শেখ হাসিনা ও রেহানার ব্যাংক হিসাব তলব
প্রকাশিত : ০৮:১৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সোমবার এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রায় সাড়ে ৫শ’ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। এসব হিসাবে জমা আছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ তালিকায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সন্তান ও পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম থাকলেও প্রথমবারের মতো তাদের দুই বোনের হিসাবে তথ্য চাওয়া হলো।
এ ছাড়া ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এবং চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাতের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
৫ দিনের মধ্যে লেনদেন, হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসিসহ যাবতীয় তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র অ্যাকাউন্টে কোথা থেকে কীভাবে টাকা এসেছে, তা জানাতে বলা হয়েছে। আবার সেই অর্থ পরবর্তী সময়ে কোথায় খরচ হয়েছে, নগদে উত্তোলন হয়েছে কিনা, এসব বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
এই ট্রাস্টের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা। তাঁর বোন শেখ রেহানা অন্যতম ট্রাস্টি। এ ছাড়া অন্য যারা এই ট্রাস্টের সঙ্গে জড়িত কিংবা যেসব অ্যাকাউন্টে ট্রাস্টের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে, জমা হয়েছে, তাদের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকে পাঠানো বিএফআইইউর অন্য এক চিঠিতে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাত, তাঁর ভাই চৌধুরী হাবিবুল্লাহ সরাফাত এবং তাদের মা ডালিয়া চৌধুরীর হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর আগে তাদের আরেক ভাই ও পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে বিএফআইইউ।
তাদের পরিবার শেখ হাসিনা পরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচারে সন্দেহভাজন ১০ প্রভাবশালীর দেশি-বিদেশি সম্পদ অনুসন্ধানে গত সপ্তাহে ১২টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত ১০টি টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। সার্বিকভাবে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করবে বিএফআইইউ। আইনি সহায়তা দেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
মূলত কারও অর্থ পাচারের প্রমাণ পেলে যেন দ্রুত সে অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে জন্যই এই পাঁচটি সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। তদন্তের আওতায় আনা প্রভাবশালীদের তালিকায় পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার পরিবার এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে।
শেখ হাসিনা পরিবারের বাইরে যৌথ তদন্তের আওতায় আনা ব্যবসায়ী গ্রুপ হলো– এস আলম, বেক্সিমকো, সামিট, সিকদার, বসুন্ধরা, ওরিয়ন, নাসা, জেমকন ও নাবিল গ্রুপ। এ ছাড়া সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরিবার ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পরিবারের বিষয়ে বিশদ তদন্ত করা হবে।
এরই মধ্যে এসব ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত হিসাব ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ।
এএইচ
আরও পড়ুন