ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৪৬:৪০, বুধবার

আদালতেই মারা গেলেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি

আদালতেই মারা গেলেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি

কায়রোতে একটি মামলার বিচার কাজ চলার মধ্যেই আদালত কক্ষে জ্ঞান হারানোর পর মারা যান মিশরের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ খবর প্রচার করেছে। সাতষট্টি বছর বয়সী এ সাবেক রাষ্ট্রপতি গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল সোমবার আদালতে এসেছিলেন এবং সেখানেই তিনি মারা যান। ফিলিস্তিনি হামাস গোষ্ঠীর সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগ রাখার অভিযোগ এনে ওই মামলা করা হয়েছিল। মিশরের ‘আরব বসন্ত’ নামে খ্যাত সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পর ২০১২ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল তার মাধ্যমে মোহাম্মদ মুরসি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা এবং মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। কিন্তু এক বছর পর থেকে তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয় এবং সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে। তখন থেকেই তিনি কারাবন্দী আছেন। মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার সমর্থক এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে মিশরের কর্তৃপক্ষ। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরের নেতা হন আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি। সিসি এখন দেশটির রাষ্ট্রপতি। সূত্র: বিবিসি এমএস/
মালিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১০০

কেন্দ্রীয় মালির একটি গ্রামে ডোগন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একশ’ জনের মতো নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর এখনও ১৯ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ওই হামলায় গ্রামটির মাত্র ৫০ জন মানুষ রক্ষা পেয়েছেন। সহিংসতা ঠেকাতে ওই অঞ্চলে বিমান সহায়তা পাঠিয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী। কর্তৃপক্ষ বলছে, মোবতি এলাকায় সানগা শহরের কাছে সোবামে দা গ্রামে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামটিতে মাত্র ৩শ জনের মতো মানুষ বসবাস করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের অনেকেরই শরীর পোড়া ছিল। এখনও নিহতদের খোঁজে কাজ চলছে। মালিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর কিছু হয়েছে গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে আবার কিছু ছিল জিহাদি গ্রুপের হামলা। সূত্র : বিবিসি এসএ/

আফ্রিকান ইউনিয়নে সুদানের সদস্যপদ বাতিল

সুদানে গত কয়েকদিনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হবার পর আফ্রিকান ইউনিয়ন সুদানের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। ইউনিয়ন বলছে, বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি অন্তবর্তী প্রশাসন গঠন না করা পর্যন্ত সুদানকে ইউনিয়ন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, এবং এটাই এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ। খবর বিবিসির। রাজধানী খার্তুমে কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে সরকার বলছে, তবে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা বলছেন নিহতের সংখ্যা শতাধিক। গত কয়েকদিনে সুদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে ব্যাপক হতাহতের খবর আসতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু বলেনি। গত কাল বুধবার খবর বেরোয় যে নিহতের সংখ্যা শতাধিক এবং খার্তুম শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নীলনদ থেকে বহু মৃত দেহ তোলা হচ্ছে। এসএফ নামের আধাসামরিক বাহিনীর লোকেরা - যাদের আগে জাঞ্জাওয়িদ মিলিশিয়া বলা হতো, প্রায় জনশূন্য রাজধানীর রাস্তাগুলোতে টহল দিচ্ছে এবং বেসামরিক লোকজনকে আক্রমণ করছে। সুদানের সামরিক কাউন্সিল বিক্ষোভকারীদের প্রতি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু বিরোধীদলীয় কর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, কর্তৃপক্ষ যেরকম সহিংস উপায়ে বিক্ষোভকারীদের দমন করার পথ নিয়েছে তাতে তারা এই সামরিক কাউন্সিলকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। সামরিক কাউন্সিলের ডেপুটি প্রধান মোহাম্মদ হামাদান ওই দমননীতিকে সমর্থন করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দুর্বৃত্ত এবং মাদকব্যবসায়ীরা ঢুকে পড়েছে, এবং তারা বিশৃঙ্খলা সহ্য করবেন না। শহরের বাসিন্দারা বিবিসিকে বলেছেন, তারা আতঙ্কিত অবস্থায় রাজধানীতে বাস করছেন। হাসপাতালগুলোর ডাক্তার ও নার্সরাও ভয়ে কাজ করতে আসছেন না। এরই মধ্যে আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে, যতদিন বেসামরিক নেতৃত্বাধীন একটি অন্তবর্তী প্রশাসন গঠন না করা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সুদানকে ইউনিয়ন থেকে সাসপেন্ড করা সহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন অবিলম্বে হত্যাকান্ডগুলোর তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বিক্ষোভ এবং সেনা-অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির ক্ষমতাচ্যুত হবার পর জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আল-বুরহান হচ্ছেন দ্বিতীয় সামরিক প্রশাসক। তার সাথে এর আগে বিক্ষোভকারীদের এক সমঝোতা হয়েছিল যে তিন বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময় পার হবার পর সুদানে নির্বাচন হবে। কিন্তু পরে জেনারেল বুরহান সে চুক্তি ভেঙে দিয়ে বলেন যে ৯ মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। একে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরেই সুদানের পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠেছিল। এমএইচ/

সুদানে সামরিক বাহিনীর গুলিতে নিহত শতাধিক

সুদানের রাজধানী খার্তুমে সামরিক বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে অন্তোত শতাধিক সুদানি নিহত হয়েছেন।  দেশটির সামরিক বাহিনীর সদর দফতরের সামনে অবস্থানরত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর ট্রানজিশনাল মিলিটারি কাউন্সিল (টিএমসি) বাহিনীর হামলায় এ ঘটনা ঘটে। দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদরদফতরের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর সামরিক বাহিনীর ওই হামলার পর পাশের নীল নদ থেকে ৪০টি লাশ উদ্ধারের দাবি করেছে বিক্ষোভরত বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। নিহতরা সবাই বিরোধী দলের বলে দাবি করেছে সেন্ট্রাল কমিটি অব সুদান ডক্টরস (সিসিএসডি)।   গত সোমবার খার্তুমে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচিতে ওই হামলার পর বুধবার রাতে সিসিএসডি এ খবর জানায়। এর আগে হামলায় ৬০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১০০ জনে। দীর্ঘদিন থেকে দারিদ্র্যতায় পিষ্ট সুদানে গত বছর থেকে তেল ও রুটির দাম বাড়ানোয় দেশটির প্রেসিডেন্ট বশির আল ওমরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা ও সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ওমর। এতে করে সামরিক বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মাঝে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে, বিক্ষোভকারীদের এ আন্দোলন রুপ নেয় সরকার পতনের ডাক হিসেবে।   গত ৬ এপ্রিল থেকে খার্তুমে সামরিক বাহিনীর সদর দফতরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা। এসব ঘটনার জেরে ১১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট বশিরের পদত্যাগ ঘোষণা করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এতে আনন্দে মেতে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। তবে সে আনন্দ ছিল কিছু মুহূর্তের মাত্র। কারণ বশিরের পদত্যাগের পর ক্ষমতা নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। পরে সামরিক বাহিনীকে বশিরেরই অংশ হিসেবে দাবি করে ফের বিক্ষোভ করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। এদিকে, ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তবে, আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে বিক্ষোভকারীরা। তারা বলছেন, ওই প্রস্তাব আন্তরিক নয় কারণ নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ সপ্তাহেই তাদের অতর্কিত হামলায় অন্তত ৬০জন নিহত হয় বলে জানায় তারা। সুদানের প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসেফ আল মোস্তাফা বুধবার বলেছেন, জেনারেল আব্দুল ফাতাহ বোরহান আলোচনার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার মত নয়। কারণ, তার অধীনস্থ সেনারা সুদানী জনগনকে হত্যা করেছে এবং এখনও করছে। ১৯৮৯ সালে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থাকাকালে ওমর আল-বশির ‘অভ্যুত্থান’ ঘটিয়ে তৎকালীন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সাদিক আল-মাহদীকে উৎখাত করেন। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেন তিনি। সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান আই//  

নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলা, ২৫ সৈন্য নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গি গোষ্ঠী বোকোহারামের হামলায় ২৫ সৈন্যসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে বোর্নো রাজ্যের একটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার সময় এ হামলা হয় বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানা গেছে। খবর রয়টার্স ও টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। গত এক সপ্তাহে নাইজেরিয়ার সৈন্যের ওপর দুই ধাপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তোত ৫০ জন সৈন্য ও শতাধিক বেসামরিক লোক নিহত হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, জঙ্গিগোষ্ঠী বোকোহারামের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য সৈন্যরা ওই অঞ্চলের গ্রামগুলো খালি করছিল। এরই অংশ হিসেবে বোর্নো রাজ্যের একটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছিলে সৈন্যরা। এ সময় জঙ্গিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। বেসামরিকদের গাড়িবহরটিতে ৫০টির মতো গাড়ি ছিল। বোকোহারাম জঙ্গিরা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে সৈন্য এবং বেসামরিকদের বহনকারী গাড়িগুলো ঘিরে ফেলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই অঞ্চলে বোকোহারামের পাশাপাশি আরও কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠী এক দশক ধরে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এসব লড়াইয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ বিষয়ে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। এর আগে বুধবার ইসলামিক স্টেটের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার হামলায় ২০ সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী। সূত্রঃ রয়টার্স ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড আই//  

নাইজেরিয়ায় রোজার দিনে খাওয়ার অভিযোগে আটক ৮০

নাইজেরিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি শারিয়া আইনও আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। উত্তর নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে রমজানের দিন জনসম্মুখে খাওয়ার অভিযোগে ৮০ জনকে সীমিত সময়ের জন্য আটক করেছে দেশটির ইসলামিক শরিয়া পুলিশ। রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের যে কোনো ধরণের খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা। উত্তর নাইজেরিয়ার যেসব রাজ্যে ২০০০ সালের পর থেকে শরিয়া আইন কার্যকর করা হয়, কানো তার মধ্যে একটি। নাইজেরিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি শরিয়া আইনও আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। কানো রাজ্যের হিসবাহ মুখপাত্র আদামু ইয়াহইয়া জানান, আটককৃত ব্যক্তিদের সবাই মুসলিম ছিলেন। অমুসলিমদের যেহেতু ইসলামের নিয়ম-কানুন মানতে হয় না, তাই এই ধরণের অভিযানে কর্তৃপক্ষ অমুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করে না বলেও জানান ইয়াহইয়া। তিনি বলেন, আটককৃতদের কয়েকজন জানিয়েছেন যে তারা রমজানের চাঁদ নিজে না দেখায় রোজা পালন করেন না আর অন্যান্যরা অসুস্থতাকে রোজা না রাখার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ তাদের সবার যুক্তিকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। "প্রথমবার আইন ভাঙায়" আটককৃত ৮০ জনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ইয়াহইয়া। তাদেরকে সাবধান করে দেওয়া হয় যে, এরপর যদি তারা ধরা পড়ে তাহলে তাদের আদালতেও পাঠানো হতে পারে। যেসব মুসলিমরা রোজা রাখেন না, তাদের বিরুদ্ধে পুরো রমজান মাসই এধরণের অভিযান চলবে বলে হিসবাহ`র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

মিশরে দিনে স্বাধীন রাতে কারাবন্দি যারা

প্রতিদিন কায়রোর নিজের বাড়ি থেকে মিশরের দক্ষিণের প্রদেশ বানি সোয়েফ পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার যাত্রা করেন সামহি মুস্তাফা। কারণ আদালতের আদেশে আগামী কমপক্ষে পাঁচ বছর তার জন্য এই যাত্রা বাধ্যতামূলক। সামহি মুস্তাফা প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক একটি পুলিশ স্টেশনে কাটান। যাকে বলা হচ্ছে ‘সাপ্লিমেন্টারি পেনাল্টি’। আর আগে তিনি পাঁচ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। গত বছরই ছাড়া পেয়েছেন। মিশরে ইতোমধ্যেই জেল খেটেছেন এমন ব্যক্তিদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাড়তি শাস্তি হিসেবে এই ‘সাপ্লিমেন্টারি পেনাল্টি’ দেওয়া হচ্ছে। ২০১৩ সালে ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রচার এবং সেসময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসি বিরোধী এক বিক্ষোভ চলাকালীন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যদের সাহায্য করার অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী এই সাংবাদিকের কারাদণ্ড হয়েছিলো। মুসলিম ব্রাদারহুড এখন মিশরে একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী। ক`দিন আগে সামহি টুইটারে একটি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ির ছবি পোস্ট করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, রোজকার ২০০ কিলোমিটার যাত্রায় তিনি বেশ বড়সড় একটি সড়ক দুর্ঘটনাতে পড়েছিলেন। সেকারণে তিনি সেদিন তাকে দেওয়া বাধ্যতামূলক ‘সাপ্লিমেন্টারি পেনাল্টি’ পালন করতে বানি সোয়েফের সেই পুলিশ স্টেশনে যেতে পারেননি। দুর্ঘটনা সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে আবারো এক মাসে জেল দিয়েছে। মিশরে এরকম শাস্তি শুধু তিনি পাচ্ছেন এমন নয়। দেশটিতে শতশত বিরোধী মতাবলম্বী রাজনৈতিক কর্মীকে একই ধরনের সাজা দেওয়া হচ্ছে। এই সাজার মুশকিল হল - কোন ছোটখাটো অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আবার কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। খুব ভোরে কায়রোর একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে খুব মনমরা অবস্থায় এলোমেলো কাপড় পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রামি। এটি তার আসল নাম নয়। রামির শাস্তি হল আগামী তিনি বছর তাকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই পুলিশ স্টেশনে কাটাতে হবে। তিনি বলছেন, ‘এমন শাস্তির জন্য আমি কোন চাকরি করতে পারি না, আমার কোন পারিবারিক জীবন নেই। টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে গেছে।’ তিনিও সামহির মতো কারাগারে তিন বছরের মতো ইতিমধ্যেই কাটিয়েছেন। তার অপরাধ ছিল তিনি একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ২০ এর কোঠায় বয়স রামির কারাদণ্ড হওয়ার সাথে সাথেই তার কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি অর্থনৈতিকভাবে এখন পুরোপুরি পরিবারের উপর নির্ভরশীল। এই ধরনের শাস্তি আবার এক এক পুলিশ স্টেশনে এক এক রকম। যেমন রামি যেখানে রাত কাটান সেখানে তাকে হাজতে রাখা হয়না। কোন বিছানাও দেওয়া হয়না। থানার সাথে লাগোয়া একটি খোলা জায়গায় তাকে থাকতে হয়। খোলা আকাশের নিচেই রাতে ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন বেশিরভাগ রাত। নিজের খাবার নিজেকেই নিয়ে আসতে হয়। কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে আসতে পারবেন না। শুধু বই নিয়ে আসতে পারবেন। কিছু থানায় শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি কম্বল নিয়ে আসতে পারবেন। অনেক জায়গায় হাজতের ভেতরে বিছানায় তাদের থাকতে দেওয়া হয়। আবার অনেক জায়গায় রামির মতো তাদের থানার উঠানে রাখা হয়। মিশরে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এমন শাস্তিকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে উল্লেখ করেছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের বা সরকারের সমালোচকরাই মূলত এর শিকার হচ্ছেন। এর সংখ্যাও শত শত। শুধু গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২১৫ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে শওকান নামের একজন বিখ্যাত আলোকচিত্রী রয়েছেন। এই ধরনের নিপীড়নমূলক শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন আলা আব্দেল ফাত্তাহ। ব্লগার ও সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার ২০১১ সালের হোসনি মুবারক পতনের আন্দোলনের সময় প্রথম পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাকে গতমাসে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তাকেও কায়রোর একটি থানায় রোজ রাতে বারো ঘণ্টা কাটাতে হয়। এত নিপীড়নের মাঝেও তিনি অনলাইনে একটি প্রচারণা শুরু করেছেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর প্রথম যেদিন তাকে থানায় যেতে হয়েছে, সেদিনই তিনি এই ক্যাম্পেইন শুরু করেন। যাতে তিনি ‘#হাফ ফ্রিডম’ প্রচলন করেন। মুখ বন্ধ না করলে তাকে আবারো কারাগারে পাঠানো হবে বলে ইতিমধ্যেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিবিসির পক্ষ থেকে মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওদিকে আলা ফেইসবুকে লিখেছিলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হল আমি আসলে এখনো স্বাধীন নই।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

‘৮২ জন একরুমে, গোসল নাই তিন মাস’

লিবিয়া থেকে ছোট্ট নৌকায় চেপে খুবই বিপদংসকুল পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল তারা। সেই নৌকাডুবিতে যারা মারা গেছে, বলা হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশি। তিউনিসিয়ার একদল জেলে সাগর থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি। এদের এখন রাখা হয়েছে তিউনিসিয়ার উপকূলীয় শহর- জারজিসের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে। তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন কর্মকর্তা মঞ্জি স্লেমের মাধ্যমে অনেক চেষ্টার পর বিবিসি বাংলা এই বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। টেলিফোনে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা দুজন বাংলাদেশি বিবিসির কাছে বর্ণনা করেছেন, কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে, কীভাবে সাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে তারা ফিরে এসেছেন: সিজুর আহমেদ, সিলেট ঢাকা থেকে দুবাই। দুবাই থেকে ত্রিপলি। ছয় মাসে আগে যাত্রা শুরু করি। দালাল ধরে আসি। দালাল বলেছিল যে লিবিয়া থেকে লোকজন আবার ইটালি যাচ্ছে, তুমি কি যেতে চাও? বলেছিল, ওখানে লাইফ অনেক ভালো। আমি জমি বন্ধক রেখে সাত লাখ টাকা জোগাড় করে এখানে আসি। আমার সঙ্গে আমার মামাতো ভাই এবং খালাতো ভাইও ছিল। ওরা সাগরে মারা গেছে আমার চোখের সামনে। আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলাম। সেখান থেকে বাংলাদেশে এসে বেকার হয়ে পড়ি। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতে চাই নি। একদিন আমার চোখের সামনে আমার সামনের দোকানের লোক মারা গেল। ওর দোকানের মাল লুটপাট করে নিয়ে গেল। ভয়ে চলে আসলাম। লাইফে অনেক রিস্ক। সাগর পাড়ি দিতে যে কোন ঝুঁকি আছে, দালাল আমাদের সেটা বলে নাই। বলেছে, অনেক ভালো সুবিধা, অনেক ভালো লাইন হয়েছে। বলেছে জাহাজে করে একেবারে ইটালিতে পৌঁছে দেবে। কীসের জাহাজ? আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। তিন মাস রাখছে একটা রুমে, ৮২ জন বাঙ্গালি। একটা টয়লেট। আমাদের ঠিকমত খেতে দেয় না। তিনদিনে একদিন খাবার দেয়। মারধোর করে। গোসল করি নাই তিন মাস। আমরা ছিলাম দেড়শো জন লোক। একটি মাছ ধরা ট্রলারে করে আমাদের মধ্য সাগরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ছোট নৌকায় তোলা হয়। দুইটা নৌকা ছিল। একটা নৌকা শুনেছি ইটালি চলে গেছে। একটা নৌকায় তোলা হয়েছিল ৬০ জন। আর আমাদের নৌকায় তুলেছিল ৮০ জনের ওপরে। ছোট নৌকাটি পাঁচ আঙ্গুল পানির উপর ভেসে ছিল। ঢেউ উঠার সঙ্গে সঙ্গে নৌকা উল্টে গেছে। এরপর আমরা সাগরের পানিতে আট ঘন্টা সাঁতার কেটেছি। যে নৌকাটি উল্টে যায়, সেটি ধরে আমরা ভেসে ছিলাম। আমরা যে আশি জনের মতো ছিলাম, প্রতি পাঁচ মিনিটে যেন একজন করে লোক হারিয়ে যাচ্ছিল। এভাবে একজন একজন করে অনেক লোক হারালাম। আশি জন থেকে আমরা রইলাম আর অল্প কয়েকজন। সকাল হওয়ার পর দেখলাম আমরা মাত্র ১৪/১৫ জন লোক বেঁচে আছি। তখন হঠাৎ দেখি একটা মাছ ধরার ট্রলার। আমাদের মনে হলো আল্লাহ যেন আমাদের জন্য ফেরেশতা পাঠিয়েছে। আর যদি দশ মিনিট দেরি হতো আমরা সবাই মারা যেতাম। আমাদের হাত পা আর চলছিল না। আমরা সবাই মিলে `হেল্প, হেল্প` বলে চিৎকার করছিলাম। তারপর ওরা এসে আমাদের উদ্ধার করে। আমি এখন ভাবছি, এখান থেকে দেশে ফিরে গিয়ে কি করবো? দেশে তো অনেক টাকা-পয়সা লোকসান করে এসেছি। পরিবারকে পথে বসিয়ে এসেছি। এখন কোন মুখে দেশে যাব। মাহফুজ আহমেদ, গোলাপগঞ্জ, সিলেট ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে আমি রওনা দেই। বাংলাদেশ থেকে প্রথম দুবাই যাই। সেখান থেকে আম্মান। সেখান থেকে আবার যাই তুরস্ক। তারপর তুরস্ক থেকে লিবিয়ার ত্রিপলি। আমার আপন দুই ভাইও আমার সঙ্গে ছিল। আমরা দালালকে জনপ্রতি নয় লাখ টাকা করে দেই। আমার এই দুই ভাইকে বাঁচাতে পারিনি। ওরা মারা গেছে। আমরা বুঝতে পারিনি এই পথে এত বিপদ। দালাল বলেছিল, মাছের জাহাজে করে সুন্দরভাবে আমাদের নিয়ে যাবে। আমরা অনেক টাকা খরচ করেছি। তিন ভাই মিলে ২৭ লাখ টাকা। জমি বিক্রি করে, আত্মীয়-স্বজনের কাছে থেকে এই টাকা জোগাড় করি। এখন তো এই ভুলের মাশুল তো আর দিতে পারবো না। এখন আমি দেশে চলে যেতে চাই। যে দালালের মাধ্যমে আমরা আসি, তাকে আগে থেকে চিনতাম না। সিলেটে সাইফুল নামে এক লোক, সে আমাদের পাঠিয়েছে। বাকী দালালরা লিবিয়ায়। এরা সবাই বাংলাদেশি। এরা লিবিয়ায় থাকে। একজন দালালের নাম রুম্মান। একজনের নাম রুবেল। আরেকজনের নাম রিপন। এদের বাড়ি নোয়াখালি। এই দালালদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের ক্যাম্পেও আমরা ছিলাম। সেখানে আরও শ-দেড়শো বাংলাদেশি এখনো আছে। সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মাদারিপুর, ঢাকা- বিভিন্ন জায়গার লোক আছে সেখানে। এদের সঙ্গে আবার অন্যান্য দেশের দালালরাও ছিল। আমার ধারণা, যে পরিস্থিতির শিকার আমরা হয়েছি, কয়েক মাস পর এই বাংলাদেশিরাও সেরকম অবস্থায় পড়বে। আমি বাংলাদেশ সরকারকে এটা বলতে চাই, আমাদের যেন বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়। আমাদের যেন দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সাহায্য করে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রাণহানি

তিউনিসিয়ার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার দেশটির উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়,মর্মান্তিক ওই নৌকাডুবির পর অভিবাসীদের উদ্ধারে একটি মাছ ধরার নৌযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তিউনিস নৌবাহিনী। তারা সেখান থেকে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এছাড়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নৌকাডুবির শিকার যাত্রীরা আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

এই দেশে স্কুলে যাওয়া বিপদজনক, কিন্তু কেন?

স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষের এক পাশে জড়ো করে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের বসার চেয়ার এবং ডেস্ক। শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে তারিখ লেখা আছে ১৫ই ডিসেম্বর ২০১৮। স্কুলটিতে এরপর আর ক্লাস হয়নি। বুরকিনা ফাসো`র উত্তরে ফোবে শহর থেকে অল্প দূরত্বে এই স্কুলের অবস্থান। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক স্যামুয়েল সোয়াদোগো বিবিসিকে বলেছেন, এই এলাকায় একদল অস্ত্রধারির হামলার কারণে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। ‘হামলাকারীরা অনেক স্কুল পুড়িয়ে ফেলেছে। শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলার ঘটনার পর স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষক এবং কর্মীরা ভয়ে পালিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যখন একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়, তখন কেউ কিছুই করেনি। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে।’ বুরকিনা ফাসো`র উত্তর, সাহেল এবং পূর্ব-এই তিনটি অঞ্চলে ২৮৬৯টি স্কুলের মধ্যে ১১১১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে গত কয়েকমাসে। দেশটির উত্তরের এই অঞ্চলগুলো মালি এবং নাইজার সীমান্তের কাছে। আর এই সীমান্তে জিহাদি জঙ্গিরা তৎপরতা চালাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। জঙ্গিদের হামলার কারণে সেখানে একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে দেড় লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বুরকিনা ফাসোতে শতকরা ৫৮ভাগ শিশু প্রাথমিক স্কুল শেষ করতে পেরেছিল ২০১৬ সালে। যে দেশে ৪২ভাগ শিশুই প্রাথমিক স্কুল শেষ করতে পারে না, সেই দেশে স্কুল বন্ধ হয়ে থাকলে এর আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। যে সব এলাকায় স্কুল বন্ধ হয়েছে. এর অনেক স্কুলে হামলার জন্য টার্গেট করেছিল জঙ্গিরা। কারণ জঙ্গিরা পশ্চিমা শিক্ষার বিরুদ্ধে সেখানে তৎপরতা চালাচ্ছে। অনেক স্কুলের শিক্ষকরা নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির কারণে স্কুল বন্ধ রেখেছেন। তবে বিবিসি`র প্রতিবেদক ফোবে এলাকায় কিছু স্কুল খোলা পেয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। শেণিকক্ষগুলো ফাকা পড়ে আছে। অভিভাবকরা আতংক বা ভয় থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। এমন একটি স্কুলের একজন শিক্ষক বলেছেন, বিপদজনক পরিস্থিতির কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীদের আসা যে বন্ধ হয়ে গেছে, এর অনেক শিক্ষার্থীই হয়তো আর কখনও স্কুলে ফিরে আসবে না বলে তিনি মনে করেন। নিরাপত্তার হুমকি আছে, এরকম এলাকাগুলোর এক লাখের বেশি মানুষ শিশুদের নিয়ে বুরকিনা ফাসোর নিরাপদ জায়গায় ক্যাম্পে উঠেছেন। জঙ্গি হামলার ভয়ের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণের অনেকে ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। এই আশ্রয় নেওয়াদের বড় অংশ শিশু। তাদের জন্য ক্যাম্পেই জরুরি শ্রেণিকক্ষ করে সেখানে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদক সেই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেদিন গিয়েছিলেন, সেদিন অবশ্য তিনি জরুরি শ্রেণিকক্ষে শতভাগ উপস্থিতি দেখেছেন। জাতিসংঘ বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিশুদের স্কুল যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা না গেলে জঙ্গিরা শিশুদেরকেই নিয়োগের চেষ্টা করবে। বুরকিনা ফাসো`র সরকার বলেছে, নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বোকো হারামের হামলায় ১৪ কাঠুরে নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম জিহাদিদের হামলায় ১৪ কাঠুরে নিহত হয়েছেন। বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করার সময় তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বোকো হারাম বিরোধী মিলিশিয়ারা এ কথা জানিয়েছে। কাঠুরেদের লাশ নাইজেরিয়ার বর্নো রাজ্যের মোঙ্গুনো শহরের দুওয়াবায়ি গ্রামের জঙ্গলের মধ্যে পাওয়া গেছে। অপর কাঠুরেরা মঙ্গলবার রাতে লাশগুলো দেখতে পায়। আইএস অনুগত যোদ্ধারা এলাকাটিতে সক্রিয় রয়েছে। মোঙ্গুনোর বাসিন্দা কুলো গানা বলেন, ‘সন্ধ্যায় মোঙ্গুনোতে ১৪টি লাশ আনা হয়েছে। স্থানীয়রা লাশগুলোকে সনাক্ত করতে থানায় গেছে।’ অপর বাসিন্দা বুনামি মুক্তার বলেন, নিহতদের শরীরে ‘গুলির চিহ্ন’ রয়েছে। সূত্র: বাসস

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১ সদস্য নিহত

মালির মোপতির মিলান অঞ্চলে এক হামলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ‘মিনউসমা’র  একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই হামলায় আরোও ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত সেনা মিশরের নাগরিক বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির মোপতির মিলান অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী বহরের ওপর হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ঘরে তৈরি বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। অবশ্য জাতিসংঘ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে হামলাকারীদের ১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া,  ৮ হামলাকারীকে আটকও করা হয়েছে। নিহত সেনার পরিবার এবং মিশর সরকারের প্রতি শোক জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ ছাড়া, জাতিসংঘ বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধ অপরাধের পর্যায়ে পরে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীদের শনাক্ত করার এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য মালি সরকারের প্রতি বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আফ্রিকার দেশ মালির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন দিতে, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করতে এবং মানবাধিকার বজায় রাখার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে গঠিত হয়েছে ‘মিনউসমা।’ তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

সাপের ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

রাজনৈতিক বিরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপের মতো এরকম বিভিন্ন কারণে অনেক দেশের প্রেসিডেন্টকে তাদের কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অফিস ছাড়তে হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। বুধবার থেকে নিজের কার্যালয় বাদ দিয়ে বাড়ি থেকে রাষ্ট্রীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়েয়া। আর তার কারণ হল দুটো কালো সাপ। এর আগেও একবার কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টকে। এরপর আর ফিরতেই পারেন নি সেখানে। তার কারণ হল ২০০৬ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে প্রেসিডেন্টের দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে বসছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা স্মিথ টোবি জানিয়েছেন বুধবার ভবনটির অভ্যর্থনা এলাকার দেওয়ালের একটি গর্ত থেকে দুটো কালো সাপ বের হয়ে আসে। স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মচারীদের তোলা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুটি সাপ ধীরে ধীরে নড়ছে। আর সবাই ভয়ে দুরে দাঁড়িয়ে দেখছে। এখন সেগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। টোবি জানিয়েছেন গর্তে ধোঁয়া দিয়ে তাদের বের করে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলছেন অনেক পুরনো ভবন যার পানি বা পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে সাপ দুটি এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাপগুলো এখনো ভবনে আছে কিনা সেটিও বোঝা যাচ্ছে না। অন্তত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সবাইকে দুরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে সাপগুলো মারা না হলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়েয়া কার্যালয়ে ফিরবেন বলে জানাচ্ছেন টোবি। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি