ঢাকা, ২০১৯-০৬-১৯ ২৩:৫১:০৫, বুধবার

শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

ষড়ঋতুর চক্রাবর্তে ঘুরে আসে শরৎ আর শরতের আগমনী সুর জানান দেয় শারদীয় দুর্গোৎসবের কথা। আবহমান বাংলার শ্বাশত সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ পূজোকে ঘিরে যখন ঢাক-ঢোলের আওয়াজ কানে ভেসে আসে তখন বাল্যকালের কথা মনে পড়ে যায়। মায়ের হাত ধরে জেলেপাড়ার দুর্গোৎসব উপভোগের স্মৃতি নতুন করে জেগে ওঠে মনে। চারযুগ আগের কথা। উত্তর-পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের বাড়ির পাশে জেলেপাড়ায় পূজোমণ্ডপে উৎসবের আয়োজন হতো। তিন-চার দিন ধরে ঢোলবাদ্যের আওয়াজ, আলোকসজ্জা আর নাচগানের মাধ্যমে আনন্দ-উল্লাসের ঢেউ বয়ে যেতো জেলেপাড়ায়। তৈরি হতো উৎসবের অন্য রকম এক আবহ। গ্রামে তখন বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না বলে বিশেষ ব্যবস্থার সেই দুর্গোৎসবের আলোঝলকানিতে মুসলিম নর-নারীরাও একাকার হয়ে যেতো। দুর্গোৎসব পরিণত হতো সামাজিক মহোৎসবে। বেশ ক’বছর ধরে অবশ্য জেলেরা অর্থাভাবে পূজামণ্ডপ তৈরি করতে পারে না। এখন জেলেরা হিন্দুপাড়ায় আয়োজিত বিভিন্ন পূজোমণ্ডপ পরিভ্রমণ করে দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। ঈদ-পূজোপার্বনসহ বিভিন্ন ধর্মীয়উৎসব সিংহভাগ মানুষের জীবনে আনন্দের বদলে বেদনা, আর্শিবাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে আসে। ধর্মীয় এসব উৎসব কালক্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে নিছক সামাজিকতায় রূপান্তরিত হয়েছে। ঈদ-পূজোর কেনাকাটার সময় বেশিরভাগ অভিভাবকের বিমর্ষ চেহারা, সন্তানদের যৌক্তিক দাবী পূরণ করতে না পারার মানসিক যাতনার কারণে ধর্মীয় উৎসবগুলো সবার জন্যে সমানভাবে আনন্দ বয়ে আনতে পারে না। প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সবকিছুর মূলে আর্থিক সামর্থই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে ও রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক যে বৈষম্য রয়েছে, ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তার  প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যদি সবাই কমবেশি ভাগাভাগি করতে না পারে, তাহলে তখন কোনো ধর্মীয় উৎসব সর্বজনীন হয়ে ওঠে না। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য; তাহার উপরে নাই’- চণ্ডীদাসের এ উক্তি ধর্মীয় চেতনাই মানুষকে সেবাধর্মে অনুপ্রাণিত করে। জগতের ধর্মপ্রবক্তা ও ধর্মগুরুরা সেবাধর্মকে জীবনের শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন। ধর্মীয় চেতনাই মানুষকে সেবাধর্মে অনুপ্রাণিত করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রে, বিশেষ করে কুরআন, রামায়ণ-মহাভারত, মহাকাব্যে, পুরাণে জনসেবা-ই শ্রেষ্ঠধর্মের মর্যাদায় ভ‚ষিত হয়েছে। মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিহিত রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের কণ্ঠে তাই উচ্চারিত হয়েছেÑ ‘জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’। পরের তরে জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমে মানবজীবন সার্থকতায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অপরের কল্যাণে নিজকে নিয়োজিত করতে পারলেই জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে। বিশ্বের সব ধর্ম শান্তির কথা বলে। যা কিছু ভালো, সুন্দর, সর্বজনীন তাই মূলত ধর্মের মর্মবাণী। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। প্রতিটি ধর্মের শ্লোগান, হিংসা, ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে। সকল প্রকার অপকর্ম, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ধর্মগুরুরা প্রচারণা চালান। কোরআন, বাইবেল, গীতা, ত্রিপিটক থেকে শুরু করে বিশ্বে যত ধর্মগ্রন্থ আছে, সবখানে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, সাম্যের কথা বলা হয়েছে। কাউকে খুন করা, কারো ক্ষতি করা, মসজিদ-মন্দির- গীর্জা-পেগোডা ধ্বংস করার কথা কোনো ধর্মগ্রন্থে নেই। সব ধর্মের মূলকথা পারস্পরিক সহাবস্থান, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সুশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করা। মিথ্যা কথা না বলা, চুরি-ডাকাতি না করা। সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। সত্যিকার ভাবে মনেপ্রাণে যদি আমরা যার যার ধর্ম পালন করি, শতভাগ পালন করার দরকার নেই, শতকরা ২০ ভাগও যদি পালন করি তাহলে তো দুনিয়াটা ‘স্বর্গ’ হয়ে যায়। পুলিশ-র‌্যাবের দরকার হতো না। শান্তির সুবাতাস বইতো সর্বত্র। মানুষরূপী জানোয়ারগুলোর কুৎসিত চেহারা আমাদের দেখতে হতো না নানা ভঙ্গিমায়। সংখ্যালঘু ধর্মালম্বীরা নানাভাবে নির্যাতিত হতো না। আমরা ধর্মীয় চেতনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি না। ধর্মগ্রন্থ ভালোভাবে অনুধাবন ও আত্মস্থ করি না। ধর্মজ্ঞান অর্জন করার তেমন কোনো আগ্রহবোধ আমাদের নেই। ধর্মনিষ্ঠার চেয়ে ধর্মান্ধতার পাল্লা ভারী। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়। আবহমানকাল থেকে দেশে দেশে ধর্ম শাসন-শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিশরীয় সভ্যতাসহ বিভিন্ন সভ্যতার যুগে ধর্মকে ঘিরে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হতো। এখনও আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে নানা কৌশলে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- স্বাধীনতার চার দশক পরেও এই কথাটি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ধর্ম একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ধর্মকে রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলে রাষ্ট্রে এমন এক জটিল অবস্থা তৈরি করা হয়েছে যে, রাজনীতিতে সহিংসতা, অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা, মারামারি, খুনোখুনি এসব লেগেই আছে। রাজনীতির সাথে ধর্ম একাকার হয়ে যাওয়ায় রাজনীতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠির উপকারে আসছে না, ধর্মেরও বারোটা বাজছে। ধর্মকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে ধর্মব্যবসায়ীরা। ধর্মের লেবাসধারী তথাকথিত নেতারা ধর্মের মানমর্যাদা নিয়ে ছিনিমিনি খেললেও প্রকৃত ধর্মচর্চাকারীরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার নন। আবার ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সেটাকে ধর্মবিদ্বেষী কিংবা ধর্মদ্রোহিতা হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রয়াস চালানো হয়। কোনো ব্যক্তি, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান যা-ই হোন না কেন, তিনি যদি প্রকৃত ধার্মিক হন, ধর্ম সম্পর্কে যদি তার পরিষ্কার ধারণা থাকে, ধর্মীয় বিধিবিধান আন্তরিকতার সাথে পালন করেন, তাহলে তিনি হবেন একজন প্রকৃত ধার্মিক মানুষ। সব ধর্মে মানবীয় গুণাবলী সম্পন্ন ধার্মিক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না বলেই বকধার্মিকরাই হাঁকডাক করে বেড়ায় সর্বত্র। ধর্ম নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও চর্চা কোনো ধর্মেই পরিলক্ষিত হয় না। গতানুগতিক ধারায় চলছে ধর্ম-কর্ম সবকিছুই। এ চলার শেষ কোথায় জানি না। ধর্ম সচেতন ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের সংখ্যা কবে নাগাদ কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাবে- তা বলা খুবই মুশকিল। ধর্মীয় নানা কুসংস্কার ও মৌলবাদের রাহুগ্রাস থেকে আমাদের আদৌ মুক্তি মিলবে কিনা তা-ও বলা যাচ্ছে না। দুর্গোৎসব নিয়ে লিখতে গিয়ে ধর্ম নিয়ে গল্প জুড়ে দেয়ার জন্যে দুঃখিত। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্যালেন্ডারের পাতায় শারদীয় দুর্গোৎসব ফিরে এসেছে। দুর্গোৎসব হয়ে ওঠুক প্রাণের উৎসব, জীবনের উৎসব ও পূণ্যার্জনের মহোৎসব। সনাতনী জনগোষ্ঠির এই প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুধু উৎসবে সীমিত না থেকে চিন্তাচেতনায় ও সাহসিকতায় সংশ্লিষ্টদের আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে সকল দানবীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সবার প্রতি রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।লেখক: প্রধানসম্পাদক, চাটগাঁর বাণী।
প্রতিমা বিসর্জন আজ

আজ বিজয়া দশমী। পূজামণ্ডপ ঘিরে শুধুই বিষাদের ছায়া। বিদায়ের সুর বাজছে মণ্ডপগুলোতে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দুর্গাপূজা। দেবীকে বিদায় দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শেষ মুহূর্তের পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করছেন। এদিন ঢাকঢোল, কাসর-শঙ্খ বাজিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গার বিদায়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টিৃ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকায় ২৩১ মণ্ডপে পূজা হচ্ছে এবার।   আর/টিকে  

প্রেক্ষিত : শারদীয় দুর্গোৎসব

এ মহাবিশ্ব এক অপার বিস্ময়। আমাদের এ সৌরমণ্ডলটিতে কেবল সূর্যই নক্ষত্র এবং অন্যসব গ্রহ ও উপগ্রহ। বিজ্ঞানীগণ বলেছেন, আমাদের পৃথিবীটার মত ১৩ লক্ষটি পৃথিবীর সমান হচ্ছে এ সূর্যটা। আর সূর্যটার মত অজস্র নক্ষত্র ধূলিকণাসম বিদ্যমান রয়েছে এ ছায়াপথে। আর আমাদের নিকটতম একটি নক্ষত্রপুঞ্জ বা ছায়াপথে এক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। সেখানে অর্ধেক নক্ষত্র খেয়ে ফেলেছে একটি অন্ধকুপ। বাকি অর্ধেক খেয়ে ফেলার পরে সেটি হবে এক ঘন কুয়াশা। এটি নাকি আমাদের পৃথিবী থেকে পাঁচ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। চোখের পলকে বা এক সেকেন্ডে যে আলো চলে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল, সে হিসাবে পাঁচ কোটি বছরে আলো যেখানে পৌঁছে, সেখানে ঐ নক্ষত্র পুঞ্জটি অবস্থান করছে। এটি যদি নিকটতম হয়, তাহলে দূরতমটি কোথায়Ñ কত দূরে? আর পৃথিবীটার আয়ুষ্কাল সম্পর্কে এক বিজ্ঞানী বলেছেনÑ এর বয়স অন্তত দুইশ কোটি বছর। সনাতনী শাস্ত্রমতে কল্প, মন্বন্তর ও যুগ বিন্যাসে কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি কল্পকালের আয়ুষ্কাল মনুষ্য পরিমিত ৮৬৪ কোটি বছর যা ১৪ (চৌদ্দ) টি মন্বন্তর এবং সহস্র চতুর্যুগে (সত্য, ক্রেতা, দ্বাপর ও কলি) বিন্যস্ত হয়েছে। এখন চলছে শ্বেত বরাহ কল্প এবং ৭ম (বৈবস্বত) মন্বন্তর। একটি মন্বন্তরে প্রায় ৭২টি চতুর্যুগ বা মহাযুগ। একটি চতুর্যুগের আয়ুষ্কাল হলোÑ ৪৩,২০,০০০ বছর। আমার এ কথাগুলো বলার উদ্দেশ্যে হলো একবার ভেবে দেখা কত বিস্তৃত ও দীর্ঘবয়স্ক এ মহাবিশ্ব এবং সৃষ্টি-রহস্য কতটা গভীর অনুধ্যানের বিয়ষ। আর এ থেকে অনুমেয় যে, সীমাহীন পরিব্যাপ্ত এবং অনন্ত দীর্ঘ বয়স্ক এ মহাবিশ্ব মাঝে আমাদের এ পৃথিবীটা কত ক্ষুদ্র। সেই পৃথিবীতেই বিদ্যমান বিশাল সমুদ্র, প্রবল ঊর্মিমালায় উত্তাল নদনদী, সুউচ্চ পাহাড়-পর্বত, গহীন অরণ্য আর নিঃসীম নীলাকাশসহ তাবৎ সৃষ্টি-রহস্যের সামান্য অংশ দেখে-শুনেই মানুষ ভীত, বিস্মিত আর বিমুগ্ধ হয়ে ভাবতে শুরু করেÑ কে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেনÑ কোথায় তিনি থাকেনÑ কি তার রূপাবয়ব ইত্যাকার নানা প্রসঙ্গে। আর, এ ভাবনা থেকেই একদিন শুরু হয়েছিল উপাসনা তথা সাধনার। মানুষ যেদিন থেকে ভাবতে শিখেছে সেদিন থেকেই প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সভ্যতারও শুরু হয়েছে। স্থান, কাল ও সীমানাভেদে আবার উপাসনার পথ ও পদ্ধতি হয়েছে বিভিন্ন। আর, এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে আধ্যাত্মিক তথা ধর্মীয় বিভিন্ন মত পথের। যেমনÑ সনাতন ধর্ম, ইসলাম ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ইত্যাদি। সব মত-পথেই সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজা, জানা এবং সৃষ্টি রহস্যকে বোঝার চেষ্টা পরিদৃষ্ট। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের ধর্ম একটাই, তা হলো মানবধর্ম বা মনুষ্যত্ব। আর সৃষ্টিকর্তাও একজনই। তাঁকে যে যেনাম ধরে ডাকে তিনি তাই। সৃষ্টিকর্তা আলাদা আলাদা হলে কোন একজন সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্ট মানুষদের পেছনে আরও দু’টো চোখ দিয়ে দিতে পারতেন। একেক ধর্মমতের মানুষের রক্তের রং একেক রকম হতে পারত। তাই, বলা যায় আমাদের উৎস এক এবং গন্তব্যও এক। কেবল পথ ও পাথেয়র ভিন্নতা। যেমন : পটুয়াখালী থেকে কেউ ঢাকা আসতে চাইলে যেমন পারবেন, দিনাজপুর থেকে অথবা চট্টগ্রাম থেকে কেউ আসতে চাইলে তিনিও পারবেন। তবে, পটুয়াখালী থেকে কেউ ট্রেনে আসতে চাইলে যেমন ভুল করবেন, তেমনি দিনাজপুর থেকে কেউ লঞ্চে আসতে চাইলেও ভুল করবেন। তাই, প্রত্যেককে যার যার পথের উপযুক্ত যানবাহনটি বেছে নিতে হবে এবং সঠিক পাথেয় নিয়ে আসতে হবে। সে যাই হোক, পৃথিবীর বড় ধর্মমতগুলোর একটি অন্যতম ধর্মমত হলো সনাতন ধর্ম। এই সনাতন ধর্মে সাধনার প্রধান ৫টি ধারা বা শাখা সৃষ্টি হয়েছে। যথাÑ বৈষ্ণব, শাক্ত, শৈব, সৌর ও গাণপত্য। এই পাঁচটি শাখার অনুসারীগণই আবার সনাতন ধর্মের বড় বড় ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠানসমূহে কমবেশি একাকার হয়েই উৎসবাদি পালন করেন। আমাদের আজকের প্রেক্ষিত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। এই শারদীয় দুর্গোৎসব-এর পূর্বাপর উৎসব হিসেবে মহালয়া উৎসব, লক্ষ্মীপূজা ও শ্যামাপূজা সমন্বয়েই এখন শারদোৎসব উদযাপিত হয়; বিশেষত বাঙালি সনাতনী সমাজে। প্রকৃতপক্ষে মহালয়া দিয়ে শুভারম্ভ এবং দীপাবলি ও শ্যামাপূজা দিয়ে শারদোৎসবের সমাপন। শ্যামাপূজা হেমন্ত ঋতুর প্রারম্ভে হলেও বিন্যাসটি শারদীয় উৎসবেরই অন্তর্ভুক্ত বলে পরিগণিত হয় (যদিও শাস্ত্র বলছেনÑ ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ থেকে অগ্রহায়ন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা পর্যন্তই মহালয়ার কাল। সুতরাং এর ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত)। কেননা, মহালয়া অমাবস্যায় (পার্বণ শ্রাদ্ধে) যে পূর্ব পুরুষগণকে শ্রদ্ধা সহকারে আমন্ত্রণ জানিয়ে মহাশক্তি দেবী দুর্গার জাগরণ তথা বোধন করা হয় তাদেরকেই আবার দীপান্বিতা আমাবস্যায় দীপাবলি উৎসবের মাধ্যমে বিদায় জানানো হয় বলে প্রথাগত অনুসৃতি রয়েছে। আর, দীপান্বিতা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় আবাহনের মধ্য দিয়ে শ্যামামায়ের পূজা সেদিন কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি অমাবস্যায় সম্পন্ন হয়। মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক মা দুর্গার চালচিত্রের শিরোভাগে দেবাদিদেব শিব; আবার কালী বা শ্যামা মায়ের বিগ্রহচিত্রে দেখা যায় শিবের বক্ষোপরি পদস্থাপিতা মহামাতা কালী এবং শিবকে কালীমায়েরও স্বামী বলা হচ্ছে, আবার মা দুর্গারও স্বামী বলা হচ্ছে। তাহলে কি দেবীদুর্গা এবং কালী-দু’জনেরই একই স্বামী? বিষয়টি অনুধ্যানে না আসলে বোধভ্রান্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। শিব হচ্ছেন বিশ্বের স্বামীÑব্রহ্মেরই একরূপ। মা দুর্গা এবং কালী তারই মহাশক্তির ভিন্ন রূপ মাত্র। নিরাকার পরব্রহ্ম সম্পর্কে পবিত্র মহাগ্রন্থ বেদে বিধৃত রয়েছেÑ ব্রহ্ম এক এবং অদ্বিতীয় (একমেবাদ্বিতীয়ং ব্রহ্ম)। এই নিরাকার ব্রহ্মের সাধনা কেবল সাধকই করতে পারেন, সাধারণের পক্ষে সম্ভব নয়। উপনিষদের ঋঝিপ্রোক্ত মন্ত্রোচ্চারণে তাই ভক্ত বলেছেনÑ  ‘‘অসতোমা সদগময় তমসোমা জ্যোতির্গময় মৃত্যোর্ম্মাহমৃতং গময় আবিরাবির্মএধি।’’ আমাকে অসত্য থেকে সত্যের পথে নিয়ে চলো, অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে চলো, মৃত্যু থেকে অমৃতত্বে নিয়ে চলো; হে সপ্রকাশ ব্রহ্ম! তুমি আবির্ভূত হও। ভক্তের এরূপ আকিঞ্চনে সেই অঘনঘটনপটিয়সী সর্বশক্তিমান এক থেকে বহু হতে চাইলেনÑ  ‘‘একোহহং বহুস্যাম প্রজায়েম।’’ তিনি স্বয়ং বিভাজিত হয়ে পুরুষ ও প্রকৃতিরূপে আত্মপ্রকাশ করলেনÑ সেই পুরুষ থেকে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব রূপে প্রকটিত হলেন। আর তিনিই ব্রহ্মারূপে সৃজন করেন, বিষ্ণুরূপে পালন করেন এবং শিবরূপে প্রলয় করেন। আর তার প্রকৃতিই সেই আদিশক্তি বা আদ্যাশক্তি। শক্তিমানের শক্তি। অর্থাৎ, বিশ্বের স্বামীও একজনই এবং তাঁর মহাশক্তিও একই। শক্তিমান ছাড়া শক্তি থাকে না এবং শক্তি ছাড়া শক্তিমান হয় না। যুগে যুগে- বারে বারে তিনি নানারূপে প্রকাটিতা-বিরাজিতা। সেই একই মহাশক্তি সমরে সিংহবাহিনী-ভোগে ভবানী-জগৎপালনে জগদ্ধাত্রীÑঅসুর নিধনে করালী কালীÑসম্পদে লক্ষ্মী এবং জ্ঞানে সরস্বতী। চণ্ডমুণ্ড বধে মহাদেবী দুর্গার ভ্রুকুটি থেকে নির্গতা হলেন ভয়ঙ্করী ভীষণবদনা ভীষণকায়া মহাকালীরূপে, যিনি চামুন্ডা নামে অভিহিতা হলেন। এভাবে তিনি নানারূপে প্রকাশিতা হন যুগে যুগে। যখন অনন্বীকার্য তখনই কেবল তার মহিমা এবং শক্তিমানতা প্রয়োজনমত প্রয়োগ করেন। সেই অখণ্ড মহাশক্তি মহামাতা দেবীদুর্গা শ্রীশ্রীচণ্ডীগ্রন্থের প্রথম চরিতে মহাকালিকা, মধ্যম চরিতে মহালক্ষ্মী এবং উত্তর চরিতে মহাসরস্বতী। আবার তিনি অষ্টশক্তির প্রকাশে রক্তবীজ অসুরকে নিধন করেন। এই অষ্টশক্তি হলেনÑ ব্রাহ্মণী, মহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, ঐন্দ্রী, যজ্ঞবারাহী, নারসিংহী ও চণ্ডিকা। নবদুর্গারূপে তিনি শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী (উমা/হৈমবতী), চণ্ডঘণ্টা, (হিমালয় দুহিতা), কুষ্মাণ্ডা, কাত্যায়নী, স্কন্দমাতা, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রীরূপে অভিহিতা। দশমহাবিদ্যারূপে তিনি কালী, তারা, ছিন্নমস্তা, ভুবনেশ্বরী, বগলা, ধুমাবতী, কমলা, মাতঙ্গী, ষোড়শী ও ভৈরবী। দেবী দুর্গা দশভূজারূপেই মূলত পূজিতা হন। তবে, অষ্টভূজা, অষ্টাদশভূজা, শতভূজা এমনকি সহস্রভূজা রূপেও অঞ্চলভেদে পূজিতা হন। এর প্রত্যেকটিরই এক একেকটি তাৎপর্য রয়েছে। তবে, মা যে সবদিকই দেখছেন এবং নিয়ন্ত্রণ করছেন সেটাই এর মাধ্যমে নির্দেশিত হচ্ছে। তাঁর দশহাতে দশ প্রহরণের যেমন ব্যাখ্যা রয়েছে, তেমনি তাৎপর্য বিমণ্ডিত রয়েছে মহামাতার চালচিত্রে বিন্যস্ত সত্ত্ব, রজঃ ও তমোগুণের প্রতীক সমাহার এবং সকল বর্ণের প্রতীকের সম্মিলন। প্রকৃতি প্রতিনিধি নয়টি গাছের চারা (কদলী, কচু, হরিদ্রা, বেল, দাড়িম্ব, অশোক, মান ও ধান) দিয়ে নবপত্রিকা বা কলাবৌ সাজিয়ে মঞ্চশোভিত করা হয় যা একাধারে প্রকৃতি পূজার প্রতীক। এভাবে দুর্গাপূজায় বিবিধ উপচার ও বিষয়ের সমন্বয় ও সমাহারে পূজার সর্বতোমুখী আয়োজনে দুর্গোৎসব সার্বজনীন এক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। তাইতো, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের লেখনী থেকে উৎসারিত হয়েছেÑ  ‘‘মার অভিষেক এসো এসো ত্বরা মঙ্গল ঘট হয়নি ভরা সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থ নীরে।’’ দুর্গোৎসব বছরে দু’টি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। একটি শরৎকালে এবং অন্যটি বসন্তকালে। শরৎকালের পূজা অকালের পূজা। কেননা, শ্রাবণ থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত ছয় মাস (সূর্য যখন বিষুবরেখার দক্ষিণ অয়ন বা দিকে) বা দক্ষিণায়নে থাকে তখন দেবতাদের রাত্রিকাল। তাই, এ সময়ে দেবীর জাগরণের জন্যে বোধন করতে হয়। আর, মাঘ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত ছয় মাস সূর্য বিষুবরেখার উত্তরে থাকে বলে এ সময়কে উত্তরায়ণ বলা হয়। দেবতাগণ এ সময়ে জাগ্রত থাকেন। উল্লেখ্য যে, দেবতাদের এক দিবারাত্র মনুষ্য পরিমিত এক বছর। তাই, বসন্তকালের পূজায় বোধন করতে হয় না। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই দেবীপূজার বিগ্রহ বিন্যাস সম্বলিত চালচিত্র একই রকম হয়েছে কালক্রমে। তবে, শরৎকালে পূজা মূলত ত্রেতাযুগের অবতার শ্রীরামচন্দ্রের পূজা বিধি বা রীতি অনুসরণে চলছে যার একটি অতিসুন্দর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা রয়েছে (পরিসর সীমাবদ্ধতায় কারণে বর্ণনা পরিহার করা হলো)। আর, বাসন্তী পূজা হচ্ছে সুরথ রাজা ও সমাধি বৈশ্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত দেবী পূজার রীতিতে যা স্বারোচিষ মন্বন্তরে করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, একটি মন্বন্তরে প্রায় ৭২টি চতুর্যুগ (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি) থাকে এবং একটি চতুর্যুগ বা মহাযুগেরই আয়ুষ্কাল হচ্ছে ৪৩,২০,০০০ বছর। সুতরাং, বহুকাল পূর্ব থেকে যে পূজার ইতিহাস তাতে যুগে যুগে কিছুটা সমন্বয়, সংস্কৃতিচেতনা ও যুগ ভাবনা প্রযুক্ত হয়েছে। যেমন দুর্গাপূজার বিগ্রহ বিন্যাসাদিতে একাধারে একটি যুদ্ধচিত্র এবং একটি পারিবারিক বিন্যাস সম্বলিত চিত্র পরিদৃষ্ট হচ্ছে। এখানে দেবীদুর্গা কর্তৃক মহিষাসুর বধের যুদ্ধ চিত্রটি প্রযুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি পরিলক্ষিত যে, দেবী দুর্গা যেন সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে পিত্রালয়ে বছরান্তে নাইয়র এসছেন। তাই, বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে যেন কন্যার আগমনে অনেক আয়োজন করা হয়। মা মেনকার মাতৃভাব যেন সকল মায়ের হৃদয়ে বাজে। যেমন করে মা মেনকা তাঁর স্বামী গিরিরাজকে বলেছেনÑ  ‘‘যাও যাও গিরি আনগে উমায়, উমা যেন কেঁদে ডাকিছে আমায়।’’ পরিশেষে, প্রাণিধানযোগ্য সংবাদটি হলো এই যে, যুগে যুগে যখনই প্রয়োজন দুর্গতিনাশিনী মহামাতা দেবী দুর্গা আবির্ভূতা হয়ে অসুর তথা দানবীয় শক্তির বিনাশ সাধন করেন। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবী ভগবতী তাই বললেনÑ  ‘‘ইত্থং যদা যদা বাধা দানবোত্থা ভবিষ্যতি তদাতদাবতীর্যাহং করিষ্যাম্যরি সংক্ষয়ম।’’ (যখন যখন দানবের অত্যাচার সংঘটিত হবে তখন তখন আমি অবতীর্ণ হয়ে অসুরদেরকে বিনাশ করব।) দেবী দুর্গা যুগে যুগে অসুরদের অত্যাচার যখনই দুর্যোগের সৃষ্টি করেছে তখনই আবির্ভূতা হয়ে মহিষাসুর, চন্ডমুণ্ড, ধূম্রালোচন, রক্তবীজ, শুম্ভ-নিশুম্ভ প্রভৃতি অসুরদেরকে বধ করেছেন। আজ আবার দুর্যোগের কালো মেঘরাশি যেন আচ্ছন্ন করে ফেলতে চাইছে দিকচক্রকাল। প্রমত্ত মেঘের গগন বিদারী গর্জন আর বজ্র বিদ্যুৎ সম্পাতে পৃথিবী আজ কম্পমান। অশুভ শক্তির দোর্দণ্ড প্রতাপেÑ দানবের পাষাণ কঠিন পদভারে ত্রস্ত সভ্যতা। তবে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলা যায়, অশুভ শক্তি যতই দোর্দণ্ড হোক না কেন, শুভ শক্তির কাছে অশুভ শক্তিকে পরাভব মানতেই হবে। কেননা, সৎসাধকের শিরায় শিরায় যে অমিতবীর্যের তেজ প্রবহমান, তার সম্মিলিত স্রোতধারায় চূর্ণিত হবে বাধার বিন্ধ্যাচল। তাই, আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের এ শুভক্ষণে অসুর বিনাশিনী দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা সকাশে আমাদের প্রার্থনাÑ এসো হে জগৎজননী! দুর্যোগ-পীড়িত আজকের এ সমাজ ও সভ্যতার দুর্যোগ কাটিয়ে শান্তি ও কল্যাণের দীপ্র আলোয় ভরিয়ে দাও পৃথিবীকে। জয় হোক শুভশক্তিরÑ জয় হোক তাবৎ শুভবাদী মানুষের। লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি।

দিল্লির বাঙালিপাড়ার পূজায় বিরিয়ানি চিকেন নিষিদ্ধ

দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ভারতের পূর্ব দিল্লির একটি পুরনো বারোয়ারি পুজা প্রাঙ্গণে বিরিয়ানি, চিকেন রোল, কাবাব বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সব খাওয়াকে অনেক বাঙালিই দুর্গাপুজার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করেন। কিন্তু একই সময়ই উত্তর ও পশ্চিম ভারতে হিন্দুরা অনেকে `নবরাত্রি` উদযাপন করেন। নবরাত্রিতে আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ। আমিষ-নিরামিষের জেরে এখন ভারতে অনেক বাঙালিকেই দুর্গাপূজার সময় তাদের প্রিয় আমিষ পদগুলো বর্জন করতে হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, পূর্ব দিল্লির পূর্বাচল সমিতিতে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে গত সাতাশ বছর ধরে। আর পুজো উপলক্ষে প্রতি বছর এ চত্বরে কাবাব, বিরিয়ানি খেতে ভিড় জমান অনেক মানুষ। কিন্তু এবার নবরাত্রি-র সময় এভাবে পুজাপ্রাঙ্গণে মাংস খাওয়ার বিরোধিতা করে ফেসবুকে প্রচার চালিয়েছিলেন স্থানীয় কিছু মানুষ। এর ফলে পুজোমন্ডপ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে এসব দোকান। পূজা কমিটির সচিব অশোক সামন্ত বলেন, আমরা সব সময় পুজার ভোগে প্রতিটা দিনেই সম্পূর্ণ নিরামিষ খাইয়ে এসেছি। আজও সবাইকে খিচুড়ি খাওয়ালাম। তবে ফুড হিস্টোরিয়ান অধ্যাপক পুষ্পেশ পন্থ বলেন, দুর্গাপুজোয় আমিষের চল ছিল আবহমান কাল থেকেই। হিন্দু কিন্তু কখনওই নিরামিষাশীদের ধর্ম ছিল না, এটা জৈনধর্ম নয়। ভারতে ক্ষত্রিয়-রাজপুত-বৈশ্য-শূদ্ররা এবং অনেক ব্রাহ্মণও চিরকাল মাংস খেতেন বলেও জানান তিনি।     /আর/এআর  

ধর্মের ধরনধারণ

সংস্কৃত `ধৃ` ধাতু থেকে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি অর্থাৎ মানুষ যা ধারণ করে তাই ধর্ম। প্রতিটি মানব শিশু একটি নির্দিষ্ট ধর্ম পরিচয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং বেড়ে উঠে। যদি সে জন্মসূত্রে প্রান্ত ধর্ম পরিবর্তন না করে থাকে তবে সমস্ত জীবন সে উক্ত ধর্মই ধারণ করে এবং পরিবর্তন করলে পরিবর্তিত ধর্ম ধারণ করেই অতিক্রম করে পরবর্তী জীবন।`ধারণ` বিষয়টির কোনো শারীরিক কাঠামো না থাকলেও এটি প্রকাশ পায় স্ব স্ব ধর্মের কৃষ্টি, লোকাচার এবং প্রার্থনার ধরনের মধ্য দিয়ে। হাজার হাজার বছরের সামাজিক লোকাচার, মানবতাবাদ এবং সর্বপরী স্রষ্টার সাথে লীন হওয়ার প্রয়াসের মধ্য দিয়ে ধারণকৃত এই বিশ্বাস প্রবহমান। যে কোনো ধর্মই শুধু আধ্যাত্নবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক আচার ও ক্রিয়া পরিচালনায় এর একটি বিরাট ভূমিকা দৃশ্যমান, আমাদের জন্ম মৃত্যু বিয়েসহ জীবনের প্রতিটি পদে এর ভূমিকা অলঙ্ঘনীয়। আমাদের সম্মুখে এর সমকক্ষ কিংবা এর থেকে উৎকৃষ্ট কোনো রীতি এখন পর্যন্ত বর্তমান না থাকায় আমরা ধারণ করে চলছি এই রীতি এবং জীবন প্রণালী। অতি উচ্চ মার্গীয় তর্কের সূক্ষ্ম চুলচেরা বিশ্লেষণের বাহিরে মোটা দাগে যে ফলাফল আমরা দেখতে পাই তা হচ্ছে আমাদের সমাজ সম্মুখভাগে অগ্রসরমান একে যদি আমরা প্রগতি বলি, তবে সেই প্রকৃষ্টরূপ গতিতে ধারণকৃত ধর্মের একটি প্রবল ভূমিকা অনস্বীকার্য। যদিও প্রগতি আর ধর্ম দুইটি ভিন্ন মেরুচারী বলেই প্রচলিত ধারণা। সাধারণ্যে এরুপ একটি ধারণা, সাধারণ মানুষের মনে এরূপ ধারণা তখন থেকে জন্মাতে শুরু করে যখন ধর্ম মানুষকে ধারণ করে। ধর্ম মানুষের ধারণ করার অভিজ্ঞতা মানব সভ্যতার ইতিহাসে কতটা ভয়াবহ নিষ্ঠুর হতে পারেরে তা এই গ্রহের প্রতিটি প্রান্তের ধূলিকণা অবগত। মানুষ ধর্ম ধারণ করে বিনির্মান করছে সভ্যতা। সেই সভ্যতাই বার বার রক্তাক্ত হয়েছে ধর্ম মানুষকে ধারণ করার কারণে মজার বিষয় এই ধর্ম আপনা আপনি মানুষকে ধারন করে না। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কখন রাজনৈতিক আবার কখন ব্যবসায়ীক কারণে এই নিমম কাজটি করে থাকে। উন্নত বিশ্ব প্রচুর রক্তক্ষয় করে এই পরিহাসের অসারতা সম্পর্কে অনেকটাই সচেতন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীও ধর্ম মানুষকে ধারণ করিয়ে ইহুদি বিরোধী অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ জয়ের অপকৌশল অবলম্বন করে সফল হতে পারেনি। কারণ, ততদিন ইউরোপবাসী ধর্মকে শক্ত ও সুন্দরভাবে ধারণ করতে শিখে গিয়েছিল। আমাদের এই উপমহাদেশ বার বার শিকার হয়েছে এই নিষ্ঠুর খেলায়। কংগ্রেসের মত একটি অহিংস এবং অসাম্প্রদায়িক প্ল্যাটফর্ম থাকা সত্ত্বেও ব্রিটিশ রাষ্ট্রযন্ত্রের সুক্ষ সুতার টানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণের মাঝে ধর্মকে অন্যায্যভাবে ধারণ করিয়ে রক্তাক্ত করেছে অসংখ্যবার এই উপমহাদেশের মাটি। এ ক্ষেত্রে বার বার নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে কিছু উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মিথ্যা অহংবোধ এবং কিছু মুসলমান নেতাদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ। এ উপমহাদেশে এই যে মিথ্যা মিথ্যা খেলা শুরু হল এর পোড়ে বহুবার রঞ্জিত হয়েছে উপমহাদেশের মাটি। কখনো মন্দির, কখনো মসজিদ, কখনো সীমানা আবার কখনো ট্রেন। এই আমরাই ঘটিয়েছি `৭১, `৬৯,`৫২ যখন রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ত চেষ্টা করেও পারেনি ধর্ম আমাদেরকে ধারণ করাতে বরং আমরা ধারণ করেছি আমাদের নিজ নিজ ধর্ম এবং স্লোগান তুলেছি বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলমান, বাংলার খ্রিষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, আমরা সবাই বাঙালি আর এই শ্লোগানের তোড়ে খড়কুটার মত ভেসে গিয়েছিল সামরিক উর্দি। ধর্ম রক্ষার নামে হত্যা করা হল ৩০ লাখ মানুষ জন্ম নিল রক্তস্নাত একটি নতুন দেশ। হায়রে পরিহাস! সেই দেশেই কিনা সরকার পরিবর্তনের মতো একটি সামান্য নৈমত্তিক ঘটনায় উদ্বাস্তু হতে হয় এই দেশেরই বিশেষ সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষদের, সীমান্তের ওপারের রাজনৈতিক চালচিত্রের উপরে দোলাচালে থাকতে হয় একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের শাসনতন্ত্র তৈরি হয় তাদের নিজস্ব ভু- রাজনৈতিক উপলব্ধি থেকে। আমরাও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিক্রমায় ধর্মের ছদ্মাবরণে নির্মম নিষ্ঠুরতা দেখে ‘৭২’ এর সংবিধানে স্থান দিয়েছিলাম ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং নিষিদ্ধ করেছিলাম ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। কিন্তু সেই চন্দন টিকা আমাদের কপালে খুব বেশিদিন চকচক করল না শুরু হল ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং একইসাথে শুরু হল ধর্মকে ধারণ করানোর চর্চা। দীর্ঘ ৩৫ বছর এই চর্চা যে কতো গভীরে শিখর গেড়েছে তা বোঝা যায় ধর্মের অজুহাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত নিয়ে কাউকে কাউকে প্রকাশ্যে বিরুদ্ধ অবস্থান নিতে দেখে। রাষ্ট্রকেই বাধ্য হয়ে নিষিদ্ধ করতে দেখি কিছু কিছু ধর্মভিত্তিক সংগঠনকে। নিষিদ্ধ করে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে নয়, যেখানে ওই ধর্ম বাবসায়ীরা শিখর গেড়েছে অথবা গাড়তে চাইছে সেই সাধারণ মানুষকে বলছি দৃঢ়ভাবে ধারণ করুন নিজ নিজ ধর্ম আর বিশ্বাস রাখুন নিজ ধর্মের প্রতি। হাজার বছর ধরে যে ধর্ম আমাদের সমাজ সংস্কৃতি, বিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তা কোনো দুষ্কৃতিকারীর ঘটানো কোনো অপকীর্তি, কোনো ব্যঙ্গবিদ্রূপ কিংবা কোনো বিরূপ মন্তব্য ভেঙ্গে পড়ার নয়। ধর্ম টিকে থাকবে তার অন্তর্গত শক্তি এবং হাজার বছরের ঐতিহ্যের জোরে। ধর্ম রক্ষার নামে নরহত্যা কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টি করা কোনো কাজের কথা হতে পারে না। সহস্র যোজন পথ পরিক্রমায় মানুষ ধারণ করে টিকিয়ে রেখেছে ধর্ম, কোনো ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উসকানিতে ঘটানো নরহত্যা এবং সন্ত্রাস ধর্মকে টিকিয়ে রাখেনি। বরং ধর্মের ললাটে যেটুকু কালো ছায়া তা ঐ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সৃষ্টি। সুতরাং প্রকৃত অর্থে ধারণ করতে হবে ধর্ম, বিশ্বাস করতে হবে এই অমিত শক্তির প্রতি, তবেই মুখ থুবড়ে পরবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্ম গেল ধর্ম গেল রব আর একাকার হয়ে যাবে ধর্ম এবং প্রগতি। কেআই/ডব্লিউএন

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মহাষ্টমীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাম্বলীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বও থেকে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তেও কাজ। তুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে মূর্ত করে তোলার চেষ্টায় প্রতিমা শিল্পীরা। ঢাকের বাজনা, শঙ্খধ্বনি আর আরতিতে মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় বাংলার শহর গ্রামের মন্দির-মণ্ডপগুলো। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মায়ের আগমনে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষেরা। জগতজননী মাকে বরণ করে নিতে রাজধানীর শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রাচীন স্থাপত্যের আদলে এবারে তৈরি করা হয়েছে ‘‘ মহানগর কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপ’’। সকাল থেকে মন্দির প্রাঙ্গনে ছিলো চণ্ডী ও গীতা পাঠের আয়োজন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মেনে মণ্ডপে ঘট স্থাপন, যজ্ঞ, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনসহ নানা বিধিতে পূজা অর্চনা করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রনজিৎ চক্রবর্তী। বছর ঘুরে মা আবার আসছেন, ভক্তমনে তাই খুশির আভাস। মাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতির কমতি রাখছেন না তারা। মায়ের আর্শীবাদে দূর হবে সকল অন্ধকার, বিশৃঙ্খলা আর ধরাধামে বইবে শান্তির সুবাতাস- এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের। প্রতিবছরের মতো এবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে নেওয়া হয়েছে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি। হলের ভিতরে অবস্থিত মন্দিরের প্রতিমা তৈরি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হলের খেলার মাঠেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।  তবে দেশে বন্যা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা মাথায় রেখে পূজার সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ।এদিকে রাজধানীর মত সারাদেশেই মহাসমারোহে চলছে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে দুর্গা প্রতিমাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে দিনরাত চেষ্টা কারিগরদের। জেলায় চারশ’টি মন্দিরে দুর্গা পূজা হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই তুলির আচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে দেবী দুর্গাকে। এবার পূজার নিরাপত্তায় জেলায় তিন হাজার পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। মাদারীপুর: জেলার মন্দির ও পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জাই বলে দিচ্ছে মা দুর্গার আগমন বার্তা। প্রতিমা রঙ করার পাশাপাশি চলছে সাজ সজ্জার কাজ। এ বছর জেলার ৪১৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের মন্দিরগুলোতেও ব্যাপক প্রস্তুতি। চলতি বছর ২৮৭টি মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা হবে। সবচেয়ে বেশি পূজা হবে জেলার সিরাজদিখান উপজেলায়। এ উপজেলায় মোট  ৯৭টি পূজা মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে।শরীয়তপুর: শারদীয়া দুর্গা পুজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শরীয়তপুরের কারিগররা। সদর উপজেলার কোটাপাড়া গ্রামে রাম চন্দ্র পালের বাড়িতে চলছে প্রতিমা তৈরির ধুম। এখানে ৪০ সেট প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এবছর শরীয়তপুরের ছয় উপজেলায় মোট ৮৪ টি পুজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা উদযাপন করা হবে।সাম্প্ররদায়িক সম্প্রীতিতে এবছরও সাড়ম্বরে উদযাপিত হোক সার্বজনীন দুর্গা উৎসব-এমনই প্রত্যাশা সবার। ভিডিও দেখুন

পূজায় থাকছে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উপলক্ষে দেশে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে দুর্গা পূজা উপলক্ষে মহালয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার অন্যান্য বারের তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তায় কাজ করছে পূজা কমিটির নিজস্ব ভলেন্টিয়াররা। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হওয়ায় এবার পূজা মণ্ডপের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দুর্গা পূজায় শুধু রাজধানীর ২৩১টি মণ্ডপ নয় দেশের ৩ হাজার ৭৭টি পূজা মণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পূজায় পুলিশ-র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ১ লাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা ঘিরে হামলার কোনো হুমকি আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। প্রত্যেকটি মণ্ড সিসি ক্যামেরা দ্বারা বেষ্টিত। এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করছি না। বলা যায়, দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের কাজ বিকেল ৩টায় শুরু করে আর রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ ঘোষ। আজ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী আগমনের ডামাডোল। দেবী দুর্গা এবার নৌকায় করে মর্ত্যলোকে এসেছেন এবং ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশ পর্বতে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২৭ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা, ২৯ সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ৩০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই দুর্গা পূজা।আরকে//এআর

‘রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন’

এবারের দুর্গাপূজায় রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজামন্ডপ ঘিরে বা কোনো সড়কে মেলা বসানো নিষিদ্ধও করা হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে আইনশৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি মণ্ডপে পূজা হবে, যা গতবারের চেয়ে ৭৭৭টি বেশি। গত বছর ২৯ হাজার ৩০০টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিল। এ বছর রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দিতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের আশেপাশে, রাস্তায় কোন মেলা করা যাবে না। আতশবাজির কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিভ্রান্তিতে পড়ে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ কারণে কোনো ধরনের আতশবাজি না করতে নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। তিনি বলেন, এবার বিজয়া দশমীর দিন ও আশুরা মিলে যাওয়ায় হিন্দু নেতা ও শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের একসঙ্গে বিসর্জনযাত্রা ও তাজিয়া মিছিলের সময় ও পথ ঠিক করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দূর্গোৎসব শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে। দেশজুড়ে পূজা মণ্ডপগুলোতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে একলাখ ৬৮ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল বলেন, আমরা মন্ত্রীকে বলেছি, যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আরকে//এআর

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি