ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

এই সময়ে রোগপ্রতিরোধ বাড়ানোর ১০ উপায়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৭, ১২ জুলাই ২০২০

Ekushey Television Ltd.

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বিশ্বে প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আমাদের দেশের পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোন ভ্যাকসিন আসেনি। আর কবে আসবে তার নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ অবস্থায় প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই করোনার এ ক্রান্তিকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিতে সবার মনোযোগী হওয়া দরকার। শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর উপর।

কিভাবে বাড়াবেন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, তার বিস্তারিত জেনে নিন...

ভিটামিন সি
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন সি। এই উপাদানটির প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে টক জাতীয় ফল, যেমন- লেবু, কমলা, মাল্টা, আমড়া, জাম্বুরা ইত্যাদি। এ ছাড়াও বাজারে ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়, যা ফ্লু উপসর্গে আপনি দিনে ১-২ বার চুষে খেতে পারেন। তবে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া ভিটামিন সি-এর কার্যকারিতা বেশি।

ভিটামিন ডি
করোনা কালে ভিটামিন ডি’র উপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক এই উপাদানটির উৎস হচ্ছে সূর্যরশ্মি। যা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে (যেমন মুখমণ্ডল, হাত বা ঘাড় ইত্যাদি) আপনি কাজে লাগাতে পারেন। এ ছাড়াও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডিমের কুসুম, মাছের তেল, ওমেগা, গরুর কলিজা, চিজ এগুলো খেতে পারেন।

জিংক
ফ্লু বা সর্দি-কাশি উপসর্গে জিংকের বেশ উপকারিতা রয়েছে। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, গোশত, চিংড়ি, সামুদ্রিক খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। যা ফ্রি রেডিক্যালের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া আদা, রসুন, ডাল, বিন্স, বাদাম খেলেও জিংক পাবেন। বাজারে লজেন্স আকারে জিংক সাপ্লিমেন্টও খেতে পারেন, ২-৩ ঘণ্টা পর পর।

মধু
মধুতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অক্সাইড জাতীয় জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে। তাই যে কোন ফ্লু উপসর্গে মধু বেশ উপকারী। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানে খেতে হবে। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ মধু প্রক্রিয়াজাত হয় গরম করে। মধু গরম করা হয় তার রং, গঠন উন্নত করতে। তবে গরম করার ফলে কিছু উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ব্যাকটেরিয়াও মরে যায়। তাই আসল মধু খেতে হলে স্থানীয় সংগ্রহকারীর কাছে যেতে হবে।

প্রোবায়োটিকস
দই, চিজ ইত্যাদি খাবারে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এ খাবারগুলো এই সময় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। 

মানসিক চাপমুক্ত থাকুন
অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। টিভি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবরগুলো আপনাকে মানসিক চাপে ফেলছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে ভালো সময় কাটান, গান শুনুন, বই পড়ুন, মুভি দেখুন বা নতুন কিছু শিখতে মনোনিবেশ করুন। মেডিটেশন একটি খুব ভালো উপায় মনকে শান্ত রাখার।

শরীরচর্চা
শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শরীরচর্চা অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন আমরা সবাই ঘরে অবস্থান করছি। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং বাচ্চাদের অন্তর ১ ঘণ্টা শরীরচর্চা করা উচিত। ঘরে থেকে আপনি যা করতে পারেন হাঁটাহাটি, সাইক্লিং, ইয়োগা, ওয়েট শিফ্টিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, এমনকি নফল নামাজ পড়াও আপনার শরীর চর্চার উপায় হতে পারে।

ধূমপান পরিহার করা
ধূমপান সরাসরি আপনার শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেহেতু করোনা ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ, এতে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই ধূমপান বাদ দিন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার বিকল্প নেই। খাবার পরিমিত খান ও শরীরিকভাবে সচল থাকুন। আঁশ জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। যে কোন সবুজ শাক এবং নিয়মিত রুটি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

ঘুম
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা করে ঘুমনোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই জরুরি।  বাদাম, কলা, মধু, দুধ ও চেরি জাতীয় ফল খেলে ঘুম বাড়ে।

ম্যাগনেসিয়াম
টাটকা শাকসবজি, চীনাবাদাম, সামুদ্রিক খাদ্য ও শস্যজাতীয় খাবারে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এগুলো ইমিউনিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

আমরা যদি করোনা ভাইরাস রোগের সংক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচাতে চাই নিজের ও আশপাশের পরিবেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্দিষ্ট সময় পর পর হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্যবহার্য জিনিপত্র জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। দরজার হাতল, সুইচ, লিফ্টের বাটন জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

এএইচ/এমবি


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি