ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:১৮:৩৪, শুক্রবার

হারানো ইঁদুর খুঁজে দিল পুলিশ!

হারানো ইঁদুর খুঁজে দিল পুলিশ!

ইঁদুরটি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। একটি বাক্সে সেটিকে ভরে নিজের সঙ্গেই রাখতেন সব সময়। কিন্তু একদিন ইঁদুরটিকে রেখে শৌচাগারে যাওয়ার পর ফিরে এসে আর খুঁজে পাননি ৫৯ বছরের ক্রিস।তার হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীকে অবশেষে খুঁজে দিয়েছে পুলিশ! শুনতে অবাক লাগলেও ইঁদুর খুঁজে এনে দেওয়ার এই কাজ পুলিশই করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। গত বৃহস্পতিবার হারিয়ে যাওয়া ইঁদুরকে খুঁজে বের করে ক্রিসের হাতে তুলে দিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ বিভাগ। প্রিয় পোষ্য লুসিকে ফেরত পেয়ে মহা খুশি ক্রিস। লুসি হারিয়ে যাওয়ার পর ক্রিস ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো তাকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। লুসিকে ফিরে পাওয়ার আশায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টদেন তিনি। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকেও ভাল সাড়া পেতে শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লুসির ছবি ভাইরাল করে দেন ক্রিসের প্রতিবেশীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখেই বিষয়টি নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের নজরে আসে। এর পরই ইঁদুরটিকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। লুসিকে কীভাবে খুঁজে পাওয়া গেল? নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, “লুসিকে একা বসে থাকতে দেখে এক মহিলা তাকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়ি নিয়ে যান। পোষা হওয়ায় সম্ভবত সে বাধা দেয়নি বা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। কেউ ইঁদুরটিকে ফেলে রেখে গেছে, এই ভাবনা থেকে ইঁদুরটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই মহিলাই ইঁদুরটি আমাদের হাতে তুলে দেয়।’’ হারানো ইঁদুর খুঁজে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রিস। পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘লুসিকে খুঁজে পেতে সবাইকে অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেছি। ওকে খুঁজে পেয়ে খুব ভাল লাগছে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি জানি লুসিও আমাকে অনেক মিস করেছে।’’ তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/  
অস্ট্রেলিয়ার ডিম বালককে পুলিশের সতর্কতা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর বৈষম্যবাদী মন্তব্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ওই সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙা হয়েছিল। ওই সিনেটর তার আত্মরক্ষার তাড়না থেকে হামলাকারীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে পুলিশ। গতমাসে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিতর্ক ছড়িয়ে পরেছিল। এই ঘটনার জন্য দু`জনের কোনো একজনকে আইনের আওতায় আনা উচিত কিনা, এবং ইনের আওতায় আনা হলে কাকে আনা হবে। অ্যানিংয়েরে মাথায় ডিম ভেঙে ‘ডিম বালক’ উপাধি পেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করা ১৭ বছর বয়সী ঐ কিশোরকে পুলিশ সতর্ক করেছে, তবে জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে না। নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলার ঘটনায় সেখানকার মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করে এক বিবৃতি দেওয়ার পর অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়। গত সপ্তাহে ঐ মন্তব্যের জন্য অ্যানিংকে তিরস্কার করে অস্ট্রেলিয়ার সিনেট। এরপর টেলিভিশনে প্রচারিত হতে থাকা এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেটরের পেছন থেকে তার মাথায় ডিম ভাঙেন কিশোর উইল কনোলি। ঐ ঘটনার তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় অ্যানিংয়ের সমর্থকরা আক্রমণকারী বালককে প্রতিহত করার আগে সিনেটর নিজেও ঐ বালককে আঘাত করেন। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ঐ বালককে আঘাত করার অপরাধে সিনেটরকে ‘অভিযুক্ত না করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বোঝা যায় যে, ৬৯ বছর বয়সী সিনেটরের প্রতিক্রিয়া আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’ ডিম নিয়ে আক্রমণ করা কিশোরটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও তাকে `নুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক’ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেসময় ডিম দিয়ে আক্রমণ করার জন্য অনেকে ঐ কিশোরের সমালোচনা করলেও অনলাইনে তার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়। দ্রুতই তাকে ‘ডিম বালক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ঐসময় তার আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজন হতে পারে বলে একটি অনলাইন প্রচারণায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৪৩ হাজার পাউন্ড) বেশি অর্থ তোলা হয়। সেসময় বিনামূল্যে কনসার্টের টিকিট পাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সেলেব্রিটিদের দ্বারা প্রশংসিত হয় ঐ কিশোর। বিভিন্ন দেশের রাস্তায় আঁকা কিছু দেয়ালচিত্র বা ম্যুরালেও গুরুত্বের সাথে জায়গা পায় কিশোরটি। গতমাসে স্থানীয় গণমাধ্যম টেন নেটওয়ার্ককে কিশোরটি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি যে, আমি যা করেছি তা সঠিক কাজটি নয়।’ ‘তবে এই ডিমটি মানুষকে একত্রিত করেছে।’ সিনেটর অ্যানিং অবশ্য তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি; যদিও তার ঐ মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয় এবং তার পদত্যাগ চেয়ে তৈরি করা এক গণ আবেদনপত্রে ১৪ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে। তবে সিনেটের পক্ষ থেকে অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হয়। ‘ভয়াবহ অপরাধের দায় ভুক্তভোগীদের ওপর চাপানো এবং ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে দোষারোপ’ করার দায়ে তার বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করে সিনেট। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

ব্রেন্টনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কথা নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের উচ্চ আদালতের বিচারক ক্যামেরন ম্যানডার। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা তার স্বাস্থ্য যাচাই করে দেখবেন যে তাকে আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে কিনা বা তার মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে কিনা। ইতোমধ্যেই এই শ্বেতাঙ্গ ডান-পন্থি উগ্রবাদী হামলাকারীর বিরুদ্ধে ৫০ জনকে খুন এবং আরও ৩৯ জনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে বেন্টন। এই কারণে আলাদা আলাদা করে প্রতিটি হামলার জন্য তাকে অভিযুক্ত করেছে নিউজ়িল্যান্ডের পুলিশ। হামলার ঘটনার পরের দিনই প্রথম বার আদালতে তোলা হয়েছিল ব্রেন্টনকে। আপাতত কড়া নিরাপত্তায় তাকে অকল্যান্ডের একটি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

ব্রেন্টনের বিরুদ্ধে ৮৯ দফা অভিযোগ

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলায় অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন হ্যারিসন ট্যারান্টের বিরুদ্ধে ৮৯ দফা অভিযোগ আনতে চলেছে। প্রথমে তারা জানিয়েছিল, ব্রেন্টনের বিরুদ্ধে সার্বিক ভাবে খুনের একটিই মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আজ তারা জানিয়েছে, কাল ব্রেন্টনকে যখন দ্বিতীয় বারের জন্য আদালতে তোলা হবে, তখন তার বিরুদ্ধে ৫০টি খুন ও ৩৯টি খুনের চেষ্টার মামলা আনা হবে। ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে মেরে ফেলে ২৮ বছরের ওই অস্ট্রেলীয় যুবক। আহত হন ৩৯ জন। আলাদা আলাদা করে প্রতিটি হামলার জন্য এখন তাকে অভিযুক্ত করতে চাইছে নিউজ়িল্যান্ডের পুলিশ। হামলার ঘটনার পরের দিনই প্রথম বার আদালতে তোলা হয়েছিল ব্রেন্টনকে। আপাতত কড়া নিরাপত্তায় তাকে অকল্যান্ডের একটি জেলে রাখা হয়েছে। ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কাল ফের এই হামলার শুনানি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, কালকের শুনানি নিয়ে কড়া নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমপক্ষে ২৫টি সংবাদ সংস্থা গোটা বিচার প্রক্রিয়া ‘কভার’ করার অনুরোধ জানিয়েছিল বিচারকের কাছে। কিন্তু তিনি প্রতিটি সংস্থাকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিচার কক্ষে কোনও চিত্রসাংবাদিকের উপস্থিতিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই মামলার রিপোর্টও খুব সংযত ভাবে লিখতে বা প্রচার করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছে পুলিশ। এ দিকে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার পরে তার পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক দুনিয়া। এ হেন নিউজ়িল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডের্নের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিব্বতের ধর্মগুরু দলাই লামাও। নায়দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ক্রাইস্টচার্চ কাণ্ডের পরে আর্ডের্ন অহিংসার পথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন। এদিকে আর্ডের্নের মানবিক মুখও নজর কেড়েছে নেটদুনিয়ায়। হেলেন বার্নেস নামে এক জন টুইটারে জানান, টাকার ব্যাগ আনতে ভুলে গিয়েছিলেন  তার বন্ধু। সঙ্গে ছিল দুই সন্তান। শেষ পর্যন্ত ওই মহিলার মুদিখানার বিল মেটালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

চীনে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

চীন সফরে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার এ সফর। খবর রয়টার্সের। আজ সোমবার চীন ভ্রমণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে তার চীন সফরে কথা রয়েছে। এ সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও জানান।তবে আগামী রোববার তিনি চীন সফর করবেন বলে জানান। যদিও গত বছরের শেষের দিকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন চীন সফরে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কখন সফরে যাবেন তা জানাননি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার পর থেকে আলোচনায় এসেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডান, এমন ঘটনায় মুসলিমদের পাশে থেকে মোকাবেলার পর থেকে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। টিআর/

সম্প্রীতি ও ভালোবাসায় নিউজিল্যান্ড বাসীর বিরল দৃষ্টান্ত

শান্তির দেশ হিসেবে খ্যাত নিউজিল্যান্ড। শান্তির পাদভুমি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অবস্থিত আন নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে গত ১৫ মার্চ স্মরণকালের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হতবাক গোটা পৃথিবী।শোকে মুহ্যমান মুসলিম বিশ্ব। আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদে এমন নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড শুধু নিউজিল্যান্ডে নয়; পৃথিবীতেই বিরল। উগ্র বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর এ হামলায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫০ জন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন। অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তাঁরাও ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে এসব দেশের নাগরিকও রয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শোকে মুহ্যমান হয়ে পরেছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। মুসলমানদের প্রার্থনা গৃহে সন্ত্রাসী হামলার পর দুনিয়াজুড়ে শোক ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় বিভিন্ন দেশ ও দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সন্ত্রাসের বিপক্ষে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই নৃশংস হামলায় নিহতদের স্মরণে সেদেশের গির্জায় প্রার্থনা চলছে। বলতে গেলে এই রক্তের দাগ কিছুতেই ভুলতে পারছেন না নিউজিল্যান্ডের শান্তি প্রিয় জনগণ। ঘটনার এক সপ্তাহ পর আজ ছিল প্রথম জুমা। মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে নিউজিল্যান্ড সরকার সেদেশের বেতার এবং টিভিতে আযান সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। জুমার নামাজে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্নও রাস্তায় নেমে এসেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বজনের পাশে। মুসলমানদের ধর্ম চর্চায় অভয় দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের লাখো শান্তি প্রিয় মানুষ। শুক্রবার হামলাস্থল আল নূর মসজিদের কাছের একটি পার্কে নিহতদের স্মরণে হাজারো মানুষ জড়ো হন। এ শোকসভায় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্নও যোগ দেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে দেশটির রাষ্ট্রীয় রেডিও, টেলিভিশনে জুমার নামাজের আজান প্রচার ও এরপর দেশটি জুড়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এদিন মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য দেশটির অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পরেছেন। এই উপলক্ষে আল নূর মসজিদে জুমার নামাজের সময় সমবেত হন হাজার হাজার শোকাহত মানুষ। জুমার নামাজ শুরুর ঠিক আগে আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা ওই মসজিদে পৌঁছান। এ জুমার নামাজের ইমামতি করেন ইমাম গামাল ফৌদা। নামাজ শুরুর আগে তিনি বলেন, বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি-কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। সেই একই জায়গা থেকে তাকিয়ে আজ মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেলেও আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না। তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের প্রতিটি মানুষকে ধন্যবাদ। প্রত্যেকের চোখ দিয়ে যে অশ্রু পড়েছে তার জন্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ শোক প্রকাশ করার জন্য। ধন্যবাদ ফুলের জন্য। ধন্যবাদ তোমাদের ভালোবাসার জন্য। ধন্যবাদ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। ধন্যবাদ আপনার নেতৃত্বের জন্য। আজ এটা বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল। এ সময় মুসলিমদের উদ্দেশে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে শোকাহত, আমরা এক। কট্টর ডানপন্থি বর্ণবাদী মতাদর্শের মূল উৎপাটনের লক্ষ্যে বিশ্বের সব দেশের সম্মিলিতভাবে লড়াই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। উগ্র ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের উত্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, `নিউজিল্যান্ডে আমরা এ ধরনের মতাদর্শে বিশ্বাস করি না। নিউজিল্যান্ডের মানুষের সঙ্গে এ রকম মানসিকতা মেলানো হলে অধিকাংশ নিউজিল্যান্ডারকেই অপমান করা হবে।` তার মতে, এ ধরনের মানসিকতার মূল খুঁজে বের করে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে এমন মানসিকতা ছড়িয়ে পড়তে না পারে। আরডার্ন বলেন,আমি বিশ্বব্যাপী একটি আহ্বান জানাতে চাই। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় এখানকার মানুষ এমন এক ব্যক্তির সহিংসতার ভুক্তভোগী হয়েছে যে নিউজিল্যান্ডের বাইরে তার কট্টরপন্থি মতাদর্শের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং সেখানেই এর অনুশীলন করেছে। `আমরা যদি নিরাপদ ও সহনশীল একটি বিশ্ব চাই তাহলে সীমানার বিষয়ে চিন্তা করলে চলবে না।` শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, `আমাদের দেশে মানুষকে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বলেন, `নিউজিল্যান্ডকে যারা নিজের দেশ মনে করে তাদের স্বাগত জানাতে গিয়ে সে রকম (উগ্রপন্থি) মতাদর্শ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছি—এই ধারণা আমি প্রত্যাখ্যান করি।` ক্রাইস্টচার্চে হামলা চালানো বন্দুকধারীর নাম উচ্চারণ না করার ঘোষণায় অটল থাকার কথা জানিয়ে আরডার্ন বলেন, `সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের মাধ্যমে সে অনেক কিছুই হাসিল করতে চেয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল কুখ্যাতি। তাই আমরা কখনোই তার নাম উচ্চারণ করবো না।` নিউজিল্যান্ডে যেভাবে মুসলিমদের স্বাগত জানাচ্ছে- নিউজিল্যান্ডের মুসলমান নারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে আজ (শুক্রবার) সারাদেশ জুড়ে নারীরা একদিনের জন্য মাথা ঢেকে রাখবেন। `হেডস্কার্ফ ফর হারমনি`র আয়োজকরা বলছেন, কী ধরনের কাপড় মাথায় পরতে হবে, বা কিভাবে তা পরতে হবে, তা নিয়ে বিশেষ কোন নিয়ম-কানুন থাকবে না। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড বলছে,`হেডস্কার্ফ ফর হারমনি`র ধারণাটা প্রথম আসে অকল্যান্ডের একজন ডাক্তার থায়য়া আশমানের মাথায়। নিউজিল্যান্ডে মাথায় স্কার্ফ, বুকে গোলাপ নিয়ে নিরাপত্তায় নারী পুলিশ নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মাথায় ওড়না জড়িয়ে মুসলিম জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এবারও আরও একটি ঘটনা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়লো। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চের মেমোরিয়াল পার্ক সমাধিক্ষেত্রে একজন নারী পুলিশকে মাথায় ওড়না পরে এবং বুকে লাল গোলাপ নিয়ে পাহাড়া দিতে দেখা গেছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। নেটিজেনরা ওই নারী পুলিশের এই ছবিটিকে সংহতি,সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ একটি ছবি। জানা গেছে, ওই নারী পুলিশ সদস্যের নাম মাইকেল ইভানস। তিনি মাথায় কেলভিন ক্লেইন স্কার্ফ জড়িয়ে, বুকের ওপর লাল গোলাপ নিয়ে এবং বুশমাস্টার সেমি-অটোমেটিক রাইফেল হাতে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। ছবিটি তুলেছেন নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘স্টাফ’ এর ফটো সাংবাদিক আলডেন উইলিয়ামস। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা জীবনে অনেক পুলিশ সদস্যের ছবি তুলেছি। কিন্তু মাথায় হিজাব, হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল আর বুকে লাল গোলাপ- এর মতো অসধারণ সামঞ্জস্যের এরকম ছবি আগে কখনো দেখেনি। এমনকি ওই নারী পুলিশ সদস্য যদি এগুলোর যেকোনো একটি নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতো, সেটা হতো ভিন্ন কিছু।” তিনি বলেন,“অধিকাংশ গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে আসা মগরেল মবদের ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিল। তখন আমি আমি এই ছবিটি তুলি।” ছবিটি প্রথমে শেয়ার করা হয় ’স্টাফ’ এর লাইভ ব্লগে। সেখানে মুহূর্তেই এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। পরে সেটি ফটোগ্রাফার উইলিয়ামস তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্লাটফর্মে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ছবিটি এত পরিমাণে লাইক পায়, যা অন্য সবগুলো ছাড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। ছবিটি নিয়ে অনেকে কমেন্টও করেছেন। একজন লিখেছেন, “ছবিটি নিউজিল্যান্ডের সহিষ্ণুতা, সমবেদনা এবং মানবতার এক বলিষ্ঠ উদাহরণ।” আরেকজন লিখেছেন, “ছবিটি অবিশ্বাস্য, সুন্দর এবং শক্তিশালী।” মুসলিম নারীদের সাথে নিউজিল্যান্ডের মাওরি নারীর একাত্বতা। নির্যাতন আর বৈষম্যের প্রতীক মাথায় বেঁধে আপনারা এক হত্যাযজ্ঞের স্মরণ অনুষ্ঠান করছেন," অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "এটা ভুলে গেলে চলবে না।" অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. যাইন আলী বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মুসলিম নারীদের অবমাননা হবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু এর মাধ্যমে অন্য নারীদের কি অপমান করা হচ্ছে? না, কারণ কাউকে জোর করে মাথায় কাপড় দেয়ানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের নারীরা যদি মাথায় স্কার্ফ পরেন, তার মানে এই নয় যে সৌদি আরব বা ইরানে যা ঘটছে তারা তার সাথে একমত। দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে আলাদা করে দেখার পরিপক্বতা থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতদের জন্য ক্রাইস্টচার্চের গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা করা হয়। আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, এটি খুবই সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে আমাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। হামলার ঘটনাসহ দেশের অস্ত্র আইন সংস্কারের জন্য সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আমাদের দেশের অস্ত্র আইন পরিবর্তন করা হবে।   গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু`টি মসজিদে বন্দুকধারী সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্টের হামলায় ৫০ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। এখনও ৩৪ জনকে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ১২ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নৃশংসতার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের দরদি চেহারা বিশ্ব দেখেছে। একদিকে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাতকতে গ্রেপ্তার করতে পেরেছেন। অন্যদিকে হতাহতের ঘটনায় শোকার্ত মুসলিমদের তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন। অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের শোকের সঙ্গী হয়তো হতে পারব না। কিন্তু কথা দিচ্ছি, একসঙ্গে আমরা অনেকটা পথ হাঁটব।’ শুরু থেকেই পোশাকেও জেসিন্ডা থেকেছেন নির্মোহ। নিজেদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটিতে হাজির হয়েছেন হিজাব পরিধান করে। গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) জেসিন্ডা যেন হৃদয়ের জানালা খুলে দিয়েছেন। গত ১৫ মার্চের নৃশংসতার স্মরণে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জেসিন্ডা তাঁর বক্তব্য শুরু করেন আরবিতে ‘আসসালামু আলাইকুম (অর্থ : আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)’ বলে। শুধু তা-ই নয়, এদিন নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মের অনুসারীদের সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজ ধর্মের বেশে সংসদে প্রবেশ করেন। পরে প্রথমে মুসলিমদের জন্য সংসদে নামাজের ব্যবস্থা করে দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। এরপর বাকি ধর্মের অনুসারীরাও প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী উঠে গিয়ে সংসদে আসা মুসলিমদের সঙ্গে গত ১৫ মার্চ মসজিদে হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন। মুসলিম নারীদের বুকে টেনে নেন। এদিকে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার পরপরই দেশটির বিদ্যমান অস্ত্র আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে যে কেউ অস্ত্র কিনতে পারে। বয়স ১৬ বছর হলেই এ লাইসেন্স দেওয়া হয়। একবার লাইসেন্স হাতে পেলে একজন ব্যক্তি একাধিক অস্ত্র কিনতে পারে। এ নিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা আছে। তবে আশার কথা হলো, নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্র আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরই এ আইন সংস্কারের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। সব কিছু মিলিয়ে হামলা-পরবর্তী নিউজিল্যান্ডের সরকার, বিশেষত প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা গোটা বিশ্বের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী উগ্রপন্থী যুবক ব্রেনটন টারান্ট (২৮)। এর কিছু পরে ব্রেনটন কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালায় সে। দুটি হামলায় পাঁচ জন বাংলাদেশিসহ ৫০ জন নিহত ও আরও ৫০ জন আহত হয়। হামলার কিছুক্ষণ পরই ব্রেনটনকে আটক করে পুলিশ।   কেআই/      

হিজাব পরে মুসলিমদের পাশে নিউজিল্যান্ডের নারীরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরেছেন সে দেশের নারীরা। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নারীরা হিজাব পরে রাস্তায় নেমে আসেন। খবর রয়টার্স। অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া আশমান এ কর্মসূচির আহ্বান জানান। আশমান বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আমরা চাই আপনি ঘরের মতো রাস্তায়ও যেন নিরাপদবোধ করেন, আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি’। এ দিন জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের মানুষেরা আল নুর মসজিদের সামনে জড়ো হন। অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চের নারীরা হিজাব পরে ছবি তুলে তা প্রচার করছেন। অনেকের সঙ্গে তাদের সন্তানরাও ছিল। ক্রাইস্টচার্চের এক নারী বেল সিবলি বলেন, আজ কেন আমি হিজাব পরছি? আমার প্রথম কারণ হলো যদি কেউ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তাহলে আমি বন্দুকধারী যাকে লক্ষ্য করেছে তার ও হামলাকারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাধা দিতে চাই। আমি চাই না হামলাকারী পার্থক্য করতে পারুক। কারণ এখানে কোনও পার্থক্য নেই। অনেক মুসলিম নারী পর্দার অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে বের হলে মাথায় হিজাব পরেন। যদিও অনেকে এটা নারীর প্রতি নিপীড়ন উল্লেখ করে হিজাবের সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে মুসলিমদের প্রতি শোক ও সংহতি জানাতে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন কালো রঙের হিজাব পরে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার হামলায় নিহতদের দাফন করা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চ সমাধিস্থলে। সেখানে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও মাথায় স্কার্ফ রয়েছে। সম্প্রীতির জন্য মাথায় স্কার্ফ কর্মসূচির প্রধান র‍্যাচেল ম্যাকগ্রেগর জানান, তিনি যখন মাথায় স্কার্ফ পরে অফিসে প্রবেশ করেন তখন মানুষজনের তাকানোতে তিনি উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রথম আমি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলাম সংখ্যালঘু হওয়া ও সংখ্যাগরিষ্ঠরা যে পোশাক পরে না তা পরলে কেমন অনুভূতি হয়। ইসলামি পোশাক হিজাব ও নিকাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বেশ কিছু দেশ এগুলো নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিশেষ নিকাব। তবে অনেক দেশে নারীদের এসব পরার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসি  

হিজাব পরায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হামলার এক সপ্তাহ পূর্তিতে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করতে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। এ সময় হিজাবের মতো মাথা ঢেকে সবার সামনে আসেন তিনি। এই ঘটনায় মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে সারাবিশ্বের মন জয় করে নিলেও তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। নিউজিল্যান্ডের প্রধান সংবাদ মাধ্যম ওটাগা টাইমস এই খবর জানিয়েছে। দেশটির পুলিশ জানায়, ক্ষুদে ব্লগিং সাইট টুইটারে একটি বন্দুকের ছবি পোস্ট করে তার ক্যাপশনে লেখা হয় ‘পরবতী লক্ষ্য আপনি’। এর মাধ্যমে মূলত দেশটির প্রধানমন্ত্রীকেই হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিভিন্ন মানুষ ওই অ্যাকাউন্টটিতে রিপোর্ট করে। পরে টুইটার অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তার আগে অবশ্য হুমকি দেয়া ওই পোস্টটিও সরিয়ে ফেলে টুইটার। এরপর টুইটার ফিরতি টুইট করে জানায় ‘আমরা নিউজিল্যান্ডের পাশে আছি’। এদিকে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলার স্থানে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ হাজারো কিউই নাগরিক। মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেন তারা। অন্য ধর্মের নারীরাও মাথায় হিজাব পড়ে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।   এমএইচ/

মাথায় স্কার্ফ দিলেন নিউজিল্যান্ডের এই নারী পুলিশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মাথায় ওড়না জড়িয়ে মুসলিম জাতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মেমোরিয়াল পার্ক সমাধিক্ষেত্রে একজন নারী পুলিশকে মাথায় ওড়না পরে এবং বুকে লাল গোলাপ নিয়ে পাহাড়া দিতে দেখা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে এ অবস্থায় দেখা যায়। পরে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা ওই নারী পুলিশের এই ছবিটিকে সংহতি, সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ে এটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ একটি ছবি। ওই নারী পুলিশ সদস্যের নাম মাইকেল ইভানস। তিনি মাথায় কেলভিন ক্লেইন স্কার্ফ জড়িয়ে, বুকের ওপর লাল গোলাপ নিয়ে এবং বুশমাস্টার সেমি-অটোমেটিক রাইফেল হাতে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। ছবিটি তুলেছেন নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘স্টাফ’ এর ফটো সাংবাদিক আলডেন উইলিয়ামস। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা জীবনে অনেক পুলিশ সদস্যের ছবি তুলেছি। কিন্তু মাথায় হিজাব, হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল আর বুকে লাল গোলাপ- এর মতো অসধারণ সামঞ্জস্যের এরকম ছবি আগে কখনো দেখেনি।’ সাংবাদিক আলডেন উইলিয়ামস বলেন, “অধিকাংশ গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করতে আসা মগরেল মবদের ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিল। তখন আমি এই ছবিটি তুলি।” ছবিটি প্রথমে শেয়ার করা হয় ’স্টাফ’ এর লাইভ ব্লগে। সেখানে মুহূর্তেই এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়। পরে সেটি ফটোগ্রাফার উইলিয়ামস তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই প্লাটফর্মে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ছবিটি এত পরিমাণে লাইক পায়, যা অন্য সবগুলো ছাড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। ছবিটি নিয়ে অনেকে কমেন্টও করেছেন। একজন লিখেছেন, “ছবিটি নিউজিল্যান্ডের সহিষ্ণুতা, সমবেদনা এবং মানবতার এক বলিষ্ঠ উদাহরণ।” এমএইচ/

মুসলমানদের পাশে গোটা নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার এক সপ্তাহ পর আজ আল নূর মসজিদে জুমা নামায আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। ওই হামলায় শোক প্রকাশ করে মসজিদের কাছে হ্যাগলি পার্কে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন। সেখানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নও। নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানাতে আজ (শুক্রবার) দুপুর দেড়টার দিকে সকল প্রচারমাধ্যমে জোহরের আজান প্রচার করা হল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওতে সরাসরি জুমার নামাজও সম্প্রচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতাও পালন করেছে নিউজিল্যান্ডের মানুষ। এমনকি রেডিও, টেলিভিশনেও দুই মিনিট সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, জুমার নামাজের সময় হ্যাগলি পার্কের সমাবেশে জড়ো হয়েছিল প্রায় দশ হাজার মানুষ। মুসলমান রীতিতে কালো কাপড়ে মাথা ঢেকে প্রধানমন্ত্রী আরডার্নও সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় আধা ঘণ্টা। নামাজে আসা মুসলমানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিশ্বাসীরা (মুমিন) সবাই যেন একটি দেহের মতো। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো শরীরই যন্ত্রণায় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিউজিল্যান্ডবাসী আপনাদের মতোই শোকাহত। আমরা ঐক্যবদ্ধ।”   জুমার নামাজের ইমামতি করেন জামাল ফৌদা। সহানুভূতি প্রকাশের জন্য তিনি আরডানকে ধন্যবাদ দেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়ব না। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না কাউকে।” প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জামাল ফৌদা বলেন, এটা বিশ্বনেতাদের জন্য একটা শিক্ষা। হিজাব পরে আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ও পরিবারগুলোর প্রতি আপনার সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ। তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষের মাধ্যমে মুসলমানদের মানবিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। কাজেই ঘৃণা প্রচার ও ভয়ের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে এক উগ্র খ্রিস্টান জঙ্গির হামলায় ৫০ জন মুসল্লি নিহত। আহত হন অন্তত ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ জন রয়েছেন। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে এমএইচ/

আজানের ধ্বনিতে মুখরিত গোটা নিউজিল্যান্ড

এক শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর হামলায় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর আজ শুক্রবার দেশটিতে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আজান ও নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সে দেশের টিভিতে। এসময় আযানের ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা নিউজিল্যান্ড। দেশজুড়ে যখন আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডানসহ আহত ব্যক্তিরা মসজিদের বিপরীত পাশের পার্কে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। গত সপ্তাহে এ পার্ক থেকেই মসজিদের হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে। সাদা টুপি পরিহিত এক মুয়াজ্জিন দুপুর দেড়টায় আল্লাহু আকবার ধ্বনি তুলে আজান দেন। তখন কয়েক হাজার লোক ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কে ২ মিনিট নীরবতা পালন করেন। এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের ইমাম জামাল ফাওদা বলেছেন, দুটি মসজিদে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনা একদিনে ঘটেনি। কিছু রাজনৈতিক নেতা, সংবাদমাধ্যম এবং অন্যদের মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারের ফল হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড।-খবর গার্ডিয়ানের শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় তিনি বলেন, গত সপ্তাহের এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে, সন্ত্রাসবাদের কোনো রঙ নেই, বর্ণ নেই ও ধর্ম নেই। তিনি বলেন, শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদ ও উগ্রবাদ বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই যার অবসান হওয়া উচিত। ‘ইসলাম বিদ্বেষের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড। নিউজিল্যান্ডের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘৃণা প্রচার ও ভয়ের রাজনীতি পরিহার করুন।’ ক্রাইস্টচার্চে হামলায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। আজ শুক্রবার আল নুর মসজিদটি মেরামতের পর প্রথম জুমার নামাজ আদায় হয়েছে। এতে হাজার হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি