। অবশ্য এই বাকযুদ্ধ পুরোটা অনলাইনে, কারণ ট্রাম্পের এই সফরের সময় তার সাথে সাদিক খানের কোথাও সামনাসামনি দেখা হবে না। কয়েক দিন আগেই লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘নারী ও ইসলাম সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুল ধারণার’ তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘বিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিস্টদের’ সাথে তুলনা করেন। তা ছাড়া ট্রাম্পের লন্ডনে অবতরণের দিনেই ব্রিটিশ পত্রিকায় সাদিক খানের একটি নিবন্ধ বেরোয় যাতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন। এর জবাবে ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, সাদিক খান একজন ‘স্টোন-কোল্ড লুজার’ অর্থাৎ এমন একজন লোক যিনি সব সময়ই পরাজিত হন। তিনি বলেন, খানের উচিত লন্ডনে অপরাধ কমানোর দিকে নজর দেওয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে সাদিক খানের পদবী ‘খান’ শব্দটি লেখেন ভুল বানানে। তাতে তিনি বলেন, খান আমাকে আমাদের নিউইয়র্ক শহরের ‘নির্বোধ এবং অযোগ্য’ মেয়র দা ব্লাসিও-র কথা মনে করিয়ে দেয় - যে তার কাজে মোটেও ভালো করছে না এবং তার উচ্চতা ব্লাসিওর অর্ধেক। মেয়র সাদিক খানের একজন মুখপাত্র প্রেসিডেন্টের এসব প্রতিক্রিয়াকে ‘শিশুসুলভ’ বলে বর্ণনা করেন। অবশ্য বিল দা ব্লাসিও নিজে কিন্তু ট্রাম্পের এই সমালোচনার জবাবে সাদিক খানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি পাল্টা এক টুইটে বলেন, তিনি সাদিক খানের একজন ভক্ত এবং তার সাথে তুলনা করা হলে তিনি সম্মানিত বোধ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাদিক খানের মধ্যেকার বৈরিতা বহু পুরনো। ২০১৬ সালে ট্রাম্প লন্ডনের নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যেন তিনি একটি আইকিউ বা বুদ্ধিবৃত্তির পরীক্ষা দেন। লন্ডন ব্রিজ ও বারা মার্কেটে ২০১৭ সালের সন্ত্রাসী আক্রমণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাদিক খানের আচরণকে ‘দু:খজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। জবাবে সাদিক খান বলেন, আমি ট্রাম্পকে লন্ডনের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেব না। গত বছর জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সাদিক খান সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে খুবই খারাপ কাজ করেছেন। সাদিক খান জবাবে বলেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এসব ‘পাশবিক’ অভিযোগের কোন জবাব দেবেন না। এর আগে খান লন্ডনে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি একটি অতিকায় বেলুন লন্ডনে ওড়ানোর অনুমতি দেন। এতে ট্রাম্পকে একটি বিকিনি পরা শিশু হিসেবে দেখানো হয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

হাঙ্গেরিতে নৌকাডুবিতে নিহত সাত পর্যটক

হাঙ্গেরির দানিয়ুব নদীতে নৌকা ডুবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাত পর্যটক নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২১ জন। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বিবিসি’র বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চললেও, জীবিত উদ্ধার করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে।   মধ্যপ্রাচের দেশ হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অবস্থিত ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী দানিয়ুব পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ সেখানে ঘুরতে যান। বুধবার ডুবে যাওয়া নৌকাটির নাম মারমেইড (মৎসকন্যা) বলে চিহ্নিত করা গেছে। দুটি ডেক সম্বলিত ওই নৌকা ৪৫ জন মানুষ বহন করতে সক্ষম। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বিবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৩০ জন দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক ও দু’জন গাইডলাইনার নিয়ে নৌকাটি গন্তব্যে যাওয়ার পথে ঘাঁটে ভিড়তে থাকা অন্য একটি নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে নৌকাটি ডুবে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌকাডুবির ঘটনায় এখনও ১৯ জন কোরিয়ান নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির সরকার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি দল হাঙ্গেরিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলেও জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নৌকা, ডুবুরি, স্পটলাইট এবং রাডার স্ক্যানিং যন্ত্র দিয়ে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার অভিযান শরু হয়। উদ্ধারকারী দল বলছে, শক্তিশালী স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে কোনও আশার কথা বলতে পারেনি তারা। তথ্যসূত্র: বিবিসি।   আই// এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি