ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৭:৪৬:৫৩, শুক্রবার

বারাক ওবামাকে হত্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল যারা

বারাক ওবামাকে হত্যার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল যারা

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বলেছে, নিউ মেক্সিকো মিলিশিয়া গ্রুপের একজন সন্দেহভাজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। বারাক ওবামা ছাড়াও ৬৯ বছর বয়সী ল্যারি মিচেল হপকিনস এবং তার দল ইউনাইটেড কন্সটিটিউশনাল প্যাট্রিয়টস হিলারি ক্লিনটন এবং ধণকুবের জর্জ সরোসকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছেন। এফবিআই বলেছে, তাদের কাছে এ ধরণের তথ্য রয়েছে। সন্দেহভাজন হামলাকারী আদালতে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেটি এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও তিনি কবে এ কথা বলেছেন সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি। হপকিনস-এর আইনজীবী এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী বলেছেন, হপকিনস এ ধরণের কোনও পরিকল্পনা করেছেন- সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত সোমবার হপকিন্সকে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে গত শনিবার আটক করা হয়েছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর সীমান্তে মরুভূমিতে তার দল বেশকিছু অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে আটক করেছিল। তবে এই দলটি বলছে, আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীরা যাতে সে দেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য তারা মার্কিন সীমান্ত রক্ষীদের সাহায্য করছিল। কিন্তু সীমান্তে এই দলটির কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। ২০১৭ সালে এফবিআই এ দলটি সম্পর্কে অবগত হয়। তখন এফবিআই জানতে পারে যে ইউনাইটেড কন্সটিটিউশনাল প্যাট্রিয়ট নামের সংগঠনটি হপকিন্স-এর বাড়ির বাইরে থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের ২০ জন সদস্য আছে । তাদের কাছে একে৪৭ রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্র থাকার খবর আসে এফবিআই-এর কাছে। এফবিআই-এর বিশেষ এজেন্ট ডেভিড গ্যাব্রিয়েল আদালতে যে এফিডেভিট দাখিল করেছেন সেখানে বলা হয়েছে, ‘হপকিন্স বক্তব্য দিয়েছে যে ইউনাইটেড কন্সটিউশনাল প্যাট্রিয়ট প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল জর্জ সরোস, হিলারি ক্লিনটন এবং বারাক ওবামাকে হত্যা করার জন্য। কারণ তারা আনটিফা নামের একটি বামপন্থী গ্রুপকে সমর্থন করেন।’ কিন্তু অভিযুক্ত হপকিন্সের আইনজীবী ও’কনেল প্রশ্ন তোলেন, তার মক্কেলকে কেন দুই বছর আগে আটক করা হয়নি? তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে এফবিআই হপকিন্স-এর বাড়ি তল্লাশি করেছিল। সে সময় তার বাড়িতে যে সব অস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলোর মালিক ছিলেন হপকিন্স-এর স্ত্রী। কিন্তু সে সময় এফবিআই হপকিন্সকে আটক করেনি। অভিযুক্তের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘এটা যদি এতোই ভয়ঙ্কর অপরাধ হতো, তাহলে তখন তাকে সঙ্গে-সঙ্গেই কেন আটক করা হয়নি?’ হপকিন্স-এর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো প্রমাণিত হলে তার ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। সূত্র: বিবিসি একে//
ট্রাম্পকে ইমপিচ করার ডাক দিলেন এক সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচ করার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলারের রিপোর্ট প্রকাশের পর তিনি এ আহ্বান জানালেন। আরো দেড় বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ারেন শুক্রবার তার টুইটার পেইজে লিখেছেন, “ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের সময় বার বার তিনি তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যা উপেক্ষা করলে দেশের জন্য স্থায়ী ও বড় ক্ষতি ডেকে আনবে। এ ঘটনা উপেক্ষা করলে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রেসিডেন্ট একইপথে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করবেন। ট্রাম্পের এই মারাত্মক অসদাচরণের বিরুদ্ধে দুই দলের নির্বাচিত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। অর্থাৎ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।” এদিকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারা এরইমধ্যে তদন্তকারী রবার্ট মুলারের তথ্য-প্রমাণ দেখার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে  ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার কাজ করা ও নির্বাচনে মস্কোর হস্তক্ষেপ নিয়ে মুলার তদন্ত করেন। মুলারের তদন্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার ৪০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন বেরিয়েছে। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

লিবিয়ার তেল সম্পদের ওপর দৃষ্টি দিলেন ট্রাম্প

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি অভিমুখী বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল খলিফা হাফতারের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত সোমবার সরাসরি হাফতারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। টেলিফোনালাপে ট্রাম্প ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ হাফতারের প্রতি সমর্থন জানান এবং  বলেন, লিবিয়ার তেল সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হাফতার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা তার ভালো লেগেছে। এ সময় ট্রাম্প ও হাফতার লিবিয়ার ভবিষ্যত নিয়েও আলোচনা করেন বলে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমাজের স্বীকৃত একটি সরকার লিবিয়ার রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু সেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ত্রিপোলি দখলের চেষ্টা করছে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হাফতার বাহিনী। গত তিন সপ্তাহের এ সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ মানুষ নিহত হয়েছে। হাফতারের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ থেকে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ইউরোপীয় মিত্রদের বিপক্ষে গিয়ে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ছাড়া, তিনি লিবিয়াকে হাফতারের হাতে ছেড়ে দিয়ে দেশটির তেল সম্পদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান। লিবিয়ার চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে আনা একটি প্রস্তাবের খসড়া নাকচ করে দিয়েছে আমেরিকা ও রাশিয়া। ওই খসড়ায় জেনারেল হাফতারকে লিবিয়ার চলমান সংঘর্ষের জন্য দায়ী করার কারণে রাশিয়া এর বিরোধিতা করে। তবে আমেরিকা তার বিরোধিতার কোনো কারণ জানায়নি। জেনারেল হাফতারের প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেছে এবং হাফতার ত্রিপোলি অভিমুখে অভিযান শুরু করার কয়েকদিন আগে সৌদি আরব সফর করেছেন। ত্রিপোলিতে ক্ষমতাসীন সরকার ফ্রান্সকে জেনারেল হাফতারের প্রতি সমর্থন জানানোর দায়ে অভিযুক্ত করলেও প্যারিস এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। লিবিয়ায় সাবেক উপনিবেশ স্থাপনকারী ইতালি সরকার ত্রিপোলিতে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, জেনারেল হাফতারের ত্রিপোলিমুখী অভিযানের কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। জেনারেল খলিফা হাফতার লিবিয়ার একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা যিনি দেশটির সাবেক একনায়ক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ক্ষমতা সুসংহত করার কাজে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু গাদ্দাফির সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে ১৯৬৯ সালে তিনি আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান। ২০১১ সালে সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থানে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর হাফতার দেশে ফিরে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ত্রিপোলি সরকার তাকে দেশের সেনাপ্রধানও নিযুক্ত করে। কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের জের ধরে তিনি আবার ত্রিপোলি সরকারের বিপক্ষে চলে যান। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং আলোচনা থেকে পম্পেও বাদ!

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া যে শর্ত আরোপ করেছে সে নিয়ে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। এ  সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তিনিই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পরমাণু আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে এর আগে উত্তর কোরিয়া এই আলোচনা থেকে পম্পেওকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন সে আহ্বানে সাড়া দিতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পম্পেও শুক্রবার  এক বক্তৃতায় দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং এখনও তিনিই এ আলোচনা প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, মার্কিন সরকার প্রয়োজনে পম্পেওকে বাদ দিয়েই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার পম্পেওকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো কূটনীতিককে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দায়িত্ব দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা কুং জুং গ্যান বলেছিলেন, মাইক পম্পেও’র কারণেই সম্প্রতি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

কারা এই ভেনেজুয়েলার জাতীয় মিলিশিয়া বাহিনী?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা করেছেন, সে দেশে বেসামরিক জনতাকে নিয়ে গঠিত যে রিজার্ভ সেনাবাহিনী আছে তাতে এ বছরের মধ্যেই আরও দশ লক্ষ বাড়তি সদস্য নিয়োগ করা হবে। শনিবার তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এই ন্যাশনাল মিলিশিয়ার কুড়ি লক্ষ সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই অন্তত ৩০ লাখ করা হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজ সে দেশে এই মিলিশিয়া বাহিনী প্রথম তৈরি করেছিলেন- যার অনেক সদস্যর বয়সই পঞ্চাশেরও বেশি। ভেনেজুয়েলার মিলিশিয়ার এই প্রবীণ সদস্যরা সবাই একবাক্যে বলছেন, এবারের লড়াইয়ের জন্য তারা সবাই প্রস্তুত। যুদ্ধ হলে হোক, তারা মোটেই যুদ্ধকে ভয় পান না। এটাই হলো ভেনেজুয়েলার জাতীয় মিলিশিয়া বা রিজার্ভ সেনাবাহিনী- সরকারি পরিসংখ্যান বলছে এখনই যার মোট সদস্য সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তারা নিয়মিত কুচকাওয়াজ করেন এবং দেশ আক্রান্ত হলে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে তারা শপথও নিয়েছেন। বাহিনীর রিজার্ভ সেনা, ৫৩ বছর বয়সী মহিলা ডরিস বলছিলেন, "আমাদের দেশে বাইরে থেকে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ হলে দেশের লোককে রক্ষা করতে আমাদের মিলিশিয়া এগিয়ে আসবে।" "কোনও বিদেশি রাষ্ট্র এসে আমাদের অপদস্থ করে যাবে, তা আমরা হতে দেব না। কারণ আমরা ভেনেজুয়েলান, আর এই দেশটা আমাদের।" ২০০৭ সালে যে ধরনের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে তখনকার প্রেসিডেন্ট উগো চ্যাভেজ এই বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, সম্প্রতি ঠিক সেই ধরনের হামলার কথাই শোনা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, "ভেনেজুয়েলা কিন্তু খুব দূরে নয়- সেখানকার লোকজন দুর্দশায় পড়েছে, মারা যাচ্ছে।" "আমরা ভেনেজুয়েলার জন্য অনেকগুলো রাস্তার কথাই ভাবছি- আর তার মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও একটা।" ৬২ বছর বয়সী রিজার্ভিস্ট আলফ্রেডো মোরালেস কিন্তু মার্কিন হামলা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নন। তিনি বলছিলেন, "আমরা অন্যরকম যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের বাহিনীতে অনেক দক্ষ স্নাইপার বা চোরাগোপ্তা বন্দুকবাজ আছে।" "কিউবানদের কাছ থেকে, এবং চীনা ও নিকারাগুয়ানদের কাছ থেকে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণও নিচ্ছি।" এই বাহিনীর অনেকেরই বয়স পঞ্চাশের বেশি, কিন্তু তাতে কোনও পরোয়া নেই এই রিজার্ভিস্টদের। প্রবীণা ডরিস যেমন বলছিলেন, "কম বয়সে আমি সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পাইনি। ফলে এখন এই বাহিনীতে যোগ দিতে পেরে আমি খুব গর্বিত।" "প্রেসিডেন্ট চ্যাভেজ এর মাধ্যমে দেশের বয়স্ক নাগরিকদের মর্যাদা দিয়েছেন, যাদের আগে কেউ পাত্তা দিত না।" ভেনেজুয়েলার সামরিক প্যারেডগুলোতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নিয়মিতই হাজির থাকতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষজনও এই বাহিনীকে নিয়ে বেশ গর্বিত।তারা কেউ বলছেন, বাহিনীর কুচকাওয়াজ দেখলে তাদের গর্বে বুক ভরে ওঠে- কারণ তারা তো এ দেশেরই নারী-পুরুষ, এ দেশের যোদ্ধা।কেউ আবার বলছেন, "এরাই ভেনেজুয়েলার আসল শক্তি!" ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলা থেকে নজর সরানোর হুমকিও দিচ্ছেন অনেকেই। আমেরিকাকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তারা বলছেন, তাদের সাম্রাজ্যবাদী বুটের পায়ের ছাপ যেন এ দেশে না-পড়ে! তবে ভেনেজুয়েলার অনেকেই আবার বিশ্বাস করেন, এই মিলিশিয়া বাহিনী যত না দেশের সুরক্ষার জন্য- তার চেয়েও বেশি হয়তো নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে বাঁচানোর জন্য। আর সে জন্যই বোধহয় প্রেসিডেন্ট ফের এই বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং ৩ মে

আগামী ৩ মে নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে তাদের পরবর্তী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসনে এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা হবে। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরবর্তী বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠক ৩ মে তাদের রাজধানীতে (নেপিডো) অনুষ্ঠিত হবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আশিয়ানের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য ‘আশিয়ান প্লাস’ নামে আশিয়ানের কাছে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনকালে যাতে নিরাপদ বোধ করে তার জন্য আশিয়ানের সদস্যদেশগুলো ওই নিরাপদ অঞ্চলটি মনিটর করতে পারে। তিনি বলেন, আসন্ন জেডব্লিউজি বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ‘নিরাপদ অঞ্চল প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হবে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা তাদের নাগরিকদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেবে। তিনি বলেন, ‘তারা কয়েকবারই আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ইতোমধ্যে যে রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করেছে তারা তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করবে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই কাজটি শুরু করা হয়নি।’ মন্ত্রী আরো বলেন, এমনকি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশও এখন পর্যন্ত সৃষ্টি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের কারণেই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধনে সমর্থ হইনি। তারা (মিয়ানমার) এই সংকট সৃষ্টি করেছে এবং তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা কঠিন।’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন কাজ শুরুর লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। তাছাড়া ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর উভয় দেশ প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। যারা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। টিআর

জাপান যাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া আগামী মাসের শেষের দিকে জাপান সফর করতে যাচ্ছেন। আগামী মে মাসে যুবরাজ নারুহিতো দেশটির সম্রাটের দায়িত্ব নেয়ার পর তারাই প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশি অতিথি হিসেবে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এ সফরে যাবেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস একথা জানায়। খবর এএফপি’র। এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘২০১৯ সালের ১ মে নারুহিতো জাপানের সম্রাটের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটির প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ট্রাম্প ২৫ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত টোকিও সফর করবেন।’স্যান্ডার্স বলেন, এছাড়াও আগামী ২৬ ও ২৭ এপ্রিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের ওয়াশিংটন সফরকালে ট্রাম্প তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। স্যান্ডার্স আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের মধ্যে এ বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং সারা বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি পুন:নিশ্চিত করা হবে। এদিকে ওসাকায় হতে যাওয়া জি২০ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য আগামী জুনে ট্রাম্প ফের জাপান সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   টিআর/

যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে পেছনে ফেলবে চীন:  জিমি কার্টার

মার্কিনিরা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে যুদ্ধপ্রিয় জাতি এবং এ কারণে চীন একসময় আমেরিকাকে অর্থনৈতিকভাবে পেছনে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ট্রাম্প নিজেই চীনকে নিয়ে চিন্তিত। তিনি ধারণা করছেন, সীমাহীন যুদ্ধের কারণে চীন আমেরিকাকে পেছনে ফেলবে। জিমি কার্টার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ধারণা ও উদ্বেগ মোটেই অমূলক নয় কারণ চীন তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করে তুলবে। আমেরিকা তার ২৪২ বছরের ইতিহাসে মাত্র ১৬ বছর শান্তির মধ্যে ছিল, বাকি সময় যুদ্ধবিগ্রহ করে কাটিয়েছে। জিমি কার্টার প্রশ্ন করেন, “আপনারা কেউ বলতে পারবেন ১৯৭৯ সালের পর থেকে চীন কয়টি দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে? একটি দেশের সঙ্গেও নয়, অথচ আমরা সবসময় যুদ্ধের মাঝে আছি এবং এভাবে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে যুদ্ধপ্রিয় জাতিতে পরিণত হয়েছি। আমেরিকা তার নিজের নীতি অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে চায় বলেই এসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়।” ১৯৭৯ সালে জিমি কার্টার চীনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিলেন। জিমি কার্টার বলেন, শান্তি রক্ষার মাধ্যমে চীন বিরাট অগ্রগতি অর্জন করেছে। তারা প্রায় সবক্ষেত্রে আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকার সামরিক খাতে ব্যয় করেছে তিন ট্রিলিয়ন ডলার অথচ চীন যুদ্ধের পেছনে একটি পয়সাও ব্যয় করে নি। জিমি কার্টার ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

মুসলিম বলেই কি ইলহানের মন্তব্য নিয়ে এত বিতর্ক?

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মুসলিম মহিলা সদস্য ইলহান ওমরকে ঘিরে গত কদিন ধরে চলছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে তার এক মন্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন। এর ফলে সেটি এই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে। ইলহান ওমরের পক্ষে এবং বিপক্ষে তীব্র বাদানুবাদ চলছে রাজনীতিতে এবং গণমাধ্যমে। ইলহান ওমর তার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে নাইন ইলেভেনের হামলার প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। এই হামলাকে ‘সাম পিপল ডিড সামথিং’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এরপর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ভিডিওর পাশাপাশি ইলহান ওমরের মন্তব্য জুড়ে দিয়ে সেটি টুইট করেন। রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেন, ইলহান ওমর নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলাকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা ইলহান ওমরকে সমর্থন করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলহান ওমর এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছেন। ঠিক কিভাবে এই বিতর্কের শুরু এবং কেন এটি এত উত্তেজনা তৈরি করেছে মার্কিন রাজনীতিতে? গত নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার একটি আসন থেকে হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম দুজন মুসলিম মহিলা কংগ্রেসের সদস্য হন, ইলহান তাদের একজন। তিনি হচ্ছেন প্রথম কংগ্রেসের প্রথম কোন মহিলা সদস্য, যিনি হিজাব পরেন। ইলহান ওমরের পরিবার সোমালিয়া থেকে উদ্বাস্তু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আসেন। কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শুরু থেকেই ইলহান ওমরকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। ইসরায়েল এবং ইসরায়েলপন্থী লবি নিয়ে মন্তব্যের কারণে তাকে ‘অ্যান্টি সেমেটিক’ বা ইহুদী বিদ্বেষী বলে বর্ণনা করেন ডানপন্থী সমালোচকরা। পরে অবশ্য ইলহান ওমর তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসাবে ইতোমধ্যে তিনি নানা ধরণের হুমকিরও মুখে পড়েছেন। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় নিউ ইয়র্কের পুলিশ সম্প্রতি ৫৫ বছর বয়সী এক লোককে গ্রেফতার করে। এই লোকটি ইলহান ওমরকে সন্ত্রাসী বলে বর্ণনা করেছিল। `সাম পিপল ডিড সামথিং` বা কিছু লোক কিছু একটা করেছিল` কথাটি ইলহান ওমর সম্প্রতি দেয়া এক বক্তৃতায় বলেছিলেন। গত ২৩শে মার্চ তিনি কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্সের সভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। ২০ মিনিটের ঐ ভাষণে তিনি ইসলামোফোবিয়া থেকে শুরু করে সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসবাদী হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি কথা বলছিলেন, নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের কী ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ‘এই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। বহু দিন ধরে আমাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে একটা অস্বস্তি নিয়ে বসবাস করতে হয়েছে এবং সত্যি কথা বলতে কি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এই দেশের প্রতিটি মুসলিমেরও তাই হওয়া উচিৎ। নাইন ইলেভেনের পর কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স স্থাপন করা হয়েছিল। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, কিছু লোক কিছু একটা করেছে এবং এখন আমাদের সবাই নাগরিক অধিকার হারাতে শুরু করবো।’ কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স আসলে স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা এই তথ্যটি যাচাই করে প্রকাশ করার পর ইলহান ওমরের একজন মুখপাত্র অবশ্য বলেন, তিনি ভুল বলেছেন এবং তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন নাইন ইলেভেনের হামলার পর এই সংগঠনের আকার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ইলহান ওমরের এই বক্তৃতা গত ৯ই এপ্রিল থেকে সবার মনোযোগ কাড়তে শুরু করে। কারণ টেক্সাসের এক রিপালিকান কংগ্রেস সদস্য ড্যান ক্রেনশ তার বক্তৃতাকে `অবিশ্বাস্য` বলে বর্ণনা করেন। এরপর বিষয়টি লুফে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ সহ অন্যান্য রক্ষণশীল মিডিয়া, তারা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান ইলহান ওমরকে `অ্যান্টি আমেরিকান` বলে বর্ণনা করেন। এর পাল্টা ইলহান ওমর একে ‘বিপদজনক উস্কানি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কারণ আমি এখনই মৃত্যুর হুমকির মধ্যে আছি।’ ইলহান ওমর নাইন ইলেভেনের ব্যাপারে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একটি মন্তব্য পোস্ট করে বলেন, তিনিও কী তাহলে নাইন ইলেভেনের হামলাকে খাটো করে দেখাচ্ছিলেন? এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। তারা পত্রিকার প্রথম পাতায় নাইন ইলেভেনের হামলার একটি ছবি প্রকাশ করে ওপরে হেডলাইন দেয়: ‘হিয়ার ইজ ইয়োর সামথিং।’ নিউ ইয়র্ক পোস্টের এই শিরোণাম বিতর্কটিকে আরও তিক্ত করে তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এর পক্ষে বিপক্ষে শুরু হয় তর্ক। নাইন ইলেভেনের ছবি ব্যবহারের জন্য অনেকে পত্রিকাটির সমালোচনা করে। নিউ ইয়র্কের যে কর্নার শপগুলোতে পত্রিকা বিক্রি হয়, যেগুলোর বেশিরভাগই ইয়েমেনিরা চালায়, তারা পত্রিকাটি বর্জনের ঘোষণা দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই বিতর্কে ইলহান ওমরকে সমর্থন দিচ্ছেন। শুক্রবার টুইটারে ‘স্ট্যান্ড-উইথ-ইলহান’ হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ড করছিল। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকরা ইলহানের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘একজন নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার’ অভিযোগ তোলেন। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ ‘ন্যাক্কারজনক এবং বিপদজনক।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মাদুরোকে আটকাতে সকল চেষ্টাই করবে আমেরিকা: পম্পেও   

ভেনিজুয়েলার সংকটের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট  নিকোলাস মাদুরোই একমাত্রা দায়ী । আর এটা প্রমাণ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। রোববার কলম্বিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় চলমান সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে।  আমরা চাই দেশটিতে শান্তি ফিরে আসুক।’ এ সময় তিনি মাদুরোকে তার পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে এবং দেশে শান্তি ফেরাতে আহ্বান জানান। পম্পেও বলেন, রাশিয়ার মতো যে দেশগুলো মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে এর মূল্য দিতে হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেন। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী মাদুরোর প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি পম্পেও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় সফর  করছেন। এই সফরের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে ভেনেজুয়ালার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স এমএইচ/

উদ্বাস্তু শিশুর কান্নার ছবি জিতে নিল প্রথম পুরস্কার

আলান কুর্দি বা ওরমান দাকনিশের ছবি এখনও স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। সেই ক্ষত মনে হয় আরও একবার উস্কে দিলেন জন মুর। গত বছর বিশ্ব জুড়ে ৪ হাজার ৭৩৮ জন আলোকচিত্রীর ৭৮ হাজার ৮০১টি ছবির মধ্যে সেরা বিবেচিত হয়েছে জন মুরের ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’ শীর্ষক ছবিটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে কাজ করছেন চিত্র সাংবাদিক জন মুর। গত বছর তার তোলা একটি ছবি পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ছবিটি গত বছর প্রকাশ্যে আসার পরই আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। জন মুর জানিয়েছেন, ১২ জুন ২০১৮-র সন্ধ্যায় তিনি এই ছবিটি তুলেছেন। সেদিন ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল। মেক্সিকো থেকে বেশ কয়েকজন উদ্বাস্তু সীমান্ত পেরিয়ে টেক্সাসে ঢোকার চেষ্টা করেন। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা অফিসাররা তাদের ওপর স্পট লাইট ফেলেন। ধরে পড়ে যান উদ্বাস্তুরা। তাদের মধ্যেই ছিলেন হন্ডুরাসের স্যান্ড্রা স্যানচেজ ও তার দু’বছরের শিশু কন্যা ইয়ানেলা। স্যানচেজের তল্লাশি শুরু হতেই ভয়ে কাঁদতে শুরু করে দেয় কন্যা ইয়ানেলা। কয়েক মুহূর্তের সেই ঘটনা বন্দি হয় জন মুরের ক্যামেরায়। ছবিটির নাম দেন ‘ক্রাইং গার্ল ইন দ্যা বর্ডার’। ছবিটি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অ্যাওয়ার্ডের স্পট নিউজ, সিঙ্গলস ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরই উদ্বাস্তুদের নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধরা পড়া এই সব উদ্বাস্তু শিশুদের বাবা, মায়ের থেকে আলাদা করে কোনও আত্মীয় বা ফস্টার হোম অথবা কোনও শিবিরে রেখে দেওয়া হয়। তবে গত বছর এই ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয় স্যানচেজ ও ইয়ানেলকে আলাদা রাখা হয়নি। তারা একসঙ্গেই আছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরস্কার ঘোষণার পর জন মুর জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তার কাজের মধ্যে দিয়ে সব সময় চেষ্টা করেছেন যাতে এই উদ্বাস্তু সমস্যাকে মানবতার চোখ দিয়ে দেখা হয়। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে স্নাতক হওয়ার পর ৫টি মহাদেশের ৭৫টি দেশে এই পর্যন্ত কাজ করেছেন জন মুর। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

লিবিয়া যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ প্রধানের

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সোমবার ত্রিপোলির কাছে চালানো সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়ে লিবিয়া যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপি’র। রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বে মিতিগা বিমানবন্দরে কমান্ডার খলিফা হাফতারের বাহিনী বিমান হামলা চালানোর পর এ আহ্বান জানানো হলো।জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গুতেরেস পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সর্বাত্মক সংঘাত এড়াতে সকল সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানান। তিনি মিতিগা বিমানবন্দরে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) আজকের বিমান হামলাসহ ত্রিপোলির ভিতরে ও বাইরে সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, বিমান হামলার কারণে ত্রিপোলির একমাত্র সচল বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয় এবং রাজধানী চারদিকে তুমুল লড়াই চলায় হাজার হাজার লোক পালিয়ে গেছে। টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি