ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:৩৭:৪৭, শুক্রবার

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১ সদস্য নিহত

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১ সদস্য নিহত

মালির মোপতির মিলান অঞ্চলে এক হামলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ‘মিনউসমা’র  একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই হামলায় আরোও ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত সেনা মিশরের নাগরিক বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির মোপতির মিলান অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী বহরের ওপর হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ঘরে তৈরি বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। অবশ্য জাতিসংঘ বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে হামলাকারীদের ১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া,  ৮ হামলাকারীকে আটকও করা হয়েছে। নিহত সেনার পরিবার এবং মিশর সরকারের প্রতি শোক জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ ছাড়া, জাতিসংঘ বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধ অপরাধের পর্যায়ে পরে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীদের শনাক্ত করার এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য মালি সরকারের প্রতি বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আফ্রিকার দেশ মালির রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন দিতে, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করতে এবং মানবাধিকার বজায় রাখার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে গঠিত হয়েছে ‘মিনউসমা।’ তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/
সাপের ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

রাজনৈতিক বিরোধ ও সামরিক হস্তক্ষেপের মতো এরকম বিভিন্ন কারণে অনেক দেশের প্রেসিডেন্টকে তাদের কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অফিস ছাড়তে হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে। বুধবার থেকে নিজের কার্যালয় বাদ দিয়ে বাড়ি থেকে রাষ্ট্রীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়েয়া। আর তার কারণ হল দুটো কালো সাপ। এর আগেও একবার কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টকে। এরপর আর ফিরতেই পারেন নি সেখানে। তার কারণ হল ২০০৬ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে প্রেসিডেন্টের দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে বসছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা স্মিথ টোবি জানিয়েছেন বুধবার ভবনটির অভ্যর্থনা এলাকার দেওয়ালের একটি গর্ত থেকে দুটো কালো সাপ বের হয়ে আসে। স্থানীয় গণমাধ্যমে কর্মচারীদের তোলা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুটি সাপ ধীরে ধীরে নড়ছে। আর সবাই ভয়ে দুরে দাঁড়িয়ে দেখছে। এখন সেগুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। টোবি জানিয়েছেন গর্তে ধোঁয়া দিয়ে তাদের বের করে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলছেন অনেক পুরনো ভবন যার পানি বা পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে সাপ দুটি এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাপগুলো এখনো ভবনে আছে কিনা সেটিও বোঝা যাচ্ছে না। অন্তত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সবাইকে দুরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে সাপগুলো মারা না হলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়েয়া কার্যালয়ে ফিরবেন বলে জানাচ্ছেন টোবি। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

সুদানের ক্ষমতা থেকে সরে গেলেন অভ্যুত্থান নেতাও

সুদানের ৩০ বছরের শাসক ওমর আল-বশিরকে সরিয়ে দেওয়ার পর যিনি সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের একদিন পরে তাকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ঘোষণায় পদত্যাগ করার এই তথ্য জানান সামরিক কাউন্সিলের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবন আউফ। সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রাহমান বুরহানকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে। সামরিক কাউন্সিলের প্রধান বশিরের ঘনিষ্ঠ দাবি করে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই পরিবর্তন এলো। সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ক্ষমতায় থাকতে চায় না এবং সুদানের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। দারফুর সংঘাতের সময় ইবন আউফ ছিলেন সুদানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান। ওই যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মি. বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কয়েকমাসের বিক্ষোভের জের ধরে ওমর আল-বশিরকে সরে যেতে হয়েছে। আন্দোলন চলার সময় অন্তত ৩৮জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

সুদানে ক্ষমতা দখল করলো সেনাবাহিনী

সুদানের গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সেনাবাহিনী উৎখাত এবং গ্রেফতার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার টিভিতে এক ঘোষণায় বলেছেন, একটি সামরিক কাউন্সিল দু’বছর মেয়াদের এক অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করবে এবং তার পর নতুন সংবিধানের আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বশিরের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ চলছিল এবং এসময় সহিংসতায় বেশি কিছু লোক নিহত হয়েছে। উনিশশো উননব্বই সালে ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির আরো কিছু ইসলামপন্থী সেনাকর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সুদানের সর্বময় ক্ষমতা দখল করেন। তিনিই হচ্ছেন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাকে উৎখাতের চেষ্টা এর আগেও হয়েছে - তবে তা সফল হয় নি। গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয় - তা প্রথমে ছিল দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে। তবে ধীরে ধীরে তা বশিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে পরিণত হয়। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ টিভিতে বলেন, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং জনগণ গরিব থেকে আরো গরিব হয়ে পড়ছিল। এই বিক্ষোভে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। জেনারেল ইবনে আউফ বলেন, ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একটি সামরিক কাউন্সিল দু`বছরব্যাপী অন্তর্বতী প্রশাসন চালাবে, এবং তার পর নতুন সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হবে। এ ছাড়া এক মাসব্যাপী কারফিউ এবং সব সীমান্ত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়। বলা হচ্ছে, ৭৫ বছর-বয়স্ক  বশিরকে গ্রেফতার করে গোপন স্থানে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টারের খবরে বলা হচ্ছে, খার্তুমের বিক্ষোভকারীরা অভ্যুত্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। একটি গ্রুপ বলছে, অন্তর্বর্তী সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার এই ঘোষণা তারা প্রত্যাখ্যান করছে, কারণ তারা বেসামরিক লোকদের দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চায়, সামরিক বাহিনীর লোকদের নয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

‘বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের সামিল’

লিবিয়ায় অশান্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাচেলে। লিবিয়ায় লড়াইয়ে লিপ্ত সব পক্ষকেই রক্তক্ষয় এড়ানোর আহ্বান জানান মিশেল ব্যাচেলে। বলেন, নাগরিকদের সুরক্ষায় সবাইকেই সর্বতোভাবে চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, গত সোমবার মিটিগা বিমানবন্দরের কাছে হামলার কারণে বহু মানুষ ত্রিপোলিতে আটকা পড়ে আছে। এ অবস্থায় সব পক্ষেরই বিষয়টি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো উচিত এবং বেসামরিক নাগরিক এবং স্কুল, হাসপাতাল এবং বন্দিশালাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রসঙ্গত, জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) জাতিসংঘ-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে রাজধানী ত্রিপোলি ছিনিয়ে নিতে অগ্রসর হওয়ায় দু’পক্ষের লড়াইয়ে অশান্ত হয়ে উঠেছে লিবিয়া পরিস্থিতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব মতে, তিনদিনের লড়াইয়ে ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৮১ জন। নিহতদের ৯ জনই বেসামরিক নাগরিক।

মেয়ের ধর্ষণকারীকে হত্যা করে এই নারী হয়ে গেলেন ‘সিংহী মা’

দক্ষিণ আফ্রিকায় নকুবঙ্গা কাম্পি নামে এক নারী পরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন ‘লায়ন মাদার’ অর্থাৎ ‘সিংহ মা’ হিসেবে। তার মেয়ের তিন ধর্ষণকারীর একজনকে হত্যা এবং বাকি দু`জনকে মেরে আহত করার পর লোকজন তাকে এভাবেই ডাকতে শুরু করে। এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছিল কিন্তু জনগণের প্রতিবাদের কারণে তার বিচার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এর ফলে এখন তিনি তার মেয়ের সেরে ওঠার ব্যাপারে তাকে সাহায্য করার সময় পেয়েছেন। নকুবঙ্গা কাম্পি কাছে যখন ফোনটা হলো তখন মধ্যরাত। ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। ফোনের ওপাশে তার মেয়ে সিফোকাজি। নকুবঙ্গার কাছ থেকে ৫০০ মিটার দূরে। সিফোকাজি তার মাকে জানালেন যে তিনজন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে এবং তাদেরকে তারা সবাই বেশ ভালো মতোই চেনে। খবরটা শুনে নকুবঙ্গা প্রথমেই তার মেয়েকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। কিন্তু ওপাশ থেকে তিনি কোন সাড়া পেলেন না। মা নকুবঙ্গা জানতেন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশের প্রত্যন্ত এই গ্রামটিতে পৌঁছাতে তাদের অনেক সময় লাগবে। সিফোকাজি ভেবেছিলেন এরকম একটা সময়ে সাহায্যের জন্যে হয়তো তার মা-ই একমাত্র আছেন, যিনি এগিয়ে যেতে পারেন। "আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি যেতে বাধ্য হলাম কারণ সে তো আমারই মেয়ে,’ বলেন মা নকুবঙ্গা। ‘আমি ভাবছিলাম যখন আমি পৌঁছাবো তখন হয়তো দেখবো সে মরে পড়ে আছে। কারণ সে তো ধর্ষণকারীদের চিনতো।’ ‘ওই লোকগুলো যেহেতু তাকে চেনে, সে কারণে ওরা নিশ্চয়ই আমার মেযেকে মেরে ফেলতো - যাতে সে ধর্ষণের ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে না পারে।’ সিফোকাজি কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা করতে ওই গ্রামেরই আরেকটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তার বন্ধুরা তাকে একা রেখে বাড়ির বাইরে চলে যায়। রাত দেড়টার দিকে আশেপাশের আরেকটি বাড়ি থেকে তিনজন মাতাল পুরুষ এসে তাকে আক্রমণ করে। নকুবঙ্গা যে বাড়িতে থাকেন তাতে বেডরুম ছাড়াও আছে আরো দুটো ঘর। ঘুম থেকে ওঠে তিনি কিচেনে গিয়ে সেখান থেকে একটি ছুরি হাতে নিলেন। ‘ছুরিটা আমি নিয়েছিলাম আমার নিজের জন্য। রাতের অন্ধকারে যখন রাস্তা দিয়ে ওই বাড়িতে হেঁটে যাবো, ভেবেছিলাম ওটা আমার জন্যে নিরাপদ হবে না। খুব অন্ধকার ছিল বাইরে। মোবাইল থেকে টর্চের আলো জ্বালিয়ে পথ দেখে দেখে আমাকে যেতে হয়েছিল।’ মা নকুবঙ্গা যখন ওই বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছালেন তখন তিনি মেয়ের চিৎকার শুনতে পেলেন। বাড়িটির বেডরুমে ঢোকার পর মোবাইল ফোনের টর্চের আলোতে তিনি দেখলেন সেই ভয়াবহ দৃশ্য - তার মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। ‘খুব ভয় পেয়ে যাই। কোন রকমে দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম তারা ওখানে কী করছে। আমাকে দেখে তারা আমার উপর আক্রমণ চালাতে ছুটে এলো। ঠিক ওই মুহূর্তে আমার নিজেকে বাঁচানোর কথা মনে হয়েছিল।’ তার পর কী কী হয়েছিল নকুবঙ্গা সে বিষয়ে আর বিস্তারিত বলতে চাইলেন না। এই মামলার বিচারের সময় বিচারক আদালতে বলেছিলেন, ‘নকুবঙ্গার সাক্ষ্য থেকে বোঝা যায় যে তিনি কতোটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। কারণ তিনি দেখতে পেলেন যে তার মেয়েকে তার চোখের সামনে ধর্ষণ করা হচ্ছে।’ ‘তিনি বলেছেন যে তিনজন পুরুষের একজন তার মেয়েকে ধর্ষণ করছিল, আর দু`জন প্যান্ট খোলা অবস্থায় পাশেই দাঁড়িয়েছিল। তারা অপেক্ষা করছিল তাদের পালা কখন আবার আসবে।’ বিচারক এম্বুলেলো জলওয়ানা বলেন, ‘তিনি যে খুব ক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন সেটা বোঝা যায়।’ এটা পরিষ্কার যে ওই পুরুষরা যখন নকুবঙ্গাকে আক্রমণ করে তখন তিনিও তার ছুরি দিয়ে পাল্টা আঘাত করেছিলেন। যখন তারা পালাতে উদ্যত হয় তখন তিনি ছুরি মারেন। তাদের একজন জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধর্ষণকারীদের দু`জন গুরুতর আহত হয় এবং অন্যজন মারা যায়। ওই লোকগুলো কতোটা আহত হয়েছিল নকুবঙ্গা সেটা দেখার জন্য ওই বাড়িতে আর অবস্থান করেন নি। বরং তার মেয়েকে নিয়ে চলে যান কাছেই এক বন্ধুর বাড়িতে। পুলিশ এসে নকুবঙ্গাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। তাকে নিয়ে যাওয়া হলো স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে। সেখানে একটি সেলে তাকে বন্দী করে রাখা হলো। ‘আমি শুধু আমার মেয়ের কথা ভাবছিলাম,’ বলেন তিনি, "তার কোন খবর ছিল না আমার কাছে। এটা এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা।’ মেয়ে সিফোকাজিকে ততক্ষণে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। সেখানে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলেন মায়ের যেন কী অবস্থা! আর খুনের কারণে মাকে কতো বছর জেলে কাটাতে হবে - সেটা ভেবে তিনি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। ‘তাকে যদি কারাগারে যেতে হয়ে, তার হয়ে আমি জেল খাটতে রাজি আছি,’ বলেন সিফোকাজি। মেয়ে সিফোকাজি এখন ওই রাতে তার ওপর চালানো হামলার খুব সামান্যই স্মরণ করতে পারেন। কিন্তু তিনি মনে করতে পারেন যে দুদিন পর তার মা হাসপাতালে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন। জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল মেয়ের সাথে দেখা করার জন্যে। এর পর থেকেই তারা দু`জনে একে অপরকে মানসিকভাবে সাহায্য দিয়ে আসছেন। ‘আমাকে কোন কাউন্সেলিং দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমার মা আমাকে সহযোগিতা করছেন। আমি সেরে উঠছি,’ বলেন সিফোকাজি। মা নকুবঙ্গা চান আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে। সেজন্যে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ‘আমি তো এখনও একজন মা এবং সে একজন কন্যা,’ বলেন তিনি। তারা এখন একসাথে হাসেন, কাঁদেন। সুখ দুঃখের গল্প শেয়ার করেন। মজাও করেন তারা। বলেন, সিফোকাজি বিয়ে করতে পারছে না কারণ বিয়ে হয়ে গেলে মা নকুবঙ্গাকে দেখার আর কেউ থাকবে না। নকুবঙ্গার আইনজীবী বুলে টনিস বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পর তিনি যখন তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, মনে হয়েছিল তারা জীবনের হাল ছেড়ে দিয়েছেন। ‘তাদের দারিদ্র এতোটাই প্রকট যে তারা ভাবছিল একজন জেলখানায় চলে গেলে আরেকজনের তখন কী হবে। তার পাশে তো দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না। বিচার ব্যবস্থা তাদের জন্যে - যাদের কাছে অর্থ আছে।’ তিনি যখন মা ও মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন তখন তারা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। তার মনে হলো ওই ঘটনা যেন তাদের মুখের কথাও কেড়ে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রচুর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বলা হয় যে দিনে গড়ে ১১০টির মতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং এই পরিস্থিতিকে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা দেশের জন্য জাতীয় সঙ্কট বলে উল্লেখ করেছিলেন। ইস্টার্ন কেইপ প্রদেশে, যেখানে সিফোকাজিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, দেশটির অন্যতম দরিদ্র এলাকা, বেকারত্বের হার ৪৫ শতাংশ। অন্য যে কোন জায়গার চেয়ে এই প্রদেশে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে বেশি। নকুবঙ্গা এবং সিফোকাজি যে গ্রামে থাকেন, সেই গ্রামেই ২০১৭/১৮ সালে ৭৪টি ধর্ষণের ঘটনা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়েছে। যে গ্রামে মাত্র ৫ হাজারেরও কম মানুষের বসবাস - সেখানে এই সংখ্যা খুবই বেশি। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

আরব বসন্তের ঢেউ কি সুদানেও লাগবে?

অর্থনৈতিক মন্দা আর উচ্চ খাদ্য মূল্য সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধ ক্ষোভকে উস্কে দিচ্ছে। ইসলামপন্থীদের সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে সুদানের ক্ষমতায় আসার পর এবারই তিনি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখোমুখি হলেন। বশিরের সমালোচকদের অবশ্য এবার উৎসাহিত করেছে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফলিকার পদত্যাগ। ব্যাপক বিক্ষোভের জের ধরে সামরিক বাহিনীর চাপের মুখে উত্তর আফ্রিকায় সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের অবসান ঘটেছে তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। সুদানে বিক্ষোভকারীদের একজন মুখপাত্র সারাহ আবদেল জালীল বলছেন, বুতেফলিকার বিদায় আফ্রিকায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সফলতার একটি লক্ষণ। অনেক বছর ধরেই সুদানের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতিতে আছে। একটি গৃহযুদ্ধের জের ধরে দক্ষিণ সুদান আলাদা হয়ে যায় ২০১১ সালে। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ তেল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয় খার্তুম। দেশটির সরকার ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করলেও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বলছে এটি দুই-শতাংশের বেশি হবেনা। দেশটিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বরে এবং এরপরে বেড়ে গেছে রুটি ও তেলের দাম। সুদানের সাংবাদিক জয়নব মোহাম্মদ সালিহ গণমাধ্যমকে বলছেন, ‘সুদানে মানুষজন ব্যাংকের চেয়ে ম্যাট্টেসের নিচে টাকা জমাতে পছন্দ করছে।’ গত শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের ৩৪তম বার্ষিকীতে বিক্ষোভকারীরা সেনা সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই এটা প্রেসিডেন্ট বশিরের পদত্যাগের দাবির দিকে মোড় নেবে। কারণ তার শাসন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। দুর্নীতির সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭২ নম্বরে। ‘সরকার প্রধান তেল খাত থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বশিরের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিক্ষোভকারীরা আশা করছে, বশিরের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে সমর্থন দেবে সামরিক বাহিনী যেটি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের পথ খুলে দেবে। রোববার নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈন্যরা পুলিশের টিয়ার শেল ও গুলি করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টার সময় বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করছেন। গত তিনমাস সেনাবাহিনী কার্যত সাইড লাইনে বসে আছে। নিয়মিত বাহিনী আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে এবং অনেককে আটকও করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ৫০ জনের বেশি মারা গিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এ সংখ্যা বলা হচ্ছে ৩২। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যম সারির সেনা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তবে শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো সরকারের প্রতি অনুগত। গত ফেব্রুয়ারিতে বশির কিছু সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে প্রভিন্সিয়াল গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং বছরব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছেন সারাদেশে। তিনি স্বীকার করেছেন যে চলমান বিক্ষোভের কিছু যৌক্তিকতা রয়েছে কিন্তু বলেছেন প্রতিবাদকারীদের জয়ের জন্য ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

লিবিয়ার সব পক্ষকে শান্ত হতে বলল রাশিয়া

লিবিয়ায় আরো রক্তপাত এড়াতে বিবদমান দু পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে যেন সেখানে শান্তি ফিরে আসে এবং বেসামরিক লোক যাতে মারা না যায়। এছাড়া, রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভ জানিয়েছেন, লিবিয়ার বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে মস্কো যোগাযোগ করছে যাতে সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক উপায়ে চলমান সংকটের সমাধান করা যায়। গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী রাজধানী ত্রিপোলি দখলের জন্য অভিযান চালালে নতুন করে দেশটিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হাফতার বাহিনীর অগ্রাভিযান রুখতে লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। এতে রোববার ত্রিপোলির কাছে প্রচণ্ড লড়াই হয়। ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণ-অভ্যুত্থানের পর ন্যাটো বাহিনীর হাতে সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গাদ্দাফির মৃত্যু মারাত্মক রকমের ক্ষমতার শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে এবং দেশটিতে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশসহ বহু সংখ্যক নিষিদ্ধ সংগঠন গড়ে উঠেছে। লিবিয়ায় এখন কার্যত দুটি সরকার বিদ্যমান। খলিফা হাফতারের নেতৃত্বে পূর্বাঞ্চলীয় তবরুক শহরভিত্তিক একটি সরকার এবং রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত আরকেটি সরকার। ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে ফায়েজ আল-সারাজ। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

মিশরের সমাধিক্ষেত্রে পাওয়া গেল ইঁদুরের মমি

মিশরে সমাধিক্ষেত্র থেকে সাধারণত হাজার বছর আগের সময়কার অভিজাত পরিবারের মানুষ ও তাদের সহচর বা কর্মকর্তাবৃন্দের মমি পাওয়া যায়। কিন্তু এবার মিশরের একটি কবর থেকে পাওয়া গেল কয়েকটি ইঁদুরের মমি। মিশরের সোহাগ শহরে ঐ সমাধিতে উদ্ধার হওয়া ইঁদুর ও আরো কয়কটি প্রাণীর মমিগুলো দুইজন মানুষের মমির পাশে ছিল। ওই সমাধিস্তম্ভের মধ্যে শেষকৃত্যের বিস্তারিত অংকন করা চিত্রকর্মও পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমাধিটি দুই হাজার বছরের বেশি পুরনো এবং ধারণা করা হচ্ছে মমি দুটি তৎকালীন রাজপরিবারের সিনিয়র কর্মকর্তা টুটু ও তার স্ত্রীর। অক্টোবরে অবৈধভাবে চোরাকারবারিরা এই সমাধি খনন করার সময় এটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। মিশরের কর্তৃপক্ষ অ্যান্টিকস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আশা কায়রো কাছে মরুভূমির মধ্যে আবিষ্কৃত এই সমাধি হয়ত নতুন করে এখানে পর্যটক আকর্ষণ করবে। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তফা ওয়াজিরি জানিয়েছেন, সমাধিক্ষেত্রটি ‘খুব সুন্দর ও রঙ্গিন।’ এবং ২০১১ সালে দেশটিতে আরব বসন্তের পর কায়রোর কাছে এই সমাধিক্ষেত্রগুলো আবিষ্কার হওয়াকেই সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে তিনি অভিহিত করেছেন। সমাধিক্ষেত্রের বাইরে একজন নারী ও এক কিশোরের মমি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছৈ। মমি করা নারীর বয়স মৃত্যুর সময় ৩৫ থেকে ৫০ বছর ছিল এবং কিশোরটির বয়স মারা যাওয়ার সময় ছিল ১২ থেকে ১৪ বছর। ২০১৮ সালে আবিষ্কার হওয়া প্রাচীন `নেক্রোপলিস` বা সমাধিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া গেছে বহু মমি, পাথরের তৈরি শবাধার ও অন্যান্য সামগ্রী, এবং একটি গলার হার -বলা হচ্ছে `এটি হলো মৃত্যুর পরের জীবন থেকে পাঠানো বার্তা।` সমাধির ভেতরে অন্তত ৫০টি মমি করা ইঁদুর, বিড়াল এবং পাখি পাওয়া গেছে। আর মূল্যবান সম্পত্তির মধ্যে দুর্লভ চিত্রকর্ম, এবং নানারকম উৎসবের রঙ্গিন মুখোশ। কায়রোর দক্ষিণে মিনিয়া শহরের কাছে এই পুরো প্রত্নস্থানটি এতই বড় যে তা পুরোপুরি খনন করতে পাঁচ বছর লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকটি পাত্র পাওয়া গেছে যাতে মৃতদের দেহের ভিতরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ মমি করে রাখা আছে। ওপরে লেখা আছে তাদের নাম ও পদ। এগুলো দেখতে হোরাস নামে এক প্রাচীন দেবতার চার পুত্রের মুখের মতো। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

রোয়ান্ডায় ১০০ দিনে যেভাবে হত্যা করা হয় ৮ লাখ মানুষ

রোয়ান্ডায় পঁচিশ বছর আগে তথা ১৯৯৪ সালে মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে  ৮ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল হুতু চরমপন্থিরা। তাদের শিকার ছিল সংখ্যালঘু টুটসি সম্প্রদায়ের মানুষজন, যারা ছিল তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও। রোয়ান্ডার বাসিন্দাদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই হুতু, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টুটসিরা দেশটির শাসন ক্ষমতায় ছিল। ১৯৫৯ সালে টুটসি রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করে হুতুরা। তখন হাজার হাজার টুটসি প্রতিবেশী যেসব দেশে পালিয়ে যায়, তার মধ্যে রয়েছে উগান্ডাও। নির্বাচিত টুটসির একটি দল বিদ্রোহী একটি বাহিনী গঠন করে যার নাম দেওয়া হয় রোয়ান্ডান প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (আরপিএফ)। ওই বাহিনী ১৯৯০ সালে রোয়ান্ডায় অভিযান শুরু করে এবং ১৯৯৩ সালে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলতে থাকে। ১৯৯৪ সালের ৮ এপ্রিল রাতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানা এবং বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট সাইপ্রিয়েন নটারিয়ামিনাকে বহনকারী বিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। তারা দুজনেই ছিলেন হুতু সম্প্রদায়ের। ওই বিমানে থাকা সবাই মারা যান। এই ঘটনার জন্য আরপিএফকে দায়ী করে হুতু চরমপন্থিরা এবং খুব তাড়াতাড়ি মানব হত্যার একটি সুপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ শুরু করে। আরপিএফের দাবি ছিল, ওই বিমানটিকে গুলি করেছে হুতুরাই, যাতে তারা গণহত্যার একটি অজুহাত তৈরি করতে পারে। অতি সতর্কতার সঙ্গে বিরোধী পক্ষের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকা মিলিশিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, এবং তারা গিয়ে তাদের সবাইকে পরিবারের সদস্যদের সহ হত্যা করে। তখন প্রতিবেশীরা প্রতিবেশীদের হত্যা করেছে। এমনকি অনেক হুতু স্বামী তাদের টুটসি স্ত্রীদের হত্যা করেছে। সেই সময় প্রত্যেকের পরিচয় পত্রে গোত্রের নাম উল্লেখ থাকতো। ফলে মিলিশিয়ারা রোড ব্লক বসিয়ে পরিচয় পত্র যাচাই করতো এবং টুটসিদের হত্যা করতো। বেশিরভাগ সময় এসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে ধারালো ম্যাচেটি (ধারালো ছুরির মতো) দিয়ে, রোয়ান্ডায় যা প্রায় সবার ঘরেই থাকে। হাজার হাজার টুটসি নারীকে আটক করে যৌন দাসী করা হয়। রোয়ান্ডার সমাজ সবসময়েই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, যার প্রশাসনিক কাঠামোকে অনেকটা পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে সরকারের উঁচু মহল থেকে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হয়। তখনকার সরকারি দল, এমআরএনডির একটি যুব শাখা ছিল - যাদের বলা হয় ইন্টেরাহামায়ি - যারা পরবর্তীতে মিলিশিয়ায় রূপ নেয় এবং যারা বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। স্থানীয় গ্রুপগুলোর হাতে অস্ত্র এবং হিট-লিস্ট তুলে দেওয়া হয়, যারা ভালোভাবে জানতো যে এসব মানুষকে কোথায় পাওয়া যাবে। হুতু চরমপন্থিরা একটি বেতার কেন্দ্র স্থাপন করে, যার নাম ছিল আরটিএলএম। ওই বেতার কেন্দ্র এবং পত্রিকার মাধ্যমে বিদ্বেষ মূলক প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হতো, মানুষজনকে ‘তেলাপোকা’ হত্যা করার জন্য বলা হতো, যার মানে টুটসিদের হত্যা করা বোঝানো হতো। যেসব নামী ব্যক্তিদের হত্যা করা হবে, তাদের নাম ওই রেডিওতে পড়ে শোনানো হতো। এমনকি চার্চের যাজক এবং নানদের বিরুদ্ধেও হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে, যাদের শিকার অনেক মানুষ সেসব চার্চে আশ্রয়ের জন্য গিয়েছিলেন। ১০০ দিনের হত্যাযজ্ঞে আট লাখ টুটসি আর প্রগতিশীল হুতুদের হত্যা করা হয়। রোয়ান্ডায় জাতিসংঘ এবং বেলজিয়ামের সৈন্য ছিল, কিন্তু গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘ মিশনকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। একবছর আগেই সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা নিহত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আর কোন আফ্রিকান জাতির লড়াইয়ের মধ্যে ঢুকতে রাজী ছিল না। দশজন বেলজিয়ান সৈনিক নিহত হওয়ার পর বেলজিয়ামের সব সৈন্য এবং জাতিসংঘের বেশিরভাগ সৈনিককে রোয়ান্ডা থেকে সরিয়ে আনা হয়। হুতু সরকারের বন্ধু ফরাসিরা তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সেনাদল পাঠায়। তারা পরবর্তীতে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করলেও অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় গণহত্যা বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। রোয়ান্ডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট পল কাগামে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তারা গণ হত্যাকারীদের মদদ দিয়েছে, যদিও প্যারিস ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সুসংগঠিত বাহিনী আরপিএফ উগান্ডার সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্রমেই রোয়ান্ডার বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। ১৯৯৪ সালের ৪ জুলাই এই বাহিনী রাজধানী কিগালির উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করে। তখন প্রতিহিংসার ভয়ে প্রায় ২০ লাখ হুতু-যাদের মধ্যে বেসামরিক লোকজন এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরাও ছিল- সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় আশ্রয় নেয়। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। অনেকে প্রতিবেশী তানজানিয়া এবং বুরুন্ডিতে আশ্রয় নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর আরপিএফ যোদ্ধারা হাজার হাজার বেসামরিক হুতু বাসিন্দাকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে কঙ্গোয় মিলিশিয়াদের ধরতে অভিযান চালানোর সময় আরো অনেক মানুষকে হত্যা করে। তবে আরপিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কঙ্গোয় যারা আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, তাদের সহায়তার বেশিরভাগই হুতু মিলিশিয়াদের হাতে পড়েছে। কঙ্গোর সেনাবাহিনী আর হুতু মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যে বাহিনীগুলো যুদ্ধ করছিল, তাদের সহায়তা করতে শুরু করে রোয়ান্ডার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আরপিএফ। রোয়ান্ডার সহায়তা পুষ্ট বিদ্রোহীরা কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসায় অভিযান শুরু করে এবং মোবুতু সেসে সেকো সরকারকে উৎখাত করে লরেন্ট কাবিলাকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসানো হয়। কিন্তু নতুন প্রেসিডেন্ট হুতু মিলিশিয়াদের দমনে ঢিলেমি করায় নতুন আরেকটি যুদ্ধের শুরু হয়, যাতে জড়িয়ে পড়ে ছয়টি দেশ। বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী খনিজ সম্পদ পূর্ণ দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য লড়াই শুরু করে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত চলা ওই লড়াইয়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। এখনো রোয়ান্ডা সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২০০২ সালে, যার অনেক আগে রোয়ান্ডার গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এজন্য দায়ীদের বিচার করতে পারবে না এই আদালত। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ওই হত্যাযজ্ঞের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিচারের জন্য তানজানিয়ার শহর আরুশায় একটি আদালত স্থাপন করে যার নাম `রোয়ান্ডার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত`। লম্বা এবং ব্যয়বহুল বিচারের পর গণহত্যার জন্য এ পর্যন্ত ৯৩জনের বিচার হয়েছে, যাদের অনেকেই ছিলেন হুতু সরকারের আমলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের সবাই হুতু সম্প্রদায়ের। গণহত্যায় অভিযুক্ত লক্ষাধিক ব্যক্তির বিচার দ্রুত করার জন্য রোয়ান্ডা সামাজিক আদালত তৈরি করে, যার নাম গাসাসা। সংবাদদাতারা বলছেন, বিচার শুরু হওয়ার আগেই অন্তত ১০ হাজার অভিযুক্ত কারাগারে মারা গেছে। ২০১২ সাল পর্যন্ত ১২ হাজার গাসাসা আদালত বসেছে। সাধারণত বাজার বা কোন গাছের নীচে এসব আদালত বসে, যারা প্রায় ১২ লাখ মামলার বিচার করার চেষ্টা করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্য বের করা, বিচার এবং পুনর্মিলন ঘটানো। রোয়ান্ডান ভাষায় গাসাসা মানে হচ্ছে একত্রে বাসা এবং আলোচনা করা। ছোট্ট ও বিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনের জন্য অভিনন্দন পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট কাগামে। তার নীতির কারণে দেশটির দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। তিনি রোয়ান্ডাকে একটি প্রযুক্তিগত কেন্দ্র বানানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজেও টুইটারে সক্রিয়। তবে তার সমালোচকরা বলেন, তিনি বিরোধিতা সহ্য করতে পারেন না। দেশে বিদেশে তার বেশ কয়েকজন বিরোধী অপ্রত্যাশিতভাবে মারা গেছেন। গণহত্যার বিষয়টি এখনো রোয়ান্ডায় খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং জাতি বা গোত্র নিয়ে কথা বলা বেআইনি। সরকার বলছে, বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা ছড়ানো বন্ধ করা এবং রক্তপাত বন্ধ করাই এর উদ্দেশ্য, যদিও অনেকে বলেন এর ফলে আসলে সঠিক পুনর্মিলন হচ্ছে না। কাগামের বেশ কয়েকজন সমালোচকের বিরুদ্ধে গোত্রগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, তাদের কোণঠাসা করার জন্যই এসব অভিযোগ। ২০১৭ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, যে নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৯৮.৬৩ শতাংশ ভোট। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

বাবার জমি ফিরিয়ে আনলেন আইনজীবী হয়ে

আইনি জটিলতায় জমির মালিকানা হারানোর ২৩ বছর পর নিজের ছেলের দক্ষতায় জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছেন উগান্ডার এক ব্যক্তি।১৮ বছর পড়ালেখা এবং আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর একজন আইনজীবী হয়ে বাবার বেদখল হয়ে যায়া জমি পুনরুদ্ধার করেছেন উগান্ডার জর্ডান কিনইয়েরা। সোমবার হাইকোর্টের দেয়া রায় তার পরিবারের পক্ষে যায়। কিনইয়েরা বলেন, তার বয়স যখন ৬ বছর, সেসময় তার পরিবার জমির মালিকানা হারায় এবং ওই ঘটনা তার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছিল। "আমি আইনজীবী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই অনেক পরে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল আমার শৈশবে দেখা ঘটনাগুলো।" কিনইয়েরা আরও বলেন, "জমি সংক্রান্ত বিরোধের আইনি কার্যক্রম চলার সময় আমার পরিবার যেই হতাশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, তা আমাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে।" ১৯৯৬ সালে প্রতিবেশীরা কিনইয়েরার বাবার নামে আদালতে অভিযোগ করে এবং মামলাটি প্রায় দুই দশক যাবত আদালতে বিচারাধীন ছিল। "সেসময় আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন। কাজেই আর্থিকভাবে তিনি খুব একটা সচ্ছল ছিলেন না। ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে তিনি মরিয়া ছিলেন।" "একজন মানুষ যখন মরিয়া থাকে এবং তার কিছু করার থাকে না, তখন ওই ব্যক্তির জন্য খুবই অমানবিক একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে আইনজীবী হওয়ার পেছনে।" কিনইয়েরা বলেন, "ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়া। আমার বাবার বর্তমান বয়স ৮২ এবং এই জমি দিয়ে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। তিনি যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকে শুরু করতে হবে তার সন্তানদের।" জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা উগান্ডায় ব্যাপক পরিমাণে ঘটে থাকে। আইনি প্রচারণা সংস্থা নামাতি`র তথ্য অনুযায়ী, জমিরা মালিকদের ৩৩ থেকে ৫০ ভাগই এরকম দ্বন্দ্বের ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত উগান্ডানদের অনেকে কয়েক বছর ক্যাম্পে থেকে ফিরে আসার পর আবিষ্কার করেন যে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। কিনেইয়েরা বলেন, এই সমস্যা এতই বিস্তৃত যে হাইকোর্টের একটি পূর্ণ শাখাই নিয়োজিত এই জাতীয় দ্বন্দ্ব মিটানোর জন্য।" তথ্যসূত্র: বিবিসি। এসএইচ/

সোমালিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত ১১

সোমালিয়ার মোগাদিসুতে গাড়ি বোমা হামলায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী মোগাদিসুর কাছে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার একটি হোটেলের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ওই এলাকায় প্রচণ্ড ধোয়ার সৃষ্টি হয় এবং পাশের দুটি রেস্টুরেন্ট ধবংস হয়ে যায়। ওই এলাকার আকাশ ধোয়ায় কালো হয়ে যায়। আইমিন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পরিচালক আব্দুল কাদির আদনান বলেন, এই হামলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। মোগাদিসুতে প্রায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দা হামলা করে থাকে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি সরকারের বিপক্ষে দীর্ঘ দিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে। এই এলাকাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী এলাকা ও ব্যস্ত সড়ক হিসিবে দেশটিতে পরিচিত। তথ্যসূত্র; আল জাজিরা। এসএইচ/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি