ঢাকা, ২০১৯-০৬-২৬ ৮:৩৮:২০, বুধবার

বিকালে প্রেস ক্লাবে জানাজা

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ ঢাকায়

বিকালে প্রেস ক্লাবে জানাজা

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার জোহরের নামাজের পর গ্রিনরোড ডরমিটরি মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। আর দ্বিতীয় জানাজা হবে আসরের নামাজের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এরপর তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। মাহফুজ উল্লাহ শুধু বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিকই ছিলেন না, একাধারে লেখক, কলামিস্ট, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ ছিলেন তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর ছিলেন। এছাড়াও নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দেশের এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। তার পিতার নাম হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম ফয়জুননিসা বেগম। ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত মুজাফফর আহমেদের দৌহিত্র তিনি। ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশায় নিবেদিত হন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্মলগ্ন থেকে কাজ করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যোগ দেন মাহফুজ উল্লাহ। দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছেন মাহফুজ উল্লাহ। চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন তিনি। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন মাহফুজ উল্লাহ। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। বাম রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন মাহফুজ উল্লাহ। যে কারণে তার বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসাবেও পরিচিতি রয়েছে। রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি ছিল মাহফুজ উল্লাহর। তাকে উপস্থাপনাও করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ হিসাবে পরিচিত মাহফুজ উল্লাহ। সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামক একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজ উল্লাহ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের আন্তর্জাতিক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বাংলাদেশি সদস্য তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০ এর অধিক বই লিখেছেন মাহফুজ উল্লাহ। বইগুলো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিলাভ করেছে। বইগুলোর অধিকাংশই বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহীত আছে। তার লিখিত বইগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম, যে কথা বলতে চাই উল্লেখযোগ্য। এসএ/
সাংবাদিক সমাজের জন্য বড় শূন্যতা শাহ আলমগীর

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) প্রয়াত মহাপরিচালক শাহ আলামগীর ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। যিনি নিজের স্বার্থ না দেখে সামগ্রিকভাবে প্রাধান্য দিতেন। সাংবাদিকদের দুর্দিনের বন্ধু ছিলেন তিনি। তার চলে যাওয়া সাংবাদিক সমাজের জন্য বড় শূন্যতা। আজ শুক্রবার (২২ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শাহ আলমগীরের স্মরণ সভায় এ কথা বলেন বরেণ্য সাংবাদিকরা। স্মরণ সভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শাহ আলমগীরের কাছে অনেকে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি ভালো ভাষার মাধ্যমে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি সবার কথা শুনেছেন, অন্যকে বলার উৎসাহ দিতেন, সবশেষ তিনি উত্তর দিতেন। তার চলে যাওয়া বেদনার। তার চলে যাওয়া সাংবাদিক সমাজের জন্য বড় শূন্যতা।’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘নানা কিছুর বিনিময়ে ভালোবাসা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ভিন্ন ছিলেন শাহ আলমগীর। তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন কাজের মাধ্যমে। তিনি সবাইকে আপন করে নিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি তিনি বেঁচে আছেন, আমাদের মাঝে চিরকাল থাকবেন।’ দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি সবসময়েই ইতিবাচক চিন্তা করতেন। শাহ আলমগীর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন। আমি মনে করি, এটা একটা বিশাল কাজ। ভালো মানুষ না হলে এমন কাজ করা যায় না। তিনি সবসময়েই কমিউনিটির স্বার্থের কথা ভাবতেন।’ একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘একটি মানুষের যতোগুলো গুণ থাকা দরকার, তার সবগুলো ছিল শাহ আলমগীরের মধ্যে। তিনি সাংবাদিকদের দুর্দিনে পাশে থাকতেন। আবার সুখের সময়ও ছিলেন। তার উৎসাহ আমাদের আজও কাজের প্রেরণা যোগায়।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মফিদুল রহমান বলেন, ‘শাহ আলমগীর ছিলেন সদালাপী। তার সঙ্গে কথা বলে আরাম পাওয়া যেত, মনে শান্তি আসত।’ প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘শাহ আলমগীর ছিলেন সকলের বন্ধু। তার মতো বন্ধু তৈরি করার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি একাধারে সাংবাদিক নেতা ও কর্মী ছিলেন। তিনি দুর্দিনে সময়ের বন্ধুদের কথা সবসময়েই মনে রেখেছেন। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যে তার দুঃখ-কষ্ট সহজে প্রকাশ পেত না কিন্তু আনন্দের বিষয়গুলো তিনি সবার সঙ্গে ভাগ করতেন।’ দৈনিক সমকালের যুগ্ম-সম্পাদক অজয় দাস গুপ্ত বলেন, ‘শাহ আলমগীর এমন একজন মানুষ ছিলেন যে তিনি কঠিন কথা সহজে বলতে পারতেন। তিনি ছিলেন বটবৃক্ষের মতো, যার ছায়াতলে এলে মন ভালো হয়ে যেত।’ প্রধান তথ্য কমিশনার মর্তুজা আহমেদ বলেন, ‘৮৫ সালে পিআইবি গঠিত হয় কিন্তু শাহ আলমগীরের সময়টা হচ্ছে পিআইবির স্বর্ণযুগ। তার আমলে পিআইবিতে যত কাজ হয়েছে এবং পিআইবিকে যেভাব প্রযুক্তিসহ উন্নত করা হয়েছে তা আগে কখনো হয়নি। শাহ আলমগীর কর্তব্যপরায়ণ বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছে। একটা সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাংবাদিকদের ঢাকায় এসে পিআইবিতে প্রশিক্ষণ নিতে হতো। কিন্তু শাহ আলমগীর এ ধারা ভেঙে দিয়ে পিআইবিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এখন আর সাংবাদিকদের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসতে হয় না, পিআইবি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসে। তার দেখানো পথ আমাদের জন্য অনুসরণীয়।’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘কাজ পাগল শাহ আলমগীর ভাই আজও আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি নিজে অসুস্থ থাকলেও সেটিকে চেপে রেখে আমাদের কাজ করতে বলেছেন, নিজেও করেছেন। তার একান্ত চেষ্টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার পেয়েছে সাংবাদিক সমাজ।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘শাহ আলমগীর কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তাকে নিয়ে আমরা যত উচ্চ প্রশংসা করি না কেন তা অতিকথন হবে না। হাসিমুখ ছাড়া তাকে কল্পনা করা যায় না।’ স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শাহ আলমগীরের সহধর্মিনী ফৌজিয়া বেগম মায়া, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এবং সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্রের চেয়ারম্যান রেযোয়ানুল হক রাজাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। টিআর/

‘মামুন পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিল’

সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদ পেশাদারী জায়গায় সচেতন ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে নানা মত-পথ ও প্রতিযোগিতা থাকলেও মামুন সাংবাদিকতার জায়গা থেকে মামুন নিরপেক্ষ থাকতো। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, মামুন ছাত্রলীগ করত। আমাদের মধ্যেও নানা মত ও পথ আছে। নানা প্রতিযোগিতা আছে। মামুন কখনো পক্ষপাতিত্ব করত না। সে তার পেশাদারী দৃষ্টিভঙ্গিতে সব বিশ্লেষণ করত। স্মৃতিচারণ করে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, মামুন যখন বাংলা ভিশনে কাজ করত তখন ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম কাভারের ব্যাপারে সে হেল্প করত। আমরাও মিডিয়া কাভারেজ সংক্রান্ত কোন যে কোন দরকারে তাকে নক করতাম। সাংবাদিক মামুন সব সময় হাসিখুশী থাকতেন এমন প্রসঙ্গে বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এক পর্যায়ে বাংলা ভিশন থেকে তার (মামুন) চাকরি চলে যায়। তখন তার মন খারাপ। তবে সে মন খারাপ দেখাতো না। পরে যোগ দেয় এশিয়া টিভিতে। দেখা হলে আমি দুষ্টুমী করতাম। কখনো তাকে রাগাতে পারিনি। মামুন একুশে টিভিতে যাওয়ার পর রোজ দেখা হতো। মামুন মানেই আনন্দ। সে সব সময় সব কিছু জমিয়ে রাখত। ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব নন্দীর সঞ্চালনায় শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/

‘মামুনের জনপ্রিয়তার প্রমাণ পেয়েছি তার এলাকায় গিয়ে’

সদ্য প্রয়াত একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন বলেছেন, মামুনুর রশীদ কতোটুকু জনপ্রিয় ছিল তার প্রমাণ পেয়েছি তার লাশ নিয়ে যখন নড়াইল গেলাম তখন। এলাকার সর্বস্তরের লোক মামুনের জন্য হু হু করে কেঁদেছে। আজ শনিবার টিএসসি ছাত্রশিক্ষক মিলনায়তনে এক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশীদের মৃত্যু উপলক্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে এ শোক সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি তার বক্তৃতায় বলেন, আমি সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করি। অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে আমার ঘনিষ্টতা। বিশেষ করে যারা প্রধানমন্ত্রীর বিট করেন তাদের সঙ্গে। এদের মধ্যে মামুন ছিল বিশেষ। মামুনের একটা অভ্যাস ছিল। যখনই মামুনকে ফোনে জিজ্ঞেশ করতাম, মামুন কোথায় আছ? মামুন উত্তরে বলত, পথে আছি। প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশীদের আন্তরিকতার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি গ্রামের বাড়ি গেলে মামুন একদিন পরে গিয়ে হাজির হতো। যদি বলতাম, মামুন তোমাকে তো আসতে বলি নাই। কেন এসেছ? মামুন হেসে হেসে উত্তর দিত, আপনার বাড়ি আসতে হলে কী দাওয়াত লাগবে নাকি। আশরাফুল আলম খোকন আরও বলেন, মামুনকে বলতাম, মামুন বয়স ৩০ পার হয়েছে। এখন একটু ব্যায়াম কর, জগিং কর। মামুন উত্তরে বলত, খোকন ভাই আপনি বুড়া মানুষ। এগুলো আপনার করা দরকার। প্রয়াত মামুনুর রশীদ ভালো সাংবাদিকের বাইরে একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তার সততা ছিল মারাত্মক। এমন প্রসঙ্গে আশরাফুল আলম খোকন বক্তব্যে বলেন, মামুন যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিট করতো তার সঙ্গে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছিল। তাই অনেকে তার কাছে বিভিন্ন সাহায্য চাইতে আসত। এমন অনেক কাজ আমিও করে দিয়েছি। আমি কাজ করার আগে বা পরে খবর নিতাম। কারণ কোন বদনামী যাতে না হয় সেটা খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মামুন কখনো কারো কাছে এক টাকা বেনিফিট নেয়নি। অসংখ্য মানুষের উপকার সে করেছে। আমাদের দিয়ে করিয়েছে মানবতার জায়গা থেকে। তিনি আরও বলেন, মামুন খুব বেশী আয়ু পায়নি। ৩৩ বছর খুব বেশী আয়ু নয়। কিন্তু আদর্শিক জায়গা থেকে মামুনের জীবন ও কর্ম আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএস জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজানুল জক চৌধুরী শোভন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, সাবেক দফতর সম্পাদক নাসিম আল মোমিন, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা শাহাদাত হোসেন সুজন, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব আহমেদ, রিপোর্টার রিয়াদুল করিম, সহপাঠী রুহিনা তাসকিন প্রমুখ। আআ//এসএইচ/

মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন(ভিডিও)

একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে একুশে পরিবার। এসময় মামুনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সবাই। তারা বলেন, মামুনের অকাল প্রয়াণে একজন তরুন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিককে হারিয়েছে দেশের গণমাধ্যম। গেল ৩ সেপ্টেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরপারে পাড়ি জমান একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদ। একজন প্রতিভাবান সহকর্মীর এমন আকস্মিক বিদায় এখনো মেনে নিতে পারছেননা একুশে পরিবার। বিকেলে একুশের স্টুডিওতে দোয়া অনুষ্ঠানে আসেন তার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও শুভানুদ্ধায়ীরা। মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন........। এসময় মামুন রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

ওয়েলকাম মামুন, প্লিজ...

বুঝতে পারিনি সেদিন রোববার ছিলো মামুনের জীবনের শেষ অফিস। গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রোগ্রামে সংবাদ সংগ্রহের কাজে ছিলো মামুন। অফিস থেকে আমাকে বলা হলো মামুনকে সহযোগিতা করতে। আমি স্ক্রিপ্ট লিখে প্যাকেজ বানানোর সময় মামুন চিরচেনা হাসিমুখ নিয়ে প্যানেলে এলো। ঢুকেই আমাকে বললো,“থ্যাঙ্কস আপা”। আমি একটু মজা করে বললাম- নট ওয়েলকাম। ওটাই ছিলো আমার সাথে মামুনের শেষ কথা, শেষ দেখা । একটু পরেই সে অফিস থেকে চলে যায়। যাওয়ার সময় দেখলাম হাসিমুখ নিয়ে সেন্ট্রাল ডেস্ক থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে। আর তার পরদিন ছিলো মামুনের ডে অফ। রাতে শুনি আমাদের টগবগে তরুন সাংবাদিক মামুন আর নেই। প্রথমে দু:সংবাদটা শুনে  মনে হচ্ছিল আমি হয়ত পাগল হয়ে গেছি কিংবা কোথাও আমার বড় ভুল হচ্ছে। পরে যখন বুঝলাম নির্মম মৃত্যু কেড়ে নিয়েছে আমাদের মামুনকে, বাকি রাতটা আর ঘুমাতে পারলাম না । মামুন ছিলো আমার ডিপার্টমেন্টের দুষ্টু আর মিষ্টি ছোট ভাই, একই সঙ্গে প্রিয় সহকর্মী। শুধু আফসোস হতে লাগলো, কেন যে নট ওয়েলকাম বলেছিলাম । মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগলাম-“মোষ্ট ওয়েলকাম, মোষ্ট ওয়েলকাম মামুন । লেখক : মামুনুর রশিদের সহকর্মী। / এআর /

মামুনের বর্ণাঢ্য জীবন

মামুনুর রশিদ জন্মেছিলেন নড়াইলের অজপাড়া গা-তেলপাড়াতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে নিজেকে ক্রমেই প্রতিষ্ঠা করছিলেন সাংবাদিকতার জগতে এক উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে। সদ্য ডানা মেলা পাখি যেমন রঙ্গিন আকাশে লাফিয়ে বেড়ায়, তেমনি সাংবাদিকতায় নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গের মতো করে গড়ে তুলছিলেন তরুণ এ সাংবাদিক। তবে বিধাতার অমোঘ বিধানে জীবনের মধ্যাহ্ন, অপরাহ্ণ কিংবা গোধূলি না আসতেই কালের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেল একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদকে। তার এই অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই যেন মানতে পারছেন না তার দীর্ঘদিনের সহপাঠী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, গুণগ্রাহী ও বন্ধুপরিজন। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি মামুনুর রশিদের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পরই জনকণ্ঠ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মামুন। ২০০৮ সালে সদ্য স্নাতকোত্তর পাশ করা মামুনের কর্মজীবনের প্রথম দিকে সাধারণ বিটে কাজ করলেও, খুব অল্পদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিটের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। জনকণ্ঠে এক বছর থাকার পরই যোগ দেন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল-বাংলা ভিশনে। দীর্ঘ ৫ বছর বাংলাভিশনে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এসময় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিট প্রধানমন্ত্রী বিট, রাষ্ট্রপতি বিট, পররাষ্ট্র বিট, ভিভিআইপি বিট এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিটে কৃতীত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপরই সিনিয়ন রিপোর্টার যোগ দেন এশিয়ান টেলিভিশনে। এর কিছুদিন পরই দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-একুশে টেলিভিশনে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন মামুনুর রশিদ। একুশে টেলিভিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিলেন মামুন। মামুন স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে একদিন সাংবাদিকতার দিকপাল হিসেবে গড়ে তুলবেন। দেশের সংবাদ ও সাংবাদিতার ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ারও স্বপ্ন দেখতেন প্রয়াত গুণী এই সাংবাদিক। নটরডেম কলেজ থেকে ২০০৩ সালে মানবিক বিভাগ থেকে কৃতীত্বের সঙ্গে এইসএসসি পাশ করেন মামুন। এরপরই ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকে ২০০৭ সালে স্নাতক ও ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর একই বছর যোগ দেন দৈনিক জনকণ্ঠে। মামুন বেড়ে উঠেছেন নড়াইলের লোহাগারা উপজেলার তেলকারা গ্রামে। তিনি মরহুম শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন সবার ছোটো। গ্রামের দুরন্তপনা জীবনে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও খেলাধূলায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপরই ছেলের উচ্চ শিক্ষার কথা চিন্তা করে, তাকে নটরডেম কলেজে ভর্তি করে দেয় তার মা-বাবা। সেখান থেকেই সাংবাদিকতার জগতে জ্বলে উঠার লক্ষ্যণ দেখা দেয় তার মধ্যে। লেখালেখিরও হাঁতেখড়ি হয় ওই ইন্টারমিডিয়েট জীবন থেকেই। এরপরই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে অনন্য উচ্চতায় এক উদীয়মান তারা। আর আজ সেই জাজ্জ্বল্যমাণ আকাশ থেকে খসে পড়া একখণ্ড ধূমকেতু, যা কেবলই স্মৃতি। স্মৃতির অম্লানে চিরভাস্মর হয়ে থাকবে আমাদের মামুন। এমজে/

মামুনের মৃত্যুতে একুশে টেলিভিশন চেয়ারম্যানের শোক

একুশে টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এস আলম গ্রুপ ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তিনি মামুনের শোক সন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন। এক শোকবার্তায় সাইফুল আলম বলেন, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অগ্রপ্রতীক। তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিটে কাজ করছিলেন। তাঁর অকালে চলে যাওয়া আমাদের ব্যাথিত করে। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় এস আলম গ্রুপের কর্ণধার আরও বলেন, আমি তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধুমহল, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে সমব্যাথী। সাইফুল আলম আরও বলেন, উদীয়মান সাংবাদিক মামুনুর রশিদ কাজের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় একুশে পরিবার সমৃদ্ধ হয়েছে বলে আমি মনে করি। তার অকালে চলে যাওয়া একুশে টেলিভিশন পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সেখানে ছুটে যান তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী একুশে টেলিভিশন পরিবারের সদস্যবর্গসহ অন্য গণমাধ্যম কর্মীরা।৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া চৌকস ও মেধাবী এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে গণমাধ্যম কর্মীরা শোকাহত। /এমজে/  

অনন্তের নক্ষত্র হয়ে থাকুক মামুন

সহকর্মী মামুনুর রশীদ (মামুন) নেই। এমন আকস্মিক খবর শোনার পর অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। এমন সুদর্শন, পরিপাটি একজন মানুষের সঙ্গে মৃত্যুর কয়েকঘন্টা আগেও প্রধানমন্ত্রীর এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। চারিদিকে কোলাহল ছিল বলে মুঠোফোনের আলাপ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছিল। তবে তার কন্ঠের দৃঢ়তা স্পষ্ট ছিল। বলছিলেন-‘মঙ্গলবার একনেক সভা আছে’। মঙ্গলবার আমার ভাগেই পড়েছিল একনেক সভার নিউজ। যাওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বিটে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি মাত্র কিছুদিন আগে। বয়সে বছর তিনেক ছোট হলেও মামুন এই বিটে অনেক অভিজ্ঞ আমার চেয়ে। প্রথমদিন প্রধানমন্ত্রীর নিউজ কাভার করতে যাওয়ার আগে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা। নিউজরুমে তার অলিখিত নির্ধারিত ডেস্কে বসা। আমাকে দেখে একফালি হাসি দিয়ে বললেন, কি!প্রথম দিন? মিস্টি পাওনা থাকলো। আমিও উৎসাহ নিয়ে বললাম-অবশ্যই। পরে কাছে ডেকে বিটের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমাকে অবহিত করলেন। যা সত্যিই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছুদিন একা বিটের নিউজ কাভার করে ক্লান্ত মামুন, তাই একজন সহকর্মী পেয়ে তার আনন্দ ছিল দেখার মতো। নির্ভার মনে হচ্ছিল। “যাক, ভাগাভাগি করে কাভার করা যাবে। একজন খুব প্রয়োজন ছিল”-এমন নির্ভেজাল আহবান কাছে টেনে নেবার জন্য যথেষ্ঠ। আবার বলছিলেন, আসলে ছুটি নিতে হবে, আর পারছি না। কি করবো..! ছুটির আকুলতা মামুনের চেহারায় স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এই ছুটি যে চিরদিনের জন্য তা বোঝার সুযোগ দেয়নি মৃত্যু। প্রিয় সহকর্মী মামুনের মৃত্যু সংবাদ যখন লিখছি, গালভরা হাসিমুখটাই বারবার ভাসছিল চোখে। আহা! কি পরিপাটি, সতেজ যুবক। নিউজের প্রতিটি লাইনের একেকটি শব্দ আমাকে বিদ্ধ করছিল ভীষণ। কিছু সময় আগেও যার সাথে কথা বলেছি, সেই প্রাণবন্ত মানুষটি নেই। তার মৃত্যু সংবাদও লিখছি আমি।খুব অল্প সময়ের কাছে পাওয়া সময়টুক থাকুক স্মৃতির ফ্রেমে। মামুন নামের এই প্রিয় মানুষটি থাকুক অনন্তের নক্ষত্র হয়ে। লেখক : প্রয়াত সাংবাদিক মামুনুর রশিদের সহকর্মী। / এআর /

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি