ধর্ষণের শিকার যমজ দুই শিশুর দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান
প্রকাশিত : ১৭:২৪, ৫ এপ্রিল ২০২৫

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চর গুল্লাখালী গ্রামের ৭ বছর বয়সের যমজ দুই বোনকে ধর্ষণ মামলায় আইনগত সহায়তা প্রদানসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শনিবার সকালে জেলা আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন।
তিনি বলেন, কবিরহাট উপজেলার চর গুল্লাখালী গ্রামে গত ২৫ মার্চ ৭ বছর বয়সের যমজ দুই শিশুর ধর্ষণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নোয়াখালী আইজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সব ধরণের সহায়তা প্রদানে আশ্বস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাছান পলাশ বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়। ওই মামলায় বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে। কবিরহাটের এ ঘটনায়ও একইভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইজীবী ফোরাম কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল হক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী কবির, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মোনাক্কের বাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগী শিশুদের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ দুই যমজ বোন তাদের বাড়ির পাশে রাস্তায় খেলাধুলা করছিল। এ সময় তাদের বাবা ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। মা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তখন একই এলাকার ১৬ বছর বয়সের এক কিশোর সেখান থেকে এক বোনকে পাশের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টিনশেট ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে তার বোন মাকে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির মা ঘটনাস্থল থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন।
এদিকে আরেক মেয়ে মাকে জানায়, এর দুদিন আগে তার সঙ্গেও একই কাজ করেছে ওই কিশোর।
এরপর গত ৩০ মার্চ স্থানীয়রা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ভুক্তভোগী দুই শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মালা করলে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশু দুটিকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এএইচ
আরও পড়ুন