ঢাকা, শনিবার   ০৫ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে বিশ্ব নেতাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫০, ৪ এপ্রিল ২০২৫

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন।

নতুন করে পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকটি দেশের ওপর সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কয়েকটি দেশের নামও আছে সেই তালিকায়।

সব পণ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব নেতারা।

ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন।

চীন জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পাল্টা দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৫ এপ্রিল থেকে সমস্ত আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং ৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬০টি দেশের ওপর আরও বড় ধরণের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় এমন পাল্টা সতর্ক বার্তা আসে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য হচ্ছে, এই পদক্ষেপগুলো অন্যায্য বাণিজ্য নীতির প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট ‘দয়া’ দেখিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, এই শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এই মন্তব্যও করেছেন যে, এই পদক্ষেপ ‘আমেরিকাকে আবারও ধনী করে তুলবে’।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে এক বিবৃতি দেওয়ার সময়, ভন ডার লেইন বলেন, আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কারণে ‘অনিশ্চয়তা বাড়বে’, যা ‘বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জন্য মারাত্মক’ পরিণতি ডেকে আনবে।

সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ভন ডার লেইন।

তিনি উল্লেখ করেন, এখন সেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইউরোপ ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেবে এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন - যা ২০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে - তারা পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি আমাদের একজনের বিরুদ্ধে যান, তার মানে আপনি আমাদের সকলের বিরুদ্ধে যাচ্ছেন।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, সিদ্ধান্তটি ‘ভুল’ হয়েছে। তবে তিনি ‘বাণিজ্য যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, স্পেন ‘একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে’। আয়ারল্যান্ডে টাওইসেক মিচেল মার্টিন বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ‘ভীষণ দুঃখজনক’ এবং ‘কারও জন্যই লাভজনক নয়’।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে নতুন শুল্ক আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে চীন- যাদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সবচেয়ে খারাপ অপরাধী’ হিসেবে দেখে-তাদের পণ্যের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্কের ওপরে আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে মোট শুল্ক কমপক্ষে ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে শুল্ক বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে চীন ‘নিজস্ব অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা দৃঢ়ভাবে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তাইওয়ান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তারা এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে।

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং তাই বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘গুরুতর প্রতিবাদ’ জানাবে।

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ ‘একটি বাস্তবতায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু। তিনি বলেছেন, তার সরকার ‘বাণিজ্য সংকট কাটানোর’ উপায় খুঁজে দেখবে, কারণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

জাপান বলেছে, তাদের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার বিষয়টি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং মার্কিন-জাপান চুক্তিগুলো লঙ্ঘন করতে পারে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা তাদের ওপর ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে আলোচনা করবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

এসএস//


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি