ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৫৯:২৯, বুধবার

সর্দি-জ্বর থেকে রেহাই পেতে নাভির যত্ন নিন

সর্দি-জ্বর থেকে রেহাই পেতে নাভির যত্ন নিন

মাঝে দু’এক পশলা বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, বেড়েই চলেছে গরমের তীব্রতা। এই সময়টায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, এ্যাজমার পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। শুষ্ক ত্বক থেকে জ্বর-সর্দি, ট্যান, কালচে ছোপ ইত্যাদি আরও নানা সমস্যা একের পর এক বাড়তে থাকে। কিন্তু জানেন কি,সঠিকভাবে নাভির যত্ন নিতে পারলে শুষ্ক ত্বক, ত্বকের কালচে ছোপ, ব্রণ-ফুসকুড়ির মতো সমস্যা অনায়াসেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে! আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক... ১) দাগ বা কালচে ছোপহীন, উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে চান? তাহলে নিয়মিত নাভিতে আমন্ড তেল লাগিয়ে দেখুন। ফল পাবেন হাতেনাতে। ২) ত্বক যদি দীর্ঘ অযত্নের ফলে কালচে, নির্জীব হয়ে পড়ে, তাহলে নাভিতে পাতিলেবুর সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে বা লেমন অয়েল লাগিয়ে দেখুন। উপকার পাবেন। ৩) ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা সাদা দাগের মতো সমস্যা থাকলে নাভিতে লাগান নিম তেল। ফল পাবেন ম্যাজিকের মতো। ৪) শীতকাল এলেই বেশির ভাগ মানুষেরই ত্বক শুষ্ক আর রুক্ষ হয়ে পড়ে। এসময় নাভিতে নিয়মিত ঘি লাগাতে পারলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া সম্ভব। ৫)শীতকালে ফাটা ঠোঁটের সমস্যায় নিয়মিত নাভিতে সর্ষের তেল লাগান আর ফল পান হাতেনাতে। ৬)প্রচণ্ড গরমে গায়ে ঘাম বসে বা বর্ষায় ঠান্ডা লেগে সর্দি-জ্বর হয় অনেকেরই। এ ক্ষেত্রে অ্যালকোহলে তুলো ভিজিয়ে নাভিতে কিছু ক্ষণ দিয়ে রাখুন। দেখবেন অল্প সময়েই অস্বস্তি কমে যাবে, সেরে উঠবেন চটপট। ৭) ঋতুকালে বা মাসিকের সময় যে যন্ত্রণা হয় তা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে ব্র্যান্ডিতে তুলো ভিজিয়ে নাভিতে কিছুক্ষণ দিয়ে রাখুন। দেখবেন অল্প সময়েই কমে যাবে ঋতুর ব্যথা। (সূত্র:জি নিউজ) আই/কেআই/   
জেনে নিন জামের উপকারিতা

কালো রঙের ছোট ফলটির সঙ্গে আমাদের সবারই পরিচয় রয়েছে। অন্য সব মৌসুমি ফলের তুলনায় জামের স্থায়ীকাল কম। একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। স্বাদে কোনটি মিষ্টি আবার কোনটি টক-মিষ্টি। এর পুষ্টিগুণ অনেক। ফলটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশের সর্বত্র কম-বেশি পাওয়া যায়। জাম ভারতবর্ষ থেকে সারা দুনিয়াতে ছড়িয়েছে এবং বর্তমানে এটি সাবেক বৃটিশ উপনিবেশগুলোতে বেশ দেখা যায়। জাম সাধারণত তাজা ফল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এ থেকে রস, স্কোয়াশ ও অন্যান্য সংরক্ষিত খাদ্য তৈরি করা যায়। জামের পরিচিতি : ইংরেজি নাম Java plum, Jambul, Malabar plum. বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium cumini। জাম নানা দেশে নানা নামে পরিচিত, যেমন- জাম্বুল, জাম্ভুল, জাম্বু, জাম্বুলা, জাভা প্লাম, জামুন, কালোজাম, জামব্লাং, জাম্বোলান, কালো প্লাম, ড্যামসন প্লাম, ডুহাট প্লাম, জাম্বোলান প্লাম, পর্তুগিজ প্লাম ইত্যাদি। তেলেগু ভাষায় একে বলা হয় নেরেদু পান্ডু, মালায়ালাম ভাষায় নাভাল পাজহাম, তামিল ভাষায় নাভা পাজহাম এবং কানাড়া ভাষায় নেরালে হান্নু। ফিলিপাইনে একে বলা হয় ডুহাট। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- উদ্ভিদ, শ্রেণীবিহীন-সপুষ্পক উদ্ভিদ, শ্রেণীবিহীন- রোজিডস, বর্গ- মির্টালেস, পরিবার- মির্টাসিয়া, গণ- সিজিজিয়াম, প্রজাতি-এস. ক্যুমিনি। বিবরণ : এই ফলটি ১ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার লম্বা, প্রায় আয়তাকার। গাছ ১৪ থেকে ৬০ ফুট বা এর বেশিও লম্বা হতে পারে। পাতা সরল, বড়, চামড়া পুরু এবং চকচকে। গাছ চির সবুজ। চকচকে পাতা এবং চিরসবুজ হবার কারণে এর আলংকরিক মান বেশ ভালো। জাম গাছে মার্চ এপ্রিলে ফুল আসে। জামের ফুল ছোট এবং ঘ্রানওয়ালা। মে জুন মাসে ফল বড় হয়। ফলটি লম্বাটে ডিম্বাকার। শুরুতে এটি সবুজ থাকে যা পরে গোলাপী হয় এবং পাকলে কালো বা কালচে বেগুনি হয়ে যায়। এটি খেলে জিহ্বা বেগুনি হয়ে যায়। দুই জাতের জাম পাওয়া জায়। জাতগুলো হলো ক্ষুদি- খুব ছোট জাত এবং মহিষে- বেশ বড় ও মিষ্টি। এটি বর্ষাকালে পাওয়া যায়। ফলের গা কালো এবং খুব মসৃণ পাতলা আবরণ দিয়ে ঢাকা। ফলের বহিরাবরণের ঠিক নিচ থেকেই গাঢ় গোলাপী রংয়ের টক মিষ্টি শাস। প্রতি ১০০ গ্রাম পুষ্টিগত মান শক্তি ৬০ কিলোক্যালরী, শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২৩ গ্রাম, প্রোটিন ০.৭২ গ্রাম,  ভিটামিন এ ৩.০ আন্তর্জাতিক একক, থায়ামিন বি১ ০.০০৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন বি২ ০.০১২ মিলিগ্রাম, ন্যায়েসেন বি৪ ০.২৬০ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড বি৫ ০.১৬০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, লোহা ০.১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, পানি ৮৩.১৩ গ্রাম জামের উপকারিতা বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, ইন্দোনেশিয়া এবং চীনে জামের ব্যবহার হয়ে আসছে। হেকিমী, আয়ুর্বেদী এবং ইউনানী চিকিৎসাতেও জাম ব্যবহার করা হয়। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। যা স্বাস্থ্যের বিভিন্নভাবে উপকার করে থাকে। মানসিকভাবে সতেজ রাখে : জামে গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে, যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে : ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিক কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে। এক চা চামচ জামের বীচির গুঁড়া খালি পেটে প্রতিদিন সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ দূর করে : জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ফল ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাঢ়ি শক্ত এবং মাঢ়ির ক্ষয়রোধেও জামের জুড়ি নেই ।  এতে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাসিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠাণ্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম। জামে রেয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে। হার্ট ভালো রাখে : জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিণ্ড ভাল রাখে। এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। জাম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে : জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যারা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তারা খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন জাম। ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী : জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যান্সারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, এর মধ্যে জামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে। জাম লড়াই করে  জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। সাদা বা রক্ত আমাশয় : জামের কচি পাতার রস ২-৩ চা-চামচ একটু গরম করে ছেঁকে নিয়ে খেলে ২-৩ দিনের মধ্যে সেরে যায় সাদা বা রক্ত আমাশয়। অরুচি ও বমিভাব : পাকা জাম  লবণ মাখিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে, সেটা চটকে পুঁটলি বেঁধে টানিয়ে রাখলে যে রস ঝরে পড়বে, সেটা ২০-২৫ ফোঁটা প্রয়োজনবোধে এক চা চামচ পানি মিশিয়ে খেতে দিলে পাতলা দাস্ত, অরুচি ও বমিভাব কমে যায়। শয্যামূত্র : এ রোগে শিশু-বৃদ্ধ অনেকেই অসুবিধায় পড়েন এবং অনেক ক্ষেত্রে সন্তানের জন্য মায়েদের ভুগতে হয়। এক্ষেত্রে ২-৩ চা চামচ জাম পাতার রস (বয়স অনুপাতে মাত্রা) ১/২ চা চামচ গাওয়া ঘি মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে খাওয়ালে এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপকার হবে। জ্বরের সঙ্গে পেটের দোষ : যাদের জ্বরের সঙ্গে পেটের দোষ থাকে, তারা এ পাতার রস ২-৩ চা-চামচ একটু গরম করে ছেঁকে খেলে উপকার হয়। এছাড়া জামে রয়েছে ফাইটো কেমিক্যালস আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এবং সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয়। প্রতিরোধ করে ইনফেকশনের মতো সমস্যাও। জামে পাওয়া  গেছে অ্যালার্জিক নামে এক ধরনের এসিডের উপস্থিতি, যা ত্বককে করে শক্তিশালী। ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে ত্বক ও চুলকে রক্ষা করে। এ অ্যালার্জিক এসিড ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আধাপাকা (ডাঁসা) জাম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়ার পর দুধ খাবেন না। পাকা ফল ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকভাব হতে পারে। তথ্যসূত্র : কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ও উইকিপিডিয়া। এএইচ/

ব্যায়াম ও ভালো খাবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়

বর্তমান যুগে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এই ব্যয় নির্বাহের জন্য মানুষ অতিরিক্ত পরিশ্রম করে থাকেন। মানুষ বিশ্রাম, ব্যায়াম অথবা ঘুমানোর সময় কমিয়ে অতিরিক্ত আয়ের জন্য কর্মক্ষেত্রে সময় বাড়িয়েছে। এভাবে বছরের পর বছর চলছে। কিন্তু ফ্রান্স ও আমেরিকার গবেষকরা বলছেন কাজের চাপ স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ। এছাড়া গবেষকরা আরো বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। সম্প্রতি ফ্রান্সের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর কমপক্ষে ৫০ দিন যদি ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা হয় তাহলে স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এক দশকেরও বেশি সময় যাবত যারা দীর্ঘ সময় কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি। তবে যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন বলছে, দীর্ঘ সময় কাজ করলেও শারীরিক ব্যায়াম এবং ভালো খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেছেন ফ্রান্সের গবেষকরা। এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে বয়স, ধূমপানের ইতিহাস এবং কর্মঘণ্টা। এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ রয়েছেন যারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন। এছাড়া ১০ শতাংশ মানুষ ১০ বছর যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করে আসছেন। এদের মধ্যে এক হাজার দুই শত চব্বিশ জন স্ট্রোকে আক্রান্তের তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত লেখায় গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ বেশি। যারা ১০ বছরের বেশি সময় যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করছেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ৪৫ শতাংশ বেশি। যারা খণ্ডকালীন কাজ করেন কিংবা যারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার আগেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের এই গবেষণা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। গবেষণা দলের প্রধান ড. অ্যালেক্সিস বলেন, যাদের বয়স ৫০ বছরের কম কিন্তু ১০ বছর যাবত দীর্ঘ সময় কাজ করেন এদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত। এর জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন আছে। তিনি আরও বলেন, এই গবেষণায় স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যার উপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। স্ট্রোকের কারণের দিকে নজর দেয়া হয়নি। অন্য আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি নিজের ব্যবসা পরিচালনা করেন, সিইও এবং ম্যানেজাররা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি কম। কিন্তু যারা অনিয়মিত শিফটে কাজ করেন, রাত্রিকালীন কাজ করেন কিংবা কাজের চাপ বেশি এদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা দলের প্রধান ড. রিচার্ড ফ্রান্সিস বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, ব্যায়াম, ধূমপান ত্যাগ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম স্বাস্থ্যের উপর বড় প্রভাব রাখতে পারে। এ বিষয়গুলো মেনে চললে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবিসি বাংলা অবলম্বনে এএইচ/

স্বাদে গুণে অতুলনীয় লটকন

ফলটি টক-মিষ্টি। আকারে ছোট কিন্তু দেখতে অতি সুন্দর। গোলাকার আকৃতির ফলটি পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। ফলের খোসা নরম ও পুরু। এর পুষ্টিগুণও অনেক। আমাদের দেশে জনপ্রিয় ফল লটকন।  ছোট-বড় সবারই মন কাঁড়ে এই ফলটি। পরিচিতি : ইংরেজি নাম- Burmese grape, বার্মিজ গ্রেপ, বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea motleyana.  এই ফলটি আমাদের দেশে বুবি, বুগি, লটকা, লটকো, নটকো ইত্যাদি নামেও পরিচিত। গাছটি দক্ষিণ এশিয়ায় বুনো গাছ হিসেবে জন্মালেও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। রথযাত্রার সঙ্গে লটকন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। রথযাত্রার দিন ও উল্টো রথের দিন লটকন কেনার প্রচলন আছে। বাংলাদেশের ধামরাই ও টাঙ্গাইল এবং ভারতের কোচবিহার, নবদ্বীপ ইত্যাদি স্থানে রথের দিন লটকন বিক্রি হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস : জগৎ- Plantae, শ্রেণীবিহীন- Angiosperms, বর্গ- Malpighiales, পরিবার- Phyllanthaceae, গণ- Baccaurea, প্রজাতি- B. motleyana. বর্ণনা : লটকন গাছ ৯-১২ মিটার লম্বা হয়, এর কাণ্ড বেটে এবং উপরাংশ ঝোপালো। পুরুষ এবং স্ত্রী গাছ আলাদা হয়ে থাকে। এদের ফুলের ধরনও আলাদা, ফুল হয় হলুদ রঙের, উভয় রকম ফুলই সুগন্ধি। ফলের আকার দুই থেকে পাঁচ সেমি হয়, যা থোকায় থোকায় ধরে। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে রঙ হয় হলুদ। ফলে ভেতর ২ থেকে ৫টি বীজ হয়, বীজের গায়ে লাগানো রসালো ভক্ষ্য অংশ থাকে, যা জাতভেদে টক বা টকমিষ্টি স্বাদের। গাছের ছাল থেকে রঙ তৈরি করা হয় যা রেশম সুতা রাঙাতে ব্যবহৃত হয়। ছায়াযুক্ত স্থানে লটকন ভাল জন্মে। মার্চ মাসের দিকে লটকন গাছে ফুল আসে এবং ফল পরিপক্ব হতে চার-পাঁচ মাস সময় লাগে। জুন-জুলাই মাসে এই ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়। আগস্ট মাসেও লটকন বাজারে পাওয়া যায়। অর্থনৈতিকভাবে চাষাবাদ : লটকন একসময় অপ্রচলিত ফলের তালিকায় ছিল। এখন উন্নত জাতের সুমিষ্ট এই ফলের জনপ্রিয়তা বেশ বেড়েছে। ফলটি বাণিজ্যিকভাবেও চাষাবাদ করা হচ্ছে। বেশ লাভবানও হচ্ছে চাষীরা। ফলটির ফলন হয়ে থাকে প্রচুর। গাছের নীচ থেকে ছোট কাণ্ড পর্যন্ত ধোকায় ধোকায় ফল ধরে। বাংলাদেশ থেকে লটকন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে রয়েছে : ক্যালসিয়াম ৯ গ্রাম, আয়রন ৫.৩৪ মি.গ্রাম, ভিটামিন বি-১ ১০.০৪ মি.গ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.২০ মি.গ্রাম,  খাদ্যগুণ ৯২ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ১.৪২ গ্রাম, ফ্যাট ০.৪৫ গ্রাম। ভিটামিন সি ১৭৮ মিলিগ্রাম। পুষ্টিগুণ : লটকনের গুণের কথা আজ অজানা নয়। লটকন একটি পুষ্টিকর ফল। এতে ভিটামিন ও খাদ্যশক্তিসহ নানারকম খনিজ উপাদান রয়েছে। লটকনে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় সহায়তা করে। শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রুচি বাড়াতে লটকন বেশ উপকারী। লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। দিনে দুই থেকে তিনটি লটকন খেলে শরীরের ভিটামিন সির চাহিদা পূরণ হয়। ভিটামিন সি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে। লটকনে যে আয়রন রয়েছে তা রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী। খাদ্যশক্তির ভালো উৎস লটকন। দেহ সক্রিয় রাখতে ও দৈনন্দিন কাজ করতে খাদ্যশক্তি প্রয়োজন হয়। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের তুলনায় লটকনের খাদ্যশক্তি প্রায় দ্বিগুণ। লটকন গা গোলানো ও বমি বমিভাব দূর করতে পারে। পাশাপাশি মানসিক অবসাদ দূর করতেও সাহায্য করে। এছাড়াও গরমে তৃষ্ণা মিটাতে লটকন খাওয়া যায়। কারণ এতে জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি। লটকনের ঔষধি গুণও রয়েছে। এর পাতা ও শিকড় খেলে পেটের নানারকমের অসুখ ও জ্বর ভালো হয়ে যায়। এর বীজ গনোরিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ডায়ারিয়া দূর করতে লটকনের পাতার গুঁড়া বেশ ভালো ফল দেয়। লটকন বেশি খেলে অনেক সময় ক্ষুধা মন্দাও দেখা দিতে পারে। তথ্যসূত্র : বিভিন্ন ফলের বই এবং ইন্টারনেট এএইচ/

মহৌষধ হিসেবে খাবারে কাজ করে গোলমরিচ

খাবারে গোল মরিচ শুধু স্বাদই বাড়ায় না, এর গুণাগুণও অনেক। বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবেও কাজ করে এই গোলমরিচ। তাই স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেও খাবারে গোলমরিচ খাওয়া প্রয়োজনীয়। সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে গোলমরিচ অত্যন্ত কার্যকরী, কিন্তু তা ছাড়াও গোলমরিচের বেশ কিছু উপকার রয়েছে।  ত্বকের রোগ থাকলে তার চিকিৎসাতে কাজে লাগে গোলমরিচ। গোলমরিচ গুঁড়ো করে, স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।  এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয়। ফলে ত্বকে সহজে অক্সিজেন চলাচল করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন হয়। পিগমেন্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ। গোটা মরিচের খোসা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। ফলে গোলমরিচ দিয়ে খাবার বানালে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে সহজেই। গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে। কারণ এটি পেটে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়।  হজম ঠিক থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়ার মতো সমস্যাকে এড়ানো যায়। হজমের সমস্যা থেকে অনেক রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে সেইগুলি এড়ানো যায়। যারা অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করেন তাদের জন্য গোলমরিচ খুবই উপকারী। গোলমরিচ তেলের গন্ধ নিয়মিত সেবন করা  বা সরাসরি  গোলমরিচ খেলেও ধূমপানের প্রতি আসক্তি কমবে অনেকটাই। দাঁতে ক্যাভিটি বা ব্যথা থাকলে মুখে গোলমরিচ রাখতে পারেন। ব্যথা নিরাময় করতে গোলমরিচ সাহায্য করে। নাক বন্ধ থাকা, হাঁপানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি দিতেও গোলমরিচের জুড‌়ি মেলা ভার। এক কাপ গরম জলে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ এবং দুই টেবিল চামচ মধু দিয়ে খেলে শ্লেষ্মা দূর হবে। গলা ব্যথা কমবে। গোলমরিচ খেলে শরীর গরম হয়ে ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন কমতে থাকে। ফলে ত্বক ভালো থাকে ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।   এনএম/এসএইচ/    

পাউডার পদ্ধতিতে আদা সংরক্ষণ

কথা আছে-বইয়ের বাইরের আবরণ দেখে তার ভেতরটা যাচাই করতে নেই। রান্নার উপকরণের ক্ষেত্রে এ কথাটা প্রযোজ্য আদার ক্ষেত্রে। বাইরের আবরণ দেখে আদার গুণাগুণ বিচার করা সম্ভব নয়। কিন্তু এর স্বাস্থ্যকর উপকারিতার শেষ নেই। গোটা বিশ্বেই তাই রান্নার অন্যতম মসলা বা উপকরণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে আদা। বাংলাদেশে এটি মসলা হিসেবে খুবই প্রয়োজনীয়। শুধু মসলা হিসেবে নয়, অসুস্থায়ও অনেক বেশি উপকারি মসলা জাতীয় খাদ্যটি। ঠাণ্ডা-সর্দিতে সবচেয়ে কাজে দেয় এই আদা। শীতে উষ্ণতা দেয়। মাছ, মাংস বা যেকোনো তরকারিতে প্রধান উপকরণের একটি হিসাবে বহুকাল ধরে জনপ্রিয় আদা। কাজেই খাদ্যপণ্য হিসেবে আদা টাটকা হওয়াই ভালো। সর্বোচ্চ ফ্লেভার পাওয়া যাবে। এখানে আদা কেনা থেকে শুরু করে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পচনশীল মসলা জাতীয় ফসল আদায় প্রচুর পানি থাকার কারণে দীর্ঘদিন তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। সাধারণত আদা সংগ্রহের পর কৃষকরা মাটির গর্তে তা সংরক্ষণ করে থাকেন। কিন্তু এই পদ্ধতিতে অল্পদিনের মধ্যেই তাতে গাছ ও শিকড় গজায়। তখন গাছ ও শিকড় ভেঙে আদা বাজারজাত করতে হয়। কোনো কোনো সময় মাটির গর্তের আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে আদা পচে যায়। তা ছাড়া গর্ত থেকে আদা বের করার পর অল্পদিনের মধ্যেই তা শুকিয়ে কুঁচকে যায়। ফলে কৃষকরা বাজারে এর কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। তবে এবার দীর্ঘদিন আদা সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ গবেষণার পর আদা সংরক্ষণে `পাউডার` পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এই গবেষক দল। গবেষকরা বলছেন, কোনো রকম প্রিজারভেটিভ বা কেমিক্যাল ছাড়াই আদার পাউডার তৈরির মাধ্যমে পচন শতভাগ রোধ করা সম্ভব। এতে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম পাবেন। ফলে কৃষক পরবর্তীতে উৎপাদন ও ফলন বাড়াতে আগ্রহী হবেন। গবেষক দলের প্রধান ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাসুদ আলম জানান, আদা সংরক্ষণে পাউডার তৈরির জন্য উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন আদা ও লবণ। প্রথমে ত্রুটি ও রোগমুক্ত আদা সংগ্রহ করে ছাল ছড়াতে হবে। তারপর পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এবার ৩-৫ মি. মি. পুরুত্বে আদা আড়াআড়িভাবে কেটে পানির বাষ্পে ৫-১০ মিনিট সেদ্ধ করতে হবে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় লবণ দ্রবণে (১ লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম লবণ) কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখার পর অভিস্রবণকৃত আদা দ্রবণ থেকে তুলে নিতে হবে। পরে আদার টুকরোগুলোকে মেকানিক্যাল ড্রায়ারের ট্রের ওপর রেখে ৫০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অথবা সোলার ড্রায়ারে ভালোভাবে শুকাতে হবে। ড্রায়ারের সুবিধা না থাকলে সূর্যের তাপে শুকানো যেতে পারে। শুকানোর পর গ্রাইন্ডিং মেশিনে গুঁড়া করে নিতে হবে। তিনি বলেন, আদার পাউডার বিভিন্ন ধরনের বায়ু নিরোধকপাত্রে রেখে ২-৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রান্নায় ব্যবহার করা যাবে। বিজ্ঞানীরা জানান, ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে আদা সংরক্ষণের নতুন এই পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অল্প সময়ে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। আই// এসএইচ/

শিশুকে স্বাস্থ্যকর খাবারে আগ্রহী করার ৫ নিয়ম

বর্তমান সময়ে বাবা মায়েদের নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্তানদের যাচ্ছেতাই খাদ্যাভ্যাস। যার কারণে একদিকে শিশুরা অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে অন্যদিকে স্থূলতার হারও বাড়ছে সমান তালে। যুক্তরাজ্য জুড়ে, শিশুদের স্থূলতা সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণে দাঁড়িয়েছে। স্থূলতার এই প্রবণতা একটি শহরে সবচেয়ে বেশি। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে জানা যায় যে, ওই শহরটি তাদের শিশু স্থূলতার হার ৬.৪% কমাতে সক্ষম হয়েছে। স্থূলতার মোকাবেলা করার জন্য শহরটি যেসব কৌশল হাতে নিয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রি-স্কুল শিশুদের উপর মনোযোগ দেওয়া এবং সুস্থ থাকার ব্যাপারে শিশুদের উৎসাহী করতে বাবা মায়েদের ক্লাস করানো। তবে শিশুর সঙ্গে খাবারের বিষয়টি কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় সেটা বাবা-মা অথবা শিশুর যত্নকারীর পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সবসময় সহজ হয়না। এক্ষেত্রে চলুন জেনে নেয়া যাক যে তারা শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সেরা কি করতে পারেন। পছন্দমতো বেছে নেয়া পূর্ব লন্ডনের লিডসে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন টিনা লি। তিনি বলেন, শিশুদের একদম অল্প বয়স থেকে এক বা একাধিক স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প থেকে নিজের পছন্দমতো খাবারটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এটা তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরিতে সাহায্য করে। টিনা লি বলেন, ‘এটি শিশুদের কোন খাবার খেতে অস্বীকার করার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সেইসঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতেও সাহায্য করে।’ ‘আমরা যখন শিশুদের একটি বিকল্প দিই না, তখন তারা একদম চুপ হয়ে যেতে পারে এবং কিছুটা হতাশ হতে পারে।’ ছোট ছোট পদক্ষেপ শিশুদের খাদ্যাভ্যাস বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যানা গ্রুম স্বীকার করেন যে, যেসব শিশু খাওয়ার ব্যাপারে বেশ অস্থির এবং উদাসীন তাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এতোটা সহজ নয়। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন আনলে শিশুদের খাবার সময়ে তর্ক এড়ানোর চাপ কমবে।’ তিনি জানান, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ যে শিশুরা পছন্দ করে এমন কিছু নিরাপদ খাবার তার থালায় রয়েছে এবং অল্প পরিমাণে হলেও সেই খাবারে নতুন কিছু আছে।’ বেলিন্ডা মোল্ড নামে এক মা এই পদ্ধতিটি তার তিন বছরের মেয়ের ওপর প্রয়োগ করে দেখেন যে, এটা তার মেয়ের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে বেশ ভালভাবে কাজ করেছে। যেখানে তার মেয়ে আগে কেবল সসেজ এবং সেদ্ধ মটরশুঁটি খেত। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি আমরা তাকে অন্য কিছু খেতে দিতাম সে সেগুলো মেঝেতে ছুড়ে ফেলত নাহলে খাবার ফেলে চলে যেতো। কিছুই খেত না।’ কিন্তু তিনি তার মেয়েকে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও নতুন খাবার দেওয়ায়, এখন সে বলতে গেলে সবই খায়। মোল্ড বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে বলতাম, তুমি এটা মুখে নিয়ে খাবার চেষ্টা করে দেখ। যদি এটা তোমার ভাল না লাগে, তাহলে আমি তোমাকে অন্য কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ ‘এক্ষেত্রে আপনাকে নাছোড়বান্দা হতে হবে, তাই যদি শিশু আপনার খাবার শুরুতে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে আপনাকেও বার বার চেষ্টা করে যেতে হবে।’ একজন ভাল উদাহরণ হয়ে উঠুন অল্প বয়স থেকেই একটি শিশুর জন্য একটি ভাল উদাহরণ হয়ে ওঠা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন টিনা। তিনি বলেন,  ‘আপনি যদি নিজে স্বাস্থ্যকর খাবার খান, তাহলে আপনার সন্তানেরও সেই অভ্যাস গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়।’ তিনি মনে করেন যে, প্রতি বেলায় সবাই মিলে একসঙ্গে খেলে ছোট বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের অভ্যাস অনুকরণ করতে উৎসাহিত হয়। টিনা আরও বলেন, বাবা-মায়েরা যেসব খাবার পছন্দ করেন না সেগুলোর বিষয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা শিশুদের সামনে এড়িয়ে যেত হবে। কেননা, আপনাদের কথাই তাদরে নতুন খাবারের প্রতি আগ্রহকে প্রভাবিত করতে পারে। পুরস্কার স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য পুরস্কার এবং প্রশংসা ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন টিনা। তবে, তিনি জোর দেন যে পুরষ্কারগুলো যেন তাদের খাদ্যের সাথে সম্পর্কিত না হয়। বরং পার্কে যাওয়ার মতো কিছু কার্যকলাপ, কিছু রঙ করা বা চার্টে স্টিকার স্থাপন করার মতো ছোট ছোট বিষয় হয়। তিনি সব সময় ঘুষ বা ঘুষের মতো দেখায় এমন পুরস্কার এড়িয়ে যেতে বলেন। টিনা বলেন, ‘আপনি কখনোই বাচ্চাকে এটা বলবেন না যে, যদি সে পুরো খাবারটা খায় তাহলে আপনি তাকে একটি চকোলেট বা কিছু আইসক্রিম দেবেন। কারণ এতে সে মনে করবে, যে খাবারটি আপনি তাকে খেতে বলছেন সেটা পুরস্কারে পাওয়া খাবারের চাইতে মূল্যহীন।’ চাই সুস্বাস্থ্য, সুন্দর চেহারা নয় বিশেষ করে একটু বড় বাচ্চাদের জন্য, খাদ্য ও ওজন একটি সংবেদনশীল বিষয় হতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে নিজেদের চেহারা নিয়ে বা তাদের দেখতে কেমন লাগে সে বিষয়ে উদ্বেগ কাজ করে। যেটা কিনা তাদের আত্মসম্মানের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে স্থূলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একজন, স্থূল শিশু বিভিন্ন ধরণের মানসিক সমস্যা যেমন অতি উদ্বিগ্নতা এবং মন খারাপের মতো সমস্যায় তুলনামূলক বেশি ভোগে। টিনার পরামর্শ হল, এই বয়সী শিশুদের সঙ্গে খাদ্য বিষয়ক কথোপকথন এমন হতে হবে, যেন তারা এটা না ভাবে যে, স্বাস্থ্যকর খাবার তার চেহারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ‘তাদেরকে সুস্থ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন, এই কারণে নয় যে তাদের চেহারায় কোন পরিবর্তন আনবে। বরং এই কারণে যে সুস্থ থাকলে তারা ভাল বোধ করবে।’ অ্যানা মনে করেন যখন কারও ওজনের প্রসঙ্গটি সামনে আসে, তখন ওজনের সমস্যা মোকাবেলায় বুঝে শুনে ভাষা ব্যবহার করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন,‘শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে পুরো পরিবারকে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করা হয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেন শিশুরা একলা বোধ না করে’। তাই আসুন, আমরা পুরো পরিবার নিয়ে স্বাস্থ্যবান হই। এতে শিশুরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হবে ঠিকই। তবে তারা এটা ভাববে না যে তাদের বাবা-মা তাদের ওজন নিয়ে চিন্তিত। তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

কাঁঠালে রয়েছে নানা রোগের সমাধান

গ্রীষ্ম যতই বেদনাদায়ক হোক, ফলাহারের জন্য এর কোনও তুলনা নেই। গরমে ঘেমে গলদঘর্ম হয়ে তাই সামনে নানা ফলে সাজানো থালা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। যতই সুস্বাদু ফলের যোগান মেলে গরম কালেই। তা দিয়ে সুস্বাদু ডেজার্টেরও রমরমা ভালই। আর এই স্বাদের নিরিখে যে তিনটি গ্রীষ্মের ফল সবচেয়ে এগিয়ে থাকে, সেগুলি হল আম, লিচু আর কাঁঠাল। আম, লিচু নিয়ে অনেক বিলাসিতা থাকলেও, স্বাদে এগিয়ে থাকলেও কাঁঠাল একটু বঞ্চিতদের দলেই থাকে। এই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে কেউ তেমন ওয়াকিবহল নয়। তাই জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালে কী কী গুণ লুকিয়ে রয়েছে- #কাঁঠাল খেতে মিষ্টি। কিন্তু এই ফল খেয়ে ডায়াবিটিস বেড়ে যাওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই। বরং শরীরে শক্তি জোগাতে এর জুড়ি মেলা ভার। #কাঁঠাল ফাইবার-সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে। #এই ফলে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্সকে ঠিক রাখে। এর ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্টও ভাল থাকে। #এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন। চোখ ভাল রাখতে ভিটামিন এ যে অপরিহার্য, তা কে না জানে। #কাঁঠালে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকার ফলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। বলিরেখাও কমে। #কাঁঠালে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি। তবে এতে কোনও রকম কোলেস্টেরল নেই। #কাঁঠালে আয়রন থাকে যা রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় যাঁরা ভুগছেন তাদের কাঠাল খাওয়া উচিত। #এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস এবং কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা কমে। #উচ্চমানের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল কাঁঠাল। এতে ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই কাঁঠাল খেলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এমনকি ক্যানসার এবং টিউমারের বিরুদ্ধেও শরীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। #কাঁঠালে ক্যালশিয়াম থাকে যা হাড় শক্ত রাখে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার এমএইচ/

কামরাঙা খেলে যে উপকার মিলবে

বেশি টক হওয়ার কারণে অনেকেই কামরাঙা খেতে না পারলেও কামরাঙার চাটনি বা আচার প্রায় সবাই ভালবাসেন৷ ভেজাল, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে শরীরের দফারফা হয়ে যাচ্ছে? ঠিক এই পরিস্থিতিতে মুশকিল আসান হতে পারে একটি ফল। বিশেষজ্ঞদের মতে ম্যাজিক ফল এই কামরাঙা। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, ভিটামিন বি৯ অর্থাত্‍ ফলিক অ্যাসিডে ভরপুর কামরাঙা। যা হার্টের সমস্যার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া কামরাঙায় আয়রনের পরিমাণ পাকা কাঁঠাল, কমলালেবু, পাকা পেঁপে, লিচু, ডাবের পানির চেয়েও বেশি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কম করা এবং হাইপারটেনশন দূর করতে কামরাঙার জুড়ি মেলা ভার। শুধু কামরাঙা ফলই নয়, কামরাঙা গাছের পাতাও খুবই উপকারি। কামরাঙায় রয়েছে এলাজিক অ্যাসিড, যা খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর পাতা ও কচি ফলের রসে রয়েছে ট্যানিন, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। সর্দিকাশিতে দারুণ উপকারি। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কামরাঙা চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আটকাতেও সাহায্য করে এই ফল। তাই সাধারণ ফল হলেও একটি ফলেই হতে পারে মুশকিল আসান। সূত্র: এই সময় একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি