ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ১৯:০৬:৫০, বৃহস্পতিবার

ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ফের নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

আগামী ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য আমেরিকার সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, আরো চার বছরের জন্য আপনারা আমার দলকে নির্বাচিত করুন। এসময় তিনি ফ্লোরিডাকে ‘সেকেন্ড হোম’ বলে আখ্যায়িত করেন। মঙ্গলবার অলর‌্যান্ডোর ওই অনুষ্ঠানে এটাই আগামী নির্বাচনের প্রথম প্রচারণা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা আমেরিকাকে নতুন করে মহান করে তুলব। ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, আপনার তো দেশকে বিছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করছেন। অবৈধদের বৈধ করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ারও ঘোষণা দেন। মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা ভঙ্গুর রাজনীতির প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করব। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। তার এ নির্বাচনী প্রচারণাকে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন।    ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সকল জরিপ উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন হন ট্রাম্প। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিপাবলিক্যান থেকে উঠে আসা এ প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিম বিরোধী আইন, অভিবাসন নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে চতুরমুখী সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। পদত্যাগ করেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সিনেটর। সবশেষে গেল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য পাঠানোর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায়  প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গত বছর সিরিয়ায় সৈন্য প্রত্যাহার  পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন ম্যাটিস। চলতি বছরের শুরুতে তার স্থলাভিষিক্ত করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শানাহানকে। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় তিনিও সরে দাঁড়ালেন। যদিও ট্রাম্প নিজের টুইটবার্তায় পরিবারকে সময় দিতে শানাহান পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: বিবিসি আই/  
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

সিরিয়ায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে গত বছর পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। এবার তারই স্থলাভিষিক্ত নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান চলমান ইরানের সঙ্গে টানটান উত্তেজনারমুখে পদত্যাগ করলেন। এতে চলমান সংকট মোকাবেলায়  ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় শানাহানের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। তবে ট্রাম্প সেখানে শানাহানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে পরিবারে সময় দেয়াকে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে সিনেটের অনুমোদনের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে, সিনেটের অনুমোদনের আগেই কয়েক মাসের মাথায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। এমন সময় মার্কিন এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হুমকি মোকাবেলায় নতুন করে ১ হাজার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।  মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বন্দ্বটা এখন চরমে। যেকোন সময় বাধতে পারে যুদ্ধের দামামা। সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের হুমকি মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সৈন্য পাঠানোর হুশিয়ারি দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ঘোষণার একদিন পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে তাই চলছে নানা গুঞ্জন। এর ফলে ট্রাম্প নতুন করে সংকটে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে টানা উত্তেজনায় পিছু হটতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেটি সময় সাপেক্ষ। সূত্র: রয়টার্স। আই/

প্রথমবার ইরাক যাচ্ছেন পোপ ফ্রান্সিস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট সমাধানে আরব আমিরাতের পর এবার প্রথমবার ইরাক যাচ্ছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস। সোমবার মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য এলাকায় খ্রিস্টানদের সহায়তা করে এমন কয়েকটি দাতব্য সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা জানান। পোপ বলেন, ২০২০ সালের যেকোন সময় তিনি যুদ্ধবিধস্ত ইরাক সফর করবেন। সে হিসেবে ইরাকে এটাই তার প্রথম সফর।খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ এ ধর্মীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশটি যুদ্ধের মধ্যে পড়ে আছে। রক্তের হলি খেলা চলছে সেখানে। যখনই আমি ইরাকে কথা ভাবি, গভীর চিন্তায় পড়ে যায়। বলেন, আগামী বছরই সেখানে আমার যাওয়ার ইচ্ছা আছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইএস’র উপর্যপুরি হামলায় ইরাক রণক্ষেত্রে পরিণত হলে অনেক খ্রিস্টান দেশটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলে আসছে। যদিও কয়েকমাস আগে মধ্যপ্রাচ্যে গৃহযুদ্ধের জন্য আমেরিকা ও ইউরোপকে দায়ী করেছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। সান কার্লো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে দেয়া বক্তৃতায় পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস ও রক্তের জন্য আমেরিকা ইউরোপ দায়ী। মরণঘাতি অস্ত্র বিক্রি করায় সে অস্ত্রগুলো কোমল শিশুদের বুকে হানা হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এর পূর্ণ দায়ভার ইউরোপ আমেরিকার ওপরই বর্তায়-যোগ করেন তিনি। ইরাকে ক্যাথলিক এবং অর্থডক্স খ্রিস্টানদের অনেক চার্চ আছে। সাবেক পোপ জন পল ২০০০ সালে একবার ইরাকের প্রাচীন উর নগরী ভ্রমণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি আর যেতে পারেননি। তবে, পরিস্থিতির আলোকে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। সূত্র: ডয়েস ভেলে আই/টিআর  

বিশ্বের দুই পরাশক্তির রণতরীতে ধাক্কা লাগার উপক্রম!

অল্পের জন্য ধাক্কা থেকে বেঁচে গেছে বিশ্বের দুই বৃহৎ পরাশক্তির রণতরী। ফিলিপাইন সাগরে একটি রুশ ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ক্রুজারের সঙ্গে এই ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়েছিল। শুক্রবার মার্কিন নৌবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাকে অপেশাদার ও অরক্ষিত বলে সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌ বহরের মুখপাত্র কমান্ডার ক্লেয়টন ডোস বলেন, যখন ফিলিপাইন সাগরে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তখন রাশিয়ার ডেস্ট্রয়ার উডালয় আইডিডি৫৭২ মার্কিন ইউএসএস চ্যান্সেলোরসভিলের বিরুদ্ধে অরক্ষিত কৌশল ব্যবহার করেছে। মার্কিন রণতরী ভয়ঙ্করভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে যে বিবৃতি রাশিয়া দিয়েছে, সেটাকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করেন এই মার্কিন কমান্ডার। তিনি বলেন, ইউএসএস চ্যান্সেলোরসভিলের ৫০ থেকে ১০০ ফুটের মধ্যে এসে গিয়েছিল রুশ ডেস্ট্রয়ার। আরকে//

যুক্তরাজ্য সফরে ট্রাম্প

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ এ সোমবার সকালে যুক্তরাজ্যের স্ট্যান্সটেড বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, তিন দিনের এ সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন ট্রাম্প। চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়’র প্রসঙ্গ আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনায় জলবায়ু ইস্যুও থাকবে বলে জানা যায়। জানা যায়, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসে বলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ হতাশা প্রকাশ করে। সোমবার বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলে জানা যায়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির দুই নেতা জানিয়েছেন, ট্রাম্প-থেরেসার আলোচনায় হুয়াওয়েকেও নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নিরাপত্তা হুমকিস্বরূপ চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন এক বাণিজ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে ওয়াশিংটনের। মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র হুয়াওয়ে বর্জন করার আহ্বান জানালেও যুক্তরাজ্য ফাইভ জি প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক কিনতে যাচ্ছে চীনা কোম্পানিটি থেকেই।   এদিকে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যের সফরে বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করছে একাধিক ব্রিটিশ নাগরিক সংগঠন। তিন দিন ধরে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বেলফাস্ট, বার্মিংহামসহ বড় শহরগুলোতে এ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে তারা।   এমএস/ এসএইচ/

চাপ নয় সম্মান দিলেই আলোচনা হতে পারে : রুহানি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে কোন চাপ নয়, যুক্তাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে, সম্মান করতে হবে। তবেই ইরান তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি একথা বলেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসলে দ্বন্দ্ব চুড়ান্ত রুপ নেয়। এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধের আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর গতবছরই সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে এবং মে মাসে নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানের তেল কেনা বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হুমকি মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিটি ততটা জোরালো চুক্তি নয়। তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন একটি চুক্তি করতে চান। মার্কিন কয়েকজন কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আমরা ইরানের সরকারের পরিবর্তন চাই না। বর্তমান নেতৃত্বেই ইরানের একটি শ্রেষ্ঠ দেশ হওয়ার সুযোগ আছে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এমন কথার প্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, আমরা যুক্তি মানবো এবং আলোচনাও করব যদি অপরপক্ষ সম্মানজনকভাবে আলোচনার টেবিলে বসে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মবিধি মানে। কিন্তু তারা আলোচনার নির্দেশ দিলে তা হবে না। এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি। রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের বেশি বাড়তে পারে। গত মাস থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। গত বছর ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়ে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর তেহরান বিশ্ব শক্তির বাইরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ফিরে যায়। ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।   আই/এসএইচ/

ট্রাম্পের অনুরোধ রাখেননি মার্কিন নৌবাহিনী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি অনুরোধ উপেক্ষা করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী। জাপান সফরের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জন ম্যাককেইনকে তার দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মার্কিন নৌবাহিনী সে অনুরোধ রক্ষা করে নি। বরং অন্য জাহাজের সঙ্গে ইউএসএস জন ম্যাককেইন স্বাভাবিক অবস্থানে ছিল। মার্কিন নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ওই অনুরোধ পেয়েছিল তবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে মার্কিন সাবেক সিনেটর জন ম্যাককেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক ভালো ছিল না। ম্যাককেইনের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ‍আমি তাকে কখনো পছন্দ করতাম না এবং ভবিষ্যতেও হয়ত করব না। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল চার্লি ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন নৌবাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ জন ম্যাককেইনকে প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখার অনুরোধ করা হয় কিন্তু সব জাহাজকেই স্বাভাবিক কনফিগারেশনে রাখা হয়।” এ বিষয়ে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়- হোয়াইট হাউজ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের জাপান সফরের সময় ইউএসএস জন ম্যাককেইন জাহাজকে তার দৃষ্টি সীমার বাইরে রাখতে হবে। উল্লেখ্য, জন ম্যাককেইন ছিলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত একজন সেনা কর্মকতা। তিনি যুদ্ধের সময় ভিয়েতনামে বন্দী হয়ে কারাগারে ছিলেন। আমেরিকায় তাকে যুদ্ধের বীর হিসেবে দেখা হয়। তার বাবা ও দাদা মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ছিলেন। এসব দিক বিবেচনা করে ২০১৮ সালে জাহাজটির নামকরণ করা হয় ইউএসএস জন ম্যাককেইন। তথ্যসূত্র:  পার্সটুডে এমএইচ/

নিউইয়র্কের মসজিদে মুসলিম টহল দল নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে মসজিদের নিরাপত্তার জন্যে চালু করা হলো বেসরকারি একটি টহল দল।নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের দুটো মসজিদে বন্দুক হামলার কয়েকদিন পর এ টহল দল চালু করা হয়। তবে তাদের কার্যক্রম নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।  গত শুক্রবার দুপুরে ব্রুকলিন মসজিদে মুয়াজ্জিন যখন আজান দেবেন, তার কয়েক মিনিট আগে তরুণ মুসলিমদের একটি দল একটি গাড়ি নিয়ে ছুটে গেল পাশেরই একটি মসজিদে। এই গাড়িটি দেখতে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের টহল দেওয়া গাড়ির মতো। গাড়িটিতে লাল ও শাদা রঙের জরুরি দুটো লাইট জ্বলছে। সেটিকে রাখা হলো মসজিদের বাইরে। মুসল্লিরা যতক্ষণ নামাজ পড়বেন গাড়িটিও সেখানে ঠিক ততক্ষণ অবস্থান করবে। মসজিদ ও মাদ্রাসায় বাড়তি নিরাপত্তার জন্য নিউ ইয়র্কে এই গ্রুপটি গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রুপটির নাম মুসলিম কমিউনিটি পেট্রোল। মসজিদ ও মাদ্রাসায় যখন বেশি ভিড় থাকবে তখনই এই গ্রুপটি সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে। শহরের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা এই গ্রুপটি গড়ে তুলেছেন। একজন স্বেচ্ছাসেবী এবং এই গ্রুপের একজন প্রতিষ্ঠাতা নূর রাবা বলছেন, তারা মনে করছেন যে এই গাড়ির বাতি জ্বালিয়ে এবং সাইরেন বাজিয়ে তারা নিজেদের হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন। রাবা বলেন, ‘আমরা নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কেউ নেই। আমরা হচ্ছি কোন কিছু হলে সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর চোখ ও কান। গত মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের দুটো মসজিদে বন্দুক হামলায় ৫১ জন নিহত হওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রুপের কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি বলছেন, নিউ ইয়র্কের মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকদিনেরই ইস্যু। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের হামলার পর নিরাপত্তা আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বৃহত্তর সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স রমজান মাসে মুসলিমদের সজাগ থাকতে ও নিরাপত্তা বাড়াতে আহবান জানিয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির বহু মসজিদে নিরাপত্তা-জনিত বাড়তি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার মধ্যে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণও রয়েছে। মুসলিম কমিউনিটি পেট্রোলও ব্রুকলিন মসজিদে ও তার আশেপাশে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এবং তার পরপরই এনিয়ে তাদেরকেও সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়াতে এই গ্রুপের কার্যক্রমে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। অতি-দক্ষিণপন্থী কয়েকজন ভাষ্যকার তাদের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন প্রবর্তনেরও অভিযোগ তুলেছেন। জবাবে রাবা বলেছেন, ‘এ হলো অজানাকে ভয়। আমাদের জীবনধারা যা শেখায় আমরা সেটাই দেখাতে চেয়েছি।’ কিন্তু যারা টহল দিচ্ছেন তারা পুলিশ নয়, তারা নিরস্ত্র এবং এভাবে টহল দেওয়ার বৈধ কোন অনুমতিও তাদের নেই। স্থানীয় এলাকার অনেকেই তাদের ওখানে এই গ্রুপের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকেই সমালোচনা করে বলেছেন যে এ ধরনের টহলের কোন প্রয়োজন নেই। এই উদ্যোগের পেছনে গ্রুপটির উদ্দেশ্য নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। নিউ ইয়র্কে আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনের সোমিয়া এলরোমেইম বলেছেন, এই গ্রুপটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা এই এলাকার বাইরে থাকুক। তাদের ছোটখাটো খারাপ কাজও আমাদের উপর বড় রকমের প্রভাব ফেলবে।’ সোমিয়া এলরোমেইম বলেন, ‘মুসলমানরাও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো কর দিচ্ছেন। আর নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের।’ শহরে বিখ্যাত যেসব মসজিদ আছে সেগুলোতে ইতোমধ্যে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ বিভাগের ভেতরেই আছে মুসলিম অফিসারদের সমিতি যাদের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী কমিউনিটির লোকজনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারছেন। এই সমিতি অবশ্য মুসলিম গ্রুপটির টহলের ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। টুইন টাওয়ারে ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর নিউ ইয়র্কের পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকেও মুসলিম কমিউনিটির সাথে নানা রকমের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে এখনও এবিষয়ে গভীর ভয় এবং সন্দেহ রয়ে গেছে। তাদের অনেকেই মসজিদে পুলিশের অব্যাহত উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিশিগান-ভিত্তিক একজন আইনজীবী নামিরা ইসলাম নিরাপত্তার ব্যাপারে শুধুমাত্র পুলিশ কিম্বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর নির্ভর না করে অন্যান্য উপায় খুঁজে বের করার জন্যেও মুসলিম কমিউনিটির প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের দরজার বাইরে সশস্ত্র পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে- এই দৃশ্যটা দেখে আমি নিরাপদ বোধ করি না। মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে এসব বাহিনীর ভূমিকার ইতিহাসের কথা তারা জানেন। শুধু আইনগতভাবে বৈধ হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যায় না।’ পুলিশের উপস্থিতির ফলে মুসল্লিরা মসজিদে আসতে চান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এই মুসলিম পেট্রোল গ্রুপকে কতোটা গ্রহণ করে নেবে সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে এই গ্রুপটি আগামী বছরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

ভেনেজুয়েলায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৫

ভেনেজুয়েলায় একটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন বন্দি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভেনেজুয়েলার পোর্টটুগেসা রাজ্যের জেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন কারারক্ষী আহত হয়েছেন। তবে কী কারণে ওই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। জানা গেছে, আকারিগুয়া নামের ওই কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ২৫০ জনের। কিন্তু বর্তমানে ওই কারাগারে ৫৪০ জন বন্দি ছিলেন। ভেনেজুয়েলার কারা পর্যবেক্ষক হামবার্তো প্রাডো বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এছাড়া কারাগারে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, ওই পুলিশ স্টেশন কারাগারের কিছু বন্দি বৃহস্পতিবার কয়েকজন দর্শনার্থীকে জিম্মি করে। পরে স্পেশাল ফোর্সেস (এফএইএস) পুলিশ ওই ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে কারাবন্দিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় কারাগারে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। গত বছরের মার্চ মাসে, একটি পুলিশ কারাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৮ জন বন্দি নিহত হয়। এর আগে ২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলে একটি কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: আরো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানি বাহিনীগুলোর অব্যাহত হুমকি মোকাবেলায় সেখানে পনেরোশো সেনা পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রও মোতায়েন করা হবে। কংগ্রেসকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই সেনা মোতায়েন তুলনামূলকভাবে স্বল্প। যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে। এ মাসে ওমান উপসাগরে কয়েকটি তেলের জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এরপর ওই এলাকায় বিমানবাহী রণতরী এবং বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শানাহান বলেছেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা চেয়ে কমান্ডারদের অনুরোধের তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এই পদক্ষেপ হলো ইরানিয়ান সেনাবাহিনী, আইআরজিসির অব্যাহত হুমকির মোকাবেলায় এই সেনারা একটি রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করবে। আইআরজিসি হলো ইরানি রেভুল্যশনারি গার্ড কর্পস, সামরিক বাহিনীর একটি এলিট শাখা, যাদের গত মাসে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শানাহান বলছেন, প্রকৌশল দলের অংশ হিসাবে সেখানে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ও নজরদারি সরঞ্জাম এবং বিমান মোতায়েন করা হবে। একটি ফাইটার এয়ারক্রাফট স্কোয়াড্রন ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও পাঠানো হবে। শানাহান বলেন, ‘এটা ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাতে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়।’ এর আগে শুক্রবার সকালের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, `খুবই ছোট একটি বাহিনী` সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চাই এবং অতিরিক্ত সেনা এই নিরাপত্তায় কাজ করবে। তবে এর ফলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে হয় না যে, ইরান একটি যুদ্ধ চায়, এবং আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করি, তারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় না।’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এই মাস থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে, যখন ইরানের কাছ থেকে কেনাকাটা করা দেশগুলোকে দেওয়া ছাড় তুলে নেয় ওয়াশিংটন। ইরানের তেল বিক্রি শূন্যতে নামিয়ে আনাই ওই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য, যা দেশটির সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। ছয় জাতির সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে গতবছর পুনরায় ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এখন ঘোষণা দিয়েছে, ওই চুক্তিতে দেওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি তারাও স্থগিত করতে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি তেলে ট্যাংকারে অন্তর্ঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরে সৌদি আরবের দুইটি তেল পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা করে সাময়িকভাবে তেলের পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, যাদের সমর্থন করছে ইরান। ইরান এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট স্টাফের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল গিলডে এজন্য আইআরজিসিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

চীন পরাশক্তি হতে পারবে না: ট্রাম্প

  আমি যতদিন আছি ততদিন চীনের পক্ষে বিশ্ব পরাশক্তি হয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ফক্স নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় চীনের সঙ্গে তার দেশের বাণিজ্য যুদ্ধে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার যে অবস্থান রয়েছে চীন সেটি গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু নিঃসন্দেহে চীনের অবস্থা এখনো আমেরিকার মতো ভালো নয়। তিনি দাবি করেন, আমেরিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আটকে দিয়ে চীন আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যদি হিলারি ক্লিন্টন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচত হতেন তাহলে তার শাসনামল শেষ হওয়ার আগেই চীনের অর্থনীতি আমেরিকার চেয়ে বড় হয়ে যেত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিক ব্যবস্থা এইচএসবিসি সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে। চীনের অগ্রগতি ঠেকানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চীন থেকে আমদানি করার পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। অবশ্য চীনও আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ হলে ইরান ধ্বংস হবে: ট্রাম্প

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার সাথে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে। রোববার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, "ইরান যদি যুদ্ধ চায়, তাহলে সেটি হবে ইরানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।" তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি না দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করেছে। কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। কিন্তু এখন ট্রাম্পের বক্তব্যে সেখান থেকে সরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন যে তিনি আশা করেন ইরানের সাথে কোনো যুদ্ধ হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফও বলেন, যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি বাদশাহ সালমান ৩০ মে মক্কায় এক জরুরি বৈঠকে বসার জন্য আরব লীগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসি সদস্যদের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, "সংযুক্ত আরব আমিরাতে সমুদ্র সীমায় (সৌদি) বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের মধ্যে দুটো তেল ক্ষেত্রে হুতি সন্ত্রাসীদের হামলার" পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দু`দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেও, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এখনও ইরানের সাথে করা চুক্তি বজায় রেখেছে। বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক জনাথন মার্কাস বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন চান ইরানের সাথে করা এই পরমাণু চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাক। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার ফলে ইরানের অর্থনীতি দিনে দিনে সঙ্কটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য যেন ইরান তাদের তেল অন্য দেশের কাছে বিক্রি করতে না পারে। এছাড়া গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে সুসজ্জিত বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সূত্র: বিবিসি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াব না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ হবে না। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যখন তুমুল উত্তেজনা চলছে তখন এ মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ইউলি মাওরার সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাম্প। ১৯৮০ সালের ২১ মে’র পর থেকে সুইজারল্যান্ড সরকার ইরানে মার্কিন স্বার্থ দেখাশুনা করে আসছে। যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের আগে খবর বের হয়েছে যে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ যেসব যুদ্ধবাজ কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিজেই।  গত সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমস খবর দিয়েছে, বোল্টনের নির্দেশে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান ইরান-বিরোধী যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা পেশ করেছেন যার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা আরো এক লাখ ২০ হাজার সেনা পাঠাবে। এ খবরকে ট্রাম্প ভুয়া বলে উড়িয়ে দেন তবে কংগ্রেস বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। কংগ্রেসের দু দলের আইন প্রণেতারাই যুদ্ধ-পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বুঝতে হবে যে, তিনি একতরফাভাবে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না; যুদ্ধ ঘোষণার একমাত্র এখতিয়ার কংগ্রেসের। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি