ঢাকা, ২০১৯-০৬-২০ ২০:১০:০২, বৃহস্পতিবার

সময়কে কাজে লাগানোর ৯টি পরামর্শ

সময়কে কাজে লাগানোর ৯টি পরামর্শ

সময় অত্যন্ত মূল্যবান। সময় আর অর্থের ব্যাপারে একটি মৌলিক সত্য হলো দুটিই আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন। এত বেশি প্রয়োজন যে সে চাহিদা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। প্রায় সবাই আমরা মনে করি আরও অর্থ পাওয়া গেলে ভালো হতো। আরও একটু সময় যদি পাওয়া যেত তাহলে কাজটা সুন্দরভাবে করা যেত। আসলে সময়ের অভাবের কারণে কাজ সুচারুরূপে করা যায় না। পরিবারকে নিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা যায় না, নিজেকে নিয়ে যে নিমগ্ন থাকব তাও হয়ে ওঠে না। আমাদের এই প্রজন্মের মাঝেই সময়ের অভাবজনিত হাহাকার সবচেয়ে বেশি। হাহাকার যতই থাকুক এই ব্যাপারে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে গেলে আপনার জীবন এত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠবে যে আপনি হাঁপিয়ে উঠবেন। আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আক্রান্ত হবেন। অত্যন্ত নিখুঁত ব্যক্তিগত কর্ম নির্ঘণ্ট আপনার উদ্বেগকেই শুধু বাড়িয়ে দেবে। তাই নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্যে সময়ের উপর আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নিম্নের প্রণালীগুলো অনুসরণ করলে সময়ের উপর কর্মতালিকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রয়োজন নিরূপণ করুন তারপর অর্জনের চেষ্টা করুন সময় বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মতালিকা প্রণয়ন। প্রতি মুহূর্তেই হাজারটি ভিন্ন ধরনের কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে কোন কাজটি বিশেষভাবে করা প্রয়োজন তা নিরূপণ করতে পারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুপারম্যানের ধারণা ত্যাগ করুন আমরা সবকিছুই নিখুঁত সুন্দরভাবে করতে চাই। আর বড় কিছু করার তাড়না আমাদের স্নায়ুর উপর এক অবর্ণনীয় চাপ সৃষ্টি করে। তবে বড় কিছু করতে চাওয়া ও বড় কিছু করা এর মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। বড় কিছু করতে গেলে ছোটখাট অনেক কিছুকে এড়িয়ে যেতে হয়। বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে উঠুন কাজের ঝামেলা কমানোর জন্যে আপনার জমে থাকা কাজগুলোকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলুন। একটি হচ্ছে জরুরি আরেকটি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি গ্রুপে অনেক তুচ্ছ বিষয়ও থাকতে পারে। যেমন বসের চিৎকার, টেলিফোনের ঘণ্টাধ্বনি এ ধরনের ব্যাপার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, তুচ্ছ বিষয় নিয়েই আমরা বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি মন দিলে দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া যায় এবং সময়ও অনেক বেঁচে যায়। দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্যের জন্যে সময় বাঁচান সবসময় দেখবেন জরুরি কাজ করতে করতে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের প্রয়োজন পূরণ করার পর দূরপ্রসারী কাজের জন্যে সময় পাওয়া যাচ্ছে না। দূরপ্রসারী লক্ষ্যের জন্যে প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় ব্যয় করুন। পরবর্তী জীবনে দেখবেন এই আধঘণ্টা-একঘণ্টা সময়ই আপনাকে বড় ধরনের তৃপ্তি দিচ্ছে। সংখ্যার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ঠিক করুন আপনার যা যা করা প্রয়োজন তার তালিকা প্রস্তুত করুন। তারপর গুরুত্বের ভিত্তিতে এক থেকে দশ পর্যন্ত নম্বর দিন। এক হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, আর দশ হচ্ছে সর্বনিম্ন। এরপর তালিকার প্রতিটি বিষয়কে জরুরি ভিত্তিতে নাম্বার দিন। এক হচ্ছে সবচেয়ে জরুরি, আর তিন হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম জরুরি। এরপর গুরুত্ব ও জরুরি এই দুই-এর সংখ্যাকে পূরণ করুন। যে কাজের সংখ্যা সবচেয়ে কম তাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বলে বিবেচনা করুন। অগ্রাধিকার নিরূপণের কৌশল অগ্রাধিকার নিরূপণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হচ্ছে প্রতিদিন দিনের কর্মতালিকা প্রস্তুত করা। সারাদিন কি করতে হবে লিখে ফেলুন। তারপর সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর পাশে ‘ক’ চিহ্ন দিন। এরপর এই কাজটি করতে কত সময় লাগতে পারে তা অনুমান করে দেখুন। যদি দেখেন সবগুলো কাজ করতে আট ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে তাহলে তালিকা সংক্ষেপ করুন। সারাদিন অনুসারে কাজগুলো করতে চেষ্টা করুন। গুছিয়ে কাজ করুন আমাদের অনেকেই অগোছালো অবস্থায় কাজ করি। এতে সময় লাগে বেশি। একটু সচেতনভাবে গুছিয়ে কাজ করলে সময় ও অর্থ দুইই বাঁচানো যায়। টেবিল গোছানো ও কাজের চাপ কমানোর জন্যে যে কাজগুলো আপনার অধীনস্থরা করতে পারে সেই কাগজপত্রগুলোর উপর তাদের নাম লিখে সরাসরি তাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। নিজের টেবিলে যে কাজগুলো শুধু আপনি নিজেই করবেন সেই কাগজপত্রগুলো রাখুন। অপ্রয়োজনীয় কাগজে টেবিল জাম করে রাখবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার টেবিলে আসা কাগজপত্রের মাত্র ২০ থেকে ৪০ ভাগ প্রয়োজনীয় কাগজ। ৬০ ভাগ কাগজই অপ্রয়োজনীয়। আর যে কাগজগুলো আপনি ফাইল করে রাখছেন তার মাত্র ৫ থেকে ১০ ভাগ আপনার কাজে আসবে। তাই অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্দ্বিধায় ফেলে দিন। সময়ের অপচয় রোধ করুন আমাদের যে সময় নেই তা নয়, আসলে আমাদের মনে হয় আমরা খুব ব্যস্ত। কিন্তু মূল্যবান সময়ের একটা বিরাট অংশ অপচয় হয়, এটা ঠিক। আমাদের অজ্ঞাতসারেই অনেক সময় অহেতুক নষ্ট হয়ে যায়। এই নষ্ট সময়কে বাঁচাতে পারলেও দিনে একাধিক কর্মঘণ্টা যোগ করা সম্ভব। অনাহূত দর্শনার্থী ও ফোন আমাদের দিনের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সময় অনাহূত দর্শনার্থীর সঙ্গে ও টেলিফোনে খোশালাপ করতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এ রকম অনাহূত দর্শনার্থী অফিসে আপনার কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আপনি চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস করার পরিবর্তে একটু হেসে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি আপনার জন্যে কি করতে পারি?’ অফিসকক্ষে দেয়ালে একটি বড় ঘড়ি রাখুন, যাতে করে আপনি প্রয়োজনবোধে ঘড়ির দিকে তাকাতে পারেন। তাহলে আপনি দেখবেন যে, আলাপ অহেতুক দীর্ঘায়িত হচ্ছে না। কাউকে টেলিফোন করলে তাকে খুঁজে, ডেকে আনতে বলে টেলিফোন ধরে রেখে অহেতুক সময় নষ্ট করবেন না। বরং খবর দিয়ে রাখুন যে আপনি আবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে টেলিফোন করবেন। কাউকে রিংব্যাক করতে বললেও নির্দিষ্ট সময়ে রিংব্যাক করতে বলুন। টেলিফোনে আলাপ যাতে দীর্ঘায়িত না হয় সেজন্যে কাউকে অফিসে টেলিফোন করলে লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে অথবা অফিস ছুটির কিছুক্ষণ আগে করুন। বোকার মতো আমরা অনেক সময় কাজ করার প্রস্তুতি নিতেই প্রচুর সময় ব্যয় করে ফেলি। যেমন কাজ শুরু করার আগে এক কাপ চা বা কফি খেয়ে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া বা কোনও টেলিফোন করার আগে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলিয়ে নেওয়া। এ সব প্রস্তুতি বাদ দিয়ে সরাসরি কাজে বসে যান এবং সেরে ফেলুন। কাজ শেষ করে নিজেকে চা বা কফি দ্বারা পুরস্কৃত করুন। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো নিয়ে আপনি মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারেন। দীর্ঘসূত্রিতার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। সময় যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আসলে আমরা বুঝি না। আধুনিক সভ্যতাই যে শুধু সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে তা নয়, পবিত্র কোরআন শরীফেও সূরা আর রাহমান-এ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘কুল্লো ইয়াওমিন হুয়া ফিস্শান। ফাবি আইয়্যে আলায়ে রাব্বি ক্যুমা তুকাজ্জিবান।’ অর্থাৎ ‘সময়ের প্রতিটি মুহূর্তেই আমার মহিমা নব নব রূপে দীপ্যমান। তুমি আমার কোন দানকে অস্বীকার করবে?’ বস্তুত, সময়ের অপচয় করা নিজের অজ্ঞাতসারে স্রষ্টার দান ও মহিমাকে অবহেলা করারই শামিল।
ভাল আছি! ভাল থাকুন!

সফলতা হচ্ছে এক বিরামহীন সফর। সফলতা গন্তব্য নয়। সফলতা গন্তব্যে পৌঁছানোর একটি পথ। আর গন্তব্যে পৌঁছার জন্যে পথ পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থতাও পরিপূর্ণ সফল জীবনের জন্যে মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে। আত্ম-উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডেনিস ওয়েটলি একটি চমৎকার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি ১৯৭৯ সালের। ডেনিস ওয়েটলি শিকাগো থেকে লস অ্যাঞ্জেলসে যাবেন। সেখানে তার বক্তৃতা দেওয়ার কথা। ব্যস্ততাকে সামাল দিয়ে শিকাগোর ওহারা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে দেখেন দেরি হয়ে গেছে। দৌড়ে টার্মিনালে পৌঁছে দেখেন গেট বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানে ওঠার সিঁড়ি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। গেটকিপার নারীকে তিনি বিমানটি থামানোর জন্যে অনুনয়, অনুরোধ, তর্ক বিতর্ক করলেন। কোনও লাভ হলো না। চোখের সামনে বিমানটিকে রানওয়ে দিয়ে চলে যেতে দেখলেন। রাগে ক্ষোভে ঝড়ের বেগে তিনি ফিরে এলেন টিকিট কাউন্টারে। আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হলো। তিনি লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায়ই জানতে পারলেন, যে বিমানে তার যাওয়ার কথা ছিল, তা আকাশে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের একটি ইঞ্জিন ভেঙে রানওয়েতে পড়ে যায়। হাইড্রোলিক লাইন ও কন্ট্রোল কেবল ছিঁড়ে যায়। পাইলট বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। বিমানের আরোহী ও ক্রু সবাই নিহত হয়। ডেনিস ওয়েটলি এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আমি টিকিট লাইন ত্যাগ করে এয়ারপোর্ট হোটেলে একটা রুমে উঠলাম। বিছানার পাশে কারপেটের ওপর নতজানু হয়ে সেজদা করলাম। স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রার্থনা করলাম। এক যুগ পার হয়ে গেছে। এখনও ফ্লাইট ১৯১-এর টিকিটটি আমার কাছে রয়েছে। আমি কখনও টাকা ফেরত নেওয়ার জন্যে টিকিটটি ট্রাভেল এজেন্টের কাছে পাঠাইনি। আমি এই টিকিটটি আমার অফিস কক্ষে বুলেটিন বোর্ডে আটকে রেখেছি। এই টিকিটটি নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিদিনই আমার জন্যে ক্রিসমাস। আমি বেঁচে আছি এটাই তো অনেক বড় রহমত।’ তাই পরিপূর্ণ জীবনের জন্যে মেনে চলুন ৬টি বষয়- মানুষকে গুরুত্ব দিন কোনটা প্রয়োজনীয় আর কি করা ভাল তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিবেচনা করুন। অনেকেই আছেন যারা মূলত নিঃসঙ্গ ও ক্লান্তিকর জীবন যাপন করেন। কারণ তারা ব্যক্তিগত সম্পর্কে অবহেলা করেছেন। অধিকাংশ সময়ই তারা কাজ বা পেশাকে এত বেশি গুরুত্ব দেন যে, বন্ধু ও পরিবার পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। খ্যাতি বা অর্থের পেছনে এরা এতটা অন্ধের মত ছোটেন যে, স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা কাউকেই কোনও সময় দিতে পারেন না। ফলে পরবর্তী সময়ে অর্থ ও খ্যাতির মাঝেও একেবারে নিঃসঙ্গ ও বঞ্চিত অবস্থায় পড়ে যান। তখন তিনি সন্তান বা স্ত্রীর সময় কামনা করেন। কিন্তু দেখা যায় যে, স্ত্রী বা সন্তানের তাকে দেওয়ার মত সময় নেই। তারা তাদের নিজস্ব জগৎ গড়ে তুলেছে। তাই পরিবারের জন্যে, বন্ধুদের জন্যে, আত্মীয়দের জন্যে, সামাজিক কাজের জন্যে আগে থেকেই সময় বের করে নিন। আন্তরিক বন্ধন গড়ে তুলতে সময় ব্যয় করুন। ক্লান্তিকর জীবন থেকে আপনি মুক্তি পাবেন। সবার সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ ও সম্মানজনক আচরণ করুন অবজ্ঞা, অশ্রদ্ধা বা অবহেলাপূর্ণ আচরণ সবসময় জীবনকে মমতাহীন পাশবিকতার দিকে নিয়ে যায়। অপর পক্ষে বিনয়, সহানুভূতি ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ জীবনকে মহিমান্বিত করে। মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ শুধু বন্ধুদের সঙ্গে নয়, শত্রুদের সঙ্গেও করা যেতে পারে। শত্রুর সঙ্গে সহানুভূতি ও মহানুভব আচরণ অনেক সময় শত্রুতা দূর করতেও সাহায্য করে। আমরা যদি বাংলার বীর ঈশা খাঁর জীবন দেখি, তবে এর জ্বলন্ত প্রমাণ পাই। বিশাল মোঘল বাহিনী যখন ঈশা খাঁর রাজধানী সোনার গাঁ আক্রমণ করল, তখন ঈশা খাঁ মোঘল সেনাপতি মানসিংহকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণের আহ্বান জানালেন। রাজা মানসিংহ আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেল। ঈশা খাঁ অনায়াসে এই সুযোগ গ্রহণ করে মানসিংহকে বধ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে নতুন তরবারি এগিয়ে দিয়ে পুনরায় যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানালেন। ঈশা খাঁর মহানুভবতা মানসিংহের হৃদয় জয় করল। দুই পক্ষের সন্ধি হল। মানসিংহ দিল্লী ফিরে গেলেন। মহানুভবতা প্রদর্শন না করে ঈশা খাঁ মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। পরিণামে দিল্লী থেকে আরও বিশাল বাহিনী আসত। যার মোকাবিলা হয়তো ঈশা খাঁর পক্ষে করা সম্ভব হতো না। কিন্তু ঈশা খাঁর মহানুভবতা তাকে রক্তক্ষয় ও ভবিষ্যৎ পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। আসলে সহানুভূতি ও মহানুভবতা এমন এক মানবীয় গুণ যা জীবনকে স্বর্গীয় করে তোলে। সবসময় শোকরগুজার থাকুন দুঃখ কষ্টের দিকে সহজেই আমাদের চোখ চলে যায়। অনেক সময় ব্যক্তিগতভাবে বা জাতিগতভাবে অনেকের মধ্যেই নাই নাই খাই খাই ভাব চলে আসে। আপনি যদি আপনার কোন প্রতিবেশী বা বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, ভাই কেমন আছেন! তিনি বলবেন, ‘এই কোন রকম আছি’ বা ‘এই কোন রকম কেটে যাচ্ছে’ বা ‘আর থাকা’ ইত্যাকার নানা রকম ক্লান্তিকর কথা। এমনকি একজন কোটিপতিকেও যদি জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছেন? তাকেও বলতে শুনবেন এই একই রকম ক্লান্তিকর কথা। একটি ভাল লেখা সম্পর্কেও মন্তব্য জিজ্ঞেস করুন, খুব কম ব্যক্তিকেই বলতে শুনবেন লেখাটি ভাল হয়েছে। অধিকাংশকেই বলতে শুনবেন ‘এই চলে আরকি’ বা ‘মোটামুটি হয়েছে’। অর্থাৎ সবকিছুতেই নেতিবাচক চিন্তা ও না- শুকরিয়ার মনোভাব। আর এই মনোভাব সবসময় জীবনকে আরও হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়। কিন্তু আপনি যদি একবার প্রো-অ্যাকটিভ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারেন, তখন আপনি দেখবেন জীবনের সুন্দর দিকগুলো আপনার কাছে উদ্ভাসিত হচ্ছে, আপনার হৃদয়কে আনন্দে আপ্লুত করছে। প্রকৃতির নিয়মই হচ্ছে তেলে মাথায় তেল দেওয়া। আপনি যদি একজন ইউরোপীয়কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেমন আছেন? তার যত কষ্ট বা অসুবিধাই থাক না কেন তিনি প্রথম বলবেন, ‘ফাইন’ অর্থাৎ বেশ ভাল আছি। এই বলার মধ্য দিয়ে তিনি ভাল জিনিসকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করেন। দুনিয়াতে এখন তারা নিঃসন্দেহে বৈষয়িক দিক থেকে ভাল আছেন। এ প্রসঙ্গে আমরা হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর একটি বাণী স্মরণ করতে পারি। তিনি বলেছেন সালাম বিনিময়ের পর কেউ তোমার কুশল জিজ্ঞেস করলে বোলো, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভাল আছি।’ দৈনন্দিন জীবনে আপনিও এই ভাল আছি বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনি শোকর গুজার হোন। প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনার ভাল থাকার পরিমাণ বেড়ে যাবে। দুঃখকে শক্তিতে রূপান্তরিত করুন দুঃখ ছাড়া জীবন নেই। ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্য আসে না। সফল মানুষরা সবসময় দুঃখ ও ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেন। দয়ালু হোন আত্মকেন্দ্রিকতা ও ‘আমারটা আগে’ এই দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে এক ক্লান্তিকর বোঝায় রূপান্তরিত করে। পক্ষান্তরে দয়া ও সহানুভূতি জীবনকে আনন্দে রূপান্তরিত করে। দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন বলতেন, আমার তো জীবন একটাই। যে পথ দিয়ে এখন যাচ্ছি সে পথে তো আর নাও আসতে পারি। এই পথে কারো জন্যে যদি কোন কিছু করার সুযোগ থাকে তবে তা এখনই করা উচিত। দেরি করলে বা অবহেলা করলে কিছু করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারি। অন্যের উপকার যত ক্ষুদ্র আকারেই হোক আজ থেকেই শুরু করুন। দয়াশীল হোন। আলাদা আনন্দ পাবেন। মেঘের আড়ালেই রংধনু রয়েছে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনের আনন্দ সম্ভারকে কখনও উপভোগ করতে পারবেন না। হতাশা ও আনন্দ হচ্ছে এক পরস্পর বিরোধী অবস্থান। হতাশাবোধ আনন্দকে মাটি করে দেয়। আর হৃদয়ে আনন্দের অনুভূতি আনতে পারলে হতাশা পালিয়ে যায়। যারা জীবনের আনন্দকে উপভোগ করেছেন, তারা সবসময় কাঁটার আড়ালে গোলাপকেই দেখেছেন। হেলেন কেলার-এর জীবন দেখুন। শিশু বয়সে রোগ তার শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নেয়। তিনি কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সফল বক্তা হিসেবে সারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে ছিল তার প্রো-অ্যাকটিভ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি লিখেছেন ‘আমাকে এত কিছু দেয়া হয়েছে যে, কি দেয়া হয় নি তা নিয়ে ভাবার কোন সময় আমার নেই।’  শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিহীন এক নারী যদি এত প্রো-অ্যাকটিভ ও প্রত্যয়ী হতে পারেন, শোকর গুজার হতে পারেন, তা হলে আপনি কেন পারবেন না। শোকর গুজার হোন! নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনের আনন্দ সম্ভারকে উপভোগ করুন।

লজ্জা দূর করার ৫ উপায়

লজ্জা একটি সুন্দর আবেগ। লজ্জা মানুষকে ক্ষতিকর প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আর লজ্জার কারণেই আমরা অশোভন কার্যকলাপ থেকে সাধারণত নিজেদের বিরত রাখি। লজ্জার কারণেই আমরা অনেক সময় লোভনীয় কিন্তু সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপ, যেমন চুরি, পরকীয়া প্রেম ইত্যাদি থেকে বিরত থাকি। তবে লজ্জা স্বাভাবিকভাবে হিতকর হলেও এর অতিরিক্ত প্রভাব বা বিকৃত প্রভাব যে কোনও মানুষের জীবনকে বিড়ম্বিত এমনকি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। লজ্জা তখন ক্রোধ, একগুঁয়েমি, অহঙ্কার, বিষণ্নতা, মৌনের মুখোশ পরিধান করতে পারে। সুপ্ত লজ্জায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবসময় লজ্জা ও গর্বের নাগরদোলায় দুলতে থাকে। সাফল্য এদের সাময়িকভাবে গর্বের পথে নিয়ে যায়, আবার যে কোনও ছোটখাট ব্যর্থতাও এদের মধ্যে লজ্জা ও অক্ষমতার অনুভূতিকে চাঙ্গা করে তোলে। এই সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে যত নিষ্কৃতি পাওয়া যায়, ততই জীবন আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে। তাই সুপ্ত লজ্জার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে নিন্মোক্ত ৫টি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। লজ্জাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা শনাক্তকরণের মাধ্যমে লজ্জাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন। কোনও মানুষ, স্থান, বিষয় বা কার্যক্রমকে আপনি এড়িয়ে চলেন, তা শনাক্ত করুন। এদের এড়িয়ে চলার পেছনে সুপ্ত লজ্জার কারণগুলো খুজে বের করুন। পালিয়ে না বেড়ানো লজ্জার প্রকৃতি হচ্ছে লুকানো বা পালিয়ে বেড়ানো। তাই একে মোকাবেলা করতে হবে উল্টোভাবে। অর্থাৎ যখন আপনি লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলতে যাচ্ছেন, তখন সরাসরি চোখের দিকে তাকান এবং মনে মনে ভাবুন আমার এতে লজ্জা পাবার কিছু নেই। যাদেরকে এড়িয়ে চলবেন ইচ্ছাকৃতভাবে যারা আপনাকে লজ্জাজনিত পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় বলে আপনি মনে করছেন তাদের এড়িয়ে চলুন। তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পাল্টে ফেলুন। পূর্বের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করা বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ডা. গারশেন কাউফম্যান নিরিবিলি বসে ভাবনার মাধ্যমে লজ্জাকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় একবার ক্লাসে বক্তৃতা করতে গিয়ে স্টেজে পড়ে যান। এতে ছাত্রদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। তিনি লজ্জা অনুভব করেন এবং এরপর থেকে তার মনে বক্তৃতাভীতি বাসা বাঁধে। পড়াশুনা শেষ করার পর তিনি এই লজ্জাকে দূর করার জন্যে বেশ কিছুদিন নিরিবিলি বসে পূর্বের দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে তা শেষ করতেন ইতিবাচক দৃশ্যের অবতারণা করে। এভাবে তিনি লজ্জাজনক স্মৃতিকে সাফল্যের স্মৃতিতে রূপান্তরিত করেন। বক্তৃতা- যা ছিল এক সময়ে ডা. কাউফম্যানের জন্যে দুঃস্বপ্ন সেটা এক আনন্দের বিষয়ে রূপান্তরিত হয়। ত্রুটিকে সহজে মেনে নিন লজ্জার সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হচ্ছে আত্মসম্মানবোধ ও আত্মবিশ্বাস। নিজেকে সম্মান করতে শুরু করুন। নিজেকে অনন্য সৃষ্টি হিসেবে ভাবুন। কোনও মানুষই দোষক্রুটি মুক্ত নয়। আপনার মাঝেও ত্রুটি থাকতে পারে। সে ত্রুটিকে সহজে মেনে নিন। আর যে গুণগুলো রয়েছে তাকে বিকশিত করুন। আপনার বিকশিত গুণকেই মানুষ তখন সম্মান করবে। আপনারও আত্মসম্মানবোধ বেড়ে যাবে।

জীবনকে টেনশনপ্রুফ করে তোলার ১০ ধাপ

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, আমাদের ভয়, সন্দেহ, প্রতিক্রিয়া ও সংস্কার থেকে বেশির ভাগ রোগের জন্ম হয়। মানসিক চাপ, টেনশন, দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা মোকাবেলার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া দ্বারাই নির্ধারিত হয় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অবস্থা। আবার মন দ্বারাই নির্ধারিত হয় কি অসুখে আমরা আক্রান্ত হবো এবং কতদিন বেঁচে থাকব। অবশ্য মন যেমন আমাদের রোগব্যাধি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তেমনি তা নিরাময়, প্রশান্তি ও সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমও হতে পারে। তাই মনের শক্তি প্রয়োগ করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা ও দেহকে টেনশনপ্রুফ করে তোলার জন্যে নিম্নোক্ত দশটি ধাপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। আত্মবিশ্বাস তৈরি করুন আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে আপনি ক্রমান্বয়ে টেনশনে আক্রান্ত হবেন। নিজের উপরে যদি আস্থা না থাকে তাহলে অন্যদের দাবি ও প্রত্যাশার মুখে নিজেকে অসহায় মনে হবে। আর আপনি সহজেই টেনশনজনিত রোগে আক্রান্ত হবেন। আত্মবিশ্বাসহীনতা কাটিয়ে ওঠার জন্যে নিজেই শক্তির উপর বেশি করে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এর একটি সুন্দর উপায় বলে দিচ্ছি। কাগজ-কলম নিয়ে বসে নিজেকে একজন বিজ্ঞাপন লেখক হিসেবে কল্পনা করুন। মনে করুন, আপনি একটি পণ্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে এই পণ্য বিক্রি করতে হবে। তাই নিজের সম্পর্কে বলতে পারেন এমন ভালো ভালো সব কথা চিন্তা করুন। আর নিজের যা যা গুণ রয়েছে সব এক এক করে লিখুন। গুণাবলী লেখার সময় নিজের কিছু কিছু গুণকে একটু অতিরঞ্জিত করে ফেলুন, কারণ সব বিজ্ঞাপনেই তা করা হয়। নিজের দুর্বলতার কথা যা আপনি ভালো করেই জানেন তা নতুন করে দেখার কোনও প্রয়োজনই নেই। নিজের গুণাবলীর তালিকা বারবার পড়ুন। ‘না’ বলতে শিখুন অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দেয় যে, যারা সবসময় অন্যকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করে, অন্যে কি মনে করবে না করবে তা ভাবে, তারা বেশি টেনশনে ভোগে। আর যারা নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেয় তাদের টেনশন তুলনামূলকভাবে কম। তাই বলে নিষ্ঠুর বা অভদ্র হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনার শুধু নিজের প্রয়োজন এবং ইচ্ছা সম্পর্কে আর সজাগ হওয়ার দরকার এবং আপনি যা পছন্দ করেন সে ব্যাপারে আপনার সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত। নিজের জন্যে দৃঢ় হতে শিখুন। আপনি যখন সত্যি সত্যি কিছু একটা করতে চান না তখন বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলুন। আপনি অনুভব করবেন, এই ‘না’ বলতে পারায় আপনি স্বস্তি পেয়েছেন এবং আপনার টেনশন কমে গেছে। আর যাকে ‘না’ বললেন তিনিও দেখবেন ব্যাপারটিকে সহজভাবে নিয়েছেন। যা করবেন না কখনোই তা বলবেন না। কারণ করব করব বলে দীর্ঘসূত্রিতা আপনার যেমন টেনশনের কারণ হবে, তেমনি পক্ষেরও তা বিরক্তির উদ্রেক করবে। জীবনের লক্ষ্যস্থির করুন বেঁচে থাকার জন্যে আমাদের দরকার কিছু প্রত্যাশা, অর্জন করার জন্যে কিছু লক্ষ্য, দেখাশোনা করার মতো বা লালন করার মতো কোনোকিছু। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার জীবন শূন্য থাকবে। উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং আশা জীবনের সব সমস্যাকে অতিক্রম করতে সাহায্য করবে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের জন্যে তারুণ্যে আপনার যা আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল তার একটি তালিকা তৈরি করুন। কল্পনা করুন কৈশোরে কি কি আশা ও উদ্দীপনা আপনাকে উদ্দীপিত করেছিল। এখন চিন্তা করুন সেসব স্বপ্ন ও আশার কোন কোনটি আপনাকে এখন উদ্দীপিত করে। আপনি অনুভব করবেন, আপনার অনেক আশা এখন আপনার নাগালের মধ্যে। আপনি ইচ্ছে করলে, প্রচেষ্টা চালালে সে সব অর্জন করতে পারেন। আর এই নতুন আশাই আপনার জীবনের লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে। অগ্রাধিকার নিরূপণ করুন আপনি যদি আসল সমস্যা ও তুচ্ছ সমস্যার মধ্যে পার্থক্য করতে না পারেন, কোন কাজ আগে করবেন এবং কোনটা পরে করবেন এবং আপনার জন্যে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা যদি নির্ধারণ করতে না পারেন তাহলে আপনি টেনশনে আক্রান্ত হবেন। অহেতুক উৎকণ্ঠার বোঝা বাড়তে থাকবে। আপনি যদি সচেতনভাবে গুরুতর সমস্যা ও তুচ্ছ সমস্যার মধ্যে পার্থক্য স্থাপন না করেন তাহলে মন সবগুলো সমস্যাকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে ধরে নেবে। তাছাড়া আপনি যদি তুচ্ছ জিনিস নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে গুরুতর সমস্যা সমাধানে পিছিয়ে পড়বেন। অবশ্য সমস্যা বা কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন কিছু নয়। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনার জন্যে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কাজে সময় নষ্ট করা বোকামি মাত্র। আপনার জীবনে কি কি বিষয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে তার একটি তালিকা প্রস্তুত করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন, বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই দেখবেন, মানসিক চাপ কমে গেছে। আবেগ প্রকাশ পেতে দিন আপনি যদি চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন এবং সবকিছুই নিজের মধ্যে চেপে রাখতে চান তাহলে আপনাকে আবেগ প্রকাশ করতে শিখতে হবে। আপনি যদি দুঃখ পান এবং কাঁদতে ইচ্ছে হয় তাহলে কাঁদুন, হাউমাউ করে কাঁদুন। গবেষকরা দেখেছেন আবেগজনিত কারণে চোখে যে পানি আসে সে পানির রাসায়নিক গঠন ধুলাজনিত কারণে সৃষ্ট চোখের পানির রাসায়নিক গঠন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কান্না জিনিসটি দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা প্রতিরোধক। তাই কাঁদতে ইচ্ছে করলে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই- নিঃসঙ্কোচে কাঁদুন। রাগ ও ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলুন রাগ ও ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলতে হবে। কারণ রাগ আপনার জন্যে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ক্রোধ জমিয়ে রাখলে তা আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে রাগ অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনও কারণে আপনার যদি রাগ হয়ে থাকে, প্রকাশ করে ফেলুন। আপনি যদি রেগে গিয়ে থাকেন, বলুন, আপনি এই কারণে রাগ করেছেন আপনার যদি মনে হয় কোনও শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রাগ প্রকাশ করা দরকার তাহলে তাই করুন। ফুটবলে জোরে একটা লাথি মারুন, দেয়ালে জোরে ২/১টা থাপ্পড়ও মারতে পারেন। কিংবা বাথরুমের কল ছেড়ে জোরে জোরে কথা বলে রাগকে কমিয়ে ফেলতে পারেন। রাগ নিজের মধ্যে পুষে রাখবেন না, যে কোনও উপায়ে একে প্রকাশ করুন। আপনার ভিতরের টেনশন কমে যাবে। একঘেয়েমি দূর করুন আমরা মনে করি, অতিব্যস্ততা ও উৎকণ্ঠা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু কর্মহীনতা ও একঘেঁয়েমিও একইভাবে মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠার কারণ হতে পারে। আপনার যদি মনে হয় জীবন একেবারে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে তাহলে কিছু শখের কাজকর্ম নিয়ে মেতে উঠুন। এটি যেমন কোনোকিছু সংগ্রহের কাজ হতে পারে, তেমনি হতে পারে কোনও সেবামূলক তৎপরতা। আপনি ভালবাসেন এমন কিছু তৎপরতা বা অন্যের উপকার হয় এমন কোনও কাজে জড়াতে পারলে আপনি নিশ্চয় গর্ব অনুভব করবেন। আর মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিতে ভয় পাবেন না। ব্যর্থতার আশঙ্কা রয়েছে এমন কাজের ঝুঁকিও কখনও-সখনও নিতে পারেন। এতে একঘেঁয়েমি দূর হবে। দিনে কয়েকবার হাসুন হাসি কিভাবে মানবদেহে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা এখনও রহস্যাবৃত। কিন্ত হাসি দমকে স্বাভাবিক করে, রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়াকে সুন্দর রাখে, রক্তচাপ কমায় এবং অভ্যন্তরীণ নিরাময় হরমোন সরবরাহ বৃদ্ধি করে। তাই প্রতিদিন হাসার জন্যে নতুন নতুন উপলক্ষ সৃষ্টি করুন। এজন্যে প্রথম, হাস্যোজ্জ্বল, সুখী ও রসিক লোকদের সঙ্গে যতদূর সম্ভব সময় বেশি কাটানোর চেষ্টা করতে থাকুন। দ্বিতীয়ত, মজার মজার বই, কমিক, কার্টুন পড়ুন। এছাড়া শিশুদের সঙ্গে কৌতুক, খেলাধুলা ও মজা করুন। জীবনের সঙ্গে মমতাকে যুক্ত করুন মমতা ও প্রেম এক সর্বপ্লাবী সঞ্জীবক শক্তি। যে কোনও বয়সের নরনারী একটি উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে লাভবান হতে পারেন। আমেরিকার ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছে যে যদি কোনও স্ত্রী প্রতিদিন সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীকে চুমু দিয়ে বিদায় জানায় তাহলে যাত্রাপথে স্বামীর দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কমে যায় এবং স্বামীর আয়ু গড়পড়তা পাঁচ বছর বেশি হয়ে থাকে। কারো প্রতি মমতা বা ভালবাসা থাকলে আপনার অনুভূতিকে গোপন রাখার প্রয়োজন নেই। কাউকে ভালবাসলে তাকে সে কথা বলার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। ঘর থেকে বেরোনোর সময় হাসিমুখে বিদায় নিন বা দিন। প্রিয়জন, বন্ধু বা সন্তান-সন্ততির প্রতি আদর, মমতা ও প্রেমের শালীন প্রকাশে কখনোই সঙ্কোচ করবেন না। মেডিটেশন করুন টিভি বা সিনেমার পর্দার সামনে বসলেই আপনার শরীর-মন শিথিল হবে এমন কোনও কথা নেই। টিভির সামনে বসে থাকা সত্ত্বেও দিনের সমস্যা ও উৎকণ্ঠা আপনার মনোলোকে বিচরণ করতে পারে। তাই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিথিলায়ন করুন। কল্পনাকে আপনার চিন্তা ও দেহের উপর কর্তৃত্ব করতে দিন। দরজা বন্ধ করে আধ ঘণ্টার জন্যে হাত-পা ছেড়ে কারপেটের উপর বা শক্ত বিছানায় শুয়ে পড়ুন। লম্বা দম নিতে নিতে শরীরকে শিথিল হয়ে যেতে দিন। কল্পনাকে আপনার সবচেয়ে সুখকর স্থান বা স্মৃতিতে বিচরণ করতে দিন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলুন। পাখির কলতান শুনুন। ফুলের গন্ধ অনুভব করুন। আকাশের নীলিমা আর গাছের পাতার সবুজের বৈচিত্র্যে নিজের দৃষ্টিকে হারিয়ে ফেলুন। আপনি শিথিলায়নের গভীর স্তরে পৌঁছে যাবেন। দেহ-মন যেমন প্রশান্ত হয়ে উঠবে, তেমনি সেই অবস্থায় নিজের মনোদৈহিক উন্নয়নের জন্যে অটোসাজেশন ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারবে।

খুশকি সামলানোর ৬টি ঘরোয়া সমাধান

কম-বেশি খুশকির সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। কিন্তু যারা এই সমস্যায় ভোগেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, এই সমস্যা সারা বছর এক রকম থাকে না। কখনও খুশকি বাড়ে, কখনও কমে। কিন্তু এটা ভেবে দেখেছেন কি, ঠিক কোন কোন কারণে এই খুশকির পরিমাণ বাড়ে-কমে? যদি সেটা বুঝতে পারেন, তাহলেই এই সমস্যা সামলানো তুলনায় অনেক সহজ হয়ে যাবে। এর বাইরে রইল খুশকি সামলানোর কয়েকটি ঘরোয়া সমাধানের সন্ধান। গ্রিন টি বাড়িতে গ্রিন টি যদি থাকে, তাহলে কিনে নিন পেপারমিন্ট এসেনসিয়াল অয়েল আর হোয়াইট ভিনিগার। গ্রিন টি একটি পাত্রে ফুটিয়ে নিন। তার সঙ্গে মিশিয়ে নিন দু-তিন ফোঁটা পেপারমিন্ট এসেনসিয়াল অয়েল। এই মিশ্রনে এক চামচ হোয়াইট ভিনিগার মেশান। তারপর রেখে দিন ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত। যখন মাথা ধোবেন, তখন মাথা ধোওয়ার পরে এই মিশ্রন দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। মাথায় মাসাজ করুন এরপর। এরপর ভালো করে গোসল করে নিন। গ্রিন টি-র মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাথার খুশকি কমাতে সাহায্য করবে। নিম পাতা অন্য কোনও উপকরণ না পেলেও, শুধু নিম পাতা দিয়েই খুশকি আটকানো সম্ভব। কারণ নিমের মধ্যে থাকা উপাদান খুশকি তৈরি করা ব্যাকটেরিয়া মারতে পারে। ফলে খুশকির পরিমাণ কমে। নিম পাতা রাতে চার-পাঁচ কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলা সেখান থেকে তরলটি ছেঁকে বের করে নিন। তারপর মাথার তালুতে তরলটি মাখিয়ে রাখুন। একঘণ্টা এইভাবে মাখিয়ে রাখার পর মাথা ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি কমে যাবে। অ্যাসপিরিন দুটি অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গুড়া করে প্রতিদিনের ব্যবহার করা শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। তারপর প্রতিদিন যেভাবে শ্যাম্পু করেন, সেভাবেই এই মিশ্রন দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। শুধু শ্যাম্পুটা মাখানো অবস্থায় মিনিট দুয়েক রেখে দিলে ভালো হয়। অ্যাসপিরিনের মধ্যে থাকা সালিসাইলেট মাথার ত্বকের উপকার করে এবং খুশকি আটকাতে সাহায্য করে। নারেকল তেল নারকেল তেলের মধ্যে থাকা ফাংগাস বিরোধী উপাদান খুশকি আটকায়। তাই এই তেলের ব্যবহার করলে খুসির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। পাঁচ ফোঁটা নারকেল তেলের সঙ্গে পাঁচ থেকে দশ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রন দিয়ে মাথার তালপ ভালো করে মাসাজ করুন। এই মাসাজ রাতে করাই ভালো। তারপর সারা রাত মাথা ধোবেন না। একেবারে সকালে শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে নিন। মনে রাখবেন, সারা রাত মাথা এই তেলের মিশ্রনে মাখানো থাকলে খুশকি সারবে সহজে। কিন্তু হাতে সময় কম থাকলে, সেই সুযোগ কম। সে ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ মিনিট মাথা মাখিয়ে রাখুন তেলের মিশ্রনে। তাতেও কাজ হবে। বেকিং সোডা বেকিং সোডাও খুব ভালো মানের অ্যান্টিফাংগাল। তাই এর ব্যবহারেও খুশকির পরিমাণ কমে। স্বাভাবিকভাবে মাথা ধুয়ে নিন। তারপর মাথায় বেকিং সোডা লাগিয়ে নিন। মাথার তালুতেই প্রধানত লাগাবেন এই সোডা। সোডা দিয়ে তালু মাসাজ করলে খুব ভালো হয়। এক-দু’মিনিট এই অবস্থায় রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। খুশকির পরিমাণ কমবে। টক দই টক দই খুশকির থামানোর অব্যর্থ দাওয়াই। অল্প পরিমাণে টক দই (আপনার মাথার তালুর পুরোটা ঢাকতে যতটা লাগতে পারে) খোলা অবস্থায় রেখে দিন এক-দু’দিন। এর মধ্যে ফারমেনটেশন হওয়ার সময় দিন। তারপর মুখে যেভাবে মাস্ক লাগান, সেভাবেই মাথার তালুতে মাস্কের মতো করে এই ফারমেনটেড টক দই লাগিয়ে নিন। এই অবস্থায় এক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর খুব হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। মনে রাখবেন, এই হালকা শ্যাম্পুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। খুশকি খুব বিরক্তিকর বটেই। কিন্তু মনে রাখবেন, একে সামলানো কঠিন নয়। ওপরে লেখা যে কোনও পদ্ধতি বা একাধিক পদ্ধতির ব্যবহার করে খুশকি থেকে সহজেই নিরাময় পাওয়া যায়। সূত্র: বোল্ডস্কাই ডটকম একে//

কর্মীদের পুরষ্কার প্রদান প্রতিষ্ঠানের কতটা সুফল বয়ে আনে?

কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাজ্যের অনেক অফিসে কর্মীদের টিপস দেওয়ার প্রচলন শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তারা কর্মীদের থেকে ভালো সাড়াও পেয়েছেন। এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এবং সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেকি তর্নটন বলেন, ‘অফিসে কেউ যদি সত্যিই ভাল কিছু করে থাকে তাহলে আমরা তাকে সাধারণত দুই থেকে পাঁচ পাউন্ড কিংবা তারও কিছু বেশি টিপস দিয়ে থাকি।’ তার মতে, আপনি যদি কারও কাজ সত্যিই পছন্দ করে থাকেন তাহলে সেটা প্রকাশের স্পষ্ট উপায় হতে পারে এই টিপস দেওয়া। কর্মীদের মধ্যে টিপস দেওয়ার কারণে বিভিন্ন ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত যেসব প্রতিষ্ঠানে ভাল কাজের জন্য কর্মীদের অল্প পরিমাণে হলেও টিপস দেওয়ার মতো ক্ষমতা ও বাজেট রয়েছে সেখানেই প্রবৃদ্ধি চোখে পড়েছে। এই পরিকল্পনার পেছনে জড়িত প্রধান দুটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বিবিসি রেডিও ফাইভের সরাসরি সম্প্রচারিত ‘ওয়েক আপ টু মানি’ নামের একটি অনুষ্ঠানে আসে। সেখানে প্রতিষ্ঠান দুটোর কর্ণধাররা জানিয়েছেন যে, কর্মীদের ছোট ছোট নগদ পুরষ্কার প্রদানের ক্ষমতা দেওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায় বড় ধরণের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফার্ম বোনাসলি বলেছে যে, গত ১২ মাসে ব্রিটেনের গ্রাহকদের মধ্যে তাদের স্কিম ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। যার মানে হল, এখন ২৫০টি যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংস্থা তাদের স্কিম ব্যবহার করছে এবং এর অন্যতম কারণ ১০ হাজারের মতো কর্মচারীকে তারা পুরস্কৃত করেছে। রিওয়ার্ড গেটওয়ে রেডিও ফাইভকে জানিয়েছে, সহকর্মীদের অল্প পরিমাণে নগদ অর্থ প্রদানের ক্ষমতা দেয়ার পর যুক্তরাজ্যে ব্যবসার পরিমাণ ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকি থ্রনটন এর বক্তব্য, ‘প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য এটি একটি দুর্দান্ত উপায়, কারো কাজের প্রশংসা করার জন্য একে সবচেয়ে ইতিবাচক উপায় বলে মনে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার টিপসের অর্থ জমাতে থাকি। যখন সেটা ১০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়, তখন সেই টাকাটা তুলে আমি নিজেকে খুশি করতে কিছু একটা করি।’ তথ্যসূত্র: বিবিসি এমএইচ/

আয়ের ৩৫ শতাংশ সঞ্চয় করা যাবে জাপানি এই পদ্ধতিতে

খারাপ দিনের জন্য কিছু সঞ্চয় করুন- এ ধরণের উপদেশ হয়তো সবাই শুনেছেন, তবে সব সময়ে হয়তো গুরুত্ব দেওয়া হয়ে ওঠে না। এশিয়া হচ্ছে একমাত্র মহাদেশ, যেখানে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ কিছু অর্থ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখেন- এই হার দক্ষিণ আমেরিকায় মাত্র ৩০ শতাংশ বলে জানিয়েছে নিয়েলসন ইন্সটিটিউটের একটি গবেষণা। আর সঞ্চয়ের উদ্বৃত্ত করতে এশিয়ায় এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন পশ্চিমা দেশগুলোর অনেক বাসিন্দা, যাকে বলা হচ্ছে ‘কাকিবো’। এটি ১১৫ বছর পুরনো একটি জাপানি কৌশল, যেখানে বেশ কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়।  তবে সে জন্য অবশ্য খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। শুধু একটি নোটবুক আর একটি পেন্সিল থাকলেই চলে। যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তারা জানিয়েছেন যে এটা মানুষকে তাদের আয়ের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। গোঁড়ার কথা জাপানি শব্দ ‘কাকিবো’ মানে হলো ‘বাসার অর্থকড়ির হিসাবের বই’। ‘কাকিবো: হিসাব এবং অর্থ সঞ্চয়ের জাপানি কৌশল’ বইয়ের লেখক ফুমিকো চাইবা বলছেন, ১৯০৪ সালের দিকে এই পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল। সেখানে তিনি লিখেছেন, এই পদ্ধতিটি তৈরি করেন জাপানের প্রথম নারী সাংবাদিক হানি মোতোকো। তিনি এমন একটি কৌশল আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন, যার ফলে জাপানের নারীরা তাদের পরিবারের অর্থকড়ি ভালোভাবে সামলাতে পারবেন। ওই সময় বেশিরভাগ নারীকেই বাসার বাইরে কাজ করতে দেওয়া হতো না এবং তারা শুধু পরিবারের খরচ হিসাবে স্বামীর দেওয়া অর্থ থেকে যে টুকু সম্ভব বাঁচিয়ে সঞ্চয় করতে পারতেন। ‘জাপানে অনেক দিক থেকেই ঐতিহ্যবাহী কিছু সংস্কৃতি অনুসরণ করা হয়, তবে কাকিবো যেন নারীদের স্বাধীনতার একটি উপায়ও তৈরি করেছিল,’ চাইবা লিখেছেন। ‘এটা অর্থনৈতিক ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এনে দিয়েছে।’ এমনকি বর্তমানের হিসাব-নিকাশ করার অসংখ্য প্রোগ্রাম এবং অ্যাপ থাকা সত্ত্বেও জাপানে এ ধরণের বুকলেট এখনও বিক্রি হচ্ছে। পদ্ধতিটি ঠিক কী প্রথম দিকে কাকিবো’র বিষয়টি একটু কঠিন মনে হতে পারে- তবে সেটাই এই পদ্ধতির সাফল্যের চাবিকাঠি, বলছেন চাইবা। প্রথমত, আপনাকে প্রতিদিনের বা সাপ্তাহিক আয় ও ব্যয়ের বিষয়টি কয়েকটি ভাগে লিখতে হবে। যেমন আয়, নিয়মিত খরচ (ভাড়া, পরিবহন, খাবার, ওষুধ), অবসরের খরচ এবং অতিরিক্ত ইত্যাদি। আপনি যতগুলো ইচ্ছা ক্যাটাগরি তৈরি করতে পারেন। অনেকে যেমন খাবার খরচটি নানাভাবে তালিকাভুক্ত করেন এবং তাদের নানা রঙে লিখে থাকে, যাতে সেগুলো সহজে নজরে পড়ে। মাস শেষে আপনি মোট আয় থেকে এ সব খরচ বাদ দেবেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি এখানেই শেষ হচ্ছে না। কাকিবো শুধু খরচ নিয়ন্ত্রণই করছে না, বরং আমাদের শেখাবে কিভাবে নিজের অর্থকড়ির সঠিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সমন্বয় খুঁজে বের জাপানি এই কৌশলের পেছনে আসল উদ্দেশ্য হলো, যে সব ব্যয় বাদ দেওয়ার উপায় নেই, সেগুলোকে শনাক্ত করে অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো এড়িয়ে চলা। ‘প্রতি মাসের শুরুতে আপনি একবার কাকিবো নিয়ে বসবেন এবং মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করবেন যে আপনি কতটা সঞ্চয় করতে চান। এই সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য আপনাকে কী করতে হবে,’ বলেছেন চাইবা। সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য আপনাকে হয়তো চারটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। * আপনি এখন পর্যন্ত কতটা সঞ্চয় করতে পেরেছেন? * আপনি আসলে কতটা সঞ্চয় করতে চান? * আপনি কত টাকা খরচ করতে যাচ্ছেন? * আগের মাসের তুলনায় সঞ্চয় বাড়াতে এই মাসে আর কী করা যেতে পারে? এ সব উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরামর্শটি খুবই সাধারণ- কাকিবো পদ্ধতি আপনার আয় এবং ব্যয়ের একটি পরিষ্কার চিত্র পেতে সহায়তা করে। যারা কাকিবো পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তাদের মতে নিজে নিজে এই পদ্ধতি অনুসরণ করার ফলে আপনি কোথায় কিভাবে খরচ করছেন, সেটিকে বেশি মনোযোগী করে তুলবে এবং কীভাবে কী করলে ভালোভাবে সঞ্চয়ের লক্ষ্য পূরণ হবে, সেটা ভাবতে বাধ্য করবে। সুতরাং আপনি কি একবার চেষ্টা করে দেখতে চান? সূত্র: বিবিসি একে//

ঘামের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার ৫ উপায়

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম থাকে। এই বিভিন্ন তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ঘামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘামের মাধ্যমে শরীর অতিরিক্ত তাপ বর্জন করে দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিকঠাক রাখে। কিন্তু এই ঘামই আবার বিভিন্ন সময়ে হয়ে ওঠে লজ্জার কারণ। কোনও অনুষ্ঠানে বা কর্মক্ষেত্রে যখন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার প্রয়োজন পড়ে, ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধ আপনাকে অপ্রস্তুত করে তোলে। ফলে ঘামের সমস্যা থেকে মুক্তি একান্তই প্রয়োজন এখনের জীবনে, আর সে নিয়েই এই লেখা। মশলাদার খাবার বন্ধ ঘাম তো যে কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরই হয়, কিন্তু দুর্গন্ধের কারণ কী? আসলে আমাদের ত্বকের উপরিভাগে রোমকূপে থাকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যা ঘাম থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। ঘাম হওয়া আটকাতে গেলে প্রথমেই যে দিকে নজর দেওয়া উচিত তা হল খাদ্যাভ্যাস। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যত কম পরিমাণে ফাস্টফুড, মশলাদার খাবার ও তেলের খাবার রাখা যায় ততই ভালো। এ ধরনের খাবার পেটে ঢুকলেই প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করতে থাকে যা কমাতে শরীর ঘাম উৎপন্ন করে। তাই প্রথমেই এড়াতে হবে এই ধরনের খাবার। প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরে যথেষ্ট তাপ উৎপন্ন করে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাদ্য বাদ রাখুন তালিকা থেকে। বাদ দিতে হবে ক্যাফাইন জাতীয় খাবার কফিও যা প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে। বরং খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল ও শাকসবজি যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। পানীয় খাবার ও বিশেষত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি রোজ খান, এতে শরীর সহজে গরম হবে না, ফলে ঘামও হবে না। হালকা রঙের জামা পরুন গাঢ় রঙের জামা যত বেশি পরবেন, আপনার শরীর আশেপাশের তাপ আরও বেশি শোষণ করবে। ফলে ঘামও নিশ্চিত। তাই চেষ্টা করুন দিনের বেলা হালকা রঙের জামা পরতে। হালকা রঙের জামা যে কোনও রকমের তাপ প্রতিফলিত করে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি একান্তই অনুষ্ঠানে যেতে ট্রেন্ডি জামা পরতে হয় যা হালকা রঙের নয়, তবে ভিতরে পরুন একটি অন্তর্বাস। এটি আপনার ঘাম শুষে নেবে ও বাইরে আসতে দেবে না। রোদে বেরোবেন না রোদ কেন, প্রয়োজন না থাকলে কোনও বেশি তাপমাত্রার এলাকাতেই যাবেন না। চেষ্টা করুন ছায়া আছে এমন এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় থাকার। জানালার পর্দা টেনে রাখুন যাতে বাইরের তাপ ঘরে এসে ঘরকে বেশি উত্তপ্ত করতে না পারে। আপনার শরীরকে যত বেশি তাপের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন, ততই আপনার ঘাম কম হবে। চাপ নেবেন না প্রতিদিনের রুটিনে কত রকম কাজ থাকে, ঠিকঠাকভাবে সাফল্যের সঙ্গে তা হবে কি না তা নিয়েও চিন্তা কম নয়। চাপ নেবেন না। আপনি যত চাপ নেবেন ততই শরীরে বাড়বে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ যা আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘাম অবশ্যসম্ভাবী। প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম, চাপের থেকে মুক্তি পাওয়ার এক দারুণ উপায়। ব্যায়াম করলে ঘাম ঝলে, এ থেকে মনে হতেই পারে কী করে এটা ঘাম কমাবে? আসলে নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনার সব চিন্তা ও চাপ নিজে থেকেই দূর হয়ে যাবে। ফলে আপনার মাথা সারাদিন চিন্তামুক্ত থাকবে। স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ কমলে কমবে শরীরের ঘাম উৎপাদনও। অ্যান্টিপারস্পিরান্ট ব্যবহার করুন ঘাম হওয়া আটকাতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যান্টিপারস্পিরান্ট। কিন্তু সবাই যে ভুল করে তা আপনি করবেন না। এটি সকালে গোসল করে বগলে গলায় বুকে দেবেন না, বরং দিন রাতে শুতে যাওয়ার সময়। লোমকূপে গিয়ে এর কাজ করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে, তাছাড়া রাতে উষ্ণতা কম থাকায় এটি ব্যবহার করে ভালো ফল মেলে। শোওয়ার আগে তাই এটি শরীরের যে অংশে বেশি ঘাম হয় সেখানে দিয়ে শুতে যান। বেশকিছু রাত এমন অভ্যাস করলে দেখবেন আপনার ঘাম হওয়া আগের থেকে অনেক কমে গেছে। সূত্র: বোল্ডস্কাই একে//

ঘাড়-কোমড়-পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তির সহজ উপায়

দৈনন্দিন বাড়তে থাকা কাজের চাপের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা! সমস্যা যতই হোক না কেন, চট করে কাজের ধরন বদলে ফেলা কখনওই সম্ভব নয়। তবে কাজের চাপে বাড়তে থাকা ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জীবনযাত্রায় কতগুলো পরিবর্তন আনা জরুরি। পরিবর্তন আনা জরুরি আমাদের হাঁটা-চলা বা বসার অভ্যাসেরও। আসুন জেনে নেওয়া যাক কাজের চাপ সামলে ঘাড়, কোমড় আর পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়- কাজের মধ্যে ব্রেক নেওয়া যদি দীর্ঘক্ষণ আপনাকে অফিসে বসে কাজ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে ২-৩ মিনিটের জন্য ‘ব্রেক’ নিয়ে একটু হেঁটে আসুন। চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন, ২ ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে শরীরের ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরের ফ্যাট ঝরানোর উত্সেচকের ক্ষরণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যায়। ৪ ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শুধু ঘাড়ে, কোমড়ে বা পিঠে ব্যথাই বাড়বে না, বাড়বে ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যাও। কসরত করা ফ্রোজেন শোল্ডার বা স্টিফ জয়েন্টের সমস্যায় সার্ভিক্যাল কলার বা ব্যাক ব্রেস পরলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায় ঠিকই, তবে এই অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদী হলেই বিপদ! কারণ চিকিত্সকদের মতে, তেমন কোনও চোট, আঘাত না থাকলে সার্ভিক্যাল কলার বা ব্যাক ব্রেস-এর উপর নির্ভর না করাই ভাল। এর থেকে ফিজিওথেরাপিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে কসরত করাই ভাল। দুই কাঁধে সমান চাপ বেড়াতে যাওয়ার সময় বা কাজে বেরনোর আগে আমরা অনেকেই পিঠে ভারী ব্যাকপ্যাক নিয়ে থাকি। বেশি ওজনের ব্যাগ দীর্ঘক্ষণ ধরে বইতে হলে দুই কাঁধে সমান ভার না পড়লে কাঁধে বা পিঠে ব্যথা হয়। তাই ব্যাগ এমনভাবেই নিতে হবে যাতে দুই কাঁধে সমান চাপ পড়ে। দাঁড়ানো বা শোওয়ার সময় ভঙ্গিমায় সতর্কতা অনেকেই ভুল ভঙ্গিমায় বসি বা দাঁড়াই। যার ফলে ঘাড়ে বা পিঠে ব্যথা হয়। তাই বসা, দাঁড়ানোর বা শোওয়ার সময় তার ভঙ্গি সতর্কভাবে খেয়াল রাখুন। বালিশের উচ্চতার দিকে খেয়াল করা শোওয়ার সময় বালিশের উচ্চতা সঠিক না হলে বা বালিশ খুব শক্ত বা খুব নরম হলে ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা হতে পারে। বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে কাঁধ আর ঘাড় না বেঁকিয়ে পিঠ মোটামুটি সোজা বা সমান্তরাল রেখে শোওয়া যায়। সূত্র: জি নিউজ একে//

পাকা চুলের সমস্যা দূর করুন ঘরোয়া ৪ উপায়ে

বয়স বাড়লে চুল পাকবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আজকাল অল্প বয়সে অনেকের চুল পেকে যাচ্ছে। আর কম বয়সে চুল পাকা মানে অস্বস্তিকর একটি বিষয়। আসলে চুলের অকালপক্কতার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। আমাদের আশেপাশে এমন অনেকেই আছেন যাদের অল্পবয়সে চুল পাকা শুরু হয়েছে। তাই অসময়ে চুল পাকার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে রয়েছে কয়েকটি ঘরোয়া উপায়। লেবু ও নারকেল তেল প্রয়োজন মতো নারকেল তেলের সঙ্গে একটা বড় পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে মাথায় ও চুলে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই মিশ্রণ লাগাতে পারলে উপকার পাবেন দ্রুত। কারিপাতা নারকেল তেলের সঙ্গে কারিপাতা মিশিয়ে তা ফুটিয়ে নিন ভালো করে। ঠাণ্ডা হলে স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করুন। কারিপাতা আপনার চুলের মেলানিন পিগমেন্ট রেস্টোর করতে সাহায্য করবে। লিকার চা কালো চা তৈরি করে তা সারা চুলে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। এতে মজুত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলে পাক ধরতে দেয় না। সপ্তাহে তিন দিন চায়ের লিকার লাগাতে পারেন। আমলকিগুঁড়া শুকনা আমলকি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। অথবা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে আমলকিগুঁড়া এূবং লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। সূত্র: এই সময় একে//

নৈতিক শিক্ষা হোক সন্তানের প্রথম পাঠ

শুরুতে একটি ঘটনা বলি। এক শিশু পড়ছে তার বাল্যশিক্ষা বইয়ে: সদা সত্য কথা বলিবে। মিথ্যে কথা বলিবে না। মিথ্যে বলা মহাপাপ। মিথ্যেবাদী কষ্ট পায়। মেয়েটি পড়ছে। আর মা-কে জিজ্ঞেস করছে, মা সত্য কী? মিথ্যে কী? পাপ কী? মা এক এক করে বলছেন। মেয়েটিও বুঝতে পারছে। একপর্যায়ে সে আঁতকে উঠে বলল-মা তাহলে আব্বুর কী হবে? আব্বু তো কষ্ট পাবে? মা বললেন, কেন? মা সেদিন বাসায় আমি আর বাবা ছিলাম। একজন এসেছিলেন। আমি দরজা খুলতে গেছি। বাবা বললেন, খুলিশ না! খুলিশ না! কয়েকবার বেল দিয়ে এমনিই চলে যাবে। ভাববে বাসায় কেউ নেই। অথচ বাসায় তো আমরা ছিলাম! আসলে সেদিন যিনি এসেছিলেন, তিনি দুধওয়ালা। সেদিন তার পাওনা টাকা নেয়ার কথা ছিল। টাকা যেন দিতে না হয়, সেজন্যে মেয়েকে তিনি দরজা খুলতে না করেছেন। মেয়েটির মা পরে তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলেন। এই সময়কার শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হলে আগে যে আমাদের বড়দের নৈতিকতা ঠিক আছে কিনা তা দেখতে হবে। সেজন্যে সন্তানকে নৈতিকতা শেখানোর আগে আমরা নিজেদের দিকে তাকাতে চাই যে, আমাদের মধ্যেও সেই শিক্ষাটি, সেই গুণটি আছে কিনা, না থাকলে শিখে নেয়ার চেষ্টা করব। তাহলে আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও-বাক্যটি খুশি হবে যে, কথাটার একটা মর্যাদা আমরা দিয়েছি। এখন শেখানোর বিষয় হচ্ছে নৈতিকতা। এর সিলেবাস কতটুকু? বিশাল সিলেবাস, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই সিলেবাসের প্রথম পর্ব হচ্ছে সত্য বলার চর্চা। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বলা যেতে পারে যে, সকল অন্যায়ের শুরু এই মিথ্যা দিয়ে। সত্য থেকে বিচ্যুতির কারণে। যে কারণে দেখুন, সেই লোক যখন নবীজী (স)-এর কাছে এসে বললেন, আমি অনেক কিছু মানতে পারব না। আমাকে একটি নির্দেশনা দিন। তবে যেটি দেবেন সেটিই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। নবীজী (স) তাকে বলেছিলেন মিথ্যা বলো না। ফলে দেখা গেল রাতের অন্ধকারে সে যখন বের হচ্ছিল চুরি করতে, এটাই ছিল তার পেশা। এক পরিচিত যখন জানতে চাইলেন কোথায় যাচ্ছ, সে আর বলতে পারল না। কারণ, বলেকয়ে তো আর চুরি করতে যাওয়া যায় না। সে ফিরে এলো ঘরে। পরদিন বেরোতে গিয়েও আরেক পরিচিতের সাথে দেখা। তাকেও সে সত্যটি বলতে পারল না। আবার সত্য ছাড়া কোনো মিথ্যা সে বলবে না বলেই নবীজী (স)-কে কথা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অনভ্যাসে বিদ্যানাশ বলে যে কথাটি প্রচলিত আছে, তা-ই হলো। সে আর চুরি করতে পারে না। ধীরে ধীরে সে সৎপেশায় যতটুকু পারত উপার্জন করতে শুরু করল। তার জীবন থেকে অনেক বড় একটি অন্ধকার সময় দূর হলো। কীভাবে? ঐযে, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থেকে। এই সময়ের প্রেক্ষাপটে আমরা অভিভাবকেরা কী করতে পারি? কোলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে এ নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে শিশুর মিথ্যা বলা রোধে যত্ন নিন শিরোনামে বেশ সুন্দর কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়। শিশুদের বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা তাদের নিয়ে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন, তার মধ্যে সন্তানের মিথ্যা বলাও পড়ে। মনোবিদদের মতে, বকুনির ভয়ে মিথ্যা বলা দিয়েই এই অভ্যাস বাসা বাঁধে শিশুদের স্বভাবে। কোনো কোনো সময় মা-বাবা এই স্বভাবকে অবহেলা করে গেলেও তা পরে বড়সড় আকার ধারণ করে। শুধু তাই-ই নয়, কথায় কথায় মিথ্যা বলার এই স্বভাব শিশুর জীবনেও নানা ক্ষতি করে, ছোট থেকেই তা রুখে না দিলে এই অভ্যাস খুব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।.... শাসন বা মারধরে না গিয়েও এই স্বভাব রুখে দেয়া সম্ভব। মনোবিদদের মতে, শিশুকে প্রথম থেকেই গল্পের ছলে মনীষীদের জীবনী, ঈশপের নানা গল্প, নীতিকথা শেখান। বড় মানুষরা কেউ মিথ্যা পছন্দ করছে না অথবা মিথ্যা বিষয়টা খুব একটা গ্রহণীয় নয়-সে ধারণা মনের মধ্যে প্রবেশ করান। শিশুদের সামনে যতটা সম্ভব মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। তারা কিন্তু অভিভাবকদের থেকেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পারিবারিক নানা কারণে অতিকথন, মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। মিথ্যা বলা কতটা খারাপ কিংবা আপনাদের বাড়ির সব সদস্য এই মিথ্যা বলাকে কতটা ঘৃণা করেন-সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন। স্কুল থেকে ফিরলে বা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মিশলে, লক্ষ রাখুন তার চারপাশের বন্ধুরা কেমন। তাদের মধ্যে কারো মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তা যেন আপনার শিশুকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে যত্নবান হোন। দরকার হলে মিথ্যা বলা শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলুন। কোনো কারণে আপনার শিশু কি নিজের ওপর আস্থা হারাচ্ছে বা অবহেলিত হচ্ছে কোথাও, সেদিকে নজর রাখুন। এসব কারণ ঘটলেও শিশুরা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কোনটা মিথ্যা আর কোনটা কল্পনা, তা আগে নিজেরা বুঝুন। কোনো কোনো কল্পনা শিশুবয়সের জন্যেই নির্ধারিত। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা কেটেও যায়। কাজেই ছোটখাটো কল্পনাকে মিথ্যা ভেবে অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না। শাসনের বাড়াবাড়ি নয়, দরকারে কথা বলুন শিশুর সঙ্গে। কোনোভাবেই মিথ্যা রুখতে না পারলে শিশুমনোবিদ বা চাইল্ড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। আনন্দবাজার পত্রিকায় এভাবেই কিছু সুন্দর পরামর্শ তুলে ধরা হয়। আসলে পরামর্শ সবসময় ভালোই হয়। তবে বুঝতে হবে আমার সন্তানের জন্যে কোন সময়ে কী পরামর্শ সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে তা বুঝতে পারা। এ নিয়ে একটি গল্প বলি : তেমনি প্রতিটি শিশুর মন বুঝে নিয়ে তারপর তাকে তার বোঝার মতো করে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। আসলে নৈতিক শিক্ষা মানে এমন শিক্ষা যার ফলে শিশুটির মনে প্রেম, মমতা, ভালবাসা, উদারতা জাগ্রত হয়। সন্তানের মাথা ভরা বুদ্ধি আমরা চাই, শরীরের পেশি ভরা শক্তিও আমরা চাই, কিন্তু সবচেয়ে বেশি চাই তার হৃদয়ভরা মমতা। যে মমতার সাহায্যে সে নিজেই ঠিক করতে পারবে কোনটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত না, কখন কী বলা যায় আর কখন কী বলা যায় না। নৈতিক শিক্ষা সবসময় ছায়ার মতো তার পাশে থেকে ভালো কিছু করতেই তাকে উৎসাহিত করবে আর মন্দ কিছু করা থেকে বিরত রাখতে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াবে। এক ছেলের কথা বলি। সে তার মায়ের কাছে একটি বিল জমা দিল। মায়ের কাছে তার পাওনা। সেখানে সে লিখেছে : সকালে গাছে পানি দিয়েছি : ১০ টাকা। মুদি দোকান থেকে বাজার করে এনেছি : ২০ টাকা। ছোট ভাইকে কোলে রেখেছি : ২৫ টাকা। ময়লা ফেলে এসেছি : ৫ টাকা। পরীক্ষায় ভালো করেছি : ৫০ টাকা। রাতে মশারি টানিয়েছি : ৫ টাকা। অতএব মা, মোট ১১৫ টাকা আমি তোমার কাছে পাই! মা পড়ে মুচকি হাসলেন। তার কিশোর ছেলেটির দিকে তাকালেন। পাওনা টাকার (!) অপেক্ষায় যেন তার তর সইছে না। তার চোখ ভিজে উঠল। তিনি লিখলেন : তোমাকে ১০ মাস পেটে ধারণ : বিনে পয়সায়। বুকের দুধ দু বছর দেয়া : বিনে পয়সায়। তোমার জন্যে রাতের পর রাত জেগে থাকা : বিনে পয়সায়। তোমার অসুখ-বিসুখে তোমার জন্যে দোয়া করা, সেবা করা, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া, চোখের পানি ফেলা : বিনে পয়সায়। তোমাকে গোসল করানো : বিনে পয়সায়। তোমাকে ছড়া, গল্প, গান শোনানো : বিনে পয়সায়। তোমার জন্যে খেলনা, কাপড়চোপড় কেনা : বিনে পয়সায়। তোমার ভেজা কাঁথা বদলে দেয়া, কাঁথা ধোয়া, শুকানো, ভাঁজ করা : বিনে পয়সায়। তোমাকে আমি ও তোমার আব্বু নিজেদের থেকেও বেশি ভালবাসা : বিনে পয়সায়। মা ছেলেটির হাতে চিরকুটটি দিলেন। ছেলেটি পড়ল। কিন্তু কোনো ভাবন্তর হলো বলে মনে হলো না। শুধু চুপচাপ বাইরে বেরিয়ে এলো। বাকি বন্ধুরা তার জন্যে অপেক্ষা করছে। সবাইকে সে বলেছিল, আজ বিকেলের নাশতা সে খাওয়াবে। তা আর হলো কই? মা কী সব লিখে দিয়েছে! মায়ের ওসব কাজের জন্যে কি আর বিল হয়? সব মায়েরাই তো এগুলো করে। কিন্তু ছেলেটি জানে না যে, মা যদি না থাকতেন একটি শিশুর জন্যে এই কাজগুলো করে দেয়ার জন্যে যাকে রাখা হতো তাকে কত বেতন দিতে হতো। যা-হোক সেই কিশোর ছেলেটি তার বন্ধুদেরকে বলল, আজ পেট খারাপ। কাল তোদের খাওয়াবো। পেট কিন্তু ভালো আছে। তার হাতে যে টাকা নেই। মনে মনে সে ফন্দি করছে, রাতে বাবার পকেট তো আছেই। অসুবিধা হবে না। দেখি ৩০০ টাকা নিতে পারি কিনা। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বসে আছে পড়ার টেবিলে। কিন্তু মন ঘুরছে বাবার পকেটে। পাশের রুমে বাবার কণ্ঠ। অফিস থেকে ফিরেছেন। মা বলছিলেন, এই শার্ট আর কতদিন রিপু করে পরবে। একটা নতুন শার্ট কেনো। বাবা বললেন, না না খোকার স্কুলের একটা জুতো কিনতে হবে আগামী মাসে। তুমি বরং সময় করে শার্টটা রিপু করে দিয়ো। মা বললেন, এ কী, তোমার মুখ শুকনো কেন? আজকেও দুপুরে খাও নি? বাবা বললেন, ওসব ভাজাভুজি খেতে ভালো লাগে না। বাসায় ফিরে তো খাবই। তাই ভাবলাম, দুপুরে না খেয়ে ৫০ টাকা করে জমলেও মাস শেষে ১৫০০ টাকা। বাজার খরচ যে বাড়তি! ছেলেপুলেকে একটু ভালো কিছু না খেতে দিলে তাদের শরীর বাড়বে কী করে। এতক্ষণে ছেলেটির হুঁশ ফিরল। প্রতিদিন ডিম-দুধ তার জন্যে বরাদ্দ। ভাত, মাছ, মাংস, নানান সবজি, ডাল, নাশতা, স্কুলের টিফিন কোনোটিরই কমতি নেই। অথচ তার বাবা কিনা দিনের পর দিন দুপুরে না খেয়ে টাকা জমান! ছেলেটির চোখ জ্বালা করতে লাগল। মনটা কেঁপে উঠল। এ আমি কী করতে যাচ্ছিলাম! আমার বাবাকে ক্ষুধার্ত রেখে বন্ধুদেরকে নিয়ে ট্রিট দিতে যাচ্ছিলাম! যে বন্ধুদের খাওয়া-দাওয়ার কোনো অভাব নেই। বিবেক তাকে তাড়া করল। এই যে বিবেকের তাড়া, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে মা-বাবার অবদান এই ছেলেটির উপলব্ধিতে আসতে এই ঘটনাপ্রবাহের দরকার ছিল। সন্তানকে ছোট থেকেই পরিবারের বিষয়গুলোর সাথে সংযুক্ত করুন। তাতে কী লাভ? ভাত এঁটো করতে গিয়ে তার মনে পড়বে যে, এই চালটুকু যোগাড় করতে তার মা-বাবাকে কত পরিশ্রম করতে হয়। কিংবা সেই মেয়ের মতো হবে, যে কিনা কিশোরীসুলভ সারল্যে ঈদে একটি জুতো আবদার করেছিল বাবার কাছে। যখন দেখেছে বাবা আর কোথাও টাকা না পেয়ে দোকানদারের কাছে বাকিতে চাইতে যাচ্ছেন, তখন মেয়েটি বাবাকে নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বলেছে, বাবা চলো বাদাম খাই। আমার অনেক জুতো আছে। এরকম সমমর্মী সন্তান, বুঝদার সন্তান গড়ে তোলার জন্যেই প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। অ-তে অজগরটি আসছে তেড়ে, আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে এই শিক্ষা তো স্কুলে, পাঠ্যবইয়ে সবখানেই আছে। কিন্তু তারচেয়েও বেশি প্রয়োজন নৈতিকতার শিক্ষা, শুদ্ধাচারী হওয়ার শিক্ষা।

বিশ্বাস সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে

একজন মানুষের আসল শক্তি তার হাত নয়, পা নয়, দেহ নয়, তা হচ্ছে মন। যিনি এই মনের শক্তিকে অনুভব করতে পারেন এবং তা বিশ্বাস করতে পারেন, তিনি তার প্রতিটি চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরিত করতে পারেন। যদিও আজ পর্যন্ত মনকে দেখা যায় নি, ধরা যায় নি, ছোঁয়া যায় নি। কোনো বিজ্ঞানী একে টেস্টটিউবে নিয়ে গিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন নি। তেমনি বিশ্বাসকেও ধরা-ছোঁয়া যায় না, একে নিয়ে গবেষণা করা যায় না। কিন্তু মনের শক্তির ওপর বিশ্বাসের প্রকাশ যখন ঘটে, তখন একজন মানুষ বলেন, আমি পারি, আমি পারব। ছোট্ট কথা, কিন্তু এ কথাটিই যখন কাজে রূপ নিয়েছে তখন তা যুগে যুগে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘আমি পারব’এই দৃঢ় বিশ্বাসই সকল সাফল্যের ভিত্তি। আর পারব বলে বিশ্বাস করলে যে অবশ্যই পারা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে অগণিত। বিজ্ঞান বলি, শিল্প বলি, সাহিত্য বলি, নিরাময় বলি, প্রাচুর্য বলি, খেলা বলি সবক্ষেত্রেই রয়েছে বিশ্বাসের বিজয়ের উদাহরণ। গত ৩ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো-র স্বপ্ন নিয়ে-তে চারো চার চারজন নিয়ে একটি দারুণ সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে সিজিপিএ চারে চার পেয়ে যে চার জন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন তাদের নিয়েই ছিল সাক্ষাতকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে এই চার জনের একটি বারের জন্যেও ফোর মিস হয় নি। অথচ চারটি বছরে চার জন যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা যে-কোনো শিক্ষার্থীর জীবনকে টালমাটাল করে দিতে পারে। কিন্তু তারা কেউ হাল ছাড়েন নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে মেয়েটি ফোর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক নিচ্ছিলেন, তিনি সেদিন বার বার চোখ মুছে প্রয়াত বাবাকে বলছিলেন যে, তুমি খুশি হয়েছ তো বাবা? কারণ, ভর্তিযুদ্ধে আর কোথাও চান্স না পেয়ে মেয়েটি বাধ্য হয়ে যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন, জেদ চেপে গেল মনে। ভাবলেন পরের বছর আবার ভর্তি পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু বাবা বললেন যে, না, এখানেই এমনভাবে পড়ো যেন তুমি শিক্ষক হতে পারো। শেষ বর্ষে যখন তিনি, বাবা ক্যান্সারের সাথে লড়াইয়ে হেরে যান। সেদিন মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে এই প্রতিজ্ঞাই করেছিলেন যে, বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না, ঠিক আছে, বাবার স্বপ্নটা তো বাঁচাতে পারি। শুরু করলেন প্রস্তুতি। প্রচণ্ড চড়াই, উতরাই। তারপর একসময় সেই ফলাফল পেলেন এবং শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন।  যে ছেলেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি থেকে স্নাতকে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন, তিনি আক্রান্ত এক বিরল এবং জটিল রোগে। প্রথম বর্ষে যখন ভর্তি হয়েছেন, তখনই ধরা পড়ে মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামক রোগটি তার দেহে দানা বেঁধেছে। দেশের বাইরে গিয়ে অপারেশন করিয়ে ক্লাসে আসতে আসতে ততদিনে ১৭ দিন পার হয়ে গেছে। এ রোগের কারণে তিনি সবসময় ডাবল ভিশন (দুটি প্রতিবিম্ব) দেখতে পান। শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতাও তার কম। প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু’ তার বলার কথা। কিন্তু তিনি নিজেকে ক্লান্ত হতে দেন না। পরীক্ষার ফলাফলে কোনো ছাড় না দিয়েই পাশাপাশি যুক্ত থেকেছেন আরো অনেক কাজে। বায়োলজি অলিম্পিয়াড, গণিত অলিম্পিয়াড একাডেমিক দলে কাজ করেছেন। ৩৩টি দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ১০ দিনের ক্যাম্পে অংশ নিতে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে। এখন আরো কাজ, আরো স্বপ্ন দেখে এগোচ্ছেন সামনে। সবচেয়ে চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ফোর অর্জন করা মেয়েটি। আর্থিক সংকটের কারণে চাকরি নিয়েছেন প্রথম বর্ষেই। চাকরি, ক্লাস-এত কাজের চাপে পড়তেন কখন? এর উত্তরে তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন ঢাকার যানজটকে। কারণ অফিস থেকে ক্লাসে আসতে তাকে তুরাগ বাসে উঠতে হতো। বাস যখন জ্যামে দাঁড়িয়ে তখনই পড়াগুলো একে একে সেরে ফেলতেন। সবার যেখানে স্নাতক শেষ করতে চার বছর লাগে, তার লেগেছিল সাড়ে তিন বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সাতটি সেমিস্টারে ফি দিলেও তারপর থেকে একটি টাকাও খরচ হয় নি। কারণ চমৎকার ফলাফলের কারণে তিনি ফুল স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। ব্যর্থ মানুষেরা নেতিবাচক মানসিকতা পোষণ করে। তারা বিশ্বাসই করতে পারে না যে, বড় কিছু করার জন্যে তাদের জন্ম হয়েছে। একবার ব্যর্থ হলে তারা আরো মুষড়ে পড়ে। তারা সবসময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সন্দেহ-সংশয়ে ভোগে। আর সফল মানুষেরা ইতিবাচক চিন্তা-চেতনার অধিকারী। শত প্রতিকূলতার মাঝে নিজ বিশ্বাসে অটল থাকে। চারপাশের মানুষ কে কী বলল না বলল সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তারা নিজের লক্ষ্য এবং কাজের প্রতি বেশি মনোযোগী থাকেন। তারা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করেন না, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই রচনা করেন। ব্যর্থতা তাদের সম্ভাবনাকে আরো ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। আপাত ব্যর্থতার ছাই থেকেই তারা সাফল্যের সোপান নির্মাণ করে ইতিহাসে স্মরণীয়-বরণীয় হন। আসলে সফল জীবনের পথে যাত্রা শুরুর জন্যে অনেক প্রস্তুতির কোনো প্রয়োজন নেই। যেমন : অর্থ-বিত্ত, বংশমর্যাদা, শান-শওকত, জ্ঞান গরিমা, ডিগ্রী-পদবি না থাকলেও কোনো অসুবিধা নেই। যদি শুধু মুক্ত বিশ্বাস থাকে। নিউরোসায়েন্টিস্টরা গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বাসের প্রথম প্রভাব পড়ে মনে। মন প্রোগ্রাম পাঠায় মস্তিষ্কে। তখন মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন সংযোগপথ রচিত হয়। বদলে যায় মস্তিষ্কের কর্মকাঠামো। তখন মস্তিষ্ক আপনার পারার ইচ্ছাটা বাস্তবতায় রূপান্তরিত করে। সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায় আপনি আপনার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আলে ইমরান-এর ১৩৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেনÑ‘(তোমরা) হতাশ হয়ো না! দুঃখ কোরো না! তোমরাই জয়ী হবে যদি বিশ্বাসী হও!’ ঋগবেদে আছে‘ বিশ্বাসীর হৃদয়েই প্রভু বসবাস করেন’। আর প্রভু যার সাথে থাকেন তার ভয় কীসে? আমাদেরও বিশ্বাস প্রথমত স্রষ্টার ওপরে, তারপরে স্রষ্টা আমাদেরকে যে মেধা ও সামর্থ্য-সম্ভাবনা দিয়েছেন তার ওপরে। যে কারণে কখনো মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আসতে নিলেও আমরা যখন বলি “শোকর আলহামদুলিল্লাহ! আমি বিশ্বাসী, আমি বিশ্বাসী, আমি বিশ্বাসী” তখন বিশ্বাসের অনুরণন আবার আমাদের মনের মধ্যে বইতে শুরু করে। আজকের আলোচনাকে আমরা শেষ করতে পারি এইভাবে আসলে সাফল্য এবং ব্যর্থতা, রোগ এবং সুস্থতা, অশান্তি এবং প্রশান্তি এর মাঝখানে যদি কোনো দেয়াল থাকে সেটি হচ্ছে বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের। বিশ্বাস সাফল্য সৃষ্টি করে, অবিশ্বাস দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, সন্দেহ, সংশয় সৃষ্টি করে; বিশ্বাস নিরাময় করে, অবিশ্বাস মানুষকে রোগগ্রস্ত করে তোলে, অসুস্থ করে তোলে। বিশ্বাস প্রশান্তি দেয়, আর অবিশ্বাস অশান্তি সৃষ্টি করে। তবে এ বিশ্বাস হতে হবে সন্দেহ-সংশয় থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে দ্বিধা-ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত বিশ্বাস, এ বিশ্বাস হতে হবে ভয় ও আশঙ্কা থেকে মুক্ত বিশ্বাস। তাহলেই যুগে যুগে কালে কালে যারা সফল হয়েছেন, স্মরণীয় হয়েছেন, বরণীয় হয়েছেন তাদের মতো আমরাও বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে সফল হবো, সুস্থ থাকব, প্রশন্তি পাবো।

প্রতিটি প্রতিকূলতা নতুন সুযোগ নিয়ে আসে

প্রতিটি প্রতিকূলতা মানুষের জীবনে সবসময় নিয়ে এসেছে নতুন সুযোগ, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। যদিও পাটিগণিতের কিছু অংক আমরা ছোটবেলায় করেছি ভিন্ন কথায়। যেখানে একজন মাঝি থাকতেন, থাকত তার নৌকা, আর নদীতে থাকত স্রোত, কখনো অনুকূল স্রোত, কখনো প্রতিকূল স্রোত। এবং আমাদেরকে সমাধান করতে হতো এরকম যে, সেই মাঝি স্রোতের অনুকূলে পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন দুই ঘণ্টায় আর ফিরে আসতে সেই পাঁচ কিলোমিটার পথই তার পাড়ি দিতে লাগছে চার ঘণ্টা, যখন স্রোত থাকে প্রতিকূলে। যেখানে স্রোতের অনুকূলে তার নৌকার গতিবেগ ছিল ১০ কিলোমিটার আর স্রোত যখন প্রতিকূল তখন গতিবেগ কমে এসেছে ছয় কিলোমিটারে। সাধারণ হিসাব বলে যে, এটাই তো হয়, এটাই হবে। চারদিকে আনুকূল্য থাকলে এগুনো সহজ, কম সময়ে বেশিদূর যাওয়া যায়। আর কোনো একটা প্রতিকূলতা চলে এলেই হলো! দুই ঘণ্টার জায়গায় তখন লাগবে চার ঘণ্টা, কিংবা গতি ১০ কিমি থেকে কমে হবে ছয় কিমি। যেমন, বাতাসের সময় সাইকেল চালাতে বাতাস সাহায্য করে তাই সময় কম লাগে। যুক্তি ঠিক আছে। কিন্তু বিশ্বাস যেখানে চলে আসে যুক্তি সেখানে খোঁড়া হয়ে যায়। আর বিশ্বাস বলে যে, প্রতিকূলতা যত বেশি এগিয়ে যাওয়াটা ধীর হলেও সেই এগোনোটা একটা সময় হয়ে যায় ঐতিহাসিক উদাহরণ। আমরা কয়েকটি জীবনের কথাই আজকে শুনি। তাহলেই দেখব প্রতিকূলতা তাদেরকে করেছে মহান, করেছে কালজয়ী। দুখু মিয়া বলে আমরা চিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। এই যে দুখু মিয়া থেকে জাতীয় কবি হওয়া-এই সাফল্য আসলে তার মনের প্রচণ্ড শক্তির বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। দুঃখে দুঃখে তার জীবন কেটেছে বলে তার নাম ছিল দুখু মিয়া। এত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যে, মাত্র ১১ বছর বয়সে আসানসোল শহরে মাসিক পাঁচ টাকা বেতনে রুটির দোকানে কাজ নিয়েছিলেন। পরে পড়াশোনার কিছুটা সুযোগ পেলেও এন্ট্র্যান্স (এখন যেটা এসএসসি) পরীক্ষা দিতে পারেন নি। চলে গেলেন যুদ্ধে। সেখান থেকে ফিরে কোলকাতায় এসে পুরোদমে লেখা শুরু করলেন কবিতা। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন। বেরুলো অগ্নিবীণা ও বিষের বাঁশি। রবীন্দ্র প্রতিভা তখন মধ্য গগণে। আর কোলকাতার শিল্প-সাহিত্য সংবাদপত্র তখন উচ্চবর্ণের দখলে। কোনো বৈরী পরিবেশই নজরুলের আবির্ভাব ও প্রতিষ্ঠা আটকে রাখতে পারে নি। জর্জ বার্নার্ড শ’-কে আমরা চিনি আইরিশ নাট্যকার হিসেবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাকে চেনে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে। অথচ আমরা কি জানি যে, তিনি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন কত বছর? মাত্র পাঁচ বছর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কেরানির কাজ নেন। কারণ, দারিদ্র্য। তা-ও বেতন ছিল কত জানেন? আমাদের টাকায় মাসে ৪০ টাকা। কিন্তু তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন যে, একদিন তিনি একজন বড় লেখক হবেন এবং হয়েছেনও। কীভাবে? তিনি প্রতিদিন লিখতেন। এই লেখা ছিল নিয়মিত। লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে তার সময় লেগেছিল নয় বছর। লেখক জীবনের প্রথম এই নয় বছরে তার লেখা থেকে আয় হয়েছিল আমাদের টাকার হিসেবে মাত্র ৩০০ টাকা। কিন্তু লেখক হিসেবে পরবর্তী সময়ে উপার্জন করেছেন লাখ লাখ টাকা। তার বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সেইসাথে ছিল কিছু কৌশল। যখন তার বই সেভাবে বিক্রি হচ্ছিল না, তিনি দোকানে দোকানে যেতেন আর জিজ্ঞেস করতেন যে, র্বার্নাড শ’-র বই আছে কিনা? তারা বলত যে, র্বার্নাড শ’ আবার কে? তিনি বলতেন, এত বড় লেখককে চেনেন না। বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে এইভাবে বলতে থাকতেন। দোকানিরা দোকানিরা মিলেও তো কথা হয়। তারা একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছে, এরকম এসে খুঁজছে। তোমার কাছে আছে কিনা। বলে যে নাই, কিন্তু মনে হচ্ছে এনে রাখা দরকার। দেখা যেত যে, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত দোকানে দোকানে র্বার্নাড শ’-র বই এবং লোকজনও কেনা শুরু করেছে। শুধু সাহিত্য নয়, যারা বিত্তবান হয়েছেন তাদের ক’জন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন? এক এক করে আমাদের দেশের বিত্তবানদের দিকে তাকালে দেখব তাদের অধিকাংশই এসেছেন সাধারণ অবস্থা থেকে। মনের শক্তির উপরে বিশ্বাস ও সেই শক্তির উদ্ভাবনী প্রয়োগই তাদের সফল করেছে। ভারতেশ্বরী হোমসের প্রতিষ্ঠাতা আর পি সাহার জীবন যদি দেখি, নিতান্ত দীনহীন অবস্থা থেকে তিনি ধনকুবেরে পরিণত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যারা ধনকুবের হিসেবে পরিচিত তাদের শতকরা নব্বই জনই খুবই সাধারণ অবস্থা থেকে এসেছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের কথাই ধরুন। এর যে প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বিনি, তার ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা একবাক্যে যে কথাটি বলেন সেটা হচ্ছে ‘এ ট্রু স্টোরি অফ র‌্যাগস টু রিচেস’। কেন? কারণ গ্রামের এক সাধারণ স্কুল শিক্ষকের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেজ ছিলেন ধীরুভাই। যখন মেট্রিক (এখন যেটা এসএসসি) পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এলেন, অসুস্থ বাবা বললেন সংসারের হাল ধরতে। বাবার অনুরোধ রাখতে তিনি ছুটলেন এডেনে জীবিকার সন্ধানে। যোগ দিলেন জাহাজে মাল পরিবহনকারী একটি কোম্পানিতে মাল খালাসের কেরানি হিসেবে। অবশ্য স্কুলে পড়াকালীনও তিনি ছুটিছাটায় তীর্থযাত্রীদের মাঝে ভাজাভুজি বিক্রি করতেন। এডেনে কেরানির কাজ, তারপর কিছুদিন তেলের ফিলিং স্টেশনে কাজ করার পর গেলেন দুবাইতে। সেখানে কিছু টাকা-পয়সা জমিয়ে এলেন দেশে। শুরু করলেন টেক্সটাইল ব্যবসা। এটাই ছিল আজকের রিলায়েন্সের শুরু। আসলে প্রতিটি প্রতিকূলতা কাটাতে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শুকরিয়া এবং বাস্তব কাজ। আর বাস্তবে কাজে নামার জন্যে প্রয়োজন বিশ্বাস। শুধু সাফল্যের ক্ষেত্রে নয়, রোগ থেকে নিরাময়ের জন্যে, সুস্থতার জন্যেও বিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’-এর যে ধারণা তা মূলত এ বিশ্বাসেরই আধুনিক পরিভাষা। রোগমুক্তির বেলায় রোগীর বিশ্বাসই মূল ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা বলেন, কখনো কখনো ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে। বিষণœতা, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, পার্কিনসন্স, আইবিএস, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যা দূর, ব্যথা উপশম, হৃদযন্ত্রের গতি ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা, ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি অকার্যকারিতায় এসব রোগে যারা ভুগছেন তাদের মধ্যেও আশাবাদী ও বিশ্বাসী মানুষরা তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপন করেন। কারণ একটাইÑবিশ্বাস নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্বাস যদি করা যায়, তাহলে তা আপাতদৃষ্টিতে দুরারোগ্য ব্যাধিকেও নিরাময় করে দিতে পারে। বিখ্যাত লেখক ও মনস্তাত্ত্বিক নেপোলিয়ান হিল মনের বলের আরো চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার ছেলে জন্মগ্রহণ করে কানের পর্দা ছাড়া। ছেলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় ডাক্তাররা তাকে জানায়, সারা জীবন সে বধির থাকবে। হিল লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করতাম তার শোনার একটা বিকল্প ব্যবস্থা সৃষ্টি করার জন্যে প্রকৃতিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা আমার রয়েছে। আমি তার অবচেতন মনের মাধ্যমে কাজ শুরু করি। ক্রমাগত চেষ্টার ফলে স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার ৬৫ ভাগই পুনরুদ্ধারে সক্ষম হই। অবচেতন মন ইন্দ্রিয়ের অভাবও পূরণ করতে পারে বিকল্প মাধ্যমে।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি