ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান সেনাদের গোলাগুলি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:০৭, ২ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী বিনা উসকানিতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালায়। অপরদিকে, পাকিস্তান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন উত্তেজনার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের দায়ী করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় অনুপ্রবেশ করেছে।

তারা আরও দাবি করে, গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের কারণে কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টরে একটি মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিনা উস্কানিতে গুলি চালায় এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। আমাদের সৈন্যরা নিয়ন্ত্রিত এবং সুশৃঙ্খল থেকে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও বলা হয়, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখার জন্য দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সামরিক সমঝোতার নীতিগুলি বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ দুই দেশের সামরিক বোঝাপড়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২১ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক গোলাগুলি সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনুপ্রবেশের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এক সাবেক ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা জানান, 'শান্তি বজায় রাখা ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে, প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এই ঘটনার ফলে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শীতল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে এমন সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে, যার ফলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


এমবি//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি