ঢাকা, শনিবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেফতার ৩

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৪:২৯, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | আপডেট: ১৪:৩০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযোগ স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকার সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।

লিশ সুপার মিজানুর রহমান দাবি করেছেন, বাসে নারী যাত্রীদের "প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।"

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল মুহিত (২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে মো. সবুজ (৩০) ও ঢাকার সাভারের টান গেন্ডা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে শরীফুজ্জামান ওরফে শরীফ (২৮) ।

পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুলের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানায় একটি ও ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানায় একটি বাস ডাকাতি মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় লুট হওয়া নগদ টাকা ও কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, "মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।"

তিনি আরও জানান, "ঘটনাটি বিভিন্ন জেলাব্যাপী বিস্তৃত থাকায় কার্যক্রম পরিচালনা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও আমরা অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "বাসে নারী যাত্রীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি৷ তবে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।"

"গ্রেফতাকৃত ডাকাতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য" বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা আমরি ট্রাভেলসের ‘ইউনিক রোড রয়েলস’ নামের একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এর তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন বাসের যাত্রী নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চরবড়াইগ্রামের ওমর আলী। 

বাসটিতে থাকা যাত্রীদের ভাষ্য মতে, সোমবার রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে বাসে ডাকাতি শুরু হয়। তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতি শেষে ঘুরিয়ে একই জায়গায় বাসটি নিয়ে গিয়ে রাত ৩টা ৫২ মিনিটে ডাকাতরা নেমে যায়। এরপর বাসের চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজর নানা টালবাহানা করতে থাকেন। তারা বলেন, গাড়িতে তেল নেই। তবে যাত্রীদের চাপের মুখে তাঁরা রাজশাহীর উদ্দেশে বাস ছাড়েন। যাত্রীরা প্রথমে বাসটি নিয়ে মামলা করার জন্য মির্জাপুর থানায় যান। সেখানে তখন ওসি না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে বড়াইগ্রামে থানা পুলিশ বাসটি আটক এবং বাসের চালক বাবলু ইসলাম, সুপারভাইজার মাহবুব আলম ও চালকের সহকারী সুমন ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে সন্ধ্যায় শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিনের আদেশ দেন।

মামলার তদন্তে নেমে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। পরে শুক্রবার রাতে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানাধীন গেণ্ডা এলাকা থেকে ডাকাতদলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার সহকারী সাব ইন্সপেক্টর মোঃ আতিকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি