ঢাকা, ২০১৯-০৪-২৬ ৮:৪০:১৪, শুক্রবার

আয়ের ৩৫ শতাংশ সঞ্চয় করা যাবে জাপানি এই পদ্ধতিতে

আয়ের ৩৫ শতাংশ সঞ্চয় করা যাবে জাপানি এই পদ্ধতিতে

খারাপ দিনের জন্য কিছু সঞ্চয় করুন- এ ধরণের উপদেশ হয়তো সবাই শুনেছেন, তবে সব সময়ে হয়তো গুরুত্ব দেওয়া হয়ে ওঠে না। এশিয়া হচ্ছে একমাত্র মহাদেশ, যেখানে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ কিছু অর্থ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখেন- এই হার দক্ষিণ আমেরিকায় মাত্র ৩০ শতাংশ বলে জানিয়েছে নিয়েলসন ইন্সটিটিউটের একটি গবেষণা। আর সঞ্চয়ের উদ্বৃত্ত করতে এশিয়ায় এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক বাসিন্দা, যাকে বলা হচ্ছে ‘কাকিবো’। এটি ১১৫ বছর পুরনো একটি জাপানি কৌশল, যেখানে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়।  তবে সে জন্য অবশ্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। শুধু একটি নোটবুক আর একটি পেন্সিল থাকলেই চলে। যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তারা জানিয়েছেন যে এটা মানুষকে তাদের আয়ের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। গোঁড়ার কথা জাপানি শব্দ ‘কাকিবো’ মানে হলো ‘বাসার অর্থকড়ির হিসাবের বই’। ‘কাকিবো: হিসাব এবং অর্থ সঞ্চয়ের জাপানি কৌশল’ বইয়ের লেখক ফুমিকো চাইবা বলছেন, ১৯০৪ সালের দিকে এই পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল। সেখানে তিনি লিখেছেন, এই পদ্ধতিটি তৈরি করেন জাপানের প্রথম নারী সাংবাদিক হানি মোতোকো। তিনি এমন একটি কৌশল আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন, যার ফলে জাপানের নারীরা তাদের পরিবারের অর্থকড়ি ভালোভাবে সামলাতে পারবেন। ওই সময় বেশিরভাগ নারীকেই বাসার বাইরে কাজ করতে দেওয়া হতো না এবং তারা শুধু পরিবারের খরচ হিসাবে স্বামীর দেওয়া অর্থ থেকে যে টুকু সম্ভব বাঁচিয়ে সঞ্চয় করতে পারতেন। ‘জাপানে অনেক দিক থেকেই ঐতিহ্যবাহী কিছু সংস্কৃতি অনুসরণ করা হয়, তবে কাকিবো যেন নারীদের স্বাধীনতার একটি উপায়ও তৈরি করেছিল,’ চাইবা লিখেছেন। ‘এটা অর্থনৈতিক ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এনে দিয়েছে।’ এমনকি বর্তমানের হিসাব-নিকাশ করার অসংখ্য প্রোগ্রাম এবং অ্যাপ থাকা সত্ত্বেও জাপানে এ ধরণের বুকলেট এখনও বিক্রি হচ্ছে। পদ্ধতিটি ঠিক কী প্রথম দিকে কাকিবো’র বিষয়টি একটু কঠিন মনে হতে পারে- তবে সেটাই এই পদ্ধতির সাফল্যের চাবিকাঠি, বলছেন চাইবা। প্রথমত, আপনাকে প্রতিদিনের বা সাপ্তাহিক আয় ও ব্যয়ের বিষয়টি কয়েকটি ভাগে লিখতে হবে। যেমন আয়, নিয়মিত খরচ (ভাড়া, পরিবহন, খাবার, ওষুধ), অবসরের খরচ এবং অতিরিক্ত ইত্যাদি। আপনি যতগুলো ইচ্ছা ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারেন। অনেকে যেমন খাবার খরচটি নানাভাবে তালিকাভুক্ত করেন এবং তাদের নানা রঙে লিখে থাকে, যাতে সেগুলো সহজে নজরে পড়ে। মাস শেষে আপনি মোট আয় থেকে এ সব খরচ বাদ দেবেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি এখানেই শেষ হচ্ছে না। কাকিবো শুধু খরচ নিয়ন্ত্রণই করছে না, বরং আমাদের শেখাবে কিভাবে নিজের অর্থকড়ির সঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সমন্বয় খুঁজে বের জাপানি এই কৌশলের পেছনে আসল উদ্দেশ্য হলো, যে সব ব্যয় বাদ দেওয়ার উপায় নেই, সেগুলোকে শনাক্ত করে অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো এড়িয়ে চলা। ‘প্রতি মাসের শুরুতে আপনি একবার কাকিবো নিয়ে বসবেন এবং মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করবেন যে আপনি কতটা সঞ্চয় করতে চান। এই সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য আপনাকে কী করতে হবে,’ বলেছেন চাইবা। সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য আপনাকে হয়তো চারটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। * আপনি এখন পর্যন্ত কতটা সঞ্চয় করতে পেরেছেন? * আপনি আসলে কতটা সঞ্চয় করতে চান? * আপনি কত টাকা খরচ করতে যাচ্ছেন? * আগের মাসের তুলনায় সঞ্চয় বাড়াতে এই মাসে আর কী করা যেতে পারে? এ সব উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরামর্শটি খুবই সাধারণ- কাকিবো পদ্ধতি আপনার আয় এবং ব্যয়ের একটি পরিষ্কার চিত্র পেতে সহায়তা করে। যারা কাকিবো পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তাদের মতে নিজে নিজে এই পদ্ধতি অনুসরণ করার ফলে আপনি কোথায় কিভাবে খরচ করছেন, সেটিকে বেশি মনোযোগী করে তুলবে এবং কীভাবে কী করলে ভালোভাবে সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ হবে, সেটা ভাবতে বাধ্য করবে। সুতরাং আপনি কি একবার চেষ্টা করে দেখতে চান? সূত্র: বিবিসি একে//
ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার ৫ উপায়

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম থাকে। এই বিভিন্ন তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ঘামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘামের মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত তাপ বর্জন করে দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখে। কিন্তু এই ঘামই আবার বিভিন্ন সময়ে হয়ে ওঠে লজ্জার কারণ। কোনও অনুষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যখন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার প্রয়োজন পড়ে, ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধ আপনাকে অপ্রস্তুত করে তোলে। ফলে ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি একান্তই প্রয়োজন এখনের জীবনে, আর সে নিয়েই এই লেখা। মশলাদার খাবার বন্ধ ঘাম তো যে কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরই হয়, কিন্তু দুর্গন্ধের কারণ কী? আসলে আমাদের ত্বকের উপরিভাগে রোমকূপে থাকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা ঘাম থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। ঘাম হওয়া আটকাতে গেলে প্রথমেই যে দিকে নজর দেওয়া উচিত তা হল খাদ্যাভ্যাস। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যত কম পরিমাণে ফাস্টফুড, মশলাদার খাবার ও তেলের খাবার রাখা যায় ততই ভালো। এ ধরনের খাবার পেটে ঢুকলেই প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করতে থাকে যা কমাতে শরীর ঘাম উৎপন্ন করে। তাই প্রথমেই এড়াতে হবে এই ধরনের খাবার। প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরে যথেষ্ট তাপ উৎপন্ন করে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাদ্য বাদ রাখুন তালিকা থেকে। বাদ দিতে হবে ক্যাফাইন জাতীয় খাবার কফিও যা প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে। বরং খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল ও শাকসবজি যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পানীয় খাবার ও বিশেষত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি রোজ খান, এতে শরীর সহজে গরম হবে না, ফলে ঘামও হবে না। হালকা রঙের জামা পরুন গাঢ় রঙের জামা যত বেশি পরবেন, আপনার শরীর আশেপাশের তাপ আরও বেশি শোষণ করবে। ফলে ঘামও নিশ্চিত। তাই চেষ্টা করুন দিনের বেলা হালকা রঙের জামা পরতে। হালকা রঙের জামা যে কোনও রকমের তাপ প্রতিফলিত করে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি একান্তই অনুষ্ঠানে যেতে ট্রেন্ডি জামা পরতে হয় যা হালকা রঙের নয়, তবে ভিতরে পরুন একটি অন্তর্বাস। এটি আপনার ঘাম শুষে নেবে ও বাইরে আসতে দেবে না। রোদে বেরোবেন না রোদ কেন, প্রয়োজন না থাকলে কোনও বেশি তাপমাত্রার এলাকাতেই যাবেন না। চেষ্টা করুন ছায়া আছে এমন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় থাকার। জানালার পর্দা টেনে রাখুন যাতে বাইরের তাপ ঘরে এসে ঘরকে বেশি উত্তপ্ত করতে না পারে। আপনার শরীরকে যত বেশি তাপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন, ততই আপনার ঘাম কম হবে। চাপ নেবেন না প্রতিদিনের রুটিনে কত রকম কাজ থাকে, ঠিকঠাকভাবে সাফল্যের সঙ্গে তা হবে কি না তা নিয়েও চিন্তা কম নয়। চাপ নেবেন না। আপনি যত চাপ নেবেন ততই শরীরে বাড়বে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ যা আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘাম অবশ্যসম্ভাবী। প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম, চাপের থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দারুণ উপায়। ব্যায়াম করলে ঘাম ঝলে, এ থেকে মনে হতেই পারে কী করে এটা ঘাম কমাবে? আসলে নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার সব চিন্তা ও চাপ নিজে থেকেই দূর হয়ে যাবে। ফলে আপনার মাথা সারাদিন চিন্তামুক্ত থাকবে। স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমলে কমবে শরীরের ঘাম উৎপাদনও। অ্যান্টিপারস্পিরান্ট ব্যবহার করুন ঘাম হওয়া আটকাতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যান্টিপারস্পিরান্ট। কিন্তু সবাই যে ভুল করে তা আপনি করবেন না। এটি সকালে গোসল করে বগলে গলায় বুকে দেবেন না, বরং দিন রাতে শুতে যাওয়ার সময়। লোমকূপে গিয়ে এর কাজ করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে, তাছাড়া রাতে উষ্ণতা কম থাকায় এটি ব্যবহার করে ভালো ফল মেলে। শোওয়ার আগে তাই এটি শরীরের যে অংশে বেশি ঘাম হয় সেখানে দিয়ে শুতে যান। বেশকিছু রাত এমন অভ্যাস করলে দেখবেন আপনার ঘাম হওয়া আগের থেকে অনেক কমে গেছে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

ঘাড়-কোমড়-পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তির সহজ উপায়

দৈনন্দিন বাড়তে থাকা কাজের চাপের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা! সমস্যা যতই হোক না কেন, চট করে কাজের ধরন বদলে ফেলা কখনওই সম্ভব নয়। তবে কাজের চাপে বাড়তে থাকা ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জীবনযাত্রায় কতগুলো পরিবর্তন আনা জরুরি। পরিবর্তন আনা জরুরি আমাদের হাঁটা-চলা বা বসার অভ্যাসেরও। আসুন জেনে নেওয়া যাক কাজের চাপ সামলে ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়- কাজের মধ্যে ব্রেক নেওয়া যদি দীর্ঘক্ষণ আপনাকে অফিসে বসে কাজ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে ২-৩ মিনিটের জন্য ‘ব্রেক’ নিয়ে একটু হেঁটে আসুন। চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন, ২ ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে শরীরের ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরের ফ্যাট ঝরানোর উত্সেচকের ক্ষরণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। ৪ ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শুধু ঘাড়ে, কোমড়ে বা পিঠে ব্যথাই বাড়বে না, বাড়বে ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যাও। কসরত করা ফ্রোজেন শোল্ডার বা স্টিফ জয়েন্টের সমস্যায় সার্ভিক্যাল কলার বা ব্যাক ব্রেস পরলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায় ঠিকই, তবে এই অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদী হলেই বিপদ! কারণ চিকিত্সকদের মতে, তেমন কোনও চোট, আঘাত না থাকলে সার্ভিক্যাল কলার বা ব্যাক ব্রেস-এর উপর নির্ভর না করাই ভাল। এর থেকে ফিজিওথেরাপিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে কসরত করাই ভাল। দুই কাঁধে সমান চাপ বেড়াতে যাওয়ার সময় বা কাজে বেরনোর আগে আমরা অনেকেই পিঠে ভারী ব্যাকপ্যাক নিয়ে থাকি। বেশি ওজনের ব্যাগ দীর্ঘক্ষণ ধরে বইতে হলে দুই কাঁধে সমান ভার না পড়লে কাঁধে বা পিঠে ব্যথা হয়। তাই ব্যাগ এমনভাবেই নিতে হবে যাতে দুই কাঁধে সমান চাপ পড়ে। দাঁড়ানো বা শোওয়ার সময় ভঙ্গিমায় সতর্কতা অনেকেই ভুল ভঙ্গিমায় বসি বা দাঁড়াই। যার ফলে ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা হয়। তাই বসা, দাঁড়ানোর বা শোওয়ার সময় তার ভঙ্গি সতর্কভাবে খেয়াল রাখুন। বালিশের উচ্চতার দিকে খেয়াল করা শোওয়ার সময় বালিশের উচ্চতা সঠিক না হলে বা বালিশ খুব শক্ত বা খুব নরম হলে ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা হতে পারে। বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধ আর ঘাড় না বেঁকিয়ে পিঠ মোটামুটি সোজা বা সমান্তরাল রেখে শোওয়া যায়। সূত্র: জি নিউজ একে//

পাকা চুলের সমস্যা দূর করুন ঘরোয়া ৪ উপায়ে

বয়স বাড়লে চুল পাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আজকাল অল্প বয়সে অনেকের চুল পেকে যাচ্ছে। আর কম বয়সে চুল পাকা মানে অস্বস্তিকর একটি বিষয়। আসলে চুলের অকালপক্কতার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। আমাদের আশেপাশে এমন অনেকেই আছেন যাদের অল্পবয়সে চুল পাকা শুরু হয়েছে। তাই অসময়ে চুল পাকার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে রয়েছে কয়েকটি ঘরোয়া উপায়। লেবু ও নারকেল তেল প্রয়োজন মতো নারকেল তেলের সঙ্গে একটা বড় পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে মাথায় ও চুলে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই মিশ্রণ লাগাতে পারলে উপকার পাবেন দ্রুত। কারিপাতা নারকেল তেলের সঙ্গে কারিপাতা মিশিয়ে তা ফুটিয়ে নিন ভালো করে। ঠাণ্ডা হলে স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করুন। কারিপাতা আপনার চুলের মেলানিন পিগমেন্ট রেস্টোর করতে সাহায্য করবে। লিকার চা কালো চা তৈরি করে তা সারা চুলে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। এতে মজুত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলে পাক ধরতে দেয় না। সপ্তাহে তিন দিন চায়ের লিকার লাগাতে পারেন। আমলকিগুঁড়া শুকনা আমলকি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। অথবা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে আমলকিগুঁড়া এূবং লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। সূত্র: এই সময় একে//

নৈতিক শিক্ষা হোক সন্তানের প্রথম পাঠ

শুরুতে একটি ঘটনা বলি। এক শিশু পড়ছে তার বাল্যশিক্ষা বইয়ে: সদা সত্য কথা বলিবে। মিথ্যে কথা বলিবে না। মিথ্যে বলা মহাপাপ। মিথ্যেবাদী কষ্ট পায়। মেয়েটি পড়ছে। আর মা-কে জিজ্ঞেস করছে, মা সত্য কী? মিথ্যে কী? পাপ কী? মা এক এক করে বলছেন। মেয়েটিও বুঝতে পারছে। একপর্যায়ে সে আঁতকে উঠে বলল-মা তাহলে আব্বুর কী হবে? আব্বু তো কষ্ট পাবে? মা বললেন, কেন? মা সেদিন বাসায় আমি আর বাবা ছিলাম। একজন এসেছিলেন। আমি দরজা খুলতে গেছি। বাবা বললেন, খুলিশ না! খুলিশ না! কয়েকবার বেল দিয়ে এমনিই চলে যাবে। ভাববে বাসায় কেউ নেই। অথচ বাসায় তো আমরা ছিলাম! আসলে সেদিন যিনি এসেছিলেন, তিনি দুধওয়ালা। সেদিন তার পাওনা টাকা নেয়ার কথা ছিল। টাকা যেন দিতে না হয়, সেজন্যে মেয়েকে তিনি দরজা খুলতে না করেছেন। মেয়েটির মা পরে তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলেন। এই সময়কার শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হলে আগে যে আমাদের বড়দের নৈতিকতা ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে। সেজন্যে সন্তানকে নৈতিকতা শেখানোর আগে আমরা নিজেদের দিকে তাকাতে চাই যে, আমাদের মধ্যেও সেই শিক্ষাটি, সেই গুণটি আছে কিনা, না থাকলে শিখে নেয়ার চেষ্টা করব। তাহলে আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও-বাক্যটি খুশি হবে যে, কথাটার একটা মর্যাদা আমরা দিয়েছি। এখন শেখানোর বিষয় হচ্ছে নৈতিকতা। এর সিলেবাস কতটুকু? বিশাল সিলেবাস, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই সিলেবাসের প্রথম পর্ব হচ্ছে সত্য বলার চর্চা। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বলা যেতে পারে যে, সকল অন্যায়ের শুরু এই মিথ্যা দিয়ে। সত্য থেকে বিচ্যুতির কারণে। যে কারণে দেখুন, সেই লোক যখন নবীজী (স)-এর কাছে এসে বললেন, আমি অনেক কিছু মানতে পারব না। আমাকে একটি নির্দেশনা দিন। তবে যেটি দেবেন সেটিই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। নবীজী (স) তাকে বলেছিলেন মিথ্যা বলো না। ফলে দেখা গেল রাতের অন্ধকারে সে যখন বের হচ্ছিল চুরি করতে, এটাই ছিল তার পেশা। এক পরিচিত যখন জানতে চাইলেন কোথায় যাচ্ছ, সে আর বলতে পারল না। কারণ, বলেকয়ে তো আর চুরি করতে যাওয়া যায় না। সে ফিরে এলো ঘরে। পরদিন বেরোতে গিয়েও আরেক পরিচিতের সাথে দেখা। তাকেও সে সত্যটি বলতে পারল না। আবার সত্য ছাড়া কোনো মিথ্যা সে বলবে না বলেই নবীজী (স)-কে কথা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনভ্যাসে বিদ্যানাশ বলে যে কথাটি প্রচলিত আছে, তা-ই হলো। সে আর চুরি করতে পারে না। ধীরে ধীরে সে সৎপেশায় যতটুকু পারত উপার্জন করতে শুরু করল। তার জীবন থেকে অনেক বড় একটি অন্ধকার সময় দূর হলো। কীভাবে? ঐযে, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থেকে। এই সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা অভিভাবকেরা কী করতে পারি? কোলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে এ নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে শিশুর মিথ্যা বলা রোধে যত্ন নিন শিরোনামে বেশ সুন্দর কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়। শিশুদের বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা তাদের নিয়ে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন, তার মধ্যে সন্তানের মিথ্যা বলাও পড়ে। মনোবিদদের মতে, বকুনির ভয়ে মিথ্যা বলা দিয়েই এই অভ্যাস বাসা বাঁধে শিশুদের স্বভাবে। কোনো কোনো সময় মা-বাবা এই স্বভাবকে অবহেলা করে গেলেও তা পরে বড়সড় আকার ধারণ করে। শুধু তাই-ই নয়, কথায় কথায় মিথ্যা বলার এই স্বভাব শিশুর জীবনেও নানা ক্ষতি করে, ছোট থেকেই তা রুখে না দিলে এই অভ্যাস খুব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।.... শাসন বা মারধরে না গিয়েও এই স্বভাব রুখে দেয়া সম্ভব। মনোবিদদের মতে, শিশুকে প্রথম থেকেই গল্পের ছলে মনীষীদের জীবনী, ঈশপের নানা গল্প, নীতিকথা শেখান। বড় মানুষরা কেউ মিথ্যা পছন্দ করছে না অথবা মিথ্যা বিষয়টা খুব একটা গ্রহণীয় নয়-সে ধারণা মনের মধ্যে প্রবেশ করান। শিশুদের সামনে যতটা সম্ভব মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। তারা কিন্তু অভিভাবকদের থেকেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পারিবারিক নানা কারণে অতিকথন, মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। মিথ্যা বলা কতটা খারাপ কিংবা আপনাদের বাড়ির সব সদস্য এই মিথ্যা বলাকে কতটা ঘৃণা করেন-সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন। স্কুল থেকে ফিরলে বা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মিশলে, লক্ষ রাখুন তার চারপাশের বন্ধুরা কেমন। তাদের মধ্যে কারো মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তা যেন আপনার শিশুকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে যত্নবান হোন। দরকার হলে মিথ্যা বলা শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলুন। কোনো কারণে আপনার শিশু কি নিজের ওপর আস্থা হারাচ্ছে বা অবহেলিত হচ্ছে কোথাও, সেদিকে নজর রাখুন। এসব কারণ ঘটলেও শিশুরা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কোনটা মিথ্যা আর কোনটা কল্পনা, তা আগে নিজেরা বুঝুন। কোনো কোনো কল্পনা শিশুবয়সের জন্যেই নির্ধারিত। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা কেটেও যায়। কাজেই ছোটখাটো কল্পনাকে মিথ্যা ভেবে অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। শাসনের বাড়াবাড়ি নয়, দরকারে কথা বলুন শিশুর সঙ্গে। কোনোভাবেই মিথ্যা রুখতে না পারলে শিশুমনোবিদ বা চাইল্ড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। আনন্দবাজার পত্রিকায় এভাবেই কিছু সুন্দর পরামর্শ তুলে ধরা হয়। আসলে পরামর্শ সবসময় ভালোই হয়। তবে বুঝতে হবে আমার সন্তানের জন্যে কোন সময়ে কী পরামর্শ সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে তা বুঝতে পারা। এ নিয়ে একটি গল্প বলি : তেমনি প্রতিটি শিশুর মন বুঝে নিয়ে তারপর তাকে তার বোঝার মতো করে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। আসলে নৈতিক শিক্ষা মানে এমন শিক্ষা যার ফলে শিশুটির মনে প্রেম, মমতা, ভালবাসা, উদারতা জাগ্রত হয়। সন্তানের মাথা ভরা বুদ্ধি আমরা চাই, শরীরের পেশি ভরা শক্তিও আমরা চাই, কিন্তু সবচেয়ে বেশি চাই তার হৃদয়ভরা মমতা। যে মমতার সাহায্যে সে নিজেই ঠিক করতে পারবে কোনটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত না, কখন কী বলা যায় আর কখন কী বলা যায় না। নৈতিক শিক্ষা সবসময় ছায়ার মতো তার পাশে থেকে ভালো কিছু করতেই তাকে উৎসাহিত করবে আর মন্দ কিছু করা থেকে বিরত রাখতে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াবে। এক ছেলের কথা বলি। সে তার মায়ের কাছে একটি বিল জমা দিল। মায়ের কাছে তার পাওনা। সেখানে সে লিখেছে : সকালে গাছে পানি দিয়েছি : ১০ টাকা। মুদি দোকান থেকে বাজার করে এনেছি : ২০ টাকা। ছোট ভাইকে কোলে রেখেছি : ২৫ টাকা। ময়লা ফেলে এসেছি : ৫ টাকা। পরীক্ষায় ভালো করেছি : ৫০ টাকা। রাতে মশারি টানিয়েছি : ৫ টাকা। অতএব মা, মোট ১১৫ টাকা আমি তোমার কাছে পাই! মা পড়ে মুচকি হাসলেন। তার কিশোর ছেলেটির দিকে তাকালেন। পাওনা টাকার (!) অপেক্ষায় যেন তার তর সইছে না। তার চোখ ভিজে উঠল। তিনি লিখলেন : তোমাকে ১০ মাস পেটে ধারণ : বিনে পয়সায়। বুকের দুধ দু বছর দেয়া : বিনে পয়সায়। তোমার জন্যে রাতের পর রাত জেগে থাকা : বিনে পয়সায়। তোমার অসুখ-বিসুখে তোমার জন্যে দোয়া করা, সেবা করা, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, চোখের পানি ফেলা : বিনে পয়সায়। তোমাকে গোসল করানো : বিনে পয়সায়। তোমাকে ছড়া, গল্প, গান শোনানো : বিনে পয়সায়। তোমার জন্যে খেলনা, কাপড়চোপড় কেনা : বিনে পয়সায়। তোমার ভেজা কাঁথা বদলে দেয়া, কাঁথা ধোয়া, শুকানো, ভাঁজ করা : বিনে পয়সায়। তোমাকে আমি ও তোমার আব্বু নিজেদের থেকেও বেশি ভালবাসা : বিনে পয়সায়। মা ছেলেটির হাতে চিরকুটটি দিলেন। ছেলেটি পড়ল। কিন্তু কোনো ভাবন্তর হলো বলে মনে হলো না। শুধু চুপচাপ বাইরে বেরিয়ে এলো। বাকি বন্ধুরা তার জন্যে অপেক্ষা করছে। সবাইকে সে বলেছিল, আজ বিকেলের নাশতা সে খাওয়াবে। তা আর হলো কই? মা কী সব লিখে দিয়েছে! মায়ের ওসব কাজের জন্যে কি আর বিল হয়? সব মায়েরাই তো এগুলো করে। কিন্তু ছেলেটি জানে না যে, মা যদি না থাকতেন একটি শিশুর জন্যে এই কাজগুলো করে দেয়ার জন্যে যাকে রাখা হতো তাকে কত বেতন দিতে হতো। যা-হোক সেই কিশোর ছেলেটি তার বন্ধুদেরকে বলল, আজ পেট খারাপ। কাল তোদের খাওয়াবো। পেট কিন্তু ভালো আছে। তার হাতে যে টাকা নেই। মনে মনে সে ফন্দি করছে, রাতে বাবার পকেট তো আছেই। অসুবিধা হবে না। দেখি ৩০০ টাকা নিতে পারি কিনা। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বসে আছে পড়ার টেবিলে। কিন্তু মন ঘুরছে বাবার পকেটে। পাশের রুমে বাবার কণ্ঠ। অফিস থেকে ফিরেছেন। মা বলছিলেন, এই শার্ট আর কতদিন রিপু করে পরবে। একটা নতুন শার্ট কেনো। বাবা বললেন, না না খোকার স্কুলের একটা জুতো কিনতে হবে আগামী মাসে। তুমি বরং সময় করে শার্টটা রিপু করে দিয়ো। মা বললেন, এ কী, তোমার মুখ শুকনো কেন? আজকেও দুপুরে খাও নি? বাবা বললেন, ওসব ভাজাভুজি খেতে ভালো লাগে না। বাসায় ফিরে তো খাবই। তাই ভাবলাম, দুপুরে না খেয়ে ৫০ টাকা করে জমলেও মাস শেষে ১৫০০ টাকা। বাজার খরচ যে বাড়তি! ছেলেপুলেকে একটু ভালো কিছু না খেতে দিলে তাদের শরীর বাড়বে কী করে। এতক্ষণে ছেলেটির হুঁশ ফিরল। প্রতিদিন ডিম-দুধ তার জন্যে বরাদ্দ। ভাত, মাছ, মাংস, নানান সবজি, ডাল, নাশতা, স্কুলের টিফিন কোনোটিরই কমতি নেই। অথচ তার বাবা কিনা দিনের পর দিন দুপুরে না খেয়ে টাকা জমান! ছেলেটির চোখ জ্বালা করতে লাগল। মনটা কেঁপে উঠল। এ আমি কী করতে যাচ্ছিলাম! আমার বাবাকে ক্ষুধার্ত রেখে বন্ধুদেরকে নিয়ে ট্রিট দিতে যাচ্ছিলাম! যে বন্ধুদের খাওয়া-দাওয়ার কোনো অভাব নেই। বিবেক তাকে তাড়া করল। এই যে বিবেকের তাড়া, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে মা-বাবার অবদান এই ছেলেটির উপলব্ধিতে আসতে এই ঘটনাপ্রবাহের দরকার ছিল। সন্তানকে ছোট থেকেই পরিবারের বিষয়গুলোর সাথে সংযুক্ত করুন। তাতে কী লাভ? ভাত এঁটো করতে গিয়ে তার মনে পড়বে যে, এই চালটুকু যোগাড় করতে তার মা-বাবাকে কত পরিশ্রম করতে হয়। কিংবা সেই মেয়ের মতো হবে, যে কিনা কিশোরীসুলভ সারল্যে ঈদে একটি জুতো আবদার করেছিল বাবার কাছে। যখন দেখেছে বাবা আর কোথাও টাকা না পেয়ে দোকানদারের কাছে বাকিতে চাইতে যাচ্ছেন, তখন মেয়েটি বাবাকে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বলেছে, বাবা চলো বাদাম খাই। আমার অনেক জুতো আছে। এরকম সমমর্মী সন্তান, বুঝদার সন্তান গড়ে তোলার জন্যেই প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। অ-তে অজগরটি আসছে তেড়ে, আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে এই শিক্ষা তো স্কুলে, পাঠ্যবইয়ে সবখানেই আছে। কিন্তু তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন নৈতিকতার শিক্ষা, শুদ্ধাচারী হওয়ার শিক্ষা।

বিশ্বাস সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে

একজন মানুষের আসল শক্তি তার হাত নয়, পা নয়, দেহ নয়, তা হচ্ছে মন। যিনি এই মনের শক্তিকে অনুভব করতে পারেন এবং তা বিশ্বাস করতে পারেন, তিনি তার প্রতিটি চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে পারেন। যদিও আজ পর্যন্ত মনকে দেখা যায় নি, ধরা যায় নি, ছোঁয়া যায় নি। কোনো বিজ্ঞানী একে টেস্টটিউবে নিয়ে গিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন নি। তেমনি বিশ্বাসকেও ধরা-ছোঁয়া যায় না, একে নিয়ে গবেষণা করা যায় না। কিন্তু মনের শক্তির ওপর বিশ্বাসের প্রকাশ যখন ঘটে, তখন একজন মানুষ বলেন, আমি পারি, আমি পারব। ছোট্ট কথা, কিন্তু এ কথাটিই যখন কাজে রূপ নিয়েছে তখন তা যুগে যুগে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘আমি পারব’এই দৃঢ় বিশ্বাসই সকল সাফল্যের ভিত্তি। আর পারব বলে বিশ্বাস করলে যে অবশ্যই পারা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে অগণিত। বিজ্ঞান বলি, শিল্প বলি, সাহিত্য বলি, নিরাময় বলি, প্রাচুর্য বলি, খেলা বলি সবক্ষেত্রেই রয়েছে বিশ্বাসের বিজয়ের উদাহরণ। গত ৩ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো-র স্বপ্ন নিয়ে-তে চারো চার চারজন নিয়ে একটি দারুণ সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে সিজিপিএ চারে চার পেয়ে যে চার জন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন তাদের নিয়েই ছিল সাক্ষাতকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে এই চার জনের একটি বারের জন্যেও ফোর মিস হয় নি। অথচ চারটি বছরে চার জন যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা যে-কোনো শিক্ষার্থীর জীবনকে টালমাটাল করে দিতে পারে। কিন্তু তারা কেউ হাল ছাড়েন নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে মেয়েটি ফোর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক নিচ্ছিলেন, তিনি সেদিন বার বার চোখ মুছে প্রয়াত বাবাকে বলছিলেন যে, তুমি খুশি হয়েছ তো বাবা? কারণ, ভর্তিযুদ্ধে আর কোথাও চান্স না পেয়ে মেয়েটি বাধ্য হয়ে যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন, জেদ চেপে গেল মনে। ভাবলেন পরের বছর আবার ভর্তি পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু বাবা বললেন যে, না, এখানেই এমনভাবে পড়ো যেন তুমি শিক্ষক হতে পারো। শেষ বর্ষে যখন তিনি, বাবা ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে হেরে যান। সেদিন মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে এই প্রতিজ্ঞাই করেছিলেন যে, বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না, ঠিক আছে, বাবার স্বপ্নটা তো বাঁচাতে পারি। শুরু করলেন প্রস্তুতি। প্রচণ্ড চড়াই, উতরাই। তারপর একসময় সেই ফলাফল পেলেন এবং শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন।  যে ছেলেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি থেকে স্নাতকে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন, তিনি আক্রান্ত এক বিরল এবং জটিল রোগে। প্রথম বর্ষে যখন ভর্তি হয়েছেন, তখনই ধরা পড়ে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামক রোগটি তার দেহে দানা বেঁধেছে। দেশের বাইরে গিয়ে অপারেশন করিয়ে ক্লাসে আসতে আসতে ততদিনে ১৭ দিন পার হয়ে গেছে। এ রোগের কারণে তিনি সবসময় ডাবল ভিশন (দুটি প্রতিবিম্ব) দেখতে পান। শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাও তার কম। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু’ তার বলার কথা। কিন্তু তিনি নিজেকে ক্লান্ত হতে দেন না। পরীক্ষার ফলাফলে কোনো ছাড় না দিয়েই পাশাপাশি যুক্ত থেকেছেন আরো অনেক কাজে। বায়োলজি অলিম্পিয়াড, গণিত অলিম্পিয়াড একাডেমিক দলে কাজ করেছেন। ৩৩টি দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ১০ দিনের ক্যাম্পে অংশ নিতে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে। এখন আরো কাজ, আরো স্বপ্ন দেখে এগোচ্ছেন সামনে। সবচেয়ে চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ফোর অর্জন করা মেয়েটি। আর্থিক সংকটের কারণে চাকরি নিয়েছেন প্রথম বর্ষেই। চাকরি, ক্লাস-এত কাজের চাপে পড়তেন কখন? এর উত্তরে তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন ঢাকার যানজটকে। কারণ অফিস থেকে ক্লাসে আসতে তাকে তুরাগ বাসে উঠতে হতো। বাস যখন জ্যামে দাঁড়িয়ে তখনই পড়াগুলো একে একে সেরে ফেলতেন। সবার যেখানে স্নাতক শেষ করতে চার বছর লাগে, তার লেগেছিল সাড়ে তিন বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সাতটি সেমিস্টারে ফি দিলেও তারপর থেকে একটি টাকাও খরচ হয় নি। কারণ চমৎকার ফলাফলের কারণে তিনি ফুল স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ব্যর্থ মানুষেরা নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে। তারা বিশ্বাসই করতে পারে না যে, বড় কিছু করার জন্যে তাদের জন্ম হয়েছে। একবার ব্যর্থ হলে তারা আরো মুষড়ে পড়ে। তারা সবসময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সন্দেহ-সংশয়ে ভোগে। আর সফল মানুষেরা ইতিবাচক চিন্তা-চেতনার অধিকারী। শত প্রতিকূলতার মাঝে নিজ বিশ্বাসে অটল থাকে। চারপাশের মানুষ কে কী বলল না বলল সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তারা নিজের লক্ষ্য এবং কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী থাকেন। তারা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেন না, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই রচনা করেন। ব্যর্থতা তাদের সম্ভাবনাকে আরো ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। আপাত ব্যর্থতার ছাই থেকেই তারা সাফল্যের সোপান নির্মাণ করে ইতিহাসে স্মরণীয়-বরণীয় হন। আসলে সফল জীবনের পথে যাত্রা শুরুর জন্যে অনেক প্রস্তুতির কোনো প্রয়োজন নেই। যেমন : অর্থ-বিত্ত, বংশমর্যাদা, শান-শওকত, জ্ঞান গরিমা, ডিগ্রী-পদবি না থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। যদি শুধু মুক্ত বিশ্বাস থাকে। নিউরোসায়েন্টিস্টরা গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বাসের প্রথম প্রভাব পড়ে মনে। মন প্রোগ্রাম পাঠায় মস্তিষ্কে। তখন মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন সংযোগপথ রচিত হয়। বদলে যায় মস্তিষ্কের কর্মকাঠামো। তখন মস্তিষ্ক আপনার পারার ইচ্ছাটা বাস্তবতায় রূপান্তরিত করে। সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায় আপনি আপনার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আলে ইমরান-এর ১৩৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেনÑ‘(তোমরা) হতাশ হয়ো না! দুঃখ কোরো না! তোমরাই জয়ী হবে যদি বিশ্বাসী হও!’ ঋগবেদে আছে‘ বিশ্বাসীর হৃদয়েই প্রভু বসবাস করেন’। আর প্রভু যার সাথে থাকেন তার ভয় কীসে? আমাদেরও বিশ্বাস প্রথমত স্রষ্টার ওপরে, তারপরে স্রষ্টা আমাদেরকে যে মেধা ও সামর্থ্য-সম্ভাবনা দিয়েছেন তার ওপরে। যে কারণে কখনো মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে নিলেও আমরা যখন বলি “শোকর আলহামদুলিল্লাহ! আমি বিশ্বাসী, আমি বিশ্বাসী, আমি বিশ্বাসী” তখন বিশ্বাসের অনুরণন আবার আমাদের মনের মধ্যে বইতে শুরু করে। আজকের আলোচনাকে আমরা শেষ করতে পারি এইভাবে আসলে সাফল্য এবং ব্যর্থতা, রোগ এবং সুস্থতা, অশান্তি এবং প্রশান্তি এর মাঝখানে যদি কোনো দেয়াল থাকে সেটি হচ্ছে বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের। বিশ্বাস সাফল্য সৃষ্টি করে, অবিশ্বাস দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, সন্দেহ, সংশয় সৃষ্টি করে; বিশ্বাস নিরাময় করে, অবিশ্বাস মানুষকে রোগগ্রস্ত করে তোলে, অসুস্থ করে তোলে। বিশ্বাস প্রশান্তি দেয়, আর অবিশ্বাস অশান্তি সৃষ্টি করে। তবে এ বিশ্বাস হতে হবে সন্দেহ-সংশয় থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে দ্বিধা-ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে ভয় ও আশঙ্কা থেকে মুক্ত বিশ্বাস। তাহলেই যুগে যুগে কালে কালে যারা সফল হয়েছেন, স্মরণীয় হয়েছেন, বরণীয় হয়েছেন তাদের মতো আমরাও বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে সফল হবো, সুস্থ থাকব, প্রশন্তি পাবো।

প্রতিটি প্রতিকূলতা নতুন সুযোগ নিয়ে আসে

প্রতিটি প্রতিকূলতা মানুষের জীবনে সবসময় নিয়ে এসেছে নতুন সুযোগ, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। যদিও পাটিগণিতের কিছু অংক আমরা ছোটবেলায় করেছি ভিন্ন কথায়। যেখানে একজন মাঝি থাকতেন, থাকত তার নৌকা, আর নদীতে থাকত স্রোত, কখনো অনুকূল স্রোত, কখনো প্রতিকূল স্রোত। এবং আমাদেরকে সমাধান করতে হতো এরকম যে, সেই মাঝি স্রোতের অনুকূলে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন দুই ঘণ্টায় আর ফিরে আসতে সেই পাঁচ কিলোমিটার পথই তার পাড়ি দিতে লাগছে চার ঘণ্টা, যখন স্রোত থাকে প্রতিকূলে। যেখানে স্রোতের অনুকূলে তার নৌকার গতিবেগ ছিল ১০ কিলোমিটার আর স্রোত যখন প্রতিকূল তখন গতিবেগ কমে এসেছে ছয় কিলোমিটারে। সাধারণ হিসাব বলে যে, এটাই তো হয়, এটাই হবে। চারদিকে আনুকূল্য থাকলে এগুনো সহজ, কম সময়ে বেশিদূর যাওয়া যায়। আর কোনো একটা প্রতিকূলতা চলে এলেই হলো! দুই ঘণ্টার জায়গায় তখন লাগবে চার ঘণ্টা, কিংবা গতি ১০ কিমি থেকে কমে হবে ছয় কিমি। যেমন, বাতাসের সময় সাইকেল চালাতে বাতাস সাহায্য করে তাই সময় কম লাগে। যুক্তি ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্বাস যেখানে চলে আসে যুক্তি সেখানে খোঁড়া হয়ে যায়। আর বিশ্বাস বলে যে, প্রতিকূলতা যত বেশি এগিয়ে যাওয়াটা ধীর হলেও সেই এগোনোটা একটা সময় হয়ে যায় ঐতিহাসিক উদাহরণ। আমরা কয়েকটি জীবনের কথাই আজকে শুনি। তাহলেই দেখব প্রতিকূলতা তাদেরকে করেছে মহান, করেছে কালজয়ী। দুখু মিয়া বলে আমরা চিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। এই যে দুখু মিয়া থেকে জাতীয় কবি হওয়া-এই সাফল্য আসলে তার মনের প্রচণ্ড শক্তির বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। দুঃখে দুঃখে তার জীবন কেটেছে বলে তার নাম ছিল দুখু মিয়া। এত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যে, মাত্র ১১ বছর বয়সে আসানসোল শহরে মাসিক পাঁচ টাকা বেতনে রুটির দোকানে কাজ নিয়েছিলেন। পরে পড়াশোনার কিছুটা সুযোগ পেলেও এন্ট্র্যান্স (এখন যেটা এসএসসি) পরীক্ষা দিতে পারেন নি। চলে গেলেন যুদ্ধে। সেখান থেকে ফিরে কোলকাতায় এসে পুরোদমে লেখা শুরু করলেন কবিতা। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন। বেরুলো অগ্নিবীণা ও বিষের বাঁশি। রবীন্দ্র প্রতিভা তখন মধ্য গগণে। আর কোলকাতার শিল্প-সাহিত্য সংবাদপত্র তখন উচ্চবর্ণের দখলে। কোনো বৈরী পরিবেশই নজরুলের আবির্ভাব ও প্রতিষ্ঠা আটকে রাখতে পারে নি। জর্জ বার্নার্ড শ’-কে আমরা চিনি আইরিশ নাট্যকার হিসেবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাকে চেনে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে। অথচ আমরা কি জানি যে, তিনি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন কত বছর? মাত্র পাঁচ বছর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কেরানির কাজ নেন। কারণ, দারিদ্র্য। তা-ও বেতন ছিল কত জানেন? আমাদের টাকায় মাসে ৪০ টাকা। কিন্তু তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, একদিন তিনি একজন বড় লেখক হবেন এবং হয়েছেনও। কীভাবে? তিনি প্রতিদিন লিখতেন। এই লেখা ছিল নিয়মিত। লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে তার সময় লেগেছিল নয় বছর। লেখক জীবনের প্রথম এই নয় বছরে তার লেখা থেকে আয় হয়েছিল আমাদের টাকার হিসেবে মাত্র ৩০০ টাকা। কিন্তু লেখক হিসেবে পরবর্তী সময়ে উপার্জন করেছেন লাখ লাখ টাকা। তার বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেইসাথে ছিল কিছু কৌশল। যখন তার বই সেভাবে বিক্রি হচ্ছিল না, তিনি দোকানে দোকানে যেতেন আর জিজ্ঞেস করতেন যে, র্বার্নাড শ’-র বই আছে কিনা? তারা বলত যে, র্বার্নাড শ’ আবার কে? তিনি বলতেন, এত বড় লেখককে চেনেন না। বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে এইভাবে বলতে থাকতেন। দোকানিরা দোকানিরা মিলেও তো কথা হয়। তারা একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছে, এরকম এসে খুঁজছে। তোমার কাছে আছে কিনা। বলে যে নাই, কিন্তু মনে হচ্ছে এনে রাখা দরকার। দেখা যেত যে, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত দোকানে দোকানে র্বার্নাড শ’-র বই এবং লোকজনও কেনা শুরু করেছে। শুধু সাহিত্য নয়, যারা বিত্তবান হয়েছেন তাদের ক’জন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন? এক এক করে আমাদের দেশের বিত্তবানদের দিকে তাকালে দেখব তাদের অধিকাংশই এসেছেন সাধারণ অবস্থা থেকে। মনের শক্তির উপরে বিশ্বাস ও সেই শক্তির উদ্ভাবনী প্রয়োগই তাদের সফল করেছে। ভারতেশ্বরী হোমসের প্রতিষ্ঠাতা আর পি সাহার জীবন যদি দেখি, নিতান্ত দীনহীন অবস্থা থেকে তিনি ধনকুবেরে পরিণত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যারা ধনকুবের হিসেবে পরিচিত তাদের শতকরা নব্বই জনই খুবই সাধারণ অবস্থা থেকে এসেছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের কথাই ধরুন। এর যে প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বিনি, তার ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা একবাক্যে যে কথাটি বলেন সেটা হচ্ছে ‘এ ট্রু স্টোরি অফ র‌্যাগস টু রিচেস’। কেন? কারণ গ্রামের এক সাধারণ স্কুল শিক্ষকের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেজ ছিলেন ধীরুভাই। যখন মেট্রিক (এখন যেটা এসএসসি) পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এলেন, অসুস্থ বাবা বললেন সংসারের হাল ধরতে। বাবার অনুরোধ রাখতে তিনি ছুটলেন এডেনে জীবিকার সন্ধানে। যোগ দিলেন জাহাজে মাল পরিবহনকারী একটি কোম্পানিতে মাল খালাসের কেরানি হিসেবে। অবশ্য স্কুলে পড়াকালীনও তিনি ছুটিছাটায় তীর্থযাত্রীদের মাঝে ভাজাভুজি বিক্রি করতেন। এডেনে কেরানির কাজ, তারপর কিছুদিন তেলের ফিলিং স্টেশনে কাজ করার পর গেলেন দুবাইতে। সেখানে কিছু টাকা-পয়সা জমিয়ে এলেন দেশে। শুরু করলেন টেক্সটাইল ব্যবসা। এটাই ছিল আজকের রিলায়েন্সের শুরু। আসলে প্রতিটি প্রতিকূলতা কাটাতে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শুকরিয়া এবং বাস্তব কাজ। আর বাস্তবে কাজে নামার জন্যে প্রয়োজন বিশ্বাস। শুধু সাফল্যের ক্ষেত্রে নয়, রোগ থেকে নিরাময়ের জন্যে, সুস্থতার জন্যেও বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’-এর যে ধারণা তা মূলত এ বিশ্বাসেরই আধুনিক পরিভাষা। রোগমুক্তির বেলায় রোগীর বিশ্বাসই মূল ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, কখনো কখনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। বিষণœতা, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, পার্কিনসন্স, আইবিএস, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা দূর, ব্যথা উপশম, হৃদযন্ত্রের গতি ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা, ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি অকার্যকারিতায় এসব রোগে যারা ভুগছেন তাদের মধ্যেও আশাবাদী ও বিশ্বাসী মানুষরা তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপন করেন। কারণ একটাইÑবিশ্বাস নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্বাস যদি করা যায়, তাহলে তা আপাতদৃষ্টিতে দুরারোগ্য ব্যাধিকেও নিরাময় করে দিতে পারে। বিখ্যাত লেখক ও মনস্তাত্ত্বিক নেপোলিয়ান হিল মনের বলের আরো চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার ছেলে জন্মগ্রহণ করে কানের পর্দা ছাড়া। ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ডাক্তাররা তাকে জানায়, সারা জীবন সে বধির থাকবে। হিল লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করতাম তার শোনার একটা বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করার জন্যে প্রকৃতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। আমি তার অবচেতন মনের মাধ্যমে কাজ শুরু করি। ক্রমাগত চেষ্টার ফলে স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার ৬৫ ভাগই পুনরুদ্ধারে সক্ষম হই। অবচেতন মন ইন্দ্রিয়ের অভাবও পূরণ করতে পারে বিকল্প মাধ্যমে।

সহজে বাড়িতেই বানান শ্যাম্পু

চুল নিয়ে চিন্তা এখন সবার। প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপে, শহরের ধুলায় চুলে জট, ধুলাবালির কণা জমে নোংরা হয়ে ওঠা এ সব নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মরত নারীদের এমন অভিযোগ তো অসংখ্য। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এসেছে হাজারও শ্যাম্পু কোম্পানি। এক এক সংস্থার এক একরকম প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সে সব শ্যাম্পুর মধ্যে মিশে থাকা কেমিক্যাল ভালোর বদলে আরও ক্ষতিই করছে আপনার। চুলের গঠনকে, গোড়ার শক্তিকে আরও মজবুত করার বদলে করে দিচ্ছে দুর্বল।‌ কিছু শ্যাম্পুতে তো অ্যামোনিয়াও থাকে, শ্যাম্পুর ফোম তৈরির জন্য থাকে প্রচুর কেমিক্যালস। অনেকেই আছেন যারা বাজারের এই ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করে রীতিমত ভুগেছেন। এখন বাজারের উপর নির্ভরশীল হওয়ার দিন শেষ, বাড়িতেই আপনি তৈরি করে নিন নিজের প্রয়োজনমত শ্যাম্পু। আপনার যদি শুষ্ক চুল হয় তবে তার জন্য এক ধরনের প্রণালী, তৈলাক্ত হলে আরেক রকম। নিজের দরকার বুঝে বানিয়ে নিন নিজের জন্য সবচেয়ে ভালো শ্যাম্পু। কী দিয়ে বানাবেন? উপাদানগুলো একেবারেই প্রাকৃতিক। এগুলো কিনতে গেলে আপনাকে বেশি কসরত করতে হবে না। কিছু জিনিস তো ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন। এবার তবে বলে ফেলা যাক শ্যাম্পু তৈরির বেশ কয়েকটি ভালো রেসিপি। ‘নো পু’ শ্যাম্পু সব ধরনের বাড়ির তৈরি শ্যাম্পুর মধ্যে ‘নো পু’ পদ্ধতি কিন্তু সবচেয়ে সহজ। এর উপাদানগুলো আরওই সহপানিভ্য। এই শ্যাম্পু তৈরি করতে যা যা লাগবে তা হল- এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা আর এক কাপ পানি। এই দুটি জিনিসই হাতের কাছেই থাকা জিনিস। পানি তো ফ্রিতেই মেলে। যদি বাজার থেকে ডিসটিলড পানি কিনে নিতে পারেন কিছু মূল্যের বিনিময়ে তবে তো আর কথাই নেই। সাধারণ পানিতে কাজ হবে না তা নয়, দিব্যি হবে। প্রণালীটা এ রকম: প্রথমে এক কাপ পানি আর এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা একটা ছোট বাটির মধ্যে ঢালতে হবে। দেখবেন বাটির আয়তন যেন এমন হয় যে পানি ও সোডা ঢালার পর অনেকটা ভরে যায় বাটির। যদি তা না হয়, তবে পরিমাণটা চোখ বুজে সমানে সমানে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দিতে পারেন। এরপর আর কিছুই না। ভালো করে গুলে নিন দুটি উপাদান। এরপর ভরে নিন যে কোনও সাধারণ বোতলে বা শ্যাম্পুর পুরনো বোতলে আর সময় মতো ব্যবহার করুন। তবে বলে রাখা উচিত যাদের চুল তৈলাক্ত তাদের ক্ষেত্রেই এটা কাজে দেয়। চুল যদি শুষ্ক হয় তবে এটা নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো। সে ক্ষেত্রে চুল উস্কোখুস্কো দেখাবে। নারকেল দুধের শ্যাম্পু যাদের চুল শুষ্কতাদের জন্য কী উপায়? উপায় অবশ্যই আছে। আপনি ব্যবহার করতে পারেন নারকেলের দুধ দিয়ে তৈরি শ্যাম্পু। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে এটা দিয়ে আপনার চুলের পুষ্টি সম্ভব আর এ জিনিস খুব কম সময়ের মধ্যে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন। এর জন্য লাগবে বাড়িতে তৈরি নারকেল দুধ আর তরল ক্যাসটাইল সোপের একটি বোতল। ক্যাসটাইল সোপের খোঁজ শহরের কিছু বড় দোকানে খোঁজ করলে সহজেই পেয়ে যাবেন, সে সময় যদি না থাকে তবে আনিয়ে নিন যে কোনও অনলাইন শপ থেকে। দাম আপনার সাধ্যের মধ্যেই। এই দুটি উপাদান সমান সমান করে নিন একটা বোতলে আর ঝাঁকিয়ে নিন ভালো করে। ব্যবহারের সময় এক চামচ করে নিন। যারা শ্যাম্পুতে সুগন্ধি পছন্দ করেন তারা মিশিয়ে দিতেই পারেন অল্প মেন্থল বা ল্যাভেন্ডার তেল। অ্যালোভেরা জেল শ্যাম্পু হ্যাঁ, এ জিনিসও আপনার সাধ্যের মধ্যেই। অ্যালোভেরার গুণ তো আর অজানা নয়। বাড়িতে অ্যালোভেরার চারা বসিয়ে নিলে কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি পেয়ে যাবেন অ্যালোভেরা জেল। পানি, অ্যালোভেরা জেল, গ্লিসারিন আর তরল ক্যাসটাইল সোপ সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন একটা পাত্রে। এটা চুলে দিয়ে কিছুক্ষণ বসে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। তাহলে আর চিন্তা কীসের। বাজারের শ্যাম্পুতে কী থাকে না থাকে তা আপনি জানেন না বলেই অজান্তে আপনার কত ক্ষতি হচ্ছে। এর থেকে এ রকম কিছু পদ্ধতিতেই আপনি ভালো রাখতেন আপনার চুল, তাও একেবারে নিখরচায়। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের সামলানোর ৮ উপায়

লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, জেদ, নিজেকে গুটিয়ে রেখে একলা থাকার অভ্যাস, মানসিক অবসাদ, ইন্টারনেটের নেশা, লুকিয়ে সিগারেট-মদ কিংবা বিপজ্জনক যৌনতা-বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের এমনই সব নানা ব্যবহারে উদ্বিগ্ন হন অভিভাবকরা। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত স্নেহ বা উদাসীনতাতে বিপথগামী হতে পারে ক্লাস এইটের ছাত্র কিংবা তেরো বছরের কিশোরী। আসলে বাবা-মায়ের শাসন বাঁধন ছিঁড়ে স্বাধীনচেতা হয়ে উঠতে চায় কৈশোর মন। এ সময় মারধর, চেঁচামেচিতে ফল হয় বিপরীত। তাহলে বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন সামলাবেন কী করে? খুঁজে দিন সঠিক পথ। পরামর্শ দিলেন ভারতের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রির ডিরেক্টর ও বিশিষ্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. প্রদীপ কুমার সাহা। ১. বাল্যকাল আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মাঝামাঝি সময়টাই টিনএজ। এই সময় ওরা নিজেদের বড় হয়ে গেছে বলে ভাবতে থাকে। নিজস্ব ভাবনা, ধারণা, মতামত তৈরি হয়। তাদের এইসব মতামতকে অভিভাবকরা গুরুত্ব না দিলে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তর্ক করে। জেদ ধরে। এমন ব্যবহারিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে নম্রভাবে বোঝান। তার বক্তব্য মন দিয়ে শুনুন। ২. যতই কাজের ব্যস্ততা থাকুক প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা কোয়ালিটি টাইম দিন সন্তানকে। এই সময় ছেলেমেয়ে যা বলবে বাবা-মা তাই শুনবে। সেটা একসঙ্গে গল্প করা, টিভি দেখা, গেমস খেলা যে কোনও কিছুই হতে পারে। সব সময় নিজের মতামত সন্তানের উপর চাপিয়ে দেবেন না। অন্যের সঙ্গে সন্তানের তুলনা করবেন না। কোনও জিনিস কেনার আগে ছেলেমেয়ের বক্তব্য শুনুন। তারপর যে মতামতে ভোট বেশি হবে তাতে সিদ্ধান্ত নিন। সপ্তাহে এক-একদিন এক-একজনের দাবিমতো রান্না করুন। পরিবারে গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এতে সন্তানের পরিবারের প্রতি দরদ ও দায়বদ্ধতা বাড়ে। একলা নিজের জগৎ গড়ে তোলার অভ্যাস তৈরি হয় না। এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা বাড়ে, বাবা-মাকে গোপন করার প্রবণতা কমে, সৎ হয়। অন্যকে সম্মান করা, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ৩. অতিরিক্ত বায়না, অতিরিক্ত ইন্টারনেট-মোবাইল ব্যবহার করলে অবশ্যই শাসন করুন। অপত্য স্নেহ সর্বনাশের কারণ। কোনও জিনিস চাইলে তা আদৌ তার কতটা দরকার তা বুঝে শাসন শুরু করুন। যদি সন্তানের চাহিদা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় তাহলে নিশ্চয়ই দিন। কিন্তু ক্লাস নাইনের ছাত্র যদি মোবাইল, বাইক বা এমন কিছু জিনিস চায় যা তার ব্যবহারের বয়স হয়নি, তাহলে প্রথমেই নাকচ করে দিন। কখনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না। মারধরও করবেন না। এর ফল খুব খারাপ হয়। ৪. বাবা-মা ঠিকমতো সময় না দিলে বা সঠিক ব্যবহার না করলেই কিন্তু অবাধ্যতা, জেদ, একগুঁয়েমি বাড়ে। ছেলেমেয়ের এই প্রবণতা আটকাতে বাবা-মাকে উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ধৈর্য ধরে, সঙ্গ দিয়ে, ভাল করে বুঝিয়েও যদি অবাধ্যতা না কমে তাহলে শিশু ও বয়ঃসন্ধিকালের বিশেষজ্ঞ মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। খুব প্রয়োজন না হলে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা না করে শুধু বুঝিয়েই বহু বিপথগামীকে সঠিক পথে নিয়ে আসেন মনোবিদরা। ৫. তুই পারিস না, তোর দ্বারা হবে না-এমন নেতিবাচক কথা বলবেন না। মারধর করবেন না। আত্মসম্মানে লাগে এমন কথা বলবেন না। বাবা-মা নিজেদের ঝগড়া সন্তানের সামনে করবেন না। সন্তানের সামনে সিগারেট-মদ খাবেন না। ঘনঘন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না। এগুলো ওরা পরিবারের সদস্যদের দেখেই শেখে। ৬. সব ছেলেমেয়ে পড়াশোনায় ভাল না-ও হতে পারে। কিন্তু কেউ যদি পড়াশোনায় হঠাৎ অমনোযোগী হয়ে পড়ে তাহলে তার প্রভাব পড়ে রেজাল্টে। নিয়মিত স্কুল-কোচিংয়ের শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বাবা-মায়েরা জেনে নিন সন্তান লেখাপড়া ঠিকমতো করছে কি না। অমনোযোগী হয়ে পড়লে সন্তানের মনের গতিবিধি অনুসন্ধান করুন। না পারলে মনোবিদের কাছে নিয়ে গিয়ে কাউন্সেলিং করান। ৭. পড়াশোনার প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। তবে তা দিনে নির্দিষ্ট সময়ে এক-আধ ঘণ্টার বেশি নয়। অন্য সময় ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দিন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নয়। মাঝে মাঝে লক্ষ্য রাখুন ইন্টারনেটে কোন ওয়েবসাইট চেক করছে। ৮. কৈশোর মনে শরীর নিয়ে একরাশ প্রশ্ন জাগে। এই পরিস্থিতিতে যৌন সচেতন করার দায়িত্ব বাবা-মাকেই নিতেই হবে, এমন নয়। স্কুলেরই উচিত যৌন সচেতনামূলক শিক্ষা দেওয়া। টিনএজাররা বন্ধুদের কাছ থেকেই সব কিছু জেনে যায়। তবে অকারণ কৌতূহল দেখলে বাবা-মায়েরা অবশ্যই জানাতে পারেন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন একে//

চামড়ার জিনিস চকচকে রাখবেন যেভাবে

হাল ফ্যাশনে বিভিন্ন ফ্যাবরিকের ব্যাগ, জুতা বাজারে এলেও চামড়ার ব্যাগ বা জুতার জায়গা কিন্তু কেউ নিতে পারেনি। তাই ফ্যাশনপ্রেমীদের আলমারি ঘাঁটলেই পাওয়া যায় চামড়া বা লেদারের ব্যাগ, বেল্ট, ওয়ালেট, জুতা। লেদারের জিনিস এমনই যা ব্যক্তিত্বেও বেশ ছাপ ফেলে। এমন জিনিস কিনতেও যে মোটা পকেট থাকতে হয়, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এই শৌখিন জিনিসটি যত্ন না করলে, এর আয়ু কমতে থাকে। তাই চামড়া বা লেদারের জিনিস যত্নে রাখতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতেই হয়। জানেন কি কোন কোন উপায়ে আপনার প্রিয় ব্যাগ, জুতা বা বেল্টকে একেবারে নতুনের মতো রাখতে পারেন? দেখে নিন উপায়। ১. বাজারে লেদারের জিনিস পরিষ্কার করার আলাদা ক্লিনার পাওয়া যায়। একে ‘সফট সোপ’-ও বলে। এই ক্লিনার দিয়েই লেদারের ব্যাগ বা জুতা পরিষ্কার করুন। ২. ক্লিনারটি দিয়ে পরিষ্কার করার পরে হালকা ভেজা তুলা দিয়ে তা মুছতে থাকুন। দেখবেন যাতে চামড়ার গায়ে কোনভাবে সাবান না লেগে থাকে। বছরে ২-৩ বার এভাবে পরিষ্কার করুন। ৩. কখনই লেদারের জিনিস অ্যালকোহল বা স্পিরিট জাতীয় জিনিস দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। এতে রং নষ্ট হয়ে যায়। ৪. লেদারের জিনিসে পানি পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা ঝেড়ে ফেলে শুকাতে দিন। ৫. বর্ষায় লেদারের ব্যাগ বা জুতা ব্যবহার না করাই ভাল। ৬. ব্যাগে বা জুতায় কোনও রকমের দাগ দেখলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে নিন। ৭. অনেকে চামড়ার জিনিসকে উজ্জ্বল করার জন্য তেল ও কন্ডিশনার ব্যবহার করেন। সাময়িক জেল্লা আনলেও ব্যাগের রঙের ক্ষতি হয় এতে। ৮. বাজারে লেদার কন্ডিশনার পাওয়া যায়। তাই দিয়েই ব্যাগ বা জুতার জেল্লা ফেরান। ৯. লেদারের জিনিস ব্যবহার করার সময়ে নিজের হাতও পরিষ্কার রাখুন। ১০. হাতে কোনও ময়লা বা তেল যেন না লেগে থাকে। ১১. লেদারের জিনিস কখনও ভাঁজ করে রাখবেন না। ব্যাগ ফাঁকা থাকলে তার মধ্যে খবরের কাগজ বা বাবল র‍্যাপ ভরে রাখুন। এতে ব্যাগের আকার নষ্ট হবে না। ১২. লেদারের জিনিস হেয়ার স্প্রে, হেয়ার কালার সলিউশনের থেকে দূরে রাখুন। এতে স্পিরিট জাতীয় কেমিক্যাল থাকে যা লেদারের রং নষ্ট করে দেয়। ১৩. চামড়ার জিনিস দু’সপ্তাহ অন্তর আলমারি থেকে বের করে আলো-হাওয়া পূর্ণ জায়গায় রাখুন। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

অফিসে সহকর্মীদের ৬টি মিথ্যা কথা

অফিসে কিছু চলতি মিথ্যা কথা রয়েছে। যেগুলো প্রায় সমস্ত সহকর্মীরাই বলে থাকেন। কখনও অফিস ফাঁকি দেওয়ার জন্য, কখনও কাজে ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বা কখনও কোনও কারণ ছাড়াই শুধু অফিস যেতে মন চাইছে না বলে একটা মিথ্যা বলে দেন এরা। দেখুন তো আপনার অফিসে এ রকম চরিত্র আছেন কি না? অফিসে রোজ দেরি। তিনি নাকি তাড়াতাড়িই বাড়ি থেকে বেরোন। কিন্তু রোজই দেরি হয়ে যায়। বেশির ভাগ মানুষ তা সামাল দেন কীভাবে? সহজ কথায়, রাস্তার ট্রাফিকের অবস্থা খুব খারাপ। অর্থাৎ সব দোষ ট্রাফিকের ঘাড়ে দিয়ে নিজের ঘাড় বাঁচানো। স্ত্রী বা স্বামীর শরীর খারাপ যারা বিবাহিত এবং যাদের সন্তান রয়েছে তারা এই ব্যাপারে অন্যদের থেকে একটু এগিয়ে। অর্থাৎ একটু বেশি সুবিধা নিয়ে থাকেন। কী রকম? এই ধরুন, কোনও দিন স্ত্রী বা স্বামীর শরীর খারাপ বলে বা ছেলেমেয়ের শরীরটা ভাল যাচ্ছে না বলে বেমালুম কাটিয়ে দিতে পারেন। অবিবাহিতরা আবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। টাকার জন্য এই কাজ করি না অফিসে প্রায়ই অনেককে বলতে শুনবেন যে, টাকার জন্য আমি এই কাজ করি না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যিনি বলছেন তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছেন। এ রকম বলার দুটি কারণ হতে পারে। হয় তিনি দেখাতে চান অন্যদের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। বা নিজের বেতন নিয়ে অখুশি, তাই এটা বলে নিজেকেই সান্ত্বনা দেন। কাজের সময় ফেসবুক করি না কাজের সময় একেবারেই ফেসবুক করি না। আর হোয়াটসঅ্যাপ! অফিস গ্রুপ ছাড়া মোবাইলে তো হাত দিইই না। অফিসের এটা কিন্তু অন্যতম মিথ্যা। এ রকম সহকর্মী নিশ্চই আপনার অফিসেও আছেন? কম্পিউটার হ্যাং করেছে এ দিকে বস তাড়া দিয়ে যাচ্ছেন অনবরত, অথচ অনেকটা কাজ বাকি তখনও। তাহলে উপায়? এই সময়ে যেটা বেশির ভাগ মানুষ করে থাকেন তা হল ছোট একটা মিথ্যা বলা- আমি প্রায় করেই ফেলেছিলাম কিন্তু কম্পিউটার হ্যাং করে গেছে। বসও খুশি আর বেশ কিছুটা সময় হাতে পেয়ে যাওয়ার জন্য আপনিও খুশি। অফিস রাজনীতি এমন কোনও অফিস খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব যেখানে এই বস্তুটি নেই। প্রত্যেক কর্মচারীই কম-বেশি এর সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ক’জন নিজেকে এই অফিস-রাজনীতির অঙ্গ বলে স্বীকার করেন? বেশির ভাগই বলেন, আমি অফিসে কোনও পলিটিক্সে নেই। রোগা-মোটা রোগা-মোটা নিয়ে আমাদের চিরকালই বড্ড মাথাব্যথা। কারও সঙ্গে দেখা হওয়া মানে তিনি প্রথমেই সামনের জন্য মোটা হয়েছেন নাকি রোগা হয়েছেন তা বলে থাকেন। তবে অফিসের ব্যাপারটা একটু আলাদা। এখানে একটা কথা প্রায়ই শুনবেন। কত রোগা হয়ে গেছিস তুই! রোগা হওয়ার আনন্দে ডায়েট ভুলবেন না যেন, এটাও কিন্তু অন্যতম অফিস-মিথ্যা। সূত্র: আনন্দবাজার একে//

মানসিক চাপ দূর করার উপায়

অনেকের জীবনই ব্যস্ততায় ভরা৷ আর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এই জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেতে কে না চায়! মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস নামের এক পদ্ধতির মাধ্যমে মানসিক চাপ কমিয়ে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায় বলে এর প্রবক্তারা দাবি করেন৷ এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে৷ দৈনন্দিন জীবনে চাপ কাকে বলে, টোবিয়াস হাড়ে হাড়ে তা জানেন৷ চাকরি ও দুই শিশুসন্তান সামলাতে গিয়ে তিনি নিজেকে নিঃশেষিত মনে করতেন৷ তিনি বলেন, ‘তখন অবশ্যই বুঝতে পেরেছিলাম, যে কিছু একটা পরিবর্তন আনতে হবে৷ আমার পক্ষে আগামী কয়েক বছর এভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়৷ পরিবর্তনের জোরালো ইচ্ছা জেগেছিল৷’ টোবায়াস তখন জীবনযাত্রার গতি কমানোর চেষ্টা শুরু করলেন৷ এ বিষয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে ‘মনোযোগ’ নামের এক পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন৷ এভাবে নাকি স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমানো সম্ভব৷ এই পদ্ধতিতে স্ট্রেস কাটাতে চিরায়ত ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম ও যোগাসনের সমন্বয় করা হয়৷ বেশ কয়েক বছর ধরে মার্টিনা ফ্রিৎস এই পদ্ধতি শেখাতে কোর্সের আয়োজন করে আসছেন৷ তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মনোযোগের অর্থ নির্দিষ্ট এক ধরনের অস্তিত্ব৷ মনেপ্রাণে এই মুহূর্তে এখানেই থাকতে হবে৷ অন্য কোনও বিষয়ে ভাবলে চলবে না৷ আমাদের চিন্তাভাবনা সাধারণত অতীত বা বর্তমানে বিরাজ করে৷ ফলে এই মুহূর্তে এবং এখানে যা ঘটছে, প্রায়ই আমরা তা ভুলে যাই৷’ আট সপ্তাহের কোর্সে টোবিয়াস নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম ও এমন সব কায়দা শিখেছেন, যা দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা যায়৷  মনোবিজ্ঞানীরাও তাদের চিকিৎসায় এই ‘মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস’ প্রয়োগ করেন৷ ১০ বছর ধরে জার্মানির মাইনৎস শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে৷ মনোবিজ্ঞানী সান্ড্রা শ্যোনেফেল্ডার তার গবেষণায় ‘মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস’-এর প্রভাব চাক্ষুষ করে তোলার চেষ্টা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘একদিকে বলা যায় মনোযোগের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেসের মাত্রা সত্যি কমানো সম্ভব৷ কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়৷ তাছাড়া বহুকাল ধরে ‘মাইন্ডফুলনেস’ চর্চা করলে মস্তিষ্কের কাঠামোয়ও একটি পরিবর্তন দেখা যায়৷ ওয়ার্কিং মেমারি, যার সাহায্যে আমরা তথ্য মনে রাখি ও বিশ্লেষণ করি, তার উন্নতি ঘটে৷ এমনকি এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি বা তা বেড়ে যেতে পারে৷’ বয়স এ ক্ষেত্রে কোনও অন্তরায় নয়৷ সব বয়সের মানুষই স্ট্রেস থেকে মুক্তি চান৷ মাইন্ডফুলনেস বিশেষজ্ঞ হিসেবে মার্টিনা ফ্রিৎস মনে করেন, ‘অনেক মানুষ মনে করেন, যে তারা জীবনে চাপের মুখে রয়েছেন, তাদের চালনা করা হচ্ছে৷ মনে হয়, তাদের আর কোনও নিজস্ব সত্তা নেই, শুধু মানুষ হিসেবে সচল থাকতে হয়৷ তারা নিজেদের সমাজের চাকা হিসেবে দেখেন৷ নিজেদের জীবনের রাশ হাতে নেবার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না৷’ এই মুহূর্তে ফিরে আসা, নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনা, সচেতনভাবে নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া জরুরি৷ দৈনন্দিন জীবনে বাসন ধোয়া অথবা দাঁত মাজার সময়েও এমনটা করা সম্ভব৷ ভবিষ্যতের কথা না ভেবে শুধু এখনকার অনুভূতিগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে৷ কঠিন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে অথবা স্ট্রেস কমাতে দৈনন্দিন জীবনের গড্ডলিকা প্রবাহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে৷ মার্টিনা ফ্রিৎস বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যা কিছু ঘনঘন ঘটে, তাকে অটোপাইলট বলা যায়৷ আমরা ঘুম থেকে উঠি, সকালে একই কাজ সারি৷ স্নান করি, জামাকাপড় পরি, তারপর কাজে বের হই৷ আমাদের নিজস্ব ছন্দ রয়েছে৷ অনেকে প্রবল যানজট পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছান৷ তারপর  আবেগের ওঠানামাও রয়েছে৷ কেউ গালিগালাজ করেন৷ অনেক কিছুই বার বার ঘটতে থাকে৷ মানুষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই চক্রে আটকে পড়ে৷’ মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস, ধ্যান ও যোগাসন দৈনন্দিন জীবনের গতি কমাতে পারে৷ জীবনের জাঁতাকল থেকে কয়েক মুহূর্ত মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে৷ টোবিয়াস এর ফলে উপকৃত হয়েছেন৷ সন্তানরা পার্কে খেলার সময় তিনি বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসে নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করেন৷ সেই মুহূর্তে সেখানেই থাকেন তিনি৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে একে//

টুথব্রাশ-বালিশ কত দিন অন্তর বদলানো উচিত জানেন?

ভাল ফল পেতে ৩-৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলে ফেলা উচিত, এ কথা আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু টুথব্রাশের মতোই গৃহস্থলির কাজে ব্যবহৃত এমন অনেক কিছুই একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলে ফেলা প্রয়োজন। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক- ১) গামছা বা তোয়ালে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি সামগ্রী। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রতিদিন ব্যবহারের পর গামছা বা তোয়ালে ভাল করে ধুয়ে দিন। গামছা প্রতি ৬ মাস অন্তর আর দুই থেকে তিন বছর অন্তর তোয়ালে বদলে ফেলা উচিত। ২) গোসলের সময় গায়ে সাবান মাখার কাজে ব্যবহৃত স্পঞ্জ বা লুফা প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর বদলে ফেলা প্রয়োজন। গোসলের সময় ব্যবহারের পর ভাল করে ধুয়ে রাখুন। ৩) ঘরে পরার স্লিপার বা হাওয়াই চটি প্রতি ৬ মাস অন্তর বদলে ফেলা উচিত। মনে রাখবেন, খুব পাতলা বা শক্ত চটি আমাদের পায়ের জন্য ক্ষতিকর। ৪) আরামদায়ক ঘুম অনেকটাই নির্ভর করে বিছানা, বালিশ এবং ঘুমানোর পরিবেশের উপর। বিশেষ করে বালিশ ঠিকঠাক না হলে অনেকেই ঘুমোতে পারেন না ঠিক মতো। তাই বালিশটা হওয়া চাই একদম ‘পারফেক্ট’! বছরের পর বছর একই বালিশ ব্যবহার করবেন না। প্রতি ২-৩ বছর পর পর বালিশ বদলে ফেলুন বা বালিশের তুলো বদলে ফেলুন। আরামদায়ক ঘুম আসবে সহজেই। ৫) ভাল ফল পেতে ৩-৪ মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলে ফেলা উচিত। ৬) শিশুদের ব্যবহৃত ল্যাটেক্স পেসিফায়ার বা চুশি কখনওই ৩-৪ সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিন অন্তত ২ বার ল্যাটেক্স পেসিফায়ার গরম পানিতে ভাল করে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। ৭) বেশি দিন থাকলে রান্নার মশলাপাতির স্বাদ বা গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় তাতে ছত্রাকও জন্মে যায়। তাই বিশেষ করে গুঁড়া মশলা ৬ মাসের বেশি না রাখাই ভাল। ৮) পারফিউমের বোতলের ঢাকনা যদি খুলে না ফেলা হয়, সে ক্ষেত্রে সেটি ৩ বছর পর্যন্ত ঠিক থাকে। আর বোতলের ঢাকনা খুলে ফেলার পর বছর দুয়েক পর্যন্ত ভাল থাকে। তাই প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর পর পারফিউম বদলে ফেলাই ভাল।   সূত্র: জি নিউজ একে//

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি