ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৭:৪৮:১৬, বুধবার

রাত জাগলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

রাত জাগলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

ইদানিং যুব সমাজে একটি কালচার গড়ে উঠেছে, সেটি হলো রাত জাগা। রাত যত গভীর হয় তাদের মধ্যে স্মার্ট ফোনে আদান-প্রদান ততো বেড়ে যায়। ফোন বা ল্যাপটপে ফেসবুক চ্যাটিংয়ে রাত শেষ করে। এর জন্য মোবাইল ফোনের কোম্পানিগুলো বিশেষ অফার দিয়ে থাকে। নিশ্চিত জেনে রাখুন, প্রতিরাতে আপনি নীরবে ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছেন স্বাস্থ্য দুর্ভোগের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ দু-একদিন জরুরি প্রয়োজনে রাত জাগতে হতেই পারে। কিন্তু ক্রমাগত রাত জাগার ফলে একজন মানুষের দেহে দেখা দিতে পারে মারাত্মক রোগব্যাধি। এর পরিণতিতে রাত জাগা ব্যক্তি আক্রান্ত হন স্লিপ ডিজঅর্ডার, অপরিণত বয়সে হৃদরোগ, বিষন্নতা এমনকি পারিবারিক অশান্তিতে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্মৃতিশক্তি, সৃজনশীলতা, প্রাণবন্ততা, কর্মতৎপরতা কমে যায় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডকে শ্লথ করে টানা রাত জাগরণ। অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন পরিমিত ঘুম ও বিশ্রাম হলে স্মৃতিশক্তি হয়ে ওঠে সংহত এবং তা প্রয়োজনের সময় কাজও করে ভালোভাবে। প্রকৃতগত নিয়ম হচ্ছে দিনে কাজ করা, আর রাতে ঘুম। সব ক্লান্তি দূর করে আবার কাজ করার শক্তিও যোগায় ঘুম। কিন্তু আপনি যখন ক্রমাগত রাত জাগবেন তখন জ্বর জ্বর ভাব, ঠান্ডা লাগা, এসিডিটির পাশাপাশি দুর্বল হতে থাকবে আপনার শরীর।মানবদেহের বিভিন্ন হরমোন ও এনজাইম রাত-দিন ভেদে কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। কর্টিসোল স্বাস্থ্যগত কার্যক্রমে অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী। এ হরমোনটির নিঃসরণ-মাত্রা দিনের প্রথমার্ধে থাকে সর্বোচ্চ পরিমাণে এবং এরপর থেকে কমতে থাকে। কিন্তু টানা রাত জাগরণের ফলে এই প্রাকৃতিক নিয়ম পাল্টে যায়। কেউ হয়তো বলবেন ক্রমাগত রাত জেগে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে গবেষকদের ভাষ্য হলো, বর্তমানে হয়তো ক্ষতি প্রত্যক্ষ হচ্ছে না কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার ঠিকই হয়। এক সময় এর প্রভাব দেখা দিবে।রাতের ঘুম পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। সূর্যের গতিবিধি পরিপাকতন্ত্রের কর্মপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। মানব পরিপাকতন্ত্র সবচেয়ে ভালো কাজ করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ কমতে থাকে খাবার হজমে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম নিঃসরণের পরিমাণ। যারা রাত জাগেন তারা রাতের খাবার খান দেরি করে। তাদের খাবার ভালো হজম হয় না। এজন্যে প্রায়শই হজমযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে রাতে শীঘ্র খাবার গ্রহণ ও পরিমিত ঘুম পরিপাকতন্ত্রকে রাখে সুস্থ এবং ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, ছন্দময় সুস্বাস্থ্য এবং গতিময় কর্মব্যস্ত জীবনের জন্যে প্রতিরাতে পরিমিত ঘুমান। তাতে আপনি সারাদিনই থাকবেন কর্মতৎপর, চটপটে, সৃজনশীল ও তীক্ষ স্মৃতিশক্তির অধিকারী। নতুন এক গবেষণায় জানা যায়, রাতজাগা মানুষের ডায়াবেটিস, মানসিক সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি।স্বাস্থ্য কিন্তু সব সুখের মূল। তাই আসুন, এখনই রাত জাগা অভ্যাস ত্যাগ করে সুস্বাস্থ্যের দিকে মনযোগ হই। নিজের জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবনকে সুখের দিকে ধাবিত করি।তথ্যসূত্র : স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা।এএইচ/
ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতন হোন

বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার বাড়ছে আর আগের তুলনায় এখন আরো বেশি মানুষ এই রোগে মারা যাচ্ছে। ২০১৮ সালে সারা পৃথিবীতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে বছরে এক কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যাবে। আমাদের দেশেও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু আধুনিকতার এই যুগে এর কি কোন প্রতিকার নেই? ক্যান্সার প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা এখনও কি হয়নি? একটা সময় ছিল যখন ‘ক্যান্সার’ শব্দটি শুনলেই মানুষ হাল ছেড়ে দিতেন। কিন্তু সময় বদলেছে, নানা গবেষণা আর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে- ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় আছে। সহজ কিছু জীবনাচার অনুসরণ করলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। এবার জেনে নেই কিভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় : ধূমপান ছাড়ুন : ধূমপান শুধু যে ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ তা কিন্তু নয়, এটি খাদ্যনালী, মুখ-গহ্বর, গলা, কিডনি, মূত্রথলি, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী এমনকি জরায়ুমুখের ক্যান্সার-ঝুঁকিও বাড়ায়। আমেরিকান ক্যান্সার-বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সার হতে পারে তার ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। তাই আর দেরি নয়, ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হিসেবে আজই ধূমপান ছাড়ুন। কোনো ধরনের তামাকের প্রতি আসক্তি থাকলে আজই বেরিয়ে আসুন এ প্রাণঘাতী অভ্যাস থেকে। কারণ, ধূমপানের মাধ্যমে নিজের শরীরটাকেই শুধু যে বিষময় করে তুলছেন শুধু তাই নয় বরং আপনার সিগারেটের ধোঁয়া আপনার প্রিয়জন ও পরিবারের সদস্যদের ক্যান্সার-ঝুঁকিও একই হারে বাড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপান সারাবিশ্বে প্রতিবছর অসংখ্য ক্যান্সারজনিত অকালমৃত্যুর কারণ। ওজন রাখুন নিয়ন্ত্রণে : মেদবহুল স্থূল আছেন যারা, সচেতন হোন এখনই। অতিরিক্ত ওজন নীরবে আপনার খাদ্যনালী, গলব্লাডার, লিভার, অন্ত্র, লসিকাগ্রন্থি ও ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে। এছাড়াও মেনোপজের পর বাড়তি ও অতিরিক্ত ওজন জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে মেদস্থূলতা প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ুন : কোন ধরনের খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে? স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা সেই চিরাচরিত সহজ উত্তরটিই দিয়েছেন। তাহলো ফলমূল ও শাক-সব্জির সমন্বয়ে একটি প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রচুর পরিমাণ আঁশ-জাতীয় খাবার থাকুক আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। প্রক্রিয়াজাত শস্যদানার বদলে পূর্ণ শস্যদানা খান। লাল মাংস এড়িয়ে চলুন : গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন। আর অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার দূরে রাখুন। এমন খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে রাখবে নিশ্চিত ভূমিকা। রান্না করুন অল্প আঁচে : সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। কারণ উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস ইত্যাদি অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে খাবারে দুটি রাসায়নিক উপাদান (এইচসিএ ও পিএএইচ) সৃষ্টি হয় এবং মনে করা হচ্ছে এগুলো ক্যান্সারের কারণ। গবেষকরা বলেন, যারা অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও বার-বি-কিউ করা মাংস এবং এ জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তারা অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন। অ্যালকোহল ত্যাগ করুন : পরিমিত অ্যালকোহল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-এ অজুহাতে অনেকেই দিব্যি অ্যালকোহল পান চালিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি ও সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেই যখন আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন, তখন অ্যালকোহলের কোনো প্রয়োজন নেই। অ্যালকোহল খাদ্যনালী, মুখগহ্বর, গলা, স্বরযন্ত্র, লিভার ও স্তন ক্যান্সার এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়। ব্যায়াম হোক নিত্যদিনের সঙ্গী : ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কারণ যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সুস্থ জীবনাচারী। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষবৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সংহত ও অটুট। ক্যান্সার রোগীদের বিশেষত অন্ত্রের ক্যান্সারে ভুগছেন যারা, নিয়মিত ব্যায়ামে তাদের নিরাময় প্রক্রিয়া ও ভালো থাকার হারও তুলনামূলক সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়াও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের ভূমিকা নিয়ে যতগুলো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে তার প্রায় সবকটিতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ফুসফুস, প্রোস্টেট ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধের বেলায়ও এটি সত্য। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবমুক্ত থাকুন : দেহাভ্যন্তরে কোনো টিউমার সন্দেহে কিংবা অন্যান্য রোগের বেলায়ও এখন ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে সিটি স্ক্যান। কিন্তু চিকিৎসক ও রোগী সবারই জানা জরুরি যে, একবার সিটি স্ক্যান করতে গিয়েই আপনাকে বেশ ভালোরকম তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হতে হয়, যা আপনার ক্যান্সার-ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষকরা বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্যে সম্ভব হলে তেজস্ক্রিয়তামুক্ত পদ্ধতি যেমন- আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই এসব পদ্ধতি বেছে নেয়াই নিরাপদ। পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন সিটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতিগুলো। আর যদি তা করতেই হয়, তবে এর সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে লাভের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারপর করুন। আপনার সেলফোনটিও কিন্তু শরীরের মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বাড়ায়। এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব সচেতনতা জরুরি। তথ্যসূত্র : হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন। এএইচ/

সম্পদ গড়ার মূল হাতিয়ার সুস্বাস্থ্য

যার গাড়ি-বাড়ি, অর্থ-সম্পদ আছে প্রাচীনকাল থেকে তাকেই বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী বলে আসছে। কিন্তু আধুনিককালে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তিরাই হলেন বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী। স্বাস্থ্য যার ভালো তার সবকিছুই ভালো। অসুস্থতা খরচের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ্য ব্যক্তি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বেশি দিন বেঁচেও থাকে, তার জন্য রোজগারের পথও খোলা থাকে। তাই ধন-সম্পদ গড়ার মূল হাতিয়ার হলো সুস্বাস্থ্য। অর্থ, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট এগুলোকে মানুষ সাধারণত সম্পদ হিসেবে মনে করে। এ জন্য সারাজীবন পরিশ্রম করে ব্যাংকে অর্থ জমা করে, উদ্দেশ্য একটাই জমি ক্রয়। জমি কিনলো, এবার বাড়ি বা ফ্ল্যাট করার আশায় অর্থ জমা করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যদি একটু সুখে থাকা যায়। স্বাদের বাড়ি বা ফ্ল্যাটও হয়ে গেলো। কিন্তু অনিয়মতান্ত্রিক জীবন-যাপন, সুষম খাওয়া-দাওয়ার অভাব, বিভিন্ন রকম বদঅভ্যাস গড়ে তোলার কারণে  শুরু হলো হাসপাতালে আনাগোনা। নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকলো, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হলো। নানা রকম ওষুধ চলতে থাকলো। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থে হাত পড়তে পড়তে শেষ পর্যায়ে। সুখে থাকার জন্য বাড়িতে অসুস্থ হয়ে কাটাতে হলো। সুখ তো অনেক দূরে চলে গেল। অর্থ-সম্পদও নিজের আর রইল না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সঞ্চয়ের প্রবণতা মানুষের বহু প্রাচীন অভ্যেস। গ্রামে ঘরের বাঁশের খুঁটিতে ফুটো করে, টিনের কৌটায়, মাটির ব্যাংকে কিংবা কমার্শিয়াল ব্যাংকে টাকা জমানোর অভ্যেস কমবেশি সবারই আছে। কিন্তু চাইলেও সবাই পারে না কাক্ষিত পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে। পারে কেবল বুদ্ধিমান ও হিসেবিরাই। আধুনিককালে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তিরাই হলেন সেই হিসেবি বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী। তারা জানেন, সুষম প্রাকৃতিক খাবার, ব্যায়াম আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে তারা অর্জন করেছেন যে সুস্বাস্থ্য, তা-ই হতে পারে তাদের অর্থ সঞ্চয়ের মূল হাতিয়ার। কীভাবে? ‘সুস্বাস্থ্য প্রাচুর্যের অন্যতম ভিত্তি’-বলেছেন ব্রুস পিয়েনসন, তিনি আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা-দানকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার ভাষায়, ক্রনিক রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ, ডাক্তার ও হাসপাতালের পেছনে খরচের পরিমাণটা কিন্তু আদতে কম নয়। একটি জনস্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠানের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অসুস্থ মানুষদের চিকিৎসাখাতে বাৎসরিক মোট ব্যয়ের পরিমাণ সুস্থদের তুলনায় চারগুণ বেশি, অথচ যা হতে পারতো তাদের অবসর জীবনের একটি বড় সঞ্চয়। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ অনেক জটিল রোগের একটি বড় কারণ মেদস্থূলতা। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে মেদস্থূলদের খরচের পরিমাণ অন্যান্যদের তুলনায় তিনগুণ বেশি। আমেরিকান সরকার কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, সে দেশে প্রতিজন ডায়াবেটিক রোগীর বাৎসরিক অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ ৫৫০ ডলারের বেশি, কারো কারো ক্ষেত্রে এটি ১২০০ ডলার পর্যন্ত। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে এ খরচ ৬০০ ডলারেরও বেশি। এ রিপোর্টের শেষে উল্লেখ করা হয়েছিলো, ওজন কমিয়ে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এসব রোগ এড়ানোর মাধ্যমে গড়ে তুলুন ভবিষ্যতের বড় সঞ্চয়। শুধু তা-ই নয়, ধূমপান বর্জনের মাধ্যমে সিগারেট খরচ বাঁচিয়েও প্রতিবছর সঞ্চয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে পারেন আপনি। এভাবে ধূমপান থেকে সৃষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ অ্যাজমা ও জীবনঘাতী ক্যান্সারসহ ফুসফুসের বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের সম্ভাবনা আপনি ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, ভবিষ্যতের সঞ্চয়কে করতে পারেন অধিকতর মজবুত। এ সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষণা শেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ভাজাপোড়া ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করুন। ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং টেনশন থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও বিজ্ঞানসম্মত সুস্থ জীবন-অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই সুস্থ্য জীবনই নিশ্চিত করবে আপনার ভবিষ্যত সঞ্চয়। তথ্যসূত্র : স্বাস্ব্য বিষয়ক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।

নাকের পলিপ হলে যা করবেন

আমাদের নাকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অনেক শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নাকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ দিয়ে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত নাকের এক ধরনের বোটা থাকে। এটা দেখে অনেক নাকে পলিপ হয়েছে বলে ধারণা করে। তাদের এ ধারণা ভুল। পলিপ একটু নাকের গভীরে হয়ে থাকে। নাকের মধ্যে এক ধরনের মাংস পিণ্ডকে পলিপ বোঝানো হয়। এটি দুই ধরনের হতে পারে এবং দেখতে স্বচ্ছ। নাকের এ রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। পলিপ কি? ন্যাসাল পলিপ নাম দেখেই বোঝা যায় যে এটা নাকে হয়। পলিপ জিনিসটা আসলে একটা মাংসপিণ্ড। এটাকে মাংসপিণ্ড বলা হলেও আসলে এটা মাংসপিণ্ড নয়। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয় ম্যাস। আসলে এটা নাকের ভেতরে হয় এবং দেখতে স্বচ্ছ, দেখতে অনেকটা সাদা রংয়ের আঙুরের থোকার মতো নাকের ভেতরে হয়ে থাকে। পলিপ দুই নাকেই হতে পারে। সাধারণত পলিপ দুই ধরনের হয়ে থাকে ১. ইথময়েডাল পলিপ, যা উভয় নাসারন্ধ্রেই হয়ে থাকে। এই ধরনের পলিপ শিশুদের কম হয়। ২. অ্যান্ট্রোকোয়োনাল পলিপ, এটি শিশুদের বেলায় বেশি দেখা দেয়। দুই ধরনের পলিপ হওয়ার পেছনের কারণও ভিন্ন। পলিপ হাওয়া প্রধান কারণগুলো কি কি? সাধারণত পলিপ এলার্জির কারণে হয়ে থাকেন। যাদের হাঁছি থাকে, সর্দি থাকে, তাদের মূলত পলিপ বেশি দেখা দেই। হাপানি, চোখ চুলকানো নাখ চুলকানোর কারণে পলিপ দেখা দিতে পারে কিন্তু মূল এলার্জির কারণে দেখা দেয়। এছাড়া বিভিন্ন ইনফেকশনের কারণে পলিপ হতে পারে। অপারেশন ছাড়া পলিপ চিকিৎসা সম্ভব কি না? অপারেশন ছাড়া অবশ্যই পলিপ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে আগে পলিপ কোন অবস্থায় আছে সেটা দেখতে হবে। ধুলা-বালি,গরম এবং এলার্জির কারণের পলিপ হতে পারে। সে জন্য আগে পলিপ হওয়ার কারণ নির্মাণ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। চিকিৎসক যে খাবারগুলো খেতে নিষেধ করে সেগুলো খাওয়া যাবে না। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে পলিপ ভাল হয়েই যেতে পারে। দীর্ঘমেয়দী পলিপ হলে শিশুদের স্বাস্থ্যর ঝুঁকি আছে কি না? অবশ্যই, দীর্ঘমেয়াদী পলিপ হলে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এমন কি মৃত্যু পযর্ন্ত হতে পারে। বেশি আকার ধারণ করলে মেডিক্যাল চিকিৎসা সম্ভব নয়। তখন সেটাকে সার্জারি করতে হবে। মাঝে মাঝে নাত বন্ধ হয়ে যায়। রাতের বেলা দম বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় বেশি ঘুমায়।দাঁতগুলো উচু হয়ে যায়। সারা সময় সর্দিভাব থাকে। নাকে কম শোনে। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। পড়াশুনা মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। দিনে দিনে স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি এক সময় শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। কারো যদি পলিপ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য কি করতে হবে? পলিপ হয়ে থাকলে দেখতে হবে এটি প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে নাকি অনেক পরে মানে দেরি করে রোগী ডাক্তারের কাছে এসেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় যদি খুব ছোট থাকে তাহলে আমরা অ্যান্টি অ্যালার্জিক ড্রাগ দেই এবং একই সাথে লোকাল অ্যাস্টেরয়েড স্প্রে হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাতে অনেকসময় দেখা যায় ওই পলিপ ছোট হয়ে মিশে যায়। আবার কখনও কখনও পলিপ চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য দিয়ে থাকি। আর সেটা ব্যবহারেও অনেক সময় পলিপ ছোট হয়ে যায়। আর যদি খুব পলিপ বেশি বড় হয়ে গিয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে বড় তা নাক থেকে দূর হয় না। সে সব ক্ষেত্রে অপারেশন করে পলিপ সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা সম্ভব। আর পলিপ অপারেশনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি আছে। এ রোগ এড়াতে আপনার পরামর্শ কি? মূলত পলিপ থেকে মুক্ত থাকতে হলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু এটার কারণ অ্যালার্জি সেহেতু অ্যালার্জির সৃষ্টির।

ইফতারে চাই পুষ্টিকর খাবার

সারাদিন রোযা রাখার পর খেজুর এবং তরল পানীয় গ্রহণের পরে এমন কিছু খাবার গ্রহণ করতে হবে যে খাবার গুলো প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে এবং শরীরকে এনার্জিটিক রাখবে। তাই ইফতারে চর্বিযুক্ত ও ভাজা পোড়া খাবার পরিহার যথোপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সুস্থ থেকে রোজা পালন করা যায়।যেমন:▪️ দই, চিড়া, কলা রাখতে পারেন ইফতার মেনুতে এতে কিছুটা কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেলস পাওয়া যাবে সেই সাথে এনার্জি ও রয়েছে এবং পেটকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।▪️ ওটস,দুধ/দই, যে কোন ধরনের ধরনের ফল হতে পারে ইফতারির জন্য আদর্শ খাবার।▪️ সবজির পরিমান কিছুটা বাড়িয়ে একটি ডিম যোগ করে এবং কম তেল ব্যবহার করে পরিমিত নুডুলস রাখা যেতে পারে ইফতারির মেনুতে।▪️ মুরগীর মাংস অথবা ডিম, সবজি ও পাউরুটি ব্যবহার করে অথবা আটার রুটি ব্যবহার করে স্যান্ডউইচ বা রোলের মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার ও ইফতারের মেনুতে রাখা যেতে পারে।▪️ দুধের তৈরি যেকোন ধরনের মুখরোচক খাবার পরিমিত পরিমান এবং সেই সাথে একটি মৌসুমী ফল ও ইফতারিতে গ্রহণ করা যাবে।▪️ এছাড়াও চিকেন স্যুপ/ভেজিটেবল স্যুপ ,স্বাস্হ্য সম্মত উপায়ে রান্না করা ঘরে তৈরি হালিম তবে অবশ্যই তা পরিমানমত, ছোলা, সালাদ এবং ডিম দিয়ে তৈরি যেকোন খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে ইফতারির সময়।সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে ধরনের খাবার গ্রহণ করা হবে সে খাবার গুলো থেকে যেন খাদ্যের উপাদান গুলোর চাহিদা পূরণ হয়। এই ধরনের খাবার ইফতারিতে গ্রহণ করলে ক্যালরি চাহিদা পূরনের পাশাপাশি খাদ্য উপাদানের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। লেখক : পুষ্টিবিদ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতাল। টিআর/

কিডনি রোগীরা রোজা রাখবেন যেভাবে (ভিডিও)

শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে কিডনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই অঙ্গ কোনোভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয় এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই খাবার দাবার এবং লাইফস্টাইল সম্পর্কে সচেতন হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি না? বা রাখলেও কিভাবে রাখতে হবে? এ নিয়ে একুশে টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সিয়াম ও আপনার সাস্থ্য’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ-কিডনী রোগ বিভাগের চীফ কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান, বিশিষ্ট কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ, বিআরবি হাসপাতাল। উপস্থাপনা করেন ডা. নন্দিনী সরকার। শ্রুতি লেখক একুশে টিভি অনলাইন প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান। প্রফেসর ডা. এম এ সামাদ বলেন, বাংলাদেশে দুই কোটিরও বেশি কিডনি রোগী রয়েছে। এ সংখ্যাটা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিন বলেন, যারা কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে কিডনি রোগের সাথে যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা উচ্চরক্তচাপ থাকে তাদের জন্য রোজা রাখাটা একটু কঠিন হবে। যারা হঠাৎ করে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা চিকিৎসা নিলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যতদিন চিকিৎসা নিবেন ততদিন রোজা না রেখে বাকী সময়গুলোতে রোজা রাখতে পারবেন। কিডনি প্রতিস্থাপনকারীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, যাদের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাদের জন্য প্রথম বছর রোজা না রাখাটাই ভালো। তবে এক বছরের পর থেকে তারা রোজা রাখতে পারবেন। যদি তাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা উচ্চরক্তচাপ না থাকে। একজন রোজাদারকে সুস্থ্য থাকার জন্য ইফতার থেকে সেহরীর আগ পর্যন্ত কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে। তবে যারা রোদে কাজ করেন তাদের জন্য আরো বেশি পানি পান করতে হবে। তবে যাদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে মাথা চক্কর দেয় তাদের জন্য আগে রক্তচাপ মেপে নিতে হবে। যদি কম থাকে তাহলে সাথে সাথে রোজা ভেঙ্গে তাকে পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে লবণ যুক্ত পানি বা ডাবের পানি। কিডনি রোগের যারা শেষ পর্যায়ে আছে তাদের রোজা সম্পর্কে ডা. এম এ সামাদ বলেন, কিডনি রোগের যারা শেষ পর্বে তথা স্টেজ পাঁচে আছে এবং যাদের ডায়ালাইসিস চলছে তাদের জন্য রোজা রাখাটা খুবই কঠিন। তাই তাদের জন্য রোজা না রাখলেও চলবে। তবে কেউ যদি একান্ত রাখতে চান তাহলে ডায়ালাইসিস যেদিন করাবেন সেদিন রাখতে পারেন। টানা ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা  রোজা রাখল। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান করল না তাদের কিডনির ওপর বিরোপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যপ্ত পানি পান করলে এ সমস্যা হবে না। যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে রোজা ভাঙ্গার পর তাদেরকে অবশ্যই তিন লিটারের বেশি পানি পান করতে হবে। কিডনি জটিলতার কারণে যাদের হাত-পা ফুলে গেছে। এ সমস্যাটা যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে তারা রোজা রাখতে পারবেন। তবে তাদেরকে এক লিটার পানি বা তারচেয়ে একটু বেশি পানি পান করতে হবে। তবে পানি অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে। ভিডিও এমএইচ/

কম ওজনের শিশু কেন জন্ম নেয়

সাম্প্রতি দ্য ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ১০টি দেশে সবচেয়ে কম ওজন নিয়ে নবজাতকের জন্ম হয় বেশি। এসব দেশের মধ্যে এমন শিশুর জন্ম সবচেয়ে বেশি হয় বাংলাদেশে। এর পরই রয়েছে আফ্রিকার দেশ কমোরস ও নেপাল। তালিকার শীর্ষে থাকা ১০টি দেশই দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহণযোগ্য ওজনের কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুর মৃত্যুহার অনেক বেশি। তাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে নানা রকম ঝুঁকির সঙ্গে জটিল রোগ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন কারণে সন্তান পৃথীবিতে কম ওজন নিয়ে আসতে পারে। এবিষয় সার্বিক পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত আফরীন নীলা।কম ওজনের সন্তান জন্ম নেওয়ার জন্য অনেকটা মায়েরাও দায়ি থাকেন। আসুন জেনে নিই  মায়ের কারণ সমুহ:# উচ্চ রক্তচাপ# হৃদরোগ# কিনডিতে সমস্য# ধূমপান# মদ্যপান# সুষম খাদ্য কম খাওয়া# নিম্মবিত্ত পরিবারসন্তানের কারণসমুহ# জ্বীণগত সমস্যা* trisomy is 13,18,21* Turner`s syndrome* triploidy# জন্মগত হৃদরোগ*fcrralogy of fallor*transpositoin of great vcsscls# পেটের চামড়া তৈরি না হওয়া# জন্মগত প্রদাহ* cmv*rubella*toxoplasmosis# একাধিক সন্তান এক গর্ভাবস্থায় থাকলেলেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসারটিআর/ 

থাইরয়েড মেলায় দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা

তিনদিন ব্যাপি রাজধানীতে চলছে থাইরয়েড মেলা। ‘বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ২০১৯’ উপলক্ষ্যে  দি থাইরয়েড সেন্টার লি. বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো এই মেলার আয়োজন করে। রাজধানীর সুবাস্ত ইত্তেহাদ স্কয়ারে চলছে এ মেলা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১লা মে) সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ এ. কে. এম ফজলুল বারী, থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, নিনমাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডাঃ মঞ্জুরুল আলম, থাইরয়েড সার্জারী বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া আগত রোগী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অধ্যাপক ডাঃ এ. কে. এম ফজলুল বারী বলেন, তিনদিন ব্যাপি এ মেলায় আমরা প্রায় ৩০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি। এছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার কম মূল্যে সুচিকিৎসা এবং যাদের থাইরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের সল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি। অধ্যাপক ডাঃ এ. কে. এম ফজলুল বারী একুশে টেলিভিশন অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জনই মহিলা। ৩৯.১ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের অভাব জনিত সমস্যায় ভুগছেন। আয়োডিনের অভাবে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটছে না। শতকরা ১০.৫ ভাগ লোক আয়োডিনের অভাবে গয়টারে (আইডিজি) আক্রান্ত। এক সময় দেখা যাচ্ছে তাদের গলার নিচের অংশ ফুলে যাচ্ছে। শতকরা ০.১ ভাগ লোক জন্মগত ভাবেই এ রোগে আক্রান্ত। এ সমস্যা থাকার কারনে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটছে না। শতকরা ২৬ ভাগ শিশু আয়োডিনহীনতায় ভুগছে। এ সকল আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। এই পেক্ষাপটে ২০০৭ সালে দি থাইরয়েড সেন্টার লিঃ এর যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, দি থাইরয়েড সেন্টার বিগত এক যুগে হাজার হাজার থাইরয়েড রোগীকে অল্প মূল্যে চিকিৎসা প্রদান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং প্রতি শুক্র ও শনিবারে এখানে বিনামূল্যে রোগী দেখার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার থাইরয়েড স্ক্রিনিং প্রোগ্রামের আওতায় ৫০০০ টাকার পরীক্ষা মাত্র ১৫০০ টাকায় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বর্তমানে প্রায় ৫,০০০ নিয়মিত সদস্য রয়েছে। ডাঃ বারী বলেন, বাংলাদেশের শিশুদের আইকিউ কম থাকার মূল কারণ আয়োডিনের অভাব যা সচেতনতার মাধ্যমে আমরা পূরণ করতে পারি। লবনে আয়োডিন যুক্ত করে ও আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহনের মাধ্যমে এই সমস্যা এবং গয়টার জনিত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উত্তরাঞ্চলে আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যার কারণে ঐ অঞ্চলে গয়টার সমস্যা রয়েছে, তিনি থাইরয়েড স্ক্রিনিং এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। থাইরয়েড গ্লান্ড মাদার গ্লান্ড তাই এর যত্ন নেওয়া প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। তিনি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি ‘রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি’ ও ‘মাইক্রো ওয়েভ’ এর মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হলেই অপারেশন করতে হবে এমনটি নয়। বিনা অপারেশনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, মাইক্রোওয়েভ ও লেজার ব্যবহারের মাধ্যমে, কোন কাঁটা ছাড়া শুধু সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। তাতে রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, কিংবা রোগীকে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না এবং এই পদ্ধতির কোন বড় ধরনের পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই, খরচও কম হবে।টিউমার এ্যাবলেশনের পদ্ধতি দেশের মানুষের থাইরয়েড সমস্যা ও লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসায় অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন। এসি    

আগামী ২ মাসের মধ্যে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

সরকার নতুন করে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যেই পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ম্যালেরিয়া একটি মরণব্যাধি উল্লেখ করে মন্ত্রী এই রোগ প্রতিরোধে মশা নির্মূল করার আহ্বান জানান। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা সরকার বিনামূল্যে প্রদান করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনা হবে।’স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো যন্ত্রপাতি কেনা হবে না বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের যা প্রয়োজন, আমরা তাই ক্রয় করব। তার বেশি আমরা করব না। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতি আছে। হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি প্যাকেটে বন্দি আছে। বিভিন্ন জায়গায় আনইউজড অবস্থায় আছে। কাজেই বিষয়গুলো আগামীতে যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখছি। সার্ভিস আরো ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছি। ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে পাঁচ হাজার নিয়োগ আমরা করে ফেলব।’ টিআর/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি