ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:০০:০৮, শুক্রবার

কাঁঠালে রয়েছে নানা রোগের সমাধান

কাঁঠালে রয়েছে নানা রোগের সমাধান

গ্রীষ্ম যতই বেদনাদায়ক হোক, ফলাহারের জন্য এর কোনও তুলনা নেই। গরমে ঘেমে গলদঘর্ম হয়ে তাই সামনে নানা ফলে সাজানো থালা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। যতই সুস্বাদু ফলের যোগান মেলে গরম কালেই। তা দিয়ে সুস্বাদু ডেজার্টেরও রমরমা ভালই। আর এই স্বাদের নিরিখে যে তিনটি গ্রীষ্মের ফল সবচেয়ে এগিয়ে থাকে, সেগুলি হল আম, লিচু আর কাঁঠাল। আম, লিচু নিয়ে অনেক বিলাসিতা থাকলেও, স্বাদে এগিয়ে থাকলেও কাঁঠাল একটু বঞ্চিতদের দলেই থাকে। এই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে কেউ তেমন ওয়াকিবহল নয়। তাই জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালে কী কী গুণ লুকিয়ে রয়েছে- #কাঁঠাল খেতে মিষ্টি। কিন্তু এই ফল খেয়ে ডায়াবিটিস বেড়ে যাওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই। বরং শরীরে শক্তি জোগাতে এর জুড়ি মেলা ভার। #কাঁঠাল ফাইবার-সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে। #এই ফলে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্টও ভাল থাকে। #এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন। চোখ ভাল রাখতে ভিটামিন এ যে অপরিহার্য, তা কে না জানে। #কাঁঠালে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকার ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। বলিরেখাও কমে। #কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি। তবে এতে কোনও রকম কোলেস্টেরল নেই। #কাঁঠালে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় যাঁরা ভুগছেন তাদের কাঠাল খাওয়া উচিত। #এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস এবং কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে। #উচ্চমানের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল কাঁঠাল। এতে ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই কাঁঠাল খেলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এমনকি ক্যানসার এবং টিউমারের বিরুদ্ধেও শরীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। #কাঁঠালে ক্যালশিয়াম থাকে যা হাড় শক্ত রাখে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/
কামরাঙা খেলে যে উপকার মিলবে

বেশি টক হওয়ার কারণে অনেকেই কামরাঙা খেতে না পারলেও কামরাঙার চাটনি বা আচার প্রায় সবাই ভালবাসেন৷ ভেজাল, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে শরীরের দফারফা হয়ে যাচ্ছে? ঠিক এই পরিস্থিতিতে মুশকিল আসান হতে পারে একটি ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে ম্যাজিক ফল এই কামরাঙা। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, ভিটামিন বি৯ অর্থাত্‍ ফলিক অ্যাসিডে ভরপুর কামরাঙা। যা হার্টের সমস্যার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কামরাঙায় আয়রনের পরিমাণ পাকা কাঁঠাল, কমলালেবু, পাকা পেঁপে, লিচু, ডাবের পানির চেয়েও বেশি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কম করা এবং হাইপারটেনশন দূর করতে কামরাঙার জুড়ি মেলা ভার। শুধু কামরাঙা ফলই নয়, কামরাঙা গাছের পাতাও খুবই উপকারি। কামরাঙায় রয়েছে এলাজিক অ্যাসিড, যা খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর পাতা ও কচি ফলের রসে রয়েছে ট্যানিন, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। সর্দিকাশিতে দারুণ উপকারি। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কামরাঙা চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আটকাতেও সাহায্য করে এই ফল। তাই সাধারণ ফল হলেও একটি ফলেই হতে পারে মুশকিল আসান। সূত্র: এই সময় একে//

চুলের হাজারো সমস্যা দূর করবে এই ১০ খাবার

চুল নিয়ে আট থেকে আশি সবারই কম বেশি সমস্যা রয়েছে। চুল পড়া থেকে শুরু করে চুলের ডগা ফেটে যাওয়া, শুষ্ক চুল, পাতলা চুল রুক্ষ চুল- হাজার সমস্যার শেষ নেই! আমাদের ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও অতিরিক্ত সময় এবং যত্নের প্রয়োজন হয় কারণ দূষণ, রাসায়নিকভাবে চাষ করা ফল এবং সবজি, দূষিত পানি, মানসিক চাপ, অনুপযুক্ত পুষ্টি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কম খাবার খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব সব মিলিয়ে প্রভাব পড়ে চুলের উপরে। ঘন ও সুস্থ চুল চাইলে আপনাকে রোজের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বেশ কয়েকটি খাবার! এই সুপারফুড বেশ কিছুকালের মধ্যেই চুলের মানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আনবেই- কুমড়ার বীজ কুমড়া বীজ দস্তা সমৃদ্ধ এবং এটি সেলুলার উত্পাদন, কোষ বিভাগ এবং বৃদ্ধি, চুল তৈরি করে এমন একটি প্রোটিন কেরাটিন গঠন করতে সাহায্য করে। অ্যাভোকাডো চুলের বৃদ্ধি ও ঘনত্বেরর জন্য এই ফলটি চমৎকার। কারণ এতে উচ্চ পরিমাণে তামা রয়েছে যা কোলাজেন এবং এলাস্টিন তৈরি করে। শেল মাছ, গোটা শস্য, গাঢ় সবুজ শাক, সবজি এবং মেথি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে যাতে চুলগুলো শক্তিশালী হয়। ডিম ডিম চুলের বৃদ্ধি উন্নীত করে। ডিম প্রোটিন এবং বায়োটিনের সংমিশ্রণ হওয়ায় তা চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর। ফ্যাটি মাছ ম্যাকেরেল, স্যালমন এবং হেরিং মত মাছ প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। স্যালমনে ভিটামিন ডি এবং প্রোটিনের থাকায় তা চুল শক্তিশালী করে, চুলের গোড়া মজবুত করে। বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসে ঠাসা বেরি চুলের জন্য দুর্দান্ত। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, এবং ক্র্যানবেরি; ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা কোলোজেন উত্পাদন এবং লোহার শোষণে সহায়তা করে, যা চুল বৃদ্ধি বাড়ায়। মিষ্টি আলু মাঝারি মাপের মিষ্টি আলুতে ভিটামিন এ-সরবরাহকারী পর্যাপ্ত বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন এবং চুলের উন্নতি দেখুন। শাক ভিটামিন এ এবং সি, লোহা এবং ফোলেটের মতো উপাদান থাকে শাকে। লাল রক্ত ​​কোষগুলোকে সারা শরীর জুড়ে অক্সিজেন বহন করতে সাহায্য করে এবং চুলের উন্নতি ও মেরামত করে। গাঢ় সবুজ পাতাতে পাওয়া ভিটামিন এ সিবাম উত্পাদন করতে সহায়তা করে, যা চুলের গোড়া স্বাস্থ্যকর রাখে। সয়াবিন সয়াবিনে থাকা স্পার্মিডাইন চুলের বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর। চুলের বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখতে চাইলে আপনার ডায়েটে নিয়মিত স্ট্যু, স্যুপ বা স্যালাড খান। তামার পানি ধাতব এবং খনিজ পদার্থ সব সময় শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। আগেকার দিনে মানুষ রূপা, সোনা, তামা ও কাঁসার তৈরি পাত্রেই খেত। সারা রাত যদি পানি কাঁসার গ্লাসে রাখা যায় তাহলে সকালে খালি পেতে সেই পানি খেলে চুলের বৃদ্ধি এবং শরীরের উপকার হয়। মাংস চুলের বৃদ্ধির জন্য একেবারে অপরিহার্য প্রোটিনের উৎস হল মাংস। বিশেষ করে রেড মিট লোহার সমৃদ্ধ উৎস, যা চুলের বৃদ্ধিকে সহায়তা করে। সূত্র: এনডিটিভি একে//

কোমল পানীয় ডেকে আনতে পারে আগাম মৃত্যু: হার্ভাডের গবেষণা

চিনি দিয়ে বা কৃত্রিম মিষ্টি দিয়ে তৈরি পানীয় আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ এসব খাবারের কারণে হৃদরোগ এবং কয়েক ধরণের ক্যান্সারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। নতুন একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। হার্ভাড ইউনিভার্সিটির টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের পরিচালিত ওই গবেষণাটি গতমাসে প্রকাশিত হয়। গত ৩০ বছর ধরে সারা বিশ্বের ৩৭ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার নারীর ওপর এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়, যেখানে দেখা গেছে যে, চিনি দিয়ে তৈরি হয়েছে এমন পানীয় খাওয়ার কারণে অন্য কোন কারণ ছাড়াই তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে গেছে। গবেষণা বলছে, এই জাতীয় পানীয় যত বেশি খাওয়া হবে, তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও ততই বেড়ে যাবে। গবেষক ও প্রধান লেখক ভাসান্তি মালিক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যারা মাসে একবার এরকম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে, তাদের তুলনায় যারা চারবার পর্যন্ত পান করে, তাদের আগাম মৃত্যুর ঝুঁকি ১ শতাংশ বেড়ে গেছে। যারা সপ্তাতে ২ থেকে ছয়বার পান করে, তাদের বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর যারা প্রতিদিন এক থেকে দুইবার চিনির পানীয় খায়, তাদের বেড়েছে ১৪ শতাংশ।’ ‘যারা প্রতিদিন দুইবারের বেশি এরকম চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে, তাদের আগাম মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়েছে ২১ শতাংশ।’ বিশ্বব্যাপী কোমল পানীয় খাওয়ার হার ওই গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা চিনি দিয়ে তৈরি পানীয় খেয়েছেন, তাদের আগাম হৃদরোগ এবং কিছু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক এই কারণে যে, সারা বিশ্বে এখন কোমল পানীয় পানের প্রবণতা বাড়ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর বলছেন, বিশ্বে এখন কোমল পানীয় পানের হার বছরে গড়ে জনপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯ লিটারে, যা পাঁচ বছর আগেও ছিল গড়ে ৮৪.১ লিটার। হার্ভাডের গবেষকরা বলছেন, ডায়েট কোমল পানীয় খাওয়া কিছুটা কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে কোমল পানীয়ের বাজারে তাদের অংশ খুবই কম। এরকম পানীয় পানের হার বছরে জনপ্রতি মাত্র ৩.১ লিটার। দেখা গেছে, বিশ্বে এখন কোমল পানীয় পানের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে চীন। বছরে দেশটির একজন নাগরিক এজাতীয় পানীয় গ্রহণ করে ৪১০.৭ লিটার। এরপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (৩৫৬.৮ লিটার), স্পেন (২৬৭.৫ লিটার), সৌদি আরব (২৫৮.৪ লিটার), আর্জেন্টিনা (২৫০.৪ লিটার)। এই পরিসংখ্যান হিসাবে চীনে একজন বাসিন্দার গড় কোমল পানীয় পানের হার প্রতিদিন এক লিটারেরও বেশি। ক্যালোরির হিসাবনিকাশ চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, একজন আমেরিকান প্রতিদিন চিনিযুক্ত পানীয় থেকে ১৫৭ ক্যালোরি গ্রহণ করে-যেটি এক ক্যান কোমল পানীয়ের চেয়ে একটু বেশি। যেমন কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৩০ মিলিলিটারের এক ক্যান কোকা-কোলায় ৩৫ গ্রাম চিনি রয়েছে, যা সাত চা চামচ চিনির সমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ হলো, প্রতিদিন ৫০ গ্রামের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু যখন ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল, তখন কোমল পানীয় খাওয়ার তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। চীনের একজন নাগরিক প্রতিদিন গড়ে ১৮৮ ক্যালোরি গ্রহণ করছেন। যদিও এই হিসাবটি ছিল দেশটিতে চিনির ওপর শুল্ক বাড়ানোর আগে। শুল্ক বাড়ার পর মাসে চিনির তৈরি পানীয় খাওয়ার হার কিছুটা কমেছে। বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে চিনি দিয়ে তৈরি পানীয়ের ওপর নানা ধরণের কর রয়েছে। এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই গবেষণা এটাই প্রমাণ করছে যে, আরো অনেক দেশের এরকম কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। হার্ভাডের পুষ্টিবিজ্ঞান বিষয়ক অধ্যাপক ওয়াল্টার উইলেট বলছেন, ‘এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিশু ও তরুণদের কাছে চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রচার সীমিত করা উচিত, সেই সঙ্গে সোডা জাতীয় পণ্যের ওপর কর বসানো উচিত। কারণ এ জাতীয় চিনির পানীয় খাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে যেসব রোগের শিকার হতে চিকিৎসা ব্যয় হয়, বর্তমান কোমল পানীয়ের মূল্য থেকে সেই খরচ আসছে না।’ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি বড় উদ্বেগ হলো যে, এই জাতীয় চিনিযুক্ত কোমল পানীয় প্রভাব শিশু এবং তরুণদের ওপর যেসব প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে স্থূলতার হার ১৯৭৫ সালেও ছিল ১১ মিলিয়ন, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৪ মিলিয়ন। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত কোমল পানীয় খেলে তার প্রভাব হতে পারে আরো ভয়াবহ। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

কমলা লেবুর ৫ উপকারিতা

কমলালেবুর রস এবং অন্যান্য সাইট্রাস ফলের রস স্বাস্থ্যকর, তাজা রাখে এবং ভিটামিন সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের দুর্দান্ত উত্স। তাজা কমলার রস মেজাজ ভালো রাখে এবং শক্তি বাড়ায়। ব্রেকফাস্টের সঙ্গে বা জিম করার পরে কমলার রসের কদরই আলাদা। কমলালেবুর রস ভিটামিন, পুষ্টি এবং অপরিহার্য খনিজগুলোর একটি চমৎকার ভাণ্ডার। স্বাস্থ্য এবং ফিটনেস উত্সাহীদের মধ্যেও তাই এটি একটি প্রিয় পানীয়। দৈনিক কমলালেবুর এক গ্লাস রস মারাত্মক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে? ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, কমলা রস প্রতিদিন খেলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে যায়। গবেষণার বলা হচ্ছে, প্রতিদিন যারা কমলার রস খান তাদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট হওয়ার ঝুঁকি ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তাদের হৃদরোগের হারও ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। ২০ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রায় ৩৫ হাজার পুরুষ এবং নারীদের উপর এই পরীক্ষা করা হয়। এখানে দেখুন কমলা লেবুর রসের কিছু অন্যান্য উপকারিতা- অনাক্রম্যতা বাড়ায় কমলালেবুর রস ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা আপনার অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে এবং ঠাণ্ডা লাগা, ফ্লু এবং অন্যান্য প্রদাহজনক রোগ থেকে রক্ষা করে। ত্বকের স্বাস্থ্য কমলালেবুর রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে ভরপুর। রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি যা ফ্রি র‍্যাডিকেল প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রি র‍্যাডিকাল আপনার ত্বক শুষ্ক করে, বলিরেখা বাড়ায়। কমলার রসে উপস্থিত ভিটামিন সি ত্বক ভালো এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। ওজন হ্রাস কমলার রসে ক্যালোরি অবিশ্বাস্যভাবে কম এবং চর্বিও নেই। আপনি অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাইলে এটি একটি চমৎকার বিকল্প। পুষ্টিবিদরা প্রায়ই একটি গোটা কমলার রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। শক্তিশালী হাড় কমলার মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অবিশ্বাস্য রকমের উপকারি। এছাড়াও কমলা লেবুতে নারিঞ্জেনিন এবং হেস্পিরিডিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েডস থাকে যা বিরোধী প্রদাহজনক এবং আর্থ্রাইটিস ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। কিডনির পাথর ডি কে পাবলিশিংয়ের ‘হিলিং ফুডস’ বই অনুসারে, কমলাতে সাইট্রেটের পরিমাণ বেশি, যার অর্থ কমলালেবুর রস ভেঙে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর ভাঙতে সাহায্য করে এবং কিডনি পাথরের কারণে ব্যথা থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে। সূত্র: এনডিটিভি একে//

ত্বকের ক্ষতির জন্য যে ৫ খাবার দায়ী

চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখতে চুল ও ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের অনেকেরই ধারণা, বর্তমানের মাত্রাতিরিক্ত দূষণের ফলে চুল ও ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল নয়। তবে দূষণ ছাড়াও আমাদের ত্বকের ক্ষতি করছে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকা বেশ কিছু খাবার যেগুলি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই তেমন কোনও ধারণা নেই! ফলে নিয়মিত ত্বক ও চুলের পরিচর্যার নানা আয়োজন থাকা সত্ত্বেও তার ক্ষতি হয়েই চলেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক যে খাবারগুলো ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর: ১) অতিরিক্ত চিনি দেওয়া খাবার বা মিষ্টি খাবার শরীরের মেদ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক করে তোলে। এর ফলে কপালে, চোখের কোনায় বলিরেখা দেখা দিতে পারে। ২) অতিরিক্ত মাত্রায় লবণ খেলে মুখ ফোলা দেখাতে পারে, থুতনির নিচে মেদ বাড়তে পারে। ‘দ্য ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষকদের মতে, প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি নুন খেলে ফুলে যেতে পারে চোখের কোল। ফলে মুখ ফোলা দেখাতে পারে। ৩) দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে চোখের কোল ফুলে উঠতে পারে, বাড়তে পারে থুতনির নিচে মেদ। এ ছাড়াও, ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা বাড়তে পারে যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ৪) গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার-দাবার (ময়দা জাতীয় খাবার। যেমন, পাউরুটি) অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে ত্বকের প্রকৃতি বদলে যেতে পারে। গালে, কপালে ব্রণ, ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। গ্লুটেন অ্যালার্জির ফলে ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। ৫) অ্যালকোহল বা মদ্যপানের ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। চোখ আর মুখের ফোলা ভাব বেড়ে যেতে পারে। ডবল চিন বা থুতনির নিচে অতিরিক্ত মেদও জমতে পারে। তথ্যসূত্র: জি নিউজ এমএইচ/

‘স্বাস্থ্যকর’ বলা হলেও অস্বাস্থ্যকার ৬ খাবার

অসুখবিসুখের ভয়ে ও স্বাস্থ্যকর জীবনের ঘেরাটোপে বাঁচতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার প্রবণতা বিশ্ব জুড়েই শুরু হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রভাবে ওবেসিটি, কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিস, ক্যানসার ইত্যাদির প্রবণতা দিনের পর দিন বাড়ছে। তাই অসুখ ঠেকাতে খাওয়ায় রাশ টেনেছেন অনেকেই। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার সরিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত যে সব খাদ্যকে ডায়েটচার্টে প্রবেশ করিয়েছেন, আপনার অজান্তেই তারা আদৌ কোনও ক্ষতি করছে না তো? ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে পরিচিত এমন অনেক খাবারের মধ্যে কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। যে সব অসুখ আটকাতে এদের খেয়ে চলেছেন, সে সব অসুখ ডেকে আনার পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা এরাই পালন করছে না তো? আপনার পাতেও ভুলবশত এই সব খাবারই উঠিয়ে নিচ্ছেন কি? তা হলে সাবধান হোন আজই। দেখে নিন, কোন কোন খাবার থেকে এ সমস্যা ছড়াতে পারে: স্মুদি ও শেক ফিট থাকতে অনেকেই নানা ফল, দুধ দিয়ে বানানো স্মুদি ও শেক পছন্দ করেন। কেউ বা সাপ্লিমেন্টের কবলে পড়ে নানা হেলথ ড্রিঙ্ক ও প্রোটিন শেকে অভ্যস্ত করেন নিজেকে। কিন্তু জানেন কি, লো ফ্যাট হলেও বাজারচলতি এই সব শেক ও স্মুদিতে অতিরিক্ত চিনি (অ্যাডেড সুগার) মেশানো থাকে, যা ডায়াবিটিস ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট। তাই এ সব না আঁকড়ে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মতো খাবার রাখুন তালিকায়। ড্রাই ফ্রুটস প্যাকেটজাত ড্রাইফ্রুটগুলিতে অতিরিক্ত নুন যেমন থাকে, তেমনই উচ্চ মাত্রার ক্যালোরি সম্পন্ন এ সব ফল ওজন বাড়ায়। ডেকে আনে ডায়াবিটিস। এমনিতেই শুকনো ফলকে কৃত্রিম উপায়ে টাটকা ফলের চেয়ে বেশি মিষ্টি করা হয়, তাই বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতাও তৈরি হয় আমাদের। ফ্রোজেন খাবার মাছ-মাংস প্রোটিনের চাহিদা মেটায়, নো কার্বস ডায়েটের অন্যতম সেরা হাতিয়ার এটি। কিন্তু প্যাকেটজাত মাছ-মাংস কিনে সে চাহিদা পূরণ হবে ভাবলে ভুল ভাবছেন। প্রিজারভেটিভস, অতিরিক্ত নুন এ সব এতে মেশানো থাকে, যা শরীরের নানা ক্ষতি করে ও রোগভোগ ডেকে আনে। ডায়েট নরম পানীয় ওজন বাড়ার ভয়ে সাধারণ নরম পানীয়র জায়গায় স্মার্টলি বেছে নিচ্ছেন ডায়েট পানীয়! ভাবছেন, এতে হয়ত ওজনকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু জানেন কি, এই ডায়েট পানীয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকায় তা রক্তে শর্করা বাড়ায়। ওজন বৃদ্ধিতেও এটি অত্যন্ত পারদর্শী। কৃত্রিম চিনি এটি চিনির চেয়েও ক্ষতিকর। এর মূল উপাদান অ্যাসপার্টেম ওজন বাড়ায়। আধুনিক গবেষণা তাই চিনি বিষয়টি থেকে দূরে থেকে রান্নায় মধু, গুড়, নারকেলের চিনি বা গুড়ের বাতাসা যোগ করতে বলেন। চিনির বিকল্প হিসাবে এগুলি অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু সুইটনার বা কৃত্রিম চিনির অভ্যাসে মানসিক তৃপ্তি ছাড়া আর কোনও উপকার নেই। সাপ্লিমেন্ট ও প্রোটিন বার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজের পছন্দ মতো বা বিজ্ঞাপনে দেখে কোনও সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিন বার কেনার আগে সাবধান। বাজারচলতি সব সাপ্লিমেন্ট বা প্রোটিন বার ভাল নয়। কোনটা খাবেন, কোনটা বাদ দেবেন এগুলি না জানলে বিপদ আপনার। এর অনেকগুলিতেই কৃত্রিম উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই তা ক্ষতি ডেকে আনে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

খাবারে রুচি বা অরুচি হয় কেন?

কিছু খাবার খেতে মানুষ খুব ভালোবাসে, আবার কিছু খাবার খুব অপছন্দ করে? বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, এরকম খাবারের স্বাদের পার্থক্যের বেশ কয়েক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আমাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে মানসিকতা এবং জীববিজ্ঞানের মতো বিষয়ও। এরকম কয়েকটি কারণ বিশ্লেষণ করা হলো সবচেয়ে বড় কারণ জিন স্বাদ এবং গন্ধের বিষয়টি ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করে। এজন্য দায়ী আসলে আমাদের ডিএনএ। আমাদের জেনেটিক কোড ঠিক করে দেয় কিভাবে কোন বার্তাটি নিয়ে আমাদের মস্তিষ্ক সেটি কিভাবে প্রক্রিয়া করবে। এর মানে হলো, প্রতিটি খাবারের ঘ্রাণ আমাদের একেক জনের ওপর একেকরকম প্রভাব ফেলে এবং আমরা সবাই আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখাই। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা ২০০৪ সালে আবিষ্কার করেন যে, ঘ্রাণ সনাক্তের বিষয়টি আসলে আমাদের জিনোমের ভেতরে রয়েছে, যা অন্যসব ক্ষেত্রের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ। এর ফলে ঘ্রাণ সনাক্তে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম আচরণ হয়। ফলে কেন সবাই একই ধরণের খাবার পছন্দ করেন না বা অপছন্দ করেন না, সেটার ব্যাখ্যাও সহজে মেলে। গন্ধ প্রতিরক্ষার বড় অস্ত্র আমাদের ঘ্রাণ বা গন্ধ সনাক্তের ক্ষমতাটি একসময় জীবন রক্ষাকারী হিসাবেই বিবেচিত হতো। পৃথিবীতে প্রথম দিকের মানুষরা তাদের ঘ্রাণ সনাক্তের ক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, তারা গন্ধ শুকেই ভালো ফলটি সনাক্ত করতে পারতেন আর খারাপটিকে বাদ দিতেন। খারাপ গন্ধ সনাক্ত করতে পারার ফলে সেটি পৃথিবীর ক্ষতির বা বিষাক্ত বস্তু থেকে মানুষকে দূরে রাখতো বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন। একই সময়ে মিষ্টি ঘ্রাণ সনাক্ত করতে পারার ফলে মানুষ সহজেই গ্লুকোজ বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের উৎস খুঁজে বের করতে পারতো- যা ছিল তাদের টিকে থাকার অন্যরকম উপায়। তখন তো আর এখনকার মতো প্রস্তুতকৃত খাবার পাওয়া যেতো না। ঘ্রাণের বিষয়টি জন্মের আগেই হয়তো  নির্ধারিত আমাদের স্বাদ গ্রহণের বিষয়টি অনেক সময় মনের ওপরেও নির্ভর করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে শিখে থাকি কোন খাবার পছন্দ করতে হবে আর কোনটি অপছন্দের। এটা শুরু হয়ে যায় মানব শিশু তার মাতৃগর্ভে থাকার সময় থেকেই। দুই হাজার বছরের পুরনো ফরাসি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের খাবার থেকেই পেটে থাকা শিশুটি নানা ঘ্রাণ চিনতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, পেটে শিশু থাকার সময় যে মায়েরা রসুন খেয়েছেন, সেই শিশুরা ঘ্রাণটি অনেক বেশি উপভোগ করে, সেসব শিশুর তুলনায়, যাদের মায়েরা রসুনের সংস্পর্শে আসেননি। ``দুই বছর বয়স পর্যন্ত আমরা সব কিছুই খেতে পারি,`` বলছেন অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী এলিজাবেথ ফিলিপস। এরপরে নতুন খাবারের বিষয়ে শিশুদের মধ্যে ভীতির তৈরি হয়। ``অভিভাবকরা হয়তো ভাবেন, তাদের সন্তান এই খাবারটি অথবা অন্যটি পছন্দ করে না। আসল ব্যাপারটি হলো, নতুন কোন কিছুই তারা পছন্দ করে না। অনেক সময় এই অপছন্দ পরবর্তী জীবনেও থেকে যায়। বিশেষ করে কোন খাবারের কারণে যদি আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন সেটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়।`` লিঙ্গের ভূমিকা খাবার পছন্দ অপছন্দের ক্ষেত্রের লিঙ্গ পরিচয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার আর পুরুষদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখতে পেয়েছেন। সংস্কৃতি, পরিবেশের কারণেই অনেক সময় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি যে, কি খাবো আর কি খাবো না। এরকম সিদ্ধান্তের সময়েও লিঙ্গ ভেদে খাবার পছন্দ আলাদা হয়ে থাকে। স্বাদ বদলানোর উপায় আছে এত কিছু সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে যে, মানুষ যে খাবারটি ভালোবাসে, সেটিই অপছন্দ করতে শুরু করলো অথবা যেটি অপছন্দ করে, সেটিই পছন্দ করতে শুরু করছে। কেন এমন হয়? যতই আপনি নানা ধরণের খাবার যাচাই করে দেখবেন, তখনি আপনার খাবারের ধরণ পাল্টানোর সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আবার কোন খাবার পছন্দ করতে আপনার মস্তিষ্ককে বোকা বানানোর মতো কৌশল অনেক সময় সহায়তা করে। যেমন সবজির মধ্যে চিনি দেয়া বা কোন খাবার বা পানীয়ের রং বদলে ফেলা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৮০ সালের একটি স্বাদ গবেষণায় দেখা গেছে, কোমল পানীয় খেয়েও চোখ বাধা অবস্থায় সেটিকে সনাক্ত করতে পারেননি। অথচ যখন তাদের দেখতে দেয়া হয়েছে যে, তারা কি খাচ্ছেন, তখন তারা সহজেই সেটি সনাক্ত করে ফেলেছেন। যখন একটি লেবু স্বাদের পানীয় কমলা রঙে পাল্টে ফেলা হয়, তখন ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ভাবছিলেন, এটা কমলা স্বাদের পানীয়। কিন্তু একই পানীয় স্বাদ অক্ষুণ্ণ রেখে যখন শুধু রং পাল্টে সবুজ রঙ করে ফেলা হয়, তখন সেই স্বাদ অংশগ্রহণকারীদের কেউ আর সনাক্ত করতে পারেননি। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

সহজে মেদ কমানোর ৫ উপায়

অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার মাধ্যমে আপনি কি ধীরে ধীরে মুটিয়ে যাচ্ছেন? আপনার ওজন কি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে? এ সমস্যা সমাধানে আপনি কিছু সহজ পদক্ষেপ অবলম্বন করতে পারেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে- ভিটামিন ডি ভিটামিন ডি-এর জন্য সূর্যালোকের উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় নেই। কাজের ফাঁকে রোদ লাগান শরীরে। সকালের হালকা রোদ যতটা গায়ে লাগাতে পারবেন, ততই ভিটামিন ডি-এর অভাব পূরণ হবে এবং ওজন কমার হার বাড়বে। বাইরের খাবার এড়ান ওজন কামাতে বাইরের খাবার বাদ দিন। বাইরের খাবারে থাকা অতিরিক্ত তেল আপনার শরীরকে মুটিয়ে তোলছে। এর মাধ্যমে আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগ সহজে বাসা বাঁধছে। বাড়িতে বানানো ডাল, সব্জি, মাছ-মাংস আপনার জন্য হতে পারে উত্তম খাবার। তবে চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম।   পানি অনিয়ম কাটাতে পানিকে অস্ত্র করুন। শরীরকে যত তাড়তাড়ি ডিটক্সিফাই করতে পারবেন, ততই ভাল। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানির জোগান দিন তাকে। প্রোটিন বাড়ির খাবারই খান, অসুবিধা নেই। খুব নিয়ম মেনে, কঠিন ডায়েট প্রথম থেকে না করে বরং খাবারের পাতে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দিন। তেল-মশলা কমিয়ে সেদ্ধ ডিম, ছোলা, বাদাম ইত্যাদি শুরু করুন ফের। মাছ বা মাংসের ক্ষেত্রে সরাসরি স্ট্রু তে না ফিরলেও হালকা ঝোল দিয়ে শুরু করুন নতুন অভ্যাস। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

মাছের ডিম খেলে মিলবে ৭ উপকার

মাছের ডিম খেতে কার না ভাল লাগে। অনেকে তো আবার মাছই কেনেন মাছের ডিম খাওয়ার জন্য। গরম ভাত আর ডালের সঙ্গে মাছের ডিম ভাজা থাকলে তাতেই যেন স্বর্গীয় সুখ। কিন্তু জানেন কি, মাছের ডিমের কত উপকারিতা? জেনে নিন মাছের ডিম খেলে কী কী উপকার পাবেন- ১. মাছের ডিমে ভিটামিন এ থাকার ফলে চোখ ভাল থাকে। ২. মাছের ডিম খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং হিমোগ্লোবিন বাড়ে। ফলে অ্যানিমিয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ৩. হাড় শক্ত হয়। কারণ মাছের ডিমের মধ্যে থাকে ভিটামিন ডি। ৪. ভিটামিন ডি থাকার ফলে দাঁতও ভাল থাকে। ৫. ভিটামিন ডি থাকার ফলে যাদের হার্টের অসুখ আছে, তাদের পক্ষেও মাছের ডিম ভাল। ৬. অ্যালঝাইমারের রোগীরাও মাছের ডিম খেতে পারেন, উপকার পাবেন। ৭. উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও এই খাবার খুব উপকারী। সূত্র: এবেলা একে//

গোলমরিচের যত গুণাগুণ!

সঠিক পদ্ধতি মেনে ওজন কমাতে যথেষ্ট সময় লেগে যায়। এমনটা নয় যে আপনি ক্র্যাশ ডায়েটের খপ্পড়ে পড়ে গেলেন আর দ্রুত ওজন কমিয়ে ফেললেন। সেটা কিন্তু পরে আপনার শরীরের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক ডায়েট। ভালো মেটাবলিজম বা হজমশক্তি ওজন কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে। বেশ কিছু খাবার আছে যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ওজন কমবে দ্রুত। কিন্তু শরীর থাকবে একদম সুস্থ ও ঝরঝরে। তেমনই একটি খাবার হল গোলমরিচ বা কালোমরিচ। রান্নাঘরে গোলমরিচ বহুল ব্যবহৃত হয়। তবে এটি যে হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় তা জানতেন? আসলে গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে, খিদে বৃদ্ধি করে, শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ফুসফুস ও ব্রঙ্কিয়ালের ইনফেকশন কমায়। এ ছাড়া স্ট্রেস ও শক কমাতেও এর জুড়ি নেই। গোলমরিচের থার্মোজেনিক এফেক্টের জন্য সঠিক মাত্রায় শরীরের ক্যালোরি ক্ষয় হয়। গোলমরিচ গোটা বা গুঁড়া উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। তবে বেশিদিন গুঁড়া করে রেখে দিলে এর গুণ নষ্ট হয়ে যায়। সর্বোচ্চ উপকার পেতে মধুর সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খেয়ে দেখুন। আর যদি অন্যরকম স্বাদ চান তাহলে আপনার ডেজার্ট পদে এক চিমটি গোলমরিচ মিশিয়ে নিন। এতে স্বাদও বাড়বে পুষ্টিও। সূত্র: এনডিটিভি একে//

দুধসাদা দাঁত ফিরে পাবেন যে উপায়ে

হাসি সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে। কিন্তু সেই হাসিতে কেবল প্রাণ থাকলেই চলে না, দাঁতকেও হতে হয় ঝকঝকে। তবেই সে ভুবনমোহিনী হাসির অধিকারী হতে পারেন আপনিও। দুধসাদা দাঁতের হাসি আর অপরিষ্কার বা হলুদ ছোপ ধরা দাঁতের হাসির মধ্যে ফারাক অনেক। নানা অসুখবিসুখ থেকে বাঁচতে বা চেহারার দিকে নজর দিতে গিয়ে যে পরিমাণ যত্ন আমরা করি, তার সিকি ভাগও দাঁতের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে করি না। দাঁতের যত্ন বলতে আমরা বুঝি স্রেফ দু’বেলা দাঁত মাজা, ভাল করে কুলকুচি করা। এর বাইরে আলাদা করে দাঁতের য়ত্নের কথা ভাবেন না অনেকেই। কিন্তু দাঁত ভাল রাখতে বছরে একবার স্কেলিং (স্কেলিংয়ে দাঁত নড়ে যায় এমন মিথে আস্থা রাখবেন না) বা ওয়াশের যেমন প্রয়োজন, তেমনই দাঁতের সাদা ভাব ধরে রাখাটাও খুবই জরুরি। ঘরোয়া কিছু উপায় মেনে চললে দাঁত যেমন ভাল থাকে, তেমনই এর সাদা রং টিকিয়ে রাখা যায় সহজেই। হলুদ ছোপ তুলে দাঁতকে ভাল রাখার সে সব উপায় জানেন? দাঁতের হলুদ ছোপ তুলতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও বেকিং সোডার মিশ্রণ খুব উপযোগী। দু’-টেবিল চামচ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা একসঙ্গে নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। সপ্তাহে দু’দিন এই মিশ্রণ দাঁতে লাগালে উপকার মিলবে অনেকটাই। নারকেল তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড মুখের লালার সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অক্সিজেনের অণু তৈরি হয়। এটি দাঁতের দাগ-ছোপ তুলতে সাহায্য করে। দু’ টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে সামান্য বেকিং সোডা ও কয়েক ফোঁটা পিপারমেন্ট তেল মিশিয়ে তা ব্রাশে লাগান। এই মিশ্রণ দিয়ে এক বেলা ব্রাশ করুন। দাঁতের সাদা ভাব সহজেই ফিরে পাবেন। পেয়ারা পাতা বেটে নিয়ে তার সঙ্গে বেকিং সোডা মিশিয়েও দাঁতে লাগাতে পারেন। কয়েক মিনিট রাখার পর ভাল করে ধুয়ে নিন এই মিশ্রণ। এটি মানতে পারলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাঁতের দাগ উঠে দাঁত সাদা হতে শুরু করবে। আনন্দবাজার এসি  

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি